সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০০৯

পৃথিবী, আজ আমার ছেলে প্রথম স্কুলে যাচ্ছে ( world, my son starts school today!)

আত্মসম্মানবোধের মূলকথা আব্রাহাম লিঙ্কনের নিচের এই লেখাটাতে যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে তার থেকে ভাল করে প্রকাশ করা যায়না...

হে পৃথিবী, আমার সন্তানের হাত ধর, সে আজ তার স্কুলের পাঠ শুরু করল। কিছুদিন তার কাছে সবই নতুন ও বিস্ময়কর মনে হবে, এবং আমার আশা তুমি তার সঙ্গে সদয়
ব্যবহার করবে। দেখ, এ পর্যন্ত সে কাটিয়েছে এই বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই, মুরগীর ঘরগুলিতে ছিল তার আধিপত্য, বাড়ির পিছনের বাগানের সে ছিল মালিক। তার ক্ষতে ওষুধ লাগাতে আমি সবসময়ে কাছাকাছি ছিলাম, এবং যখন সে মনে আঘাত পেয়েছে আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি।

কিন্তু এখন অবস্থা অন্য রকম হবে। আজ সকালে বাড়ির সামনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে গিয়ে পিছন ফিরে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়বে, তারপর শুরু হবে সেই মহৎ অভিযান, যা তাকে নিয়ে যাবে অনেক যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং দুঃখের মধ্য দিয়ে।

পৃথিবীতে বাঁচতে হলে বিশ্বাস, ভালবাসা ও সাহসের প্রয়োজন। সুতরাং হে পৃথিবী, আমার বাসনা তুমি তার তরুণ হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে চল, এবং জীবনে যা শেখার প্রয়োজন তা তাকে শিখিয়ে দিও।

আমি জানি, ওকে জানতে হবে যে সব মানুষই ন্যয়পরায়ণ নয়, সব নারী-পুরুষই সৎ নয়, তাকে শিখিয়ে দিও যে সংসারে দুর্বৃত্ত যেমন আছে তেমনি বিরচিত গুনাবলীর মানুষও আছে; শত্রু যেমন আছে তেমনি মিত্রও আছে। প্রথমদিকেই তাকে শিখিয়ে দিও যে উৎপীড়নকারীরা সহজেই পদানত হয়।

বইয়ের পাতায় যে অত্যাশ্চর্য ভান্ডার আছে তা ওকে চিনিয়ে দিও। ওকে কিছু নির্জনতা দিও, যখন ও আকাশে পাখির ওড়া, সূর্যের আলোয় মৌমাছিদের ঘোরাফেরা কিংবা সবুজ পাহাড়ে ফুলের সমারোহ দেখে ভাবতে পারবে। ওকে শিখিও, অসৎ উপায় অবল্মবন করার থেকে অসফল হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। ওকে শিক্ষা দিও, যদি অন্য সকলে বলে যে ওর ধারণাগুলি ভুল তবুও যেন ও নিজের বিশ্বাসে অটল থাকে। আমার ছেলেকে শক্তি দিও। অন্য সকলে যখন ঠেলাঠেলি করে কোনও প্রত্যাশায় গাড়িতে ওঠে, তখন ও যেন জনতাকে অনুসরন না করে। শিক্ষা দিও যেন অন্যের কথা শোনে, কিন্তু যা শোনে তা যেন সত্যের ছাঁকুনিতে ছেঁকে নিয়ে যে সারটুকু থাকে তাই গ্রহণ করে।

শিক্ষা দিও, কখনও নিজের হ্রদয় ও আত্বাকে বিক্রয়যোগ্য না করে। শিক্ষা দিও যেন উচ্ছৃংখল জনতার চিৎকারে কান না দিয়ে নিজে যা সঠিক মনে করে তার জন্য লড়াই করতে পারে।
সহ্রদয়ভাবে শিক্ষা দিও, পৃথিবী, কিন্তু অধিক প্রশ্রয় দিওনা; কারণ আগুনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেই উত্তম ইস্পাত তৈরি হয়।
এটি খুবই দীর্ঘ প্রত্যাশা, কিন্তু দেখ কতটা করা যায়। ও এত ভালো ছেলে...

আব্রাহাম লিঙ্কন

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০০৯

অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ??


মন মন মন মন তো চাইল,বিবাহিত আমি তাতে কি হল?
অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ?
..................................................
সে ছিল তখন ১৯,আমি তখন ৩৬
প্রেমে পড়তে লাগেনা বয়স,মনে থাকেনা ১৯/২০......

নচিকেতার গান বাজছিল মোবাইলে। বান্ধবীরা সব মিলে এক জম্পেশ আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথার ফাকে একজন বলে উঠল '' y ক্রোমোসোম হচ্ছে ক্রিমিনাল ক্রোমোসোম''। আড্ডার টপিক টার্ণ করল এবার y ক্রোমোসোমে। সাথে চলছে নচিকেতার 'পেসমেকার' গান...মোটামুটিভাবে এই গানকেই পুরুষের সাইকোলোজি বিশ্লেষণের জন্য আইডিয়াল ধরা হয়েছে। পুরুষবিদ্বেষী অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি কিছুটা নিরব। ঠিক বুঝতে পারছিলামনা কোন এংগেলে কথা বলব এব্যাপারে। চিন্তা করছিলাম গানের প্রতিটা লাইন। একটা পুরুষের ক্ষেত্রে এটা যেমন সত্য, একটা মেয়ের জন্যও এটা সত্য। তাই আড্ডায় ভালভাবে জয়েন করতে পারছিলামনা।
আরে তুই কিছু বলছিস না যে? একজনের প্রশ্নে কিছুটা প্রস্তুত হয়ে বললাম অনুভূতিরা তো আসলেই বাধ্যতামূলক একই রকম থাকেনা। বুঝতে ছিলাম এটা বলার পর সব আলোচনা আমার দিকে টার্ণ করবে। তাই হল...
বললাম দোস্ত ভুল বুঝিসনা। পুরুষরা খুব এডভেঞ্চার প্রিয় হয়। মেয়েরাও কি কম? হয়ত পুরুষের সেই এডভেঞ্চার ফেইস করার সাহস আছে কিন্তু নারীর সেই সাহস কিছুটা কম। নারী অনেক সহনশীল হয়। মাতৃত্বসুলভ উদারতা নারীর মধ্যে অনেক বেশি প্রকট।
আমার এই কথার ফাঁকে একজন বলল কেনই বা হবে না? ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর মাতৃ্ত্বসুলভ বৈশিষ্ট্য আরো বাড়িয়ে দেয়। এটা শুনে একজন হাসতে হাসতে বলল ''হুম আসলে সবই হরমোনের একশান-রিএকশান''।
আলোচনার টপিক অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে। তাই বললাম এককভাবে পুরুষবিদ্বষী আমি না। ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষ ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়ে। সেই মেয়ে এটা জেনেও যদি তার সাথে প্রেম করে তাহলে পুরুষের দোষ এককভাবে কেন আসছে?
দেখ সেতু তুই কিন্তু নারীবিদ্বেষী কথা বলতেছিস...একজনের এই কমেন্টে আমি বললাম আজব তো! আমি কেন নারী বিদ্বেষী কথা বলতে যাব?
মেয়েটার বয়স কম। একটু আবেগী,সে অনেক কিছুই বুঝেনা। তাই বলে বাবার বয়সী লোকটা কেন ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়তে যাবে? এক বান্ধবীর খুব রাগতস্বরে এটা বলল।
দেখ আমরা কিন্তু মেয়েটার দোষ কে টলারেট করছি। বাট পুরুষেরটা করছিনা। একটা সমাজে বিশৃঙখলার জন্য এককভাবে কখনও কোন পুরুষ দায়ী থাকতে পারেনা। তুই বল নারীদের সহযোগীতা না থাকলে পুরুষরা কি একাই নারীদের শোষণ করতে পারত? এটা কি লজিক্যাল?
আড্ডা খুব জমে গেছিল সেদিন...
নারীরা এখন পুরুষদের দ্বারা ঘরে ও বাইরে সর্বত্র অপমানিত হচ্ছে। একটা সময় মনে করা হত নারী শিক্ষায় নারীকে মুক্তি দিবে। কিন্তু দেয় নি। নারী আজ শিক্ষিত, অফিসে কাজ করছে পুরুষের পাশাপাশি। কিন্তু নারীর মুক্তি মিলেনি। এর জন্য পুরুষের কতৃ্ত্বপূর্ণ মনোভাব দায়ী কিন্তু নারীরও দোষ আছে। একজন শিক্ষিত ও আত্বমর্যাদাশীল নারী কি অন্যের দ্বারা সহজেই ডাইভার্ট হয়?
তোদের সেন্সে কি বলে? আমাকে একটা ছেলে প্রোপোজ করলেই তার স্মার্টনেস,বাড়ি,গাড়ি,টাকা-পয়সা দেখেই তাকে ইয়েস বলে দিব? কিংবা আমার অনেক ছেলে বন্ধু আছে। শুধু বন্ধুত্বের খাতিরেই তাদের সাথে কি দিন নাই রাত নাই আড্ডা দিব,ঘুরতে যাব,সারা রাত মোবাইলে কথা বলব?
আসলে সব রিলেশনের একটা লিমিট আছে। কনসাসলি সেই লিমিটেশন মেনে চললে কিন্তু কোন প্রবলেম হয়না। আর বয়ঃসন্ধিকালীন যে সমস্যা সেটা ওভারকাম করার জন্য আমাদের দরকার সঠিক পারিবারির ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু আমরা কিন্তু সমাধানের দিকে না যেয়ে উলটা বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত।
এটা শুনে একজন বলল
- হতে পারে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা সুষ্ঠু না।এখানে সার্টিফিকেটে/নম্বরের প্রতিযোগীতা চলে।কিন্তু সুন্দর একটা বন্ধুত্বের পরিবেশ কিন্তু আছে।
-ওহ! তাই নাকি...তাহলে আমাকে বল ১৯ বছরের মেয়েটা যখন ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষের সাথে প্রেম করছে তখন নিশ্চয় সেটা তার বন্ধুরা জানত।
- তো! জানলেই কি...এটা একেকজনের পারসোনাল ম্যাটার। এসব নিয়ে তার বন্ধুরা কেন ইন্টারফেয়ার করবে?
- হুম! এটাই হচ্ছে ব্যাপার। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে পেশেন্ট-ডক্টর রিলেশনশিপ নাই। একজন ডক্টর একজন পেশেন্ট কে ট্রিটমেন্ট করে এবং নিজেও সেইফ থাকে। আমরা বন্ধুরা কি তাই করি? আমার খুব কাছের বন্ধুর খারাপ কাজ দেখেও এটা যার যার পারসোনাল ব্যাপার মনে করে এভয়েড করে যাই। আমাদের বন্ধুত্বের রিলেশনে কেউ ডক্টন নাই। এখানে সবাই পেশেন্ট। এটাকে কি তুই সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বলবি?
-না আসলে দেখ এভাবে তো চিন্তা করে দেখা হয় নি।
আসলে এটাই ফ্যাক্ট। আমরা সমস্যার এক চেইন রিএকশানের মধ্যে আছি। বাহ্যিক দিক থেকে সমাধানের চেষ্টা করতে যেয়ে সমস্যা আরো বেড়েই যাচ্ছে।
নাহ! আড্ডার পরিবেশটা খুব থমথমে হয়ে গেছে। আবার নচিকেতার গানে ফিরে গেলাম...

