রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

এক সত্তায় বহুভুবনঃ কানেক্টিং স্টক


ঢাকা ১২১ কি.মি.......সন্ধ্যা ৬.৩০

নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আসামীর কাঠগড়ায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চারপাশে থমথমে পরিবেশ। কেউ কোন কথা বলছেনা। নিরব, নিথর। গাড়ির গ্লাস থেকে হালকা বাতাস আসছে। হালকা হালকা শীত শীত অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু সেটা মনের গরম আবহের কাছে পাত্তা পাচ্ছেনা।
কখনও কোনও কিছু নিয়ে আমার ফিলিংস মাত্রাতিরিক্ত হয়না। আমি নিজে সেখানে লিমিটেশান টেনে দিই। কিন্তু এবার আমি সেটা করতে পারছিনা। জগতের সবচেয়ে ভালবাসার জিনিস থেকে আমি ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছি। তাশফিনকে এবার প্রথম কোলে নিলাম। অপলক অয়নে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কি মায়াবী সে চাহনি! মনে হল সারাজীবন যদি এভাবে ওকে কোলে করে রাখতে পারতাম তাহলে আমার আর জীবনে কিছুই লাগবেনা। জানিনা তাশফিনকে নিয়ে মিতু আপুর ফিলিংস কেমন ছিল। সেই অসীম ভালবাসার ফিলিংস অকল্পনীয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মিতু আপুর পারসোনাল ডায়েরীতে তার দুই ছেলে ফারদীন ও তাশফিন নিয়ে লেখা অপ্রকাশ্য ফিলিংসগুলো আমাকে বার বার ভাইব্রেইট করে। মা! মাতৃ্ত্ব! এক অদ্ভুত সম্পর্ক। এই সম্পর্ক নিয়ে লেখার সাহস আমি পাচ্ছিনা।

কিন্তু আজই ঢাকা যেতে হবে? শিডিউল টাইমের আগে ঢাকা ত্যাগ করলাম একটু বেশি করে ভালবাসার কাছাকাছি সময় কাটাব। সব প্ল্যান ভ্যানিশ!!

ঢাকা ১১০ কি.মি....

মনের গরম আবহ ধীরে ধীরে শিতল হয়ে যাচ্ছে। ধীর মোশনে গাড়ি চলছে। জানালা দিয়ে ঝিরি ঝিরি বাতাস আসছে। বাইরে নিকষ গাঢ় অন্ধকারের দৃশ্য দেখতে ভাল লাগছে। এই পরিবেশে খুব স্বপ্ন বিলাসী হতে ইচ্ছা করছে। স্মৃতির এলবামে ভেসে আসছে রূপন্তির কথা। এক স্বপ্নবিলাসী মেয়ে...ওর সাথে পরিচয় ক্লাস নাইনের শেষ দিকে। আমি সায়েন্সে আর রূপন্তি কমার্সে। সবাই নতুনদের স্বাগতম জানাতে পারেনা। আমি পেরেছিলাম। খুব কাছের করে নিয়েছিলাম ওকে। ভাল লাগত ওর অসম্ভব বাস্তববাদি কথা। খুব অবাক হয়ে যেতাম কিভাবে একটা মানুষের মধ্যে স্বপ্ন বিলাসী ও বাস্তববাদীতার সমন্বয় ঘটে। কিন্তু ওর সাথে আমার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল হঠাৎ এবং শেষ হয়েছিল হঠাৎ করে। নাহ! শেষ বললে ভুল হবে। শেষ যোগাযোগ হয়েছিল হঠাৎ করে। এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে মেইল চেক করতে গিয়ে দেখি হলুদ গোলাপের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে ছোট একটা মেইল। হঠাৎ মেইল দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। পরে ফোন ,মেইলের রিপ্লাই দিয়েও তার কোন রিপ্লাই পাইনি। পুরা গায়েব!!! বন্ধু তোমার জন্য শুভকামনা আমারও...

মাওয়া ফেরী ঘাট...

জোরে একটা ব্রেক! সামনে ঝুকে পড়লাম। রূপন্তির কল্পনার জগত থেকেও ব্রেক টানলাম। গাড়ির ফ্রন্ট গ্লাস দিয়ে দেখা যাচ্ছে এক অসীম রাস্তা। চারপাশে গাছপালা। গাড়ির হেডলাইটের আলোতে সব কিছু স্বপ্নীল মনে হচ্ছে। সেই স্বপ্নের জগতে ভেসে উঠল এবার তিশার ছবি। একজন অলরাউন্ডার। ছোটবেলায় যদি কাউকে ঈর্ষা করতাম তাহলে সেই ছিল প্রথম ও শেষ। যদিও সেই ঈর্ষা মনের গহীন কোন থেকে কখনও বাস্তবে আসেনি। সেই তিশার সাথে দেখা হল দশ বছর পর। অবিকল আগের মত চেহারা। শুধু মাত্র লম্বা হয়েছে। সেই আগের মত হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, আকর্ষণীয় চাহনি। চট্টগ্রাম ভ্রমনের সুপ্ত কারণ পূর্ন হল এবার। প্রথম কয়েক মিনিট আমাকে দেখে সে নির্বাক ছিল। পরে জোরে এক চিৎকার দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল। কোনদিন কল্পনাও করেনি আমি এভাবে ওর সামনে হাজির হব। খুব ভাল লাগল আমি ওর অকল্পনীয় কল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করেছি। আমি ওর রুমের চারপাশ দেখতেছি। পুরা রুম জুড়ে শুধু তিশা। ওর হাতে আকা ছবি, ওয়ালমেট, হাজারো পুরস্কারের ক্রেস্ট পুরা রুম জুড়ে আছে। শুধু মাঝখান থেকে ঝরে গেছে তার সেই প্রতিভা যা ওকে করত পুরা স্কুল ফার্স্ট। এফেয়ার জনিত সমস্যার কারণে জীবনের ক্যারিইয়ারে অনেক পিছনে পড়ে গেছে। কিছু কিছু শুনলাম ওর সমস্যা । শুধুই স্বান্তনা দেওয়া আর চোখ দিয়ে দু’ফোটা অশ্রু সংবরন ছাড়া কিছুই করার ছিলনা সেদিন...


ঢাকা ৩৩ কি.মি.....

কোন এক মন্ত্রীর জন্য দুই ঘণ্টা লেইট হল। চাচার মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। ‘এই দেশের যে কি হবে? সবকিছুতেই আনডিসিপ্লিন্ড।‘ দেশের ব্যপারে রাগ প্রকাশ করতেই প্রসংগ চলে গেল রাজনীতির দিকে। দেশের এই বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে কিইবা বলার আছে। শুধু এইটুকুই মনে করছিলাম যে ঢাকার বাইরে দুইদিন কৃত্তিম শান্তিতে কাটাব। কোন খবর শুনবনা, টিভি দেখবনা,ইন্টারনেটে যাবনা। কিন্তু সেটা আর হয়নি। বড় মামার সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কথা হল রাজনীতি নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার গল্প তাই বহুবার শুনেছি উনার কাছে। এবার শুরু হল মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার দের অপকর্মের কাহিনী। শিবির এর উত্থানের ইতিহাস। শিবির নিধনের এই কাজকে মামা প্রশংসা করলেন। বাহ! এসব শুনে আমি এটাই বললাম যে মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোন সমাধান হলে সরকারের এই কাজকে আমিও সাধুবাদ জানাই। রাবি তে যে ফারুক নিহত হল সে যেমন আমার ভাই তেমনি আবু বকর, মহিউদ্দিনও আমার ভাই। ভাইয়ে ভাইয়ে এই সংঘাত আমি মেনে নিতে পারছিনা। ব্যক্তি বিশেষের অন্যায়কে পুরা সংগঠনের উপর চাপিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ের সংঘাতকে আমি আরো উস্কে দিতে পারিনা। রাজনীতি কেন সবসময় প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়?? আর গণতান্ত্রিক সরকারের এই কাজ কে আমি কখনই সাপোর্ট দিতে পারছিনা। নিরপেক্ষ বিচার হলে সেখানে আমার আপন কেউ দোষী হলে আমি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু কেন এই পক্ষপাতিত্ব?? লীগ কি একদম সাধু? তাদের কি কোন দোষ নাই? এই প্রশ্নের জবাব মামা দ্রুত দিলেন। বললেন লীগও চরম খারাপ, তবে শিবির থেকে ভাল। মানে খারাপের ভাল। তাহলে কিভাবে আপনি এই খারাপে খারাপের সংঘাতকে উস্কে দেবার জন্য সরকারকে প্রশংসা দিচ্ছেন। লীগ হোক আর শিবির হোক আমার ভাই তো তারা। তাদের মধ্যে হানাহানিকে আপনি কেন ভাল চোখে দেখছেন। তুই তো ইতিহাস জানিসনা। তাই এসব বলছিস। মামার এই কথার প্রেক্ষিতে বললাম মামা বর্তমান যা দেখছি ইতিহাস কি আদৌ দেখার প্রয়োজন আছে আমার?? ইতিহাসের পুনারবৃত্তি হচ্ছে বারবার...

