টেনশনে আছি রুহিত কে নিয়ে। রুহিত আমার স্টুডেন্ট। উহু, শুধু আমার না। আমার ভাইয়েরও। দুজনই পার্ট টাইম পড়ায় ওকে। যখন আমার পরীক্ষা থাকে তখন আমার ভাই আর আমার ভাইয়ের যখন অন্য কাজ থাকে তখন আমি। এভাবেই চলছে আজ চার মাস। আসলে বাড়িওয়ালা আন্টির সাথে এরকমই কথা হয়েছিল যে আমি বিজি থাকলে আমার ভাই পড়াবে। তো সেভাবেই চলছে...
এই পর্যন্ত খুব বেশি যে স্টুডেন্ট পড়িয়েছি তা না। তবে যাদের পড়িয়েছি তাদের থেকে রুহিত আলাদা। কি রকম আলাদা?
যদিও আমি শুধু ম্যাথ আর বিজ্ঞান পড়াই তারপরও আমি মাঝে মাঝে রুহিতের সাথে গল্প করার জন্য অন্য সাবজেক্টের আলোচনাও করি। একদিন রুহিতকে বললাম,
- আচ্ছা রুহিত, হাজার বছর ধরে উপন্যাস কেমন লাগে তোমার?
- ভালই তো লাগে, আপু।
- একটু বলবা হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত কাহিনী?
- (কিছুক্ষন চুপ থেকে শুরু করল) মকবুল বুড়া খুব খারাপ একটা লোক। একদিন করল কি জানেন আপু?
- কি করল?
- সে রাতে তার বৌ দের দিয়ে সবার অগোচরে অনেক অনেক কষ্টের কাজ করাল যা কিনা কেবল গরুই করতে পারে, মানুষ না।
- আচ্ছা, কাহিনী টা আমি জানতে চাইছি...
- এটাই তো কাহিনী!
- হুম, বুঝেছি। তাহলে আমাকে একটু বলতো হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সামারি কি?
- আমি আসলে আপু বুঝতেছিনা কিভাবে মানুষ হাজার বছর বেচে থাকে? এই নাম দেয়ার মানে বুঝতেছিনা, তাই সামারি আমার ব্রেইনে আসতেছেনা।
- ওকে বলা লাগবেনা। তুমি পরের ম্যাথটা কর।
এই হচ্ছে রুহিত। যে কোন উপন্যাস বা গল্পের কাহিনী বা সামারি বলতে বললে কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে কাহিনী শেষ করে। গত রোজার ঈদের পরে রুহিত কে বললাম
- তোমার দেখা সবচেয়ে প্রিয় মুভি কোনটি?
- আমি তো মুভি দেখেছি একটা। ভালই লেগেছে
- মাত্র একটা?
- জি। কারণ পড়ার চাপে আমি মুভি দেখার টাইম পাইনা।
- আচ্ছা, কোন মুভি দেখেছ?
- থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার।
- হুম। এই মুভির কাহিনী কি?
- এত বড় কাহিনী কিভাবে বলি!
- না না, সংক্ষিপ্ত করে বললেও হবে।
- আচ্ছা। একদিন রুবা সন্ধায় তার স্বামীর সাথে হাটছিল। হঠাৎ পুলিশ ওদের ধরে থানায় নিয়ে গেল। এরপর ওদের বহু প্রশ্ন করতে লাগল। এরকম করে কাহিনি এগিয়ে যায়...
- আচ্ছা বুঝেছি। মুভিটার সামারি কি?
- মুভিটার সামারি তার নামের মধ্যেই আছে। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। মানুষ হচ্ছে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। তাই তার আরো মানুষ দরকার যেন সে প্লুরাল হতে পারে। হাজার হলেও মানুষ হচ্ছে সামাজিক জীব।
- গুড। দারুন বলেছ তো!