সব পুরুষই যেমন হয় আমিও আলাদা নয়...হু এডভেঞ্চারিস্ট...
....................................................................
তখন আমার অনেক বয়স হাসপাতালে বাইপাস
অপারেশন গেছে হয়ে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস!
ডাক্তার এসে দাড়াল, চিনলাম তার হাসি দেখে
লজ্জায় মুখ সরালাম তাই সে বলল আমায় ডেকে
পেসমেকার ভেবোনা যেটা রেখেছি তোমার বুকে
ভেবো আমার মাথা যেন আজো আছি মাথা রেখে...
........................................................
........................................................

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০০৯

শুধুই ভালবাসা...


ভালবাসা শব্দটার মানে কি? প্রশ্ন করেছিলাম খুব কাছের কিছু বন্ধুদের। ভালবাসা মানে ফিলিংস,অপ্রকাশ্য অনুভুতি। কেউ বলে ভালবাসা সীমাহীন তাই একে ডিফাইন করা যাবেনা এক শব্দে। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা বুঝতে হলে তোকে প্রেম করতে হবে। ফিলিংস কি কখনও শেয়ার করা যায়? এটা হচ্ছে উপলব্ধির ব্যাপার। আর সেই উপলব্ধি তখনি আসবে যখন তুই প্রেমে পড়বি। এভাবে অনেকভাবে তারা আমাকে ভালবাসার মানে বোঝাতে চেষ্টা করে।
খুব ভাল লাগে যখন দেখি এই ভালবাসার জন্য কেউ তার ফ্যামিলি ত্যাগ করে, বন্ধুদের ত্যাগ করে। ভাললাগে এই কারনে যে ভালবাসার শক্তি আসলে অপরিসীম। তা না হলে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কিভাবে ত্যাগ করা যায় শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের আকর্ষনে? এই ভালবাসা নিয়ে আছে ভালবাসা দিবস। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে এই দিবসের গুরুত্ব ভয়াবহ। আর যারা ভালবাসা কনসেপ্টকে পছন্দ করেনা তাদের নিকট ভালবাসা দিবস শুধুমাত্রই বানিজ্যিক,বাহ্যিক। আমি অবশ্য এই দুই দলের কোনটার মধ্যেই পড়িনা। কারন ভালবাসা ব্যাপারটা আমার কাছে খুব একটা খারাপ লাগেনা। এই কারনে ভালবাসা দিবসের মানে আমি এই বুঝিনা যে শুধু এই দিন ভালবাসার দিন,বাকি দিন নয়। আসলে দিনটা একটা উপলক্ষ্য, তবে এই উপলক্ষ্যের কার্যাবলী সারাবছর ব্যাপি থাকবে,এটাই স্বাভাবিক। তাই ভালবাসা দিবসকে আমি বাকা চোখে নেইনা। যদিও ভালবাসা দিবসের শুরুর কাহিনী আমাকে ইন্সপায়ার করেনা ভালবাসার জন্য বাট ভালবাসা আমাকে ইন্সপায়ার করে ভাল কিছু করার জন্য।
প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসা আমার কাছে কিছুটা আজব মনে হয়। একজনের প্রতি ভাললাগা আসতেই পারে কিন্তু তার জন্য আমার সারাটা দিন ব্যয় করা, তার সাথে ভালবাসার ফিলিংস শেয়ার করা, রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা,ছুটির দিনে ঘুরতে বের হওয়া ইত্যাদি এসব কনসেপ্ট আমার ভাল লাগেনা। সবচেয়ে যে ব্যাপারটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ন তা হল অন্যের প্রতি আমার ফিলিংস কিভাবে আসতেছে? আমি কি তার ক্যারিয়ার ,স্মার্টনেস, আউটলুক দেখে ভালবাসার প্রতি ইন্সপায়ার হচ্ছি? নাকি অন্য কিছু? যদিও যারা প্রেম করে তাদের কাছে এই প্রশ্ন করলে তারা বলে , ওর মনটা অনেক ভাল,তাই ওকে আমি অনেক ভালবাসি। কিন্তু তাদের প্রেমে পড়ার কাহিনী শুনলে দেখে যায় তারা কখনও মন দেখে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়নি। তাদের প্রেমে পড়ার ইতিহাস থেকে দেখা যায় কেউ কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছে সেখানে প্রথম দেখাতেই প্রেম। কিংবা একি সাথে লাইব্রেরিতে পড়াশুনা করে সেই থেকেই প্রেম। কিংবা আননোন মোবাইল থেকে ম্যাসেজ/ভয়েস শুনে প্রেম।