মাঝে মাঝে আমি চিন্তা করি নেক্সট জেনারেশান কে আমরা অনেক জিনিস উপহার দিতে পারব। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাদের আমরা সুন্দর সুন্দর ইতিহাসের কাহিনী শোনাতে পারব। ইনফ্যাক্ট যুগের পরিবর্তনে ততদিনে নিশ্চয় জ্বীন-ভূতের কাহিনী তাদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা হারাবে, তারা হয়ত দাদী-নানীর কোলে শুনে এসব শুনতে চাইবেনা। তখন তাদের কি বলে গল্প শোনাব...হয়ত গল্প হবে এরকম...

.....এক সময় ছিল ডিজিটাল যুগ। সেসময় যদি কেউ খুন হত তাহলে খুব রহস্যজনক ভাবে সেই খুনের কোন কিনারা পাওয়া যেতনা। হোটেলে রহস্যজনকভাবে কোন এক হতভাগ্য নারীর গলা কাটা লাশ পাওয়া যেত। রহস্যজনকভাবে কিছু খুন হত বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আর কিছু খুন হত মহা গুরুত্বপূর্ণ। সেই খুনের দাবানল রহস্যজঙ্কভাবে পুরা দেশে ছড়িয়ে যেত। যদি কেউ কোন খুনের কিনারা করতে যেত তাহলে সে আরো রহস্যের অক্টোপাসে জড়িয়ে যেত। সেই ডিজিটাল যুগে ছিল শুধুই রহস্য আর রহস্য...জানিনা এই গল্প কতটুকু গ্রহণযোগ্য পাবে তার কাছে।চিন্তায় আছি...

ওয়েলকাম টু ঢাকা......রাত ২.৩০

কিছুটা নিদ্রা ভঙ্গের পর জেগে দেখি ঢাকায় চলে এসেছি। রাতের ঢাকাকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল। কিন্তু আবার যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যাচ্ছি এটা চিন্তা করে মনটা খারাপ হয়ে গেল। সেই ক্যাম্পাস, সেই পড়াশুনা, সেই ব্যস্ততম দিন। আমার এক ফ্রেন্ডের সবসময় ইচ্ছা সে লাইফে শুধু একজন চিকিৎসকই হবেনা, সে মানবতার জন্য কাজ করবে। আরো অনেক স্বপ্ন তার। কিন্তু এখন তার চিন্তা শুধুই নিজেকে নিয়ে। কারণ সে নিজের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একজনকে ভালবাসে। সেই ভালবাসাই তার জী্বনের মটো চেইঞ্জ করে দিয়েছে। ভালবাসা কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সে এখন তার ফ্যামিলিকেও ত্যাগ করতে রাজি। আর মানবতা??? সে তো অপরিপক্ক আবেগের কথা। সবাই পারসোনাল সমস্যা নিয়ে এত বিজি, মানবতাকে নিয়ে চিন্তা করার টাইম কই? ক্যাম্পাসে আড্ডা, গল্প খুব বেশি ভাল লাগেনা। একই টপিকস নিয়ে ডিসকাসন ভাল লাগেনা। তারপরও সেই বিরক্তিকর ভুবনটাও মেইন্টেইন করতে হয় অনেক বেশি টাইম।
পরিবারের সান্নিধ্য খুব বেশি ভাল লাগে। এখনও দাদী-নানীর কোলে শুয়ে গল্প শুনতে ইচ্ছা করে। এই ভুবনে ইচ্ছা করলেও বেশি টাইম দেওয়া যায়না। ভার্চুয়াল জগতে পুরা বিশ্বের সাথে কানেকশান আমাকে গতিশীল রাখে। নিজের সত্তা আর বাইরের সত্তার সাথে মিলানোর চেষ্টা এই ভার্চুয়াল জগতে। এই ভুবনটাও আমার অনেক কাছের। কিন্তু এখানেও বেশিক্ষন থাকতে পারিনা। আর সম্পূর্ণ নিজের একটা ভুবন আছে যেখানে আমি সবকিছুতেই রাজা। স্বাধীনভাবে চিন্তা করি, কারো কোন হস্তক্ষেপ নাই। নিজের মত কল্পনা জগতে ঘুড়ি ওড়াতে পারি। ইচ্ছা করলেই পাখির মত আকাশে উড়ে যেতে পারি, কিংবা সবুজ মাঠ ধরে গ্রাম্য কিশোরীর মত দূর-বহুদূর হেটে যেতে পারি। কিংবা শরতের বিকালে সাদা মেঘের মত ভাসতে পারি, কিংবা সাগরের নীল ঢেউয়ে নিজেকে একাত্ব করতে পারি ডুবে যাওয়া রক্তিম সূর্যের সাথে...... কিন্তু ,কিন্তু এখানেও বেশি বিচরন করা যায়না। ব্যস্ততম জীবন কি দিল আমাকে! এক সত্তায় বহু ভুবনের জুগপৎ বসবাস...নিজেকে একটি কানেক্টিং স্টকের মত ভাবতে সাহায্য করছে। জগতের নিয়ম মনে হয় প্রতিনিয়ত নিজেকে শুধুই বহু ভুবনের সাথে কানেক্ট করে যাওয়া...


* ছবিতে ফারদিন ও তাশফিন।

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১০

আজো আছি তোমার প্রতীক্ষায় ...

চেতনার একফোটা শিশির

জানি তুমি আসবে, তুমি আসবে বলেই আমার এ প্রতীক্ষা
অনুরোধ একটাই, তুমি আসবার আগে আমাকে কিছু সময় দিও
দেবে তো??
কি যে বল! সময় না দিলে আমি নিজেকে সাজাব কিভাবে বল?
সারাটা জীবন প্রতীক্ষায় আছি তোমার
একবার মাত্র দেখা পাব, না সাজলে কি হয় বল?
তাইতো আমার এ অনুরোধ। প্লিজ রেখো...

কিভাবে সাজব? তুমি জানতে চাও?
আচ্ছা! তুমি বলো তো কিভাবে সাজব আমি?
আমার সারাজীবনের সঞ্চয় তোমার জন্য
দেখ, কত্ত কি জমিয়ে রেখেছি, গ্রহণ করবে তো?

কিছুদিন আগে দেখলাম তুমি এসেছিলে
তখন অনেক কেঁদেছিলাম তুমি আসার জন্য
আচ্ছা! তখন কি তুমি রাগ করেছিলে আমার উপর...