আমার পরে যখন একদিন আমার ভাই পড়াতে গেল সেতো রীতিমত বিরক্ত। মেজাজ খারাপ করে সে আমাকে বলল “ আচ্ছা তুই রুহিতকে পড়াস কি করে? আজকে ওকে আমি চার ঘণ্টা ধরে সাইন থিটা=লম্ব/ অতিভুজ, কস থিটা= ভূমি/অতিভূজ পড়ালাম। অথচ সে বার বারই ভুল লিখে যাচ্ছে। ধ্যাৎ আজকে আমার সারাদিন নষ্ট ওর জন্য।“
আমার ভাইকে বললাম, “ রুহিত হচ্ছে যান্ত্রিক টাইপ বুঝেছিস। তুই ওকে সাইন থিটা, কস থিটা ২০ বার করে মোট ৪০ বার লেখা। দেখবি পরে ঠিক হয়ে যাবে। কারণ বার বার লিখতে লিখতে সেটা ওর ব্রেইনে সেট হয়ে যাবে।“ সত্যি সত্যি আমার ভাই ওকে ২০ বার করে মোট ৪০বার লেখানোর পর রুহিত ঠিকভাবে বলতে পারে।
যাইহোক ইদানিং আমি রুহিত কে নিয়ে খুব বেশি টেনশনে আছি। ২০১১ তে ওর এসএসসি পরীক্ষা। ম্যাথ ওকে রিভাইস করাচ্ছি। রুহিতের আরেকজন টিচার আছে যে ম্যাথ ও বিজ্ঞান ঠিকমত পড়া হচ্ছে কিনা সেটা মনিটর করে। সেই টিচার রিভাইস করা ম্যাথ থেকে ওকে আটটা অংক করতে দিয়েছে সেদিন, রুহিত ৩ঘণ্টা পর একটা অংক মিলাতে পেরেছে। সেই খাতা পরে দেখে আমার তো মাথা খারাপ হবার মত অবস্থা। আমি রুহিত কে এবার বললাম
- রুহিত, তোমার এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কি টেনশন হয়?
- জি আপু হয়।
- তাহলে পড়াশুনা বাদ দিয়ে টেনশান কর।
- মানে?
- মানে হল, তুমি যখন টেনশান কর তখন তোমার ব্রেইনের যে পার্ট পড়াশুনা মেইন্টেইন করে সেটা ব্লক হয়ে যায়। তাই তুমি যদি সত্যি সত্যি পরীক্ষায় পাশ করতে চাও তাহলে টেনশান বাদ দিয়ে পড়াশুনা কর।
- আপু, আমার মনে হচ্ছে আমি ছিটকে পড়ে যাব।
- হুম, যাবা তো! কিন্তু আমার কথা হচ্ছে তুমি তো সর্বোচ্চ ফেইল করবা। তাহলে টেনশান কিসের?
- ফেইল করলে তো আমি পানিতে ডুবে যাব।
- মানে?
- মানে পরীক্ষা হল পানির মত। পাশ করতে না পারলে সেই পানিতে আমি ডুবে যাব।
- হুম। তো কি হয়েছে? তোমাকে সেই পানি থেকে উঠিয়ে সাতার শেখাব। তারপর আবার পরের বছর তোমাকে পানিতে নামিয়ে দিব। তখন ডুবে যাবানা। তাহলে টেনশান কিসের???
- একবার যদি ডুবে যায়, তাহলে কি আর আমি পানি থেকে উঠতে পারব?
- আচ্ছা, রুহিত আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে...
- ঠিক আছে আপু, আপনি টেনশান কইরেননা। আমি দেখি কি করা যায়...
উফ! বাসায় এসে মনে হল, ছেড়ে দে মা কেন্দে বাচি টাইপ অবস্থা। আহারে! ওর জন্য খুব খারাপও লাগে আবার। পাশ করতে পারলেই ওর বাবা-মা ওকে নিয়ে মাথায় করে রাখবে। কিন্তু সেই পাসই ওর জন্য ভয়াবহ কঠিন ব্যাপার। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য আমি অপেক্ষা করছি। রুহিত যদি পাশ করে তাহলে আমি যতটা খুশি হব তা মনে হয় আমার নিজের পরীক্ষার ভাল রেজাল্টের জন্য তত খুশি হবনা………
শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১০
একটু খানি জীবন চাই...!!
হাতের মুঠো ফোনের দিকে যখন তাকায় তখন খুউব অবাক হয়ে যাই। কি এক আজব জিনিস যা আমাকে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে নিয়ে যায় নিমেষেই। প্রতি মুহূর্তে প্রিয়জনের সাথে ইচ্ছা হলেই যোগাযোগ করতে পারি। অপেক্ষা করতে হয়না একটুও। অন্তর্জালের মোহনীয় শক্তিতে ইচ্ছা হলেই মনের কথা অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারি। তাই ডাকপিয়নের অপেক্ষায় আজ কারো প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে হয়না। কিন্তু আজ খুব অপেক্ষা করতে ইচ্ছা হচ্ছে কারো হাতে লেখা চিঠি পেতে। যে চিঠির পরতে পরতে হাতের লেখার সাথে আবেগের উঠা-নামা অনুভব করতে পারব। মনের যত আকুলতা সেটাকে নিজের মনের আকুলতার সাথে একাকার করে ফেলতে পারব। ছোটবেলায় খালামনিকে একবার চিঠি লিখেছিলাম। চিঠির শেষে নিজের হাতের একটা ছাপ দিয়ে ছবিও একে দিয়েছিলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করেছিল কেন এই ছবি আকা? শিশুসুলভ মন নিয়ে বলেছিলাম যে হাত দিয়ে খালামনিকে চিঠি লিখছি সেই হাতের ছবিও নিশ্চয় খালামনির দেখতে মন চাইবে, তাই