এভাবেই বেসিক্যালি আজকের যুগে ভালবাসা শুরু হয়। সেখানে দুইজন মানুষের আদর্শিক মিল খুব কমই হয়। তাই প্রেমিক-প্রেমিকার মন কষা-কষি লেগেই থাকে। পরে অবশ্য তারা বলে যে এই মন কষা-কষি নাকি তাদের ভালবাসার ফিলিংস আরো বাড়িয়ে দেয়। একজন আমাকে খুব আফসোস করে বলতেছিল যে তার জিন্স ও ফতুয়া পরার খুব শখ কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড এটা খুব অপছন্দ করে। তাই সে পরতে পারেনা। আমি তাকে সেদিন জিজ্ঞাসা করেছিলাম তোমার এমন আর কি কি শখ আছে যা তোমার বয়ফ্রেন্ড অপছন্দ করে? সে বলল অনেক কিছুই। এই যেমন আমি খুব ভাল গান পারি বাট আমার বয়ফ্রেন্ড চায়না যে আমি কোন প্রোগ্রামে গান করি। এরকম আরো বহু কিছু। তখন তাকে বললাম তাহলে কেন তুমি তাকে ভালবাস যে তোমার পছন্দের কোন মূল্য দেয়না? সে খুব সহজ সরলভাবে বলল ‘আসলে জান ও আমাকে অনেক ভালবাসে তাই ও চায়না যে আমি খুব বেশি এক্সপোসড হই।‘’ তোমার কি মনে হয় এতে কি তুমি নিজেকে বেশি এক্সপোসড করতে চাও? আরে কি যে বল! আমি তো শুধু চাই আমার শখ পূরন করতে অন্য কিছুনা। ওর খুব দ্রুত জবাব। তাহলে কেন তুমি শুধুমাত্র তোমার বয়ফ্রেন্ড এর জন্য তুমি এসব মেনে নিচ্ছ? কারন আমি যে তাকে অনেক ভালবাসি তাই। ভালবাসার মানুষের জন্য অনেক কিছু স্যাক্রিফাইস করা যায়,তুমি এসব বুঝবানা…..আমি আর বুঝতেও চাইনা।
প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে আইডিওলজিক্যাল কনসেপ্ট এর মিল খুব একটা গুরুত্ব বহন করেনা। তাই তো তারা একে অন্যের জন্য নিজের সব শখ,ভাললাগাকে বিসর্জন করতে পারে অনায়াসেই। কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নাও হতে পারত। হতে পারত ভালবাসার জন্য নিজের কোন কিছু বিসর্জন করা লাগবেনা বরং সেটাকে গ্রো করার জন্য একে অপরের সহযোগীতার হাত প্রসারিত হবে। তাহলে কেন এই সংকীর্ণতা?
বিশ্বাস। হ্যা বিশ্বাসের অভাব। আজকাল ভালবাসার মধ্যে কোন বিশ্বাস নাই। তাই তো একে অপরের প্রতি সন্দিহান সর্বদা। কোথায় গেল,কি করল, কার সাথে মোবাইলে কথা বলল, কার সাথে কলেজে মেলামেশা করে ইত্যাদি হাজারো রকম সন্দেহ।
যদি বিশ্বাস অর্জন না করা যায় তাহলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা আসেনা। তাই আজকাল ভালবাসা খুব সংকীর্ন হয়ে গেছে। ভালবাসা মানেই কেবল ঘোরাঘুরি,রাত জেগে কথা,চ্যাটিং,সন্দেহ আর মন কষা-কষি। এই সার্কেলেই চলছে বর্তমান ভালবাসা। খুব অবাক হই এক্ষেত্রে চিন্তার ম্যাচিউরিটি খুব কম মানুষের মধ্যেই আছে। ম্যাচিউরিটি আজকাল শুধু বয়স দ্বারা হিসাব করা হয়। ছেলে-মেয়েরা চিন্তা করে তারা এখন বড় হয়েছে, যথেষ্ট মাচিউরড সো তারা ভালবাসতেই পারে!
সত্যি কথা বলতে কি চিন্তার ম্যাচিউরিটি ধর্মীর অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। এতে অনেকেই আমার সাথে আপত্তি জানাতে পারে। কিন্তু আমি দেখেছি খুব সচেতন মানুষ যে মৌলিক গুনাবলি সম্পন্ন তার সচেনতা অনেক সময় তার পরিবার,তার আত্মীয়,বন্ধুদের জন্য কোন উপকার আনেনা। বরং সেই মানুষও কোন এক সময় এমন ভুল করে যা তার দ্বারা অসম্ভব ছিল। মানুষ ভুলের ঊর্দ্ধে নয় কিন্তু এই ভুল তার অপুর্ণ ম্যাচিউরিটির সাক্ষ্য বহন করে।
বলছিলাম ধর্মীয় অনুশাসনের কথা। আমার খুব কাছের একজন বান্ধবি এক হিন্দু ছেলের প্রেমে পড়ে। প্রেম তো প্রেম একেবারে মহামারি অবস্থা। কেউ কাউকে ছাড়া বাচবেনা। ফ্যামিলি থেকে যখন ব্যাপারটা জানাজানি হল তখন আমার ফ্রেন্ড এর মা বলল যে আমি যেন ওকে খুব ভালভাবে ইসলামের গুরুত্ব বুঝিয়ে ওই হিন্দু ছেলের কাছ থেকে তাকে ফিরিয়ে আনি। এখন কেন তাকে আমি ইসলামের গুরুত্ব আলাদাভাবে বুঝাব? যে ফ্যামিলি থেকে কখনও ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বসহকারে দেওয়া হয়নি তারাই কোন এক সময় ধর্মের আশ্রয় নিয়ে সমাজে নিজের প্রেস্টিজ রক্ষা করতে উঠে পড়ে লাগে। তারপর আর কি! খুব দ্রুত মেয়ের ফ্যামিলি থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
আজকাল ছেলে-মেয়েদের অবসর সময় কাটে লাভারের সাথে গল্প করে,আড্ডা দিয়ে। ভালবাসার মানে যে কেবল এগুলো নয় এটা তাদের চিন্তায় ঢুকেনা। এফ.এম রেডিও শুনলে দেখা যায় ইয়াং জেনেরেশান এর খুব কঠিন সমস্যা হচ্ছে এসব এফেয়ার জনিত সমস্যা। অথচ এখনও পৃথিবীতে মানুষ অনাহারে মারা যাচ্ছে, প্রতিদিন হাসপাতালে মানুষ মৃত্যু যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছে, কেউবা অভাবের তাড়নায় খারাপ পথে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে, কত ছোট ছোট নিষ্পাপ শিশু হাতে বই-খাতার বদলে ফুল নিয়ে রাস্তায় বিক্রি করতে পথে নামছে এসব সমস্যা যেন তাদের ভালবাসার সমস্যার কাছে কিছুই না। তাদের ভালবাসার ভাগিদার কেবল বয়/গার্লফ্রেন্ড। ভালবাসার মানুষের সাথে গল্প করার বিষয় কেবল কখন কি করল, কি দিয়ে খাইল, কে কাকে কতটুকু ভালবাসে ইত্যাদি।
কেন একটু ভালবাসা কি আমরা সেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রাখতে পারিনা? আমরা কি পারিনা ভালবাসা দিবসে তাদের সাথে আমাদের ভালবাসা শেয়ার করতে? সংকীর্ণ ভালবাসাকে আকাশের মত উদার করতে আমরা কেন এত কার্পণ্য করি? কেন আমরা আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল না খুজে শুধুমাত্র আউটলুক দেখে অন্যের প্রতি ভালবাসায় ইন্সপায়ারড হই?
আদর্শিক কনসেপ্ট এর মিল থাকলে ভালবাসার মধ্যে বিশ্বাস তৈরি হয়,একে অন্যের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ ডেভেলপ করে। একটা নির্দিষ্ট আইডিওলজিকে এস্টাবলিস করতে দুইজনের আপ্রান চেষ্টা ভালবাসার গভীরতা আরো বাড়িয়ে দেয়।
আমার ফ্রেন্ড আমাকে প্রায় বলে আমার মধ্যে নাকি এক ধরনের ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে ভালবাসার বিরুদ্ধে। আমি সো কলড বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েদের ভালবাসাকে খুব অপছন্দ করি। তাদের ভালবাসা দিবসে নিছক ফুল দিয়ে ভালবাসা উদযাপনকে খুব ঘৃণা করি। ভালবাসার নামে অনর্থক অপব্যয়কে ভালবাসার অবমূল্যায়ন মনে করি। তাই এর বিরুদ্ধে এক ধরনের ইমিউনিটি আমার সত্যি সত্যি তৈরি হয়েছে। কারো প্রেমে পড়িনি কিন্তু তাই বলে ভালবাসার মূল্যায়ন যে কেবল প্রেমিক-প্রেমিকারাই করতে পারে এটা বিশ্বাস করিনা।
বিয়ের আগে প্রেমকে আমি কখনই সাপোর্ট করিনা। সেক্ষেত্রে আমার লজিক হচ্ছে আমি কেন এমন কারো সাথে আমার ফিলিংস শেয়ার করব যে সেই ফিলিংস শেয়ার করার অধিকার রাখেনা? আমার ফিলিংস তো এত সস্তা না যে শুধুমাত্র বিশ্বাস দিয়ে হ্রদয় সংযোগ ঘটাব? আর তারপরে ভালবাসার সাগরে হাবুডুবু খাব। হা..হা..