তুমি অনেক স্বার্থপর ,আমি জানি
তুমি আমার অনুরোধ রাখবেনা, তাও জানি
কিন্তু তারপরও তোমাকে ভালবাসি
তুমি আছ বলেই তো জীবনকে অনুভব করতে পারি
তুমি আছ বলেই আমার চিন্তা জগতের প্রতিটি কণায়
তোমার অস্তিত্ব আমাকে ভাবতে শেখায় আর গভীরভাবে
তাইতো তোমার জন্যই আমার এ প্রতীক্ষা

তুমি বিশ্বাস করো। তোমাকে আমি ভুলিনি
কিভাবে ভুলবো বলো?
জীবনে চলার পথে অন্যের মাঝে বহুরূপ তোমার আমি দেখেছি
তবুও একবারও দেখা দাওনি আমায়
ও আচ্ছা! অস্তিত্ব মনে করিয়ে দিতে এসেছিলে

কিন্তু কেন? আমি তো তোমাকে ভুলিনি...
হয়তোবা অনেক সময় তোমাকে মনে করতে পারিনি
তোমার জন্য বেশি কিছু মনের মত করে গুছিয়ে নিতে পারিনি
কিন্তু দেখ আমার অ-নেক ইচ্ছা ছিল তোমার জন্য কত্ত কি গোছাব!
জানি অনেক সময় তুমি আমাকে দিয়েছ
তারপরও আমি পারিনি, তাইতো বলছি
আরো কিছু সময় দিও তুমি আসার আগে

তুমি অনেক নিষ্ঠুর, আবেগহীন, নিথর
আমার এ অশ্রুসিক্ত আবেদন তোমাকে বিন্দুমাত্র নাড়া দেবেনা
তারপরও যদি পারো এই হৃদয়ের সিঁড়িতে একবার বিচরন কোরো

ভুল আমি করেছি, হয়তোবা এই ভুল
আমার তোমার প্রতি ভালবাসাকে আরো গভীর করেছে
তাই যে সময় তোমার জন্য দিতে পারিনি
যে সময়ে অনেক কিছু করার ছিল, করতে পারিনি
তা যেন পুষিয়ে নিতে পারি, অন্তত এইটুকু সময় তুমি আমাকে দিও

তোমাকে এত্ত ভালবাসি আমি, ভালবাসার দাবিতে বিচার করো আমাকে
জানি, তারপরও তুমি আমাকে না জানিয়েই চলে আসবে
আমাকে কিছুই গোছাতে দিবেনা, দুঃখ নেই তাতে
সান্ত্বনা শুধু একটাই তোমাকে আমি সত্যি অনেক ভালবাসি
ভালবাসি বলেই তোমাকে অনুরোধ করছি, তোমাকে ছাড়া আর কাকে করব?
নাহ! ভালবাসার কোন প্রমাণ আমি দিচ্ছিনা
সত্যিকার ভালবাসার কোন প্রমাণ হয় বল?
যখন তুমি এসে দেখবে তোমার জন্য অনেক জিনিস গুছিয়ে রেখেছি
তখন নিশ্চয় আমার উপর অভিমান করে থাকবেনা
আমাকে পূর্বের ভুলের জন্য কষ্ট দেবেনা...

যে নিঃসীম ভালবাসা তোমার জন্য, তুমি বুঝবে তো?
জানি আমার থেকেও তোমাকে অনেকে অনেক বেশি ভালবাসে
তাদের মত করে হয়ত পারিনা,কিন্তু...
তারপরও আমার ভালবাসা তো আর মিথ্যা না।
তাই আবার অনুরোধ করছি, আমার সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিও

আমার অনুরোধ গুলো রাখবে এই প্রতীক্ষায়
আমার অশ্রুর প্রতিটা কণা অপেক্ষমান

হৃদয়ের প্রতিটি সংকোচন-প্রসারণ অধীর চিত্তে প্রহর গুনছে
কিন্তু...
নিউরনের প্রতিটি অনুরননে তোমার অনুপস্থিতি আমায় বলছে
তুমি আসবে, না জানিয়েই আসবে...
তাইতো তুমি যেন এসে আমাকে দেখে খুশি হও
একারনেই প্রতীক্ষায় থাকলাম...

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০০৯

পৃথিবী, আজ আমার ছেলে প্রথম স্কুলে যাচ্ছে ( world, my son starts school today!)

আত্মসম্মানবোধের মূলকথা আব্রাহাম লিঙ্কনের নিচের এই লেখাটাতে যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে তার থেকে ভাল করে প্রকাশ করা যায়না...

হে পৃথিবী, আমার সন্তানের হাত ধর, সে আজ তার স্কুলের পাঠ শুরু করল। কিছুদিন তার কাছে সবই নতুন ও বিস্ময়কর মনে হবে, এবং আমার আশা তুমি তার সঙ্গে সদয়
ব্যবহার করবে। দেখ, এ পর্যন্ত সে কাটিয়েছে এই বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই, মুরগীর ঘরগুলিতে ছিল তার আধিপত্য, বাড়ির পিছনের বাগানের সে ছিল মালিক। তার ক্ষতে ওষুধ লাগাতে আমি সবসময়ে কাছাকাছি ছিলাম, এবং যখন সে মনে আঘাত পেয়েছে আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি।

কিন্তু এখন অবস্থা অন্য রকম হবে। আজ সকালে বাড়ির সামনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে গিয়ে পিছন ফিরে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়বে, তারপর শুরু হবে সেই মহৎ অভিযান, যা তাকে নিয়ে যাবে অনেক যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং দুঃখের মধ্য দিয়ে।

পৃথিবীতে বাঁচতে হলে বিশ্বাস, ভালবাসা ও সাহসের প্রয়োজন। সুতরাং হে পৃথিবী, আমার বাসনা তুমি তার তরুণ হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে চল, এবং জীবনে যা শেখার প্রয়োজন তা তাকে শিখিয়ে দিও।

আমি জানি, ওকে জানতে হবে যে সব মানুষই ন্যয়পরায়ণ নয়, সব নারী-পুরুষই সৎ নয়, তাকে শিখিয়ে দিও যে সংসারে দুর্বৃত্ত যেমন আছে তেমনি বিরচিত গুনাবলীর মানুষও আছে; শত্রু যেমন আছে তেমনি মিত্রও আছে। প্রথমদিকেই তাকে শিখিয়ে দিও যে উৎপীড়নকারীরা সহজেই পদানত হয়।

বইয়ের পাতায় যে অত্যাশ্চর্য ভান্ডার আছে তা ওকে চিনিয়ে দিও। ওকে কিছু নির্জনতা দিও, যখন ও আকাশে পাখির ওড়া, সূর্যের আলোয় মৌমাছিদের ঘোরাফেরা কিংবা সবুজ পাহাড়ে ফুলের সমারোহ দেখে ভাবতে পারবে। ওকে শিখিও, অসৎ উপায় অবল্মবন করার থেকে অসফল হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। ওকে শিক্ষা দিও, যদি অন্য সকলে বলে যে ওর ধারণাগুলি ভুল তবুও যেন ও নিজের বিশ্বাসে অটল থাকে। আমার ছেলেকে শক্তি দিও। অন্য সকলে যখন ঠেলাঠেলি করে কোনও প্রত্যাশায় গাড়িতে ওঠে, তখন ও যেন জনতাকে অনুসরন না করে। শিক্ষা দিও যেন অন্যের কথা শোনে, কিন্তু যা শোনে তা যেন সত্যের ছাঁকুনিতে ছেঁকে নিয়ে যে সারটুকু থাকে তাই গ্রহণ করে।

শিক্ষা দিও, কখনও নিজের হ্রদয় ও আত্বাকে বিক্রয়যোগ্য না করে। শিক্ষা দিও যেন উচ্ছৃংখল জনতার চিৎকারে কান না দিয়ে নিজে যা সঠিক মনে করে তার জন্য লড়াই করতে পারে।
সহ্রদয়ভাবে শিক্ষা দিও, পৃথিবী, কিন্তু অধিক প্রশ্রয় দিওনা; কারণ আগুনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেই উত্তম ইস্পাত তৈরি হয়।
এটি খুবই দীর্ঘ প্রত্যাশা, কিন্তু দেখ কতটা করা যায়। ও এত ভালো ছেলে...

আব্রাহাম লিঙ্কন

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০০৯

অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ??


মন মন মন মন তো চাইল,বিবাহিত আমি তাতে কি হল?
অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ?
..................................................
সে ছিল তখন ১৯,আমি তখন ৩৬
প্রেমে পড়তে লাগেনা বয়স,মনে থাকেনা ১৯/২০......

নচিকেতার গান বাজছিল মোবাইলে। বান্ধবীরা সব মিলে এক জম্পেশ আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথার ফাকে একজন বলে উঠল '' y ক্রোমোসোম হচ্ছে ক্রিমিনাল ক্রোমোসোম''। আড্ডার টপিক টার্ণ করল এবার y ক্রোমোসোমে। সাথে চলছে নচিকেতার 'পেসমেকার' গান...মোটামুটিভাবে এই গানকেই পুরুষের সাইকোলোজি বিশ্লেষণের জন্য আইডিয়াল ধরা হয়েছে। পুরুষবিদ্বেষী অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি কিছুটা নিরব। ঠিক বুঝতে পারছিলামনা কোন এংগেলে কথা বলব এব্যাপারে। চিন্তা করছিলাম গানের প্রতিটা লাইন। একটা পুরুষের ক্ষেত্রে এটা যেমন সত্য, একটা মেয়ের জন্যও এটা সত্য। তাই আড্ডায় ভালভাবে জয়েন করতে পারছিলামনা।
আরে তুই কিছু বলছিস না যে? একজনের প্রশ্নে কিছুটা প্রস্তুত হয়ে বললাম অনুভূতিরা তো আসলেই বাধ্যতামূলক একই রকম থাকেনা। বুঝতে ছিলাম এটা বলার পর সব আলোচনা আমার দিকে টার্ণ করবে। তাই হল...
বললাম দোস্ত ভুল বুঝিসনা। পুরুষরা খুব এডভেঞ্চার প্রিয় হয়। মেয়েরাও কি কম? হয়ত পুরুষের সেই এডভেঞ্চার ফেইস করার সাহস আছে কিন্তু নারীর সেই সাহস কিছুটা কম। নারী অনেক সহনশীল হয়। মাতৃত্বসুলভ উদারতা নারীর মধ্যে অনেক বেশি প্রকট।
আমার এই কথার ফাঁকে একজন বলল কেনই বা হবে না? ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর মাতৃ্ত্বসুলভ বৈশিষ্ট্য আরো বাড়িয়ে দেয়। এটা শুনে একজন হাসতে হাসতে বলল ''হুম আসলে সবই হরমোনের একশান-রিএকশান''।
আলোচনার টপিক অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে। তাই বললাম এককভাবে পুরুষবিদ্বষী আমি না। ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষ ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়ে। সেই মেয়ে এটা জেনেও যদি তার সাথে প্রেম করে তাহলে পুরুষের দোষ এককভাবে কেন আসছে?
দেখ সেতু তুই কিন্তু নারীবিদ্বেষী কথা বলতেছিস...একজনের এই কমেন্টে আমি বললাম আজব তো! আমি কেন নারী বিদ্বেষী কথা বলতে যাব?
মেয়েটার বয়স কম। একটু আবেগী,সে অনেক কিছুই বুঝেনা। তাই বলে বাবার বয়সী লোকটা কেন ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়তে যাবে? এক বান্ধবীর খুব রাগতস্বরে এটা বলল।
দেখ আমরা কিন্তু মেয়েটার দোষ কে টলারেট করছি। বাট পুরুষেরটা করছিনা। একটা সমাজে বিশৃঙখলার জন্য এককভাবে কখনও কোন পুরুষ দায়ী থাকতে পারেনা। তুই বল নারীদের সহযোগীতা না থাকলে পুরুষরা কি একাই নারীদের শোষণ করতে পারত? এটা কি লজিক্যাল?
আড্ডা খুব জমে গেছিল সেদিন...
নারীরা এখন পুরুষদের দ্বারা ঘরে ও বাইরে সর্বত্র অপমানিত হচ্ছে। একটা সময় মনে করা হত নারী শিক্ষায় নারীকে মুক্তি দিবে। কিন্তু দেয় নি। নারী আজ শিক্ষিত, অফিসে কাজ করছে পুরুষের পাশাপাশি। কিন্তু নারীর মুক্তি মিলেনি। এর জন্য পুরুষের কতৃ্ত্বপূর্ণ মনোভাব দায়ী কিন্তু নারীরও দোষ আছে। একজন শিক্ষিত ও আত্বমর্যাদাশীল নারী কি অন্যের দ্বারা সহজেই ডাইভার্ট হয়?
তোদের সেন্সে কি বলে? আমাকে একটা ছেলে প্রোপোজ করলেই তার স্মার্টনেস,বাড়ি,গাড়ি,টাকা-পয়সা দেখেই তাকে ইয়েস বলে দিব? কিংবা আমার অনেক ছেলে বন্ধু আছে। শুধু বন্ধুত্বের খাতিরেই তাদের সাথে কি দিন নাই রাত নাই আড্ডা দিব,ঘুরতে যাব,সারা রাত মোবাইলে কথা বলব?
আসলে সব রিলেশনের একটা লিমিট আছে। কনসাসলি সেই লিমিটেশন মেনে চললে কিন্তু কোন প্রবলেম হয়না। আর বয়ঃসন্ধিকালীন যে সমস্যা সেটা ওভারকাম করার জন্য আমাদের দরকার সঠিক পারিবারির ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু আমরা কিন্তু সমাধানের দিকে না যেয়ে উলটা বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত।
এটা শুনে একজন বলল
- হতে পারে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা সুষ্ঠু না।এখানে সার্টিফিকেটে/নম্বরের প্রতিযোগীতা চলে।কিন্তু সুন্দর একটা বন্ধুত্বের পরিবেশ কিন্তু আছে।
-ওহ! তাই নাকি...তাহলে আমাকে বল ১৯ বছরের মেয়েটা যখন ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষের সাথে প্রেম করছে তখন নিশ্চয় সেটা তার বন্ধুরা জানত।
- তো! জানলেই কি...এটা একেকজনের পারসোনাল ম্যাটার। এসব নিয়ে তার বন্ধুরা কেন ইন্টারফেয়ার করবে?
- হুম! এটাই হচ্ছে ব্যাপার। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে পেশেন্ট-ডক্টর রিলেশনশিপ নাই। একজন ডক্টর একজন পেশেন্ট কে ট্রিটমেন্ট করে এবং নিজেও সেইফ থাকে। আমরা বন্ধুরা কি তাই করি? আমার খুব কাছের বন্ধুর খারাপ কাজ দেখেও এটা যার যার পারসোনাল ব্যাপার মনে করে এভয়েড করে যাই। আমাদের বন্ধুত্বের রিলেশনে কেউ ডক্টন নাই। এখানে সবাই পেশেন্ট। এটাকে কি তুই সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বলবি?
-না আসলে দেখ এভাবে তো চিন্তা করে দেখা হয় নি।
আসলে এটাই ফ্যাক্ট। আমরা সমস্যার এক চেইন রিএকশানের মধ্যে আছি। বাহ্যিক দিক থেকে সমাধানের চেষ্টা করতে যেয়ে সমস্যা আরো বেড়েই যাচ্ছে।
নাহ! আড্ডার পরিবেশটা খুব থমথমে হয়ে গেছে। আবার নচিকেতার গানে ফিরে গেলাম...

সব পুরুষই যেমন হয় আমিও আলাদা নয়...হু এডভেঞ্চারিস্ট...
....................................................................
তখন আমার অনেক বয়স হাসপাতালে বাইপাস
অপারেশন গেছে হয়ে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস!
ডাক্তার এসে দাড়াল, চিনলাম তার হাসি দেখে
লজ্জায় মুখ সরালাম তাই সে বলল আমায় ডেকে
পেসমেকার ভেবোনা যেটা রেখেছি তোমার বুকে
ভেবো আমার মাথা যেন আজো আছি মাথা রেখে...
........................................................
........................................................

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০০৯

শুধুই ভালবাসা...