মানুষের মৌলিক গুনাবলিকে সুন্দর একটা শেইপ এনে দেয় ধর্মীয় অনুশাসন। কারন ভালবাসার ফিলিংস এই মৌলিক গুনাবলি সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু সেই ফিলিংসটা কিভাবে কাজে লাগাতে হয় তা ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া পূর্ণতা পায়না। যদি আমাদের ভালবাসা হত সমাজের নিরীহ,সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি তাহলে চিন্তা করে দেখুনতো এই ভালবাসা হত বিরাট এক শক্তি যা পারমানবিক শক্তিকেও হার মানাত।ডিজিটাল সমাজের ভিত্তি হতে পারত এই ভালবাসা। অথচ আজ সমাজে ভালবাসাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার তরুনি আত্বহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে,কেউ মাদকাসক্ত হচ্ছে, কেউ আন্ডারওয়ার্ল্ডে যুক্ত হচ্ছে। কিন্তু ভালবাসা তো শুধুই সৃষ্টির জন্য ধংসের জন্য না! কে তাদের শিখাল যে ভালবাসা কেবল ছেলে-মেয়ের মধ্যেই হতে পারে? কারা সমাজের তরুন প্রজন্মকে ভালবাসার ভুল অপব্যাখ্যা দিয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে চিন্তাশূন্য করে গড়ে তুলতেছে?

বিশ্বাসহীন,একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধশুণ্য ভালবাসার শক্তি আজ সমাজে তাই চরম বিভিষিকা। এর থেকে পরিত্রানের উপায় কি ? প্রয়োজন আমাদের চিন্তাশক্তির ম্যাচিউরিটি,প্রয়োজন ভালবাসার সঠিক ক্ষেত্র উপলব্ধি তার সাথে সাথে এসবকে সুন্দরভাবে শেইপ করার জন্য দরকার ধর্মীয় অনুশাসন যা সর্বদা চার্জের মত কাজ করে। অর্থাৎ ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতিনিয়ত প্রাক্টিক্যাল চার্জ ভালবাসাকে নিয়ে যায় সুন্দর কোন প্রান্তে যা কখনও বিভিষিকা ছড়ায়না......

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

শূন্যতায় ডুবে যাওয়া এই আমি...

শূন্যতায় ভরে আছে মন।গত দুই মাস ধরে মন ভীষন খারাপ।সাথে ছিল পরীক্ষা আর শারীরিক অসুস্থতা।এই দুই মিলে মানসিক শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।অনেকদিন কোন পত্রিকা পড়া হয়না।ব্লগে আসা হয়না।পত্রিকা কেন পড়ব? ভাল খবর কিছু থাকলে তো পড়ব! ভাল লাগেনা অনবরত খারাপ খবর পড়তে।সময় কাটাতে তাই আজ আনেকদিন পর কিছু লিখতেছি...

বেদনায় ভারাক্রান্ত মনকে শান্ত্বনা দিতে খুজতে থাকি কিছু।কিন্তু আশ্চর্য! কিছুই পাচ্ছিনা।টিভি দেখতে ভাল লাগেনা।সেই ইন্টারমিডিয়েট থাকতে টিভি দেখা বাদ দিয়েছি।নতুন করে যখন দেখব বলে চিন্তা করলাম তখন বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন,উদ্দেশ্যহীন অনুষ্ঠান আবার টিভি থেকে আমাকে সরিয়ে আনল। কিন্তু সময় কাটেনা।কাজিন এর কাছ থেকে এবার বইমেলা থেকে কিনে আনা জাফর ইকবাল,হুমায়ুন আহমেদ,সুমন্ত আসলাম এর কিছু বই আনলাম।প্রথমেই যে বইটা হাতে নিলাম তা সায়েন্স ফিকশন।ক্লাস সেভেন-এইট এ থাকতে সায়েন্স ফিকশন সমগ্র পড়ে ফেলতাম নিমিষেই।খুব নেশা ছিল।তাই সেই নেশায় ফিরে যেতে মন চাইল।জাফর ইকবাল এর ইকারাস বইটা শুরু করলাম।বাট অনেকদিন সায়েন্স ফিকশন পড়িনা বলে আমি ঠিক বুঝতে পারলামনা এটা কি কোন সায়েন্স ফিকশন নাকি রুপকথার গল্প? অল্প কয়েক পাতা পড়েই মেজাজ খারাপ করে রেখে দিলাম।এত বড় লেখকের সায়েন্স ফিকশন আমার বুঝার সাধ্যের বাইরে।মনে হয় আমিই ভুলে গেছি সায়েন্স ফিকশন কি।আর বাকি বইসব ফেরত দিলাম কাজিনকে।ঠিক বুঝতে পারছিলামনা আমার মন খারাপ বলেই কি কোন কিছু ভাল লাগছেনা? নাকি সেগুলো আসলেই ভাল কিছু না!

মোবাইলে রেডিও নামক একটি অপশন আছে।কখনও সেই অপশনে যাওয়া হয়নি।আসলে ইচ্ছা বা সময় কিছু ছিলনা বলেই হয়ত যাওয়া হয়নি।টিভি,বই ছেড়ে এবার এফএম রেডিও তে মন দিলাম।আমি বুঝলামনা সব চ্যানেলেই কেন একই টপিকস নিয়ে কথা।সব কিছুতেই প্রেম-ভালবাসা।এফএম রেডিও যারা শুনে তারা সবাই মনে হয় তরুন-তরুনি।কারন যে টানা চার দিন এফএম রেডিও শুনলাম তাতে তরুন-তরুনি ছাড়া কাউকে পার্টিসিপেট করতে দেখিনি।উফ! কি যে বিরক্তিকর সব প্রোগ্রাম।আপনার সবচেয়ে প্রিয় মুহুর্ত কি? আপনার নিকট সবচেয়ে সাহসি কাজ কি? আপনি এই গানটা কাকে ডেডিকেট করতে চান? খুব সুন্দর,নির্জন কোন পরিবেশ এ আপনার কি ইচ্ছা হবে? এই সব টপিকস হচ্ছে আলোচনার বিষয়।আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল সবকিছুতেই এই আলোচনার বিষয় প্রেম-ভালবাসা বিষয়ক।সবকিছুর এন্সার ছেলে হলে বলবে তার প্রেমিকার কথা।আর মেয়ে হলে বলবে তার প্রেমিকের কথা।টানা চারদিন এফএম রেডিও শুনলাম এই জন্য নয় যে ভাল লাগছে।আসলে ভাল লাগানোর জন্য টানা চারদিন শুনলাম।বাট এটলাস্ট পূর্ন হতাশা নিয়ে এফএম রেডিও থেকে ব্যাক করলাম।