ভালবাসা শব্দটার মানে কি? প্রশ্ন করেছিলাম খুব কাছের কিছু বন্ধুদের। ভালবাসা মানে ফিলিংস,অপ্রকাশ্য অনুভুতি। কেউ বলে ভালবাসা সীমাহীন তাই একে ডিফাইন করা যাবেনা এক শব্দে। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা বুঝতে হলে তোকে প্রেম করতে হবে। ফিলিংস কি কখনও শেয়ার করা যায়? এটা হচ্ছে উপলব্ধির ব্যাপার। আর সেই উপলব্ধি তখনি আসবে যখন তুই প্রেমে পড়বি। এভাবে অনেকভাবে তারা আমাকে ভালবাসার মানে বোঝাতে চেষ্টা করে।
খুব ভাল লাগে যখন দেখি এই ভালবাসার জন্য কেউ তার ফ্যামিলি ত্যাগ করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে। ভাললাগে এই কারনে যে ভালবাসার শক্তি আসলে অপরিসীম। তা না হলে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কিভাবে ত্যাগ করা যায় শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষনে? এই ভালবাসা নিয়ে আছে ভালবাসা দিবস। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই দিবসের গুরুত্ব ভয়াবহ। আর যারা ভালবাসা কনসেপ্টকে পছন্দ করেনা তাদের নিকট ভালবাসা দিবস শুধুমাত্রই বানিজ্যিক,বাহ্যিক। আমি অবশ্য এই দুই দলের কোনটার মধ্যেই পড়িনা। কারন ভালবাসা ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগেনা। এই কারনে ভালবাসা দিবসের মানে আমি এই বুঝিনা যে শুধু এই দিন ভালবাসার দিন,বাকি দিন নয়। আসলে দিনটা একটা উপলক্ষ্য, তবে এই উপলক্ষ্যের কার্যাবলী সারাবছর ব্যাপি থাকবে,এটাই স্বাভাবিক। তাই ভালবাসা দিবসকে আমি বাকা চোখে নেইনা। যদিও ভালবাসা দিবসের শুরুর কাহিনী আমাকে ইন্সপায়ার করেনা ভালবাসার জন্য বাট ভালবাসা আমাকে ইন্সপায়ার করে ভাল কিছু করার জন্য।
প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা আমার কাছে কিছুটা আজব মনে হয়। একজনের প্রতি ভাললাগা আসতেই পারে কিন্তু তার জন্য আমার সারাটা দিন ব্যয় করা, তার সাথে ভালবাসার ফিলিংস শেয়ার করা, রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা,ছুটির দিনে ঘুরতে বের হওয়া ইত্যাদি এসব কনসেপ্ট আমার ভাল লাগেনা। সবচেয়ে যে ব্যাপারটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ন তা হল অন্যের প্রতি আমার ফিলিংস কিভাবে আসতেছে? আমি কি তার ক্যারিয়ার ,স্মার্টনেস, আউটলুক দেখে ভালবাসার প্রতি ইন্সপায়ার হচ্ছি? নাকি অন্য কিছু? যদিও যারা প্রেম করে তাদের কাছে এই প্রশ্ন করলে তারা বলে , ওর মনটা অনেক ভাল,তাই ওকে আমি অনেক ভালবাসি। কিন্তু তাদের প্রেমে পড়ার কাহিনী শুনলে দেখে যায় তারা কখনও মন দেখে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। তাদের প্রেমে পড়ার ইতিহাস থেকে দেখা যায় কেউ কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছে সেখানে প্রথম দেখাতেই প্রেম। কিংবা একি সাথে লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করে সেই থেকেই প্রেম। কিংবা আননোন মোবাইল থেকে ম্যাসেজ/ভয়েস শুনে প্রেম।

এভাবেই বেসিক্যালি আজকের যুগে ভালবাসা শুরু হয়। সেখানে দুইজন মানুষের আদর্শিক মিল খুব কমই হয়। তাই প্রেমিক-প্রেমিকার মন কষা-কষি লেগেই থাকে। পরে অবশ্য তারা বলে যে এই মন কষা-কষি নাকি তাদের ভালবাসার ফিলিংস আরো বাড়িয়ে দেয়। একজন আমাকে খুব আফসোস করে বলতেছিল যে তার জিন্স ও ফতুয়া পরার খুব শখ কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড এটা খুব অপছন্দ করে। তাই সে পরতে পারেনা। আমি তাকে সেদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমার এমন আর কি কি শখ আছে যা তোমার বয়ফ্রেন্ড অপছন্দ করে? সে বলল অনেক কিছুই। এই যেমন আমি খুব ভাল গান পারি বাট আমার বয়ফ্রেন্ড চায়না যে আমি কোন প্রোগ্রামে গান করি। এরকম আরো বহু কিছু। তখন তাকে বললাম তাহলে কেন তুমি তাকে ভালবাস যে তোমার পছন্দের কোন মূল্য দেয়না? সে খুব সহজ সরলভাবে বলল ‘আসলে জান ও আমাকে অনেক ভালবাসে তাই ও চায়না যে আমি খুব বেশি এক্সপোসড হই।‘’ তোমার কি মনে হয় এতে কি তুমি নিজেকে বেশি এক্সপোসড করতে চাও? আরে কি যে বল! আমি তো শুধু চাই আমার শখ পূরন করতে অন্য কিছুনা। ওর খুব দ্রুত জবাব। তাহলে কেন তুমি শুধুমাত্র তোমার বয়ফ্রেন্ড এর জন্য তুমি এসব মেনে নিচ্ছ? কারন আমি যে তাকে অনেক ভালবাসি তাই। ভালবাসার মানুষের জন্য অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করা যায়,তুমি এসব বুঝবানা…..আমি আর বুঝতেও চাইনা।
প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে আইডিওলজিক্যাল কনসেপ্ট এর মিল খুব একটা গুরুত্ব বহন করেনা। তাই তো তারা একে অন্যের জন্য নিজের সব শখ,ভাললাগাকে বিসর্জন করতে পারে অনায়াসেই। কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারত। হতে পারত ভালবাসার জন্য নিজের কোন কিছু বিসর্জন করা লাগবেনা বরং সেটাকে গ্রো করার জন্য একে অপরের সহযোগীতার হাত প্রসারিত হবে। তাহলে কেন এই সংকীর্ণতা?
বিশ্বাস। হ্যা বিশ্বাসের অভাব। আজকাল ভালবাসার মধ্যে কোন বিশ্বাস নাই। তাই তো একে অপরের প্রতি সন্দিহান সর্বদা। কোথায় গেল,কি করল, কার সাথে মোবাইলে কথা বলল, কার সাথে কলেজে মেলামেশা করে ইত্যাদি হাজারো রকম সন্দেহ।
যদি বিশ্বাস অর্জন না করা যায় তাহলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা আসেনা। তাই আজকাল ভালবাসা খুব সংকীর্ন হয়ে গেছে। ভালবাসা মানেই কেবল ঘোরাঘুরি,রাত জেগে কথা,চ্যাটিং,সন্দেহ আর মন কষা-কষি। এই সার্কেলেই চলছে বর্তমান ভালবাসা। খুব অবাক হই এক্ষেত্রে চিন্তার ম্যাচিউরিটি খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে। ম্যাচিউরিটি আজকাল শুধু বয়স দ্বারা হিসাব করা হয়। ছেলে-মেয়েরা চিন্তা করে তারা এখন বড় হয়েছে, যথেষ্ট মাচিউরড সো তারা ভালবাসতেই পারে!
সত্যি কথা বলতে কি চিন্তার ম্যাচিউরিটি ধর্মীর অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। এতে অনেকেই আমার সাথে আপত্তি জানাতে পারে। কিন্তু আমি দেখেছি খুব সচেতন মানুষ যে মৌলিক গুনাবলি সম্পন্ন তার সচেনতা অনেক সময় তার পরিবার,তার আত্মীয়,বন্ধুদের জন্য কোন উপকার আনেনা। বরং সেই মানুষও কোন এক সময় এমন ভুল করে যা তার দ্বারা অসম্ভব ছিল। মানুষ ভুলের ঊর্দ্ধে নয় কিন্তু এই ভুল তার অপুর্ণ ম্যাচিউরিটির সাক্ষ্য বহন করে।
বলছিলাম ধর্মীয় অনুশাসনের কথা। আমার খুব কাছের একজন বান্ধবি এক হিন্দু ছেলের প্রেমে পড়ে। প্রেম তো প্রেম একেবারে মহামারি অবস্থা। কেউ কাউকে ছাড়া বাচবেনা। ফ্যামিলি থেকে যখন ব্যাপারটা জানাজানি হল তখন আমার ফ্রেন্ড এর মা বলল যে আমি যেন ওকে খুব ভালভাবে ইসলামের গুরুত্ব বুঝিয়ে ওই হিন্দু ছেলের কাছ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনি। এখন কেন তাকে আমি ইসলামের গুরুত্ব আলাদাভাবে বুঝাব? যে ফ্যামিলি থেকে কখনও ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বসহকারে দেওয়া হয়নি তারাই কোন এক সময় ধর্মের আশ্রয় নিয়ে সমাজে নিজের প্রেস্টিজ রক্ষা করতে উঠে পড়ে লাগে। তারপর আর কি! খুব দ্রুত মেয়ের ফ্যামিলি থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
আজকাল ছেলে-মেয়েদের অবসর সময় কাটে লাভারের সাথে গল্প করে,আড্ডা দিয়ে। ভালবাসার মানে যে কেবল এগুলো নয় এটা তাদের চিন্তায় ঢুকেনা। এফ.এম রেডিও শুনলে দেখা যায় ইয়াং জেনেরেশান এর খুব কঠিন সমস্যা হচ্ছে এসব এফেয়ার জনিত সমস্যা। অথচ এখনও পৃথিবীতে মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, প্রতিদিন হাসপাতালে মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছে, কেউবা অভাবের তাড়নায় খারাপ পথে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কত ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশু হাতে বই-খাতার বদলে ফুল নিয়ে রাস্তায় বিক্রি করতে পথে নামছে এসব সমস্যা যেন তাদের ভালবাসার সমস্যার কাছে কিছুই না। তাদের ভালবাসার ভাগিদার কেবল বয়/গার্লফ্রেন্ড। ভালবাসার মানুষের সাথে গল্প করার বিষয় কেবল কখন কি করল, কি দিয়ে খাইল, কে কাকে কতটুকু ভালবাসে ইত্যাদি।
কেন একটু ভালবাসা কি আমরা সেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রাখতে পারিনা? আমরা কি পারিনা ভালবাসা দিবসে তাদের সাথে আমাদের ভালবাসা শেয়ার করতে? সংকীর্ণ ভালবাসাকে আকাশের মত উদার করতে আমরা কেন এত কার্পণ্য করি? কেন আমরা আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল না খুজে শুধুমাত্র আউটলুক দেখে অন্যের প্রতি ভালবাসায় ইন্সপায়ারড হই?
আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল থাকলে ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়,একে অন্যের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ ডেভেলপ করে। একটা নির্দিষ্ট আইডিওলজিকে এস্টাবলিস করতে দুইজনের আপ্রান চেষ্টা ভালবাসার গভীরতা আরো বাড়িয়ে দেয়।
আমার ফ্রেন্ড আমাকে প্রায় বলে আমার মধ্যে নাকি এক ধরনের ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে ভালবাসার বিরুদ্ধে। আমি সো কলড বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের ভালবাসাকে খুব অপছন্দ করি। তাদের ভালবাসা দিবসে নিছক ফুল দিয়ে ভালবাসা উদযাপনকে খুব ঘৃণা করি। ভালবাসার নামে অনর্থক অপব্যয়কে ভালবাসার অবমূল্যায়ন মনে করি। তাই এর বিরুদ্ধে এক ধরনের ইমিউনিটি আমার সত্যি সত্যি তৈরি হয়েছে। কারো প্রেমে পড়িনি কিন্তু তাই বলে ভালবাসার মূল্যায়ন যে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকারাই করতে পারে এটা বিশ্বাস করিনা।
বিয়ের আগে প্রেমকে আমি কখনই সাপোর্ট করিনা। সেক্ষেত্রে আমার লজিক হচ্ছে আমি কেন এমন কারো সাথে আমার ফিলিংস শেয়ার করব যে সেই ফিলিংস শেয়ার করার অধিকার রাখেনা? আমার ফিলিংস তো এত সস্তা না যে শুধুমাত্র বিশ্বাস দিয়ে হ্রদয় সংযোগ ঘটাব? আর তারপরে ভালবাসার সাগরে হাবুডুবু খাব। হা..হা..