এবার দূষিত মনকে বিশুদ্ধ করতে প্রিয় উপন্যাসের বইতে মনোযোগ দিলাম।ততদিনে পরীক্ষা শেষ।শারীরিক অসুস্থতা যদিও যায়নি।তারপরও জীবনকে নতুন করে ভাবার জন্য সেসব উপন্যাসে রাত কাটাচ্ছি।কিন্তু কি যেন আরেক হতাশায় মন কেদে উঠল।উপন্যাসের সাথে নিজেকে একাত্ব করে ফেলি।নিজেকেই কোন এক চরিত্রের সাথে একাকার করে ফেলি।ভাবতে থাকি সেসব মহান নায়কের কথা যারা তাদের জীবনে যারা দেশপ্রেম কে,মানবতাকে বিজয়ের জন্য বুকের তাজা খুন বিলিয়ে দিয়েছে।যাদের জীবনের শুরু হয়েছে মানবতাকে রক্ষার জন্য।যারা তরুন বয়স থেকে ভাবতে শিখেছে দেশের সংকটময় মুহুর্তের কথা,চিন্তা করেছে তা থেকে উত্তরনের উপায়।গভীরভাবে ভাবতে শিখাচ্ছে আমাকে।কিন্তু সে ভাবনায় ছেদ পড়ল।আচমকা মেসেজ পেলাম।মেসেজটা ছিল একজনের জীবন-মরন সমস্যা,তাকে সাহায্য করতে হবে।হায়! আমি যদি সত্যি তাকে সাহায্য করতে পারতাম।কিন্তু পরক্ষনেই যখন ঘটনা জানতে পারলাম তখন আর তাকে সাহায্য না করতে পারার জন্য খারাপ লাগল না ।বরং তার জীবন-মরন সমস্যার জন্য তাকে মনে মনে ধিক্কার জানাতে লাগলাম।
আমার খুব প্রিয় একটা উক্তি আছে,'' মওকা বুঝে সওদা অন্তত দিলের বাজারে সব লোকেরা করেনা।আর তা তারা করেনা বলেই এ বাজারে যুগে যুগে ফতুর হয় তারাই।''
যে আমার কাছে জীবন-মরন সমস্যার জন্য সাহায্য চায় তাকে কিভাবে বুঝাব যে মন্দিরের দেবি হবার জন্য তুমি সারা জীবন আকাংখা কর সেই মন্দিরের মঞ্জিলে যখন পৌছে যাবা সেদিন প্রানপনে চাইবা যেন তোমারে কেউ সেই অন্ধ মিঞ্জিল থেকে কেউ রক্ষা করতে আসে।কিন্তু তোমাকে সেই মঞ্জিল থেকে কেউ উদ্ধার করতে আসবেনা।কিভাবে আসবে বল? তারা তো নিজেরাই আজ দিলের বাজারে সওদা করতে এসে পুজি হারিয়ে ফতুর হয়ে গেছে।উপন্যাসে আর মন ধরেনা।উপন্যাসের চরিত্র সব কাল্পনিক মনে হয়।কল্পনার জগতে বেশি থাকতে ইচ্ছা করেনা।কল্পনার জগতে যে তরুন-তরুনি জীবনের মহান উদ্দেশ্যে আত্মত্যাগ করে তাদের সাথে আমার চারপাশের সমাজের কোন মিল পাইনা।সমাজ উচ্ছনে যাক,দেশ রসাতলে যাক, তাতে আমার কি? এফএম রেডিওর এই যুগে সবাই এখন মটো নিয়ে দিলের বাজারে সওদা করার ট্রেনিং নেয়।কিন্তু আমার কাছে কেন জীবন-মরন সমস্যার সমাধান চায়? আমি তো এ সওদা করতে অভ্যস্ত নই।যেসব মিডিয়া এই সওদা করার প্রেরনা যুগায়,পদ্ধতি শেখায় তারা কেন জীবন-মরন সমস্যার সমাধানটুকু দিয়ে দেয়না?বা তাদের কাছেই কেন সাহায্য চায়না?

উদীয়মান সূর্যের সামনে বেশিক্ষন চোখ বন্ধ করে থাকা যায়না।পত্রিকা খুললাম।সলিমুল্লাহ মেডিকেলের সেই মহিলা চিকিৎসকের যোতুকের অভিযোগে নৃশংসভাবে হত্যার কাহিনি পড়লাম।উচ্চতর ডিগ্রির সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি যদি মূল্যবোধের সার্টিফিকেটও দেয়া হত!! তাহলে হয়তবা এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে কোন শিক্ষিত মেয়েকে এভাবে জীবন দিতে হত না।এটা কি সত্যিই কোন সভ্য সমাজের প্রতিচ্ছবি? মনে আজ তাই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে চরমভাবে।স্ট্রেস হরমোন আর কাজ করছেনা.........


সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

আনন্দ বিতর্কের একদিন...

বিতর্ক সবার কেমন লাগে জানিনা।তবে একসময় এর প্রতি আমার অপরিসীম আগ্রহ ছিল।স্কুল লাইফে অনেক ক্লসভিত্তিক বিতর্ক করা হয়েছে।আর টিভিতে প্রচারিত কোন বিতর্ক মনে হয় আমার মিস হত না তখন।আমি শিডিউল করে টিভিতে বিতর্ক দেখতাম তখন।এই বিতর্ক নিয়েই আমার কিছু অভিজ্ঞতা বলি...
আমাদের স্কুলে তখন নতুন নিয়ম চালু হল।প্রতি বৃহস্পতিবার এক্সট্রা কারিকুলার একটিভিটিসের জন্য বিভিন্ন ক্লাব গঠন করা হবে।এবং সেদিন কোন ক্লাস হবেনা।অনলি ক্লাবের আন্ডারে স্টুডেন্টদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য ক্লাস হবে।এই নিউজটা যখন পেলাম তখন যে কি খুশি এই ভেবে যে সেদিন কোন ক্লাস হবেনা প্লাস আমার প্রিয় বিতর্ক ক্লাবে আমি এটেন্ড করতে পারব।যথারীতি আমার যত ফ্রেন্ড আছে সবাই যার যার পছন্দের ক্লাবে মেমবার হয়ে গেল।যেহেতু আমার নাচ,গান,ছবি আকা,খেলাধূলার প্রতি কোন আকর্ষন নাই তাই আমি অনলি উপস্থিত বক্তৃতা,রচনা লেখা,বিতর্ক এসব ক্লাবের মেমবার হলাম।

তো রেগুলার আমি বিতর্কে পার্টিসিপেট করতে লাগলাম।আমাদের টিচাররা টপিকস সিলেক্ট করে দিতেন এবং বিতর্কের বিভিন্ন কৌশল বলে দিতেন।এখনও মনে পড়ে লাস্ট যে বিতর্কে আমি ছিলাম,সেই বিতর্ক থেকে আমি অনেক বড় একটা জিনিস শিখে গেছিলাম।সেটা হল বিতর্ক আমরা কেবল বিতর্ক করার জন্য করতেছি।ইনফ্যক্ট কোন কিছু শিখার মানসিকতায় আমরা কেউ বিতর্ক করতামনা।আমার যে প্রতিপক্ষ থাকত তার কোন যুক্তিবান কথাও আমরা কেউ মেনে নিতামনা।প্রতিপক্ষের অবস্থাও ছিল সেইম।সো যারা জিতে যেত তাদের প্রতি খুব মেজাজ খারাপ হত কেন তারা জিতল?হাঃ হাঃ যদিও সেটা খুব অমূলক ছিল,কিন্তু সেটাই ছিল আমাদের কাছে যৌক্তিক।আমার জীবনে তাই ক্লাস এইট এর পর থেকে সেটাই ছিল শেষ বিতর্ক।বলা যায় সাডেন চেঞ্জ আমার মধ্যে আসল।নিছক বিতর্কের জন্য কোন বিতর্কের প্রতি আমার ইন্টারেস্ট পুরাপুরি শেষ হয়ে গেছিল।যে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য ক্লাব গঠিত হয়েছিল সেই ক্লাব থেকেই আমার প্রিয় বিতর্কের ইচ্ছার অবসান ঘটেছিল।আর কখনও টিভিতেও কোন বিতর্ক দেখা হয়নি।

৬ বছর পর ২০০৮ সালে মেডিকেল কলেজের কালচারাল ফাংশানে আমি এবার দর্শক।এত বছর পর খুব আগ্রহ ফিল করলাম।কারন বিতর্কটা ছিল ডক্টরদের মধ্যে।চারদিকে পোস্টারে ভরে গেছে ক্যাম্পাস।উহু! কতদিন বিতর্ক দেখিনা।তাই ভিতরের ইচ্ছা এবার জেগে উঠল।

বিতর্কের বিষয় ছিল “ক্লিনিক্যাল ডক্টরদের থেকে প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টররা পারিবারিক জীবনে সুখি।
উল্লেখ্য প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টর বলতে তাদের বোঝায় যারা মেডিক্যাল কলেজের টিচার।আর যারা হসপিটাল এ প্রাক্টিস করে তাদের ক্লিনিক্যাল ডক্টর বলা হয়।যথারীতি বিতর্ক শুরু হল।স্বাভাবিকভাবেই যেহেতু আমি মেডিকেলের স্টুডেন্ট সো আমি প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টদের পক্ষে।আর আমাদের স্যার ম্যডামদের অংশগ্রহনে ক্যম্পাসের সকল স্টুডেন্টদের ভিতর চঞ্চলতা শুরু হয়ে গেল।পুরা গ্যালারি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।মেডিক্যাল স্টুডেন্ট বনাম ক্লিনিক্যাল ডক্টর।আমার পাশে বসে ছিলেন একজন ইন্টার্নি ডক্টর।উনি ছিলেন খুব আশাবাদী যে ক্লিনিক্যাল ডক্টররাই জিতে যাবে।আমরা সবাই আমাদের টিচারদের হাত তালি দিয়ে উজ্জীবিত করতেছি।খুব টান টান উত্তেজনা।ঠিক যেমন ভারত-পাকিস্তান খেলায় হয়ে থাকে।কে জিতবে ,কে হারবে কিছুই বোঝা যাচ্ছেনা।অবশেষে আমাদের ফিজিওলোজি ম্যাডামের শেষ একটা কথার জন্য প্রিক্লিনিক্যাল ডক্টররা জিতে গেল।সেই কথাটা খুবই স্ট্রং ছিল প্রতিপক্ষের জন্য।ম্যাডাম বলেছিলেন, ‘আমি এতদিন পেডিয়াট্রিকস(শিশু বিভাগ) এ ছিলাম।পারিবারিক জীবনে অনেক প্রবলেম হচ্ছিল,ছেলে-মেয়েদের টাইম দিতে পারছিলামনা।কিন্তু যখন পেডিয়াট্রিকস ছেড়ে প্রিক্লিনিক্যালে ট্রান্সফার হলাম তখন থেকেই পারিবারিকভাবে সুখে দিন কাটাচ্ছি। হাঃহাঃ কথাটা শুনে আমরা সবাই হেসে দিছিলাম...

এই বিতর্কের পর ২য় আরেকটা বিতর্ক শুরূ হল।এটাও ছিল খুব মজার।এটার বিষয় ছিল, সার্জারি নয়,মেডিসিনই চিকিতসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি।
এই বিতর্কও খুব জমে গেছিল,কারন সমগ্র হসপিটালের মেডিসিন ও সার্জারি ডক্টরদের মধ্যে গ্রুপ তৈরি হয়ে গিয়েছিল।আর স্টুডেন্ট? যে যার মত বিভক্ত হয়ে গেছিল।সার্জারি আমার ভাল লাগেনা,এই কারনে ডিসেকসান ক্লাস আমার কাছে খুব বিরক্ত লাগে।সো আমি ছিলাম মেডিসিনের পক্ষে।আমার ক্লোজ ফ্রেন্ড ছিল সার্জারির পক্ষে।যথারীতি এখানেও খুব টান টান উত্তেজনা।সার্জারিতে মেইন প্লাস পয়েন্ট ছিল গাইনি বিভাগ।কারন মানুষ সৃষ্টির ইনিশিয়াল স্টেপ সার্জারি দিয়ে শুরু হয়।খুব স্ট্রং পয়েন্ট।শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মনে হচ্ছিল সার্জারি জিতে যাবে।্কিন্তু এবারও ধারনা ভুল হল।মেডিসিনের স্যার খুব মজার একটা কথা বললেন সবার শেষে।বললেন, সার্জারি যদি চিকিতসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হত তাহলে মেডিক্যাল কলেজের নাম সার্জিক্যাল কলেজ হত,মেডিক্যাল কলেজ হতনা।
খুব জোরে হাততালি পড়ল দর্শক সারি থেকে,এবং এট লাস্ট মেডিসিন জিতে গেল।
এই দুইটা বিতর্কে আমি খুব মজা পেয়েছি কারন এখানে সমগ্র ডক্টর,স্টুডেন্ট,টিচারদের মধ্যে তফাত ছিলনা।মনে হচ্ছিল সবাই সমবয়সী এবং যে যার মত গ্রুপে ডিভাইড হয়ে ছিল।৬ বছর পর এই বিতর্ক আমার জন্য ছিল এককথায় আসাধারন।মেডিকেল কলেজে এডমিসনের পর একঘেয়েমি পড়া থেকে এই বিতর্ক আমাদের জন্য ছিল উচ্চমানের বিনোদন,যা ব্রেইনকে রিফ্রেস করে দিয়েছিল একেবারে।ইনফ্যাক্ট মেডিকেল কলেজে আমরা এর থেকে আর বেশি বিনোদন আর কিইবা পেতে পারি???

টার্গেটঃ জয় ও সিওভাক্কোর থিসিস...... প্রেক্ষাপটঃ বাংলাদেশ......... মিশনঃ পসিবল/ইম্পসিবল???

১৯ নভেম্বর,২০০৮ এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমেরিকান পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার সহযোগী ইরাক,আফগানিস্তানে মার্কিন হামলা পরিকল্পনাকারী কার্ল সিওভাক্কো এক থিসিস প্রকাশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউতে প্রকাশিত এই থিসিসে বলা হয় বাংলাদেশে ইসলামি সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা একটি মৌলবাদী বাহিনীতে পরিনত হচ্ছে।আরো বলা হয়, বাংলাদেশে বোরকা বিক্রি ৫০০ ভাগ বেড়েছে,মহিলারা বেশি বোরখা পরছে।সেনাবাহিনীতে ৩৫% মাদ্রাসার ছাত্র জয়েন করতেছে।এছাড়াও দেশে ইসলামীকরনকে প্রতিহত করতে পরিকল্পনার কথাও থিসিসে বলা হয়।

গত ২৯ শে ডিসেম্বর এর নির্বাচনে নির্বাচিত ডিজিটাল সরকারের মেইন টার্গেট এখন জয়ের থিসিসের সফল বাস্তবায়ন করা।স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও যে বাঙ্গালি অপূরনীয় স্বপ্নের চেইন রিএকশানে বার বার আবর্তিত হচ্ছে তা বুঝি এবার শেষ হবে।বাংগালি জাতির স্বপ্ন পুরন হবে এবার জয়ের স্বপ্ন পুরনের মাধ্যমে।
মিশন অলরেডি শুরু হয়ে গেছে বিগত ৬ মাসে সরকারের কার্যকলাপের মাধ্যমে।যেমনঃ
১।অনিশ্চিত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের ইস্যুতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করা এবং ইসলামকে প্রতিহত করার চেষ্টা।
২। ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী বিডি আর বিদ্রোহের নামে সেনাবাহিনীকে ধংস করে দেয়া।
৩।৩ জুলাই পিরোজপুরের তিন পর্দানশীন নারীকে জেএমবি সন্দেহে অহেতুক হয়রানি,বখাটেদের প্রতি সরকারের নমনীয় আচরন।
৪।অপেক্ষায় আছে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের বাস্তবায়ন।
৫।এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রীর বিভিন্ন সময়ে ইসলাম বিরোধী বক্তব্য উল্লেখযোগ্য।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে মুসলিমদের পতনের জন্য কোন খ্রিস্টান,ইহুদি বা অন্য কেউ দায়ী ছিলনা। স্বয়ং মুসলিমদের প্রতারনার জন্য আজ আমাদের এই পরিনতি।ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে স্পেনে মুসলিম জাতি ৭০০ বছর শাসন করেছিল সেই স্পেন ধংসের জন্য দায়ী কতিপয় মুসলিম জাতির সীমাহীন গাদ্দারি।এক্ষেত্রে অবশ্য ইসলামের শত্রুরা মুসলিমদের টুল হিসেবে ইউজ করেছে।এখনও তার ব্যতিক্রম নয়।ধর্ম শিক্ষা উঠিয়ে দিয়ে কুদরাতি-খুদা শিক্ষা নীতি প্রনয়নের চেষ্টা,মাদ্রাসাকে জঙ্গি প্রোডাকশনের সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করা,সম্প্রতি পিরোজপুরে ঘটিত হিজাবের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের ক্যাডার দিয়ে হিজাবকে জেএমবি র ইস্যু ত্তৈরি করা এবং সরকারের সমর্থন সবকিছুই যেন জয়ের থিসিসের মিশনকে পসিবল করে তুলতেছে।