মানুষের মৌলিক গুনাবলিকে সুন্দর একটা শেইপ এনে দেয় ধর্মীয় অনুশাসন। কারন ভালবাসার ফিলিংস এই মৌলিক গুনাবলি সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু সেই ফিলিংসটা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় তা ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। যদি আমাদের ভালবাসা হত সমাজের নিরীহ,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি তাহলে চিন্তা করে দেখুনতো এই ভালবাসা হত বিরাট এক শক্তি যা পারমানবিক শক্তিকেও হার মানাত।ডিজিটাল সমাজের ভিত্তি হতে পারত এই ভালবাসা। অথচ আজ সমাজে ভালবাসাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার তরুনি আত্বহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে,কেউ মাদকাসক্ত হচ্ছে, কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ভালবাসা তো শুধুই সৃষ্টির জন্য ধংসের জন্য না! কে তাদের শিখাল যে ভালবাসা কেবল ছেলে-মেয়ের মধ্যেই হতে পারে? কারা সমাজের তরুন প্রজন্মকে ভালবাসার ভুল অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে চিন্তাশূন্য করে গড়ে তুলতেছে?

বিশ্বাসহীন,একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধশুণ্য ভালবাসার শক্তি আজ সমাজে তাই চরম বিভিষিকা। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি ? প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশক্তির ম্যাচিউরিটি,প্রয়োজন ভালবাসার সঠিক ক্ষেত্র উপলব্ধি তার সাথে সাথে এসবকে সুন্দরভাবে শেইপ করার জন্য দরকার ধর্মীয় অনুশাসন যা সর্বদা চার্জের মত কাজ করে। অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিনিয়ত প্রাক্টিক্যাল চার্জ ভালবাসাকে নিয়ে যায় সুন্দর কোন প্রান্তে যা কখনও বিভিষিকা ছড়ায়না......

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

শূন্যতায় ডুবে যাওয়া এই আমি...

শূন্যতায় ভরে আছে মন।গত দুই মাস ধরে মন ভীষন খারাপ।সাথে ছিল পরীক্ষা আর শারীরিক অসুস্থতা।এই দুই মিলে মানসিক শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।অনেকদিন কোন পত্রিকা পড়া হয়না।ব্লগে আসা হয়না।পত্রিকা কেন পড়ব? ভাল খবর কিছু থাকলে তো পড়ব! ভাল লাগেনা অনবরত খারাপ খবর পড়তে।সময় কাটাতে তাই আজ আনেকদিন পর কিছু লিখতেছি...

বেদনায় ভারাক্রান্ত মনকে শান্ত্বনা দিতে খুজতে থাকি কিছু।কিন্তু আশ্চর্য! কিছুই পাচ্ছিনা।টিভি দেখতে ভাল লাগেনা।সেই ইন্টারমিডিয়েট থাকতে টিভি দেখা বাদ দিয়েছি।নতুন করে যখন দেখব বলে চিন্তা করলাম তখন বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন,উদ্দেশ্যহীন অনুষ্ঠান আবার টিভি থেকে আমাকে সরিয়ে আনল। কিন্তু সময় কাটেনা।কাজিন এর কাছ থেকে এবার বইমেলা থেকে কিনে আনা জাফর ইকবাল,হুমায়ুন আহমেদ,সুমন্ত আসলাম এর কিছু বই আনলাম।প্রথমেই যে বইটা হাতে নিলাম তা সায়েন্স ফিকশন।ক্লাস সেভেন-এইট এ থাকতে সায়েন্স ফিকশন সমগ্র পড়ে ফেলতাম নিমিষেই।খুব নেশা ছিল।তাই সেই নেশায় ফিরে যেতে মন চাইল।জাফর ইকবাল এর ইকারাস বইটা শুরু করলাম।বাট অনেকদিন সায়েন্স ফিকশন পড়িনা বলে আমি ঠিক বুঝতে পারলামনা এটা কি কোন সায়েন্স ফিকশন নাকি রুপকথার গল্প? অল্প কয়েক পাতা পড়েই মেজাজ খারাপ করে রেখে দিলাম।এত বড় লেখকের সায়েন্স ফিকশন আমার বুঝার সাধ্যের বাইরে।মনে হয় আমিই ভুলে গেছি সায়েন্স ফিকশন কি।আর বাকি বইসব ফেরত দিলাম কাজিনকে।ঠিক বুঝতে পারছিলামনা আমার মন খারাপ বলেই কি কোন কিছু ভাল লাগছেনা? নাকি সেগুলো আসলেই ভাল কিছু না!

মোবাইলে রেডিও নামক একটি অপশন আছে।কখনও সেই অপশনে যাওয়া হয়নি।আসলে ইচ্ছা বা সময় কিছু ছিলনা বলেই হয়ত যাওয়া হয়নি।টিভি,বই ছেড়ে এবার এফএম রেডিও তে মন দিলাম।আমি বুঝলামনা সব চ্যানেলেই কেন একই টপিকস নিয়ে কথা।সব কিছুতেই প্রেম-ভালবাসা।এফএম রেডিও যারা শুনে তারা সবাই মনে হয় তরুন-তরুনি।কারন যে টানা চার দিন এফএম রেডিও শুনলাম তাতে তরুন-তরুনি ছাড়া কাউকে পার্টিসিপেট করতে দেখিনি।উফ! কি যে বিরক্তিকর সব প্রোগ্রাম।আপনার সবচেয়ে প্রিয় মুহুর্ত কি? আপনার নিকট সবচেয়ে সাহসি কাজ কি? আপনি এই গানটা কাকে ডেডিকেট করতে চান? খুব সুন্দর,নির্জন কোন পরিবেশ এ আপনার কি ইচ্ছা হবে? এই সব টপিকস হচ্ছে আলোচনার বিষয়।আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল সবকিছুতেই এই আলোচনার বিষয় প্রেম-ভালবাসা বিষয়ক।সবকিছুর এন্সার ছেলে হলে বলবে তার প্রেমিকার কথা।আর মেয়ে হলে বলবে তার প্রেমিকের কথা।টানা চারদিন এফএম রেডিও শুনলাম এই জন্য নয় যে ভাল লাগছে।আসলে ভাল লাগানোর জন্য টানা চারদিন শুনলাম।বাট এটলাস্ট পূর্ন হতাশা নিয়ে এফএম রেডিও থেকে ব্যাক করলাম।

এবার দূষিত মনকে বিশুদ্ধ করতে প্রিয় উপন্যাসের বইতে মনোযোগ দিলাম।ততদিনে পরীক্ষা শেষ।শারীরিক অসুস্থতা যদিও যায়নি।তারপরও জীবনকে নতুন করে ভাবার জন্য সেসব উপন্যাসে রাত কাটাচ্ছি।কিন্তু কি যেন আরেক হতাশায় মন কেদে উঠল।উপন্যাসের সাথে নিজেকে একাত্ব করে ফেলি।নিজেকেই কোন এক চরিত্রের সাথে একাকার করে ফেলি।ভাবতে থাকি সেসব মহান নায়কের কথা যারা তাদের জীবনে যারা দেশপ্রেম কে,মানবতাকে বিজয়ের জন্য বুকের তাজা খুন বিলিয়ে দিয়েছে।যাদের জীবনের শুরু হয়েছে মানবতাকে রক্ষার জন্য।যারা তরুন বয়স থেকে ভাবতে শিখেছে দেশের সংকটময় মুহুর্তের কথা,চিন্তা করেছে তা থেকে উত্তরনের উপায়।গভীরভাবে ভাবতে শিখাচ্ছে আমাকে।কিন্তু সে ভাবনায় ছেদ পড়ল।আচমকা মেসেজ পেলাম।মেসেজটা ছিল একজনের জীবন-মরন সমস্যা,তাকে সাহায্য করতে হবে।হায়! আমি যদি সত্যি তাকে সাহায্য করতে পারতাম।কিন্তু পরক্ষনেই যখন ঘটনা জানতে পারলাম তখন আর তাকে সাহায্য না করতে পারার জন্য খারাপ লাগল না ।বরং তার জীবন-মরন সমস্যার জন্য তাকে মনে মনে ধিক্কার জানাতে লাগলাম।
আমার খুব প্রিয় একটা উক্তি আছে,'' মওকা বুঝে সওদা অন্তত দিলের বাজারে সব লোকেরা করেনা।আর তা তারা করেনা বলেই এ বাজারে যুগে যুগে ফতুর হয় তারাই।''
যে আমার কাছে জীবন-মরন সমস্যার জন্য সাহায্য চায় তাকে কিভাবে বুঝাব যে মন্দিরের দেবি হবার জন্য তুমি সারা জীবন আকাংখা কর সেই মন্দিরের মঞ্জিলে যখন পৌছে যাবা সেদিন প্রানপনে চাইবা যেন তোমারে কেউ সেই অন্ধ মিঞ্জিল থেকে কেউ রক্ষা করতে আসে।কিন্তু তোমাকে সেই মঞ্জিল থেকে কেউ উদ্ধার করতে আসবেনা।কিভাবে আসবে বল? তারা তো নিজেরাই আজ দিলের বাজারে সওদা করতে এসে পুজি হারিয়ে ফতুর হয়ে গেছে।উপন্যাসে আর মন ধরেনা।উপন্যাসের চরিত্র সব কাল্পনিক মনে হয়।কল্পনার জগতে বেশি থাকতে ইচ্ছা করেনা।কল্পনার জগতে যে তরুন-তরুনি জীবনের মহান উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করে তাদের সাথে আমার চারপাশের সমাজের কোন মিল পাইনা।সমাজ উচ্ছনে যাক,দেশ রসাতলে যাক, তাতে আমার কি? এফএম রেডিওর এই যুগে সবাই এখন মটো নিয়ে দিলের বাজারে সওদা করার ট্রেনিং নেয়।কিন্তু আমার কাছে কেন জীবন-মরন সমস্যার সমাধান চায়? আমি তো এ সওদা করতে অভ্যস্ত নই।যেসব মিডিয়া এই সওদা করার প্রেরনা যুগায়,পদ্ধতি শেখায় তারা কেন জীবন-মরন সমস্যার সমাধানটুকু দিয়ে দেয়না?বা তাদের কাছেই কেন সাহায্য চায়না?

উদীয়মান সূর্যের সামনে বেশিক্ষন চোখ বন্ধ করে থাকা যায়না।পত্রিকা খুললাম।সলিমুল্লাহ মেডিকেলের সেই মহিলা চিকিৎসকের যোতুকের অভিযোগে নৃশংসভাবে হত্যার কাহিনি পড়লাম।উচ্চতর ডিগ্রির সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি যদি মূল্যবোধের সার্টিফিকেটও দেয়া হত!! তাহলে হয়তবা এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে কোন শিক্ষিত মেয়েকে এভাবে জীবন দিতে হত না।এটা কি সত্যিই কোন সভ্য সমাজের প্রতিচ্ছবি? মনে আজ তাই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে চরমভাবে।স্ট্রেস হরমোন আর কাজ করছেনা.........


সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আনন্দ বিতর্কের একদিন...

বিতর্ক সবার কেমন লাগে জানিনা।তবে একসময় এর প্রতি আমার অপরিসীম আগ্রহ ছিল।স্কুল লাইফে অনেক ক্লসভিত্তিক বিতর্ক করা হয়েছে।আর টিভিতে প্রচারিত কোন বিতর্ক মনে হয় আমার মিস হত না তখন।আমি শিডিউল করে টিভিতে বিতর্ক দেখতাম তখন।এই বিতর্ক নিয়েই আমার কিছু অভিজ্ঞতা বলি...
আমাদের স্কুলে তখন নতুন নিয়ম চালু হল।প্রতি বৃহস্পতিবার এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটিসের জন্য বিভিন্ন ক্লাব গঠন করা হবে।এবং সেদিন কোন ক্লাস হবেনা।অনলি ক্লাবের আন্ডারে স্টুডেন্টদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য ক্লাস হবে।এই নিউজটা যখন পেলাম তখন যে কি খুশি এই ভেবে যে সেদিন কোন ক্লাস হবেনা প্লাস আমার প্রিয় বিতর্ক ক্লাবে আমি এটেন্ড করতে পারব।যথারীতি আমার যত ফ্রেন্ড আছে সবাই যার যার পছন্দের ক্লাবে মেমবার হয়ে গেল।যেহেতু আমার নাচ,গান,ছবি আকা,খেলাধূলার প্রতি কোন আকর্ষন নাই তাই আমি অনলি উপস্থিত বক্তৃতা,রচনা লেখা,বিতর্ক এসব ক্লাবের মেমবার হলাম।

তো রেগুলার আমি বিতর্কে পার্টিসিপেট করতে লাগলাম।আমাদের টিচাররা টপিকস সিলেক্ট করে দিতেন এবং বিতর্কের বিভিন্ন কৌশল বলে দিতেন।এখনও মনে পড়ে লাস্ট যে বিতর্কে আমি ছিলাম,সেই বিতর্ক থেকে আমি অনেক বড় একটা জিনিস শিখে গেছিলাম।সেটা হল বিতর্ক আমরা কেবল বিতর্ক করার জন্য করতেছি।ইনফ্যক্ট কোন কিছু শিখার মানসিকতায় আমরা কেউ বিতর্ক করতামনা।আমার যে প্রতিপক্ষ থাকত তার কোন যুক্তিবান কথাও আমরা কেউ মেনে নিতামনা।প্রতিপক্ষের অবস্থাও ছিল সেইম।সো যারা জিতে যেত তাদের প্রতি খুব মেজাজ খারাপ হত কেন তারা জিতল?হাঃ হাঃ যদিও সেটা খুব অমূলক ছিল,কিন্তু সেটাই ছিল আমাদের কাছে যৌক্তিক।আমার জীবনে তাই ক্লাস এইট এর পর থেকে সেটাই ছিল শেষ বিতর্ক।বলা যায় সাডেন চেঞ্জ আমার মধ্যে আসল।নিছক বিতর্কের জন্য কোন বিতর্কের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট পুরাপুরি শেষ হয়ে গেছিল।যে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য ক্লাব গঠিত হয়েছিল সেই ক্লাব থেকেই আমার প্রিয় বিতর্কের ইচ্ছার অবসান ঘটেছিল।আর কখনও টিভিতেও কোন বিতর্ক দেখা হয়নি।

৬ বছর পর ২০০৮ সালে মেডিকেল কলেজের কালচারাল ফাংশানে আমি এবার দর্শক।এত বছর পর খুব আগ্রহ ফিল করলাম।কারন বিতর্কটা ছিল ডক্টরদের মধ্যে।চারদিকে পোস্টারে ভরে গেছে ক্যাম্পাস।উহু! কতদিন বিতর্ক দেখিনা।তাই ভিতরের ইচ্ছা এবার জেগে উঠল।

বিতর্কের বিষয় ছিল “ক্লিনিক্যাল ডক্টরদের থেকে প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টররা পারিবারিক জীবনে সুখি।
উল্লেখ্য প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টর বলতে তাদের বোঝায় যারা মেডিক্যাল কলেজের টিচার।আর যারা হসপিটাল এ প্রাক্টিস করে তাদের ক্লিনিক্যাল ডক্টর বলা হয়।যথারীতি বিতর্ক শুরু হল।স্বাভাবিকভাবেই যেহেতু আমি মেডিকেলের স্টুডেন্ট সো আমি প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টদের পক্ষে।আর আমাদের স্যার ম্যডামদের অংশগ্রহনে ক্যম্পাসের সকল স্টুডেন্টদের ভিতর চঞ্চলতা শুরু হয়ে গেল।পুরা গ্যালারি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।মেডিক্যাল স্টুডেন্ট বনাম ক্লিনিক্যাল ডক্টর।আমার পাশে বসে ছিলেন একজন ইন্টার্নি ডক্টর।উনি ছিলেন খুব আশাবাদী যে ক্লিনিক্যাল ডক্টররাই জিতে যাবে।আমরা সবাই আমাদের টিচারদের হাত তালি দিয়ে উজ্জীবিত করতেছি।খুব টান টান উত্তেজনা।ঠিক যেমন ভারত-পাকিস্তান খেলায় হয়ে থাকে।কে জিতবে ,কে হারবে কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা।অবশেষে আমাদের ফিজিওলোজি ম্যাডামের শেষ একটা কথার জন্য প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টররা জিতে গেল।সেই কথাটা খুবই স্ট্রং ছিল প্রতিপক্ষের জন্য।ম্যাডাম বলেছিলেন, ‘আমি এতদিন পেডিয়াট্রিকস(শিশু বিভাগ) এ ছিলাম।পারিবারিক জীবনে অনেক প্রবলেম হচ্ছিল,ছেলে-মেয়েদের টাইম দিতে পারছিলামনা।কিন্তু যখন পেডিয়াট্রিকস ছেড়ে প্রিক্লিনিক্যালে ট্রান্সফার হলাম তখন থেকেই পারিবারিকভাবে সুখে দিন কাটাচ্ছি। হাঃহাঃ কথাটা শুনে আমরা সবাই হেসে দিছিলাম...

এই বিতর্কের পর ২য় আরেকটা বিতর্ক শুরূ হল।এটাও ছিল খুব মজার।এটার বিষয় ছিল, সার্জারি নয়,মেডিসিনই চিকিতসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।
এই বিতর্কও খুব জমে গেছিল,কারন সমগ্র হসপিটালের মেডিসিন ও সার্জারি ডক্টরদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি হয়ে গিয়েছিল।আর স্টুডেন্ট? যে যার মত বিভক্ত হয়ে গেছিল।সার্জারি আমার ভাল লাগেনা,এই কারনে ডিসেকসান ক্লাস আমার কাছে খুব বিরক্ত লাগে।সো আমি ছিলাম মেডিসিনের পক্ষে।আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল সার্জারির পক্ষে।যথারীতি এখানেও খুব টান টান উত্তেজনা।সার্জারিতে মেইন প্লাস পয়েন্ট ছিল গাইনি বিভাগ।কারন মানুষ সৃষ্টির ইনিশিয়াল স্টেপ সার্জারি দিয়ে শুরু হয়।খুব স্ট্রং পয়েন্ট।শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মনে হচ্ছিল সার্জারি জিতে যাবে।্কিন্তু এবারও ধারনা ভুল হল।মেডিসিনের স্যার খুব মজার একটা কথা বললেন সবার শেষে।বললেন, সার্জারি যদি চিকিতসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হত তাহলে মেডিক্যাল কলেজের নাম সার্জিক্যাল কলেজ হত,মেডিক্যাল কলেজ হতনা।
খুব জোরে হাততালি পড়ল দর্শক সারি থেকে,এবং এট লাস্ট মেডিসিন জিতে গেল।
এই দুইটা বিতর্কে আমি খুব মজা পেয়েছি কারন এখানে সমগ্র ডক্টর,স্টুডেন্ট,টিচারদের মধ্যে তফাত ছিলনা।মনে হচ্ছিল সবাই সমবয়সী এবং যে যার মত গ্রুপে ডিভাইড হয়ে ছিল।৬ বছর পর এই বিতর্ক আমার জন্য ছিল এককথায় আসাধারন।মেডিকেল কলেজে এডমিসনের পর একঘেয়েমি পড়া থেকে এই বিতর্ক আমাদের জন্য ছিল উচ্চমানের বিনোদন,যা ব্রেইনকে রিফ্রেস করে দিয়েছিল একেবারে।ইনফ্যাক্ট মেডিকেল কলেজে আমরা এর থেকে আর বেশি বিনোদন আর কিইবা পেতে পারি???