আমি খুব স্পষ্টতঃ আশঙ্কা করছি সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন এই জয়ের থিসিসের হাত ধরে বাংলাদেশ পরিনত হবে ইরাক অথবা আফগানিস্তান।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় জঙ্গিবাদ।পাশ্চাত্য মিডিয়াতে মুসলিমদের জঙ্গি,টেররিস্ট হিসাবে দেখানো হয়।অথচ সেই পাশ্চাত্য মিডিয়ার প্রতিফলন ঘটতেছে বাংলাদেশেও।এখানে কোন টিভি-চ্যানেলে ইসলামকে সুন্দরভাবে রিপ্রেসেন্ট করা হয়না।হিজাবকে ফোকাস করা হয় পাশ্চাত্য দৃষ্টিভঙ্গিতে।এমনকি সম্প্রতি হিজাব নিয়ে ঘটে যাওয়া তিন পর্দানশীন নারীকে বখাটে যুবকদের হয়রানিও ১/২ টি টিভি-চ্যানেল,পত্রিকা বাদে সর্বাধিক জনপ্রিয় পত্রিকার কোথাও এ নিয়ে সাধারন কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়না।অমিমাংসিত বিডি আর বিদ্রোহের নেপথ্যের কাহিণীকে সুকৌশলে ধামা চাপা দেয়া হচ্ছে।মনে হয় সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে জয়ের থিসিসের সফল বাস্তবায়ন।এই মিশন এখন কমপ্লিটলি পসিবল কিংবা ইম্পসিবল হবে কিনা তা নির্ভর করছে জনগনের হাতে।কারন সরকার যদি এই মিশনের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকে তাহলে জনগনকেই আপারহ্যান্ড নিতে হবে।তা না হলে আমাদের এক ভয়ঙ্কর কঠিন ভবিষ্যতের সম্মুখিন হতে হবে।

জয় ও সিওভাক্কার মিশনের এই কাহিনী শুনে হয়ত আমেরিকান রাজপুত্র জয় ও তার ইহুদি স্ত্রী খুব খুশি হচ্ছেন।জয় তার এই অসাধারন থিসিসের জন্য স্পেশাল কোন এওয়ার্ডও পেয়ে যেতে পারেন পশ্চিমাদের নিকট।সেটাই স্বাভাবিক।যে কখনও দেশে বাস করেনি,দেশের মানুষের সুখ-দুঃখ শেয়ার করেনি সে কিভাবে আমেরিকাতে থেকে এদেশের সমস্যা সমাধানের জন্য থিসিস করবে??? সে তো পাশ্চাত্যের এজেন্ট হিসাবে কাজ করবে সেটাই স্বাভাবিক।তাই নয় কি???

শেষে একটি কথা জয় সাহেবকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে বোরখার বিরুদ্ধে আপনার এই থিসিস ,আপনার জননী নির্বাচনে হিজাব পরে,ধার্মিক সেজে জনগনকে ধোকা বানানোর চেষ্টা কে আপনি কিভাবে দেখেন?আর আপনি কি মনে করেন যে ইসলামের আপনার এই অবস্থান এর পরিনাম কি হবে? ইতিহাস দেখেন, রিসার্চ করেন।জবাব পেয়ে যাবেন।আর একথাও জেনে রাখুন সত্য সংগ্রামের সৈনিকরা এখনও জীবিত আছেন।প্রয়োজনে বুকের তাজা খুন বিলিয়ে দিতে তারা কার্পন্য করবেনা।

বাঙ্গালি জাতি এখন এমনই এক ক্রান্তি লগ্নে অবস্থান করছে যখন ভবিষ্যত নির্ভর করতেছে জনগনের হাতে।তারা এখনও ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর থাকবে নাকি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সামগ্রীক জীবন রক্ষার তাগিদে সত্য সংগ্রামের সৈনিকদের পথের সহযোগী হবে, সেটার উপর নির্ভর করছে ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বাধীন/পরাধীন ভবিষ্যত...




মেজাজ খারাপের ২৪ ঘন্টা এবং ব্রেইন ওয়াশ!!!

বায়োকেমিস্ট্রি স্যার এর ক্লাসে কিছুতেই মন বসছেনা।পাশে বসা ফ্রেন্ড পরবর্তি ক্লাসের আইটেম এর পড়া পড়তেছে।আর এদিকে স্যার বোরিং ফুড,নিউট্রিশন,ভিটামিন পড়াচ্ছেন।কি যে ডিসগাস্টিং সিচুয়েসন!ট্রাই করতেছি ক্লাসে কনসেনট্রেট করার জন্য।আচ্ছা টিচার রা এত বিরক্তিকর কিভাবে হয়?উফ! আমার মনে হয় ক্লাস নেয়ার আগে সব টিচারদের একটা সাইকোলজির ক্লাস করে আসা উচিত।ইনফ্যাক্ট স্টুডেন্টদের সাইকোলজি না বুঝে পড়ালে সেই ক্লাস আদৌ ইফেক্টিভ হয়না।এই সহজ কথাটা যে টিচাররা যে কেন বুঝেনা!!
২.৩০ ঘন্টার এই ক্লাস শেষ হতে এখনও ১.৩০ ঘন্টা বাকি।ক্লাসের সবার দিকে একটু অবসার্ভ করলাম।দেখি সবাই যে যার পড়া নিয়ে ব্যস্ত।স্যার তার প্রজেক্টরে পড়ানো নিয়ে ব্যাস্ত।এই ক্লাসটাকে মনে হচ্ছে যেন ওয়ান ওয়ে কমিউনিকেশন।স্টুডেন্ট-টিচার কারও সাথে কারো কোন কন্ট্যাক্ট নাই,বাট কমিউনিকেশন চলতেছে।এই যখন অবস্থা মনে পড়ে গেল কলেজ লাইফে কেমিস্ট্রি ক্লাসের কথা।আমাদের সেই স্যার ছিলেন ইউনিক।আমরা কখনই শেষ পিরিওয়ডে স্যার এর ক্লাস থাকলে ভুলেও সেই ক্লাস করতামনা।কারন ৪০ মিনিটের ক্লাস স্যার সুযোগ বুঝে ১.৩০ ঘণ্টাও নিয়ে ফেলতেন।একদিন স্যার ক্লাসে জারন-বিজারন বুঝাচ্ছেন।আমি পড়ছিলাম জুওলোজি।কারন বাসায় আমি কখনও বায়োলোজি পড়ার টাইম পেতামনা।সো ক্লাসই ছিল আমার জন্য পারফেক্ট টাইম।তাছাড়া জারন-বিজারনের চ্যপ্টারটা আমার আগেই পড়া ছিল।সো নো টেনসন!
সাডেনলি স্যার খেয়াল করলেন আমি স্যারের ক্লাসে মনোযোগী না।আমাকে দাড় করালেন।জারন-বিজারনের রিএকশান করতে দিলেন।স্যার তো আর জানতনা যে জারন-বিজারন ছিল আমার ফেভারিট ওয়ান।তাই দ্রুত রিএকশান টা করে দিলাম।কেন জানি মনে হল স্যার এতে খুব ইনসাল্ট ফিল করলেন,বললেন “এভাবে কেমিস্ট্রি মুখস্ত করে পরীক্ষায় কখনও পাস করা যাবেনা”।যেভাবেই হোক পরবর্তী এক্সাম এ স্যার এর কথা সত্যি হয়নি।
আর স্কুল লাইফের রসায়নের এক্সপেরিএন্স আমার খুব একটা ভাল ছিলনা।যদিও এক্সামে ৮০% নম্বর ইজিলি থাকত,বাট আমি জানতাম রসায়নে ছিল আমার জমের মত ভয়।অন্যদিকে ফিজিক্স ছিল আমার অন্তরের কাছাকাছি একটা জায়গায়।তাই স্কুল লাইফে ঠিক হয়ে গেছিল আমার এইম ইন লাইফ।হতে চেয়েছিলাম আর্কিটেক্ট।হায়রে আমার সাধের আর্কিটেক্ট!! আর্কিটেক্ট এর স্বপ্ন থেকে ব্যাক করলাম ফুড,নিউট্রিশন,ভিটামিনে...
ও মাই গড! এতক্ষনে মাত্র ৫ মিনিট পার হয়েছে।এত কিছু চিন্তা করলাম,সেই কলেজ,স্কুল এর কথা।এইম ইন লাইফের কথা।ঘড়ি কি স্লো নাকি? ক্লাসের ঘড়ি প্লাস নিজের ঘড়ি মিলাইলাম।আরে ঠিক ই তো আছে।তাহলে??পরক্ষনেই বুঝতে পারলাম মনের গতিবেগ আলোর গতিবেগের চেয়েও বেশি।
যেভাবেই হোক ভয়ংকর ভাবে সেই বোরিং ক্লাস শেষ করে,পরে চরম একটা খারাপ আইটেম দিয়ে বাসায় ফিরলাম।
বাসায় এসে মন মেজাজ খুব খারাপ।দুপুরে ঘুম দিলাম।বিকালে উঠে মন ভালো করার জন্য নঈম সিদ্দিকির বই ধরলাম।নঈম সিদ্দিকির বিশ্লেষনধর্মী লেখা পড়ে ধীরে ধীরে মন দ্রবীভূত হতে লাগল।
সন্ধার পরে বাসায় গেস্ট আসল।আমার এর দু;সম্পর্কের চাচা।বেসিক্যালি এই চাচাকে আমি খুব অপছন্দ করি।বিকজ আমাকে দেখলেই উনি অনন্ত ধারার উপদেশ বানী শুরু করে দেয়।চাচার ডাক শুনে গেলাম...
-আসসালামু আলায়কুম চাচা।ভালো আছেন?
-ওয়ালাইকুমাসসালাম।কেমন আছ মা তুমি?
-এইতো চাচা,আলহামদুলিলাহ ভালো আছি।অনেকদিন আপনি আসেননা...
-সময় কই বল আসার?তোমার পড়াশুনা কেমন চলছে? তোমার হাতে কি বই ওটা?
-এমনি একটা বই পড়ছিলাম।সেরকম কিছুনা।
-দেখি তো একটু...
বইটি দিলাম চাচাকে।অনেক্ষন ধরে চাচা বইটি উলটে পালটে দেখলেন।পরে বললেন মা এসব বই পড়া বাদ দাও।এগুলো পড়লে ব্রেইন ওয়াশ হয়ে যাবে।
ব্রেইন ওয়াশ?এমিনেতেই মেজাজ ছিল খুব খারাপ।তার উপর এই মহা বিরক্তিকর চাচা।তার পরে নঈম সিদ্দিকির বই পড়া নিয়ে ব্রেইন ওয়াশ বানী আমাকে একটু বেপরোয়া করে দিল।বললাম
-চাচা আমি হুমায়ুন আহমেদ,জাফর ইকবাল,তসলিমা নাসরিন,হুমায়ুন আজাদ,সূচিত্রা,সুনীল,সমরেশ এর বহু বই পড়েছি।কই তাদের বই পড়া নিয়ে কখনও তো বললেননা যে ব্রেইন ওয়াশ হয়ে যাবে?আর এখন নবী(সাঃ) জীবনী নিয়ে লেখা এই বিশ্লেষনধর্মী বই পড়া দেখে কিভাবে বললেন যে ব্রেইন ওয়াশ হয়ে যাবে?
তাতক্ষনিক এই জবাবের জন্য চাচা প্রস্তুত ছিলেননা।আর আমার বলার স্টাইলেও কিছুটা কঠোরতা ছিল।চাচা বললেন
-ও আচ্ছা অলরেডি তোমার ব্রেইন ওয়াশ হয়ে গেছে এসব জামাত শিবিরের বই পড়ে??
এবার জামাত শিবির টেনে আনছে বলে মেজাজ হয়ে গেল আরো খারাপ।বললাম
-চাচা আসলে ওইসব হুমায়ুন,জাফর,সমরেশ এর বই গুলো পড়ে ব্রেইন এ ডাস্ট জমা হয়েছিল।তাই একটু ওয়াশ করারা জন্য এসব বই আজকাল আমি প্রায়ই পড়ে থাকি।একথা বলে নিজের রুমে চলে আসলাম।
ধ্যাত! কি একটা শনির বলয় চলছে আজকে?চারপাশের সবকিছুই মেজাজ খারাপ করে দিচ্ছে।লাইট অফ করে কিছুক্ষন বসে থাকলাম।শুনতে পেলাম আম্মার সাথে চাচা কি যেন বলছিলেম।নাহ! আর শোনার চেষ্টা করিনি।যা বলে বলুক।আমি খুব ভদ্রভাবে চাচার সাথে যে কথা বলেছি,প্রতিটা কথার এন্সার দিয়েছি,এটাই অনেক।
মোবাইলে রিং হচ্ছে।আখির ফোন।
-দোস্ত কি খবর?
-ভালো না।শোন কাল ফিজিওলোজি প্র্যাক্টিকাল জমা দেয়ার লাস্ট ডেট।ম্যাডাম হসপিটালে ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছেন।সো কালই সব সাইন করাতে হবে।
-আজব? মানে কি?সম্ভব নাকি এখন সব প্র্যাক্টিকাল শেষ করা?আর ম্যাডাম এটা আগে বলবেনা?আর তাছাড়া আজ বললেও তো হত।এটলিস্ট বিকাল থেকে শুরু করলে শেষ হয়ে যেত।এখন বাজে রাত ১০ টা ।
-তুই তো আইটেম দিয়ে চলে আসলি।নোটিস বোর্ড খেয়াল করিসনি।আর ম্যাডাম আজকে আইটেম এর শেষে বলে গেছেন এই কথা।তোর ফোন এ রিচ করতে পারছিনা সেই দুপুর থেকে।ফোন অফ করে রেখেছিলি কেন?
-ওহ! শিট! আচ্ছা ঠিক আছে দোস্ত,কথা বলার টাইম নাই।আল্লাহ হাফিয।

লাইট অন করলাম।প্র্যাক্টিকাল বই ও খাতা নিয়ে বসলাম।যেইনা লিখতে যাব কারেন্ট গেল চলে।যাহ! আজকে আর কিছুই লিখবনা।সাইনও করাবোনা।এই বলে আবার বিছানায় গেলাম।কখন যে ঘুমিয়া পড়েছি জানিনা।ঘুম থেকে উঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে।৮ বাজতে মাত্র ৫ মিনিট বাকি।উহু!! প্রথম ক্লাস্ টা মিস।২য় ক্লাসের জন্য কলেজে গেলাম।শেষ ক্লাসে আমি বাদে প্রায় সবাই প্র্যাক্টিকাল সাইন করালো।আমি চেয়ে চেয়ে দেখলাম।বাট কেন জানি কোন ফিলিংস হচ্ছিলনা।আজকেই লাস্ট ডেট।ম্যাডাম চলে যাবেন।ভোতা হয়ে গেছিলাম কিছুক্ষনের জন্য।

এই ছিল আমার মেজাজ খারাপের ২৪ ঘন্টা।পরবর্তীতে আমারই এক প্রিয় স্যারের কাছে আমার প্র্যাক্টিকাল সব সাইন করিয়ে নিয়েছিলাম।এখনও সেই দিনের কথা মনে পড়লে খুব হাসি পায়।বেশি মজা লাগে সেই ব্রেইন ওয়াশ চাচার কথা মনে পড়লে।হা...হা...ব্রেইন কি আমার সত্যিই ওয়াশ!!!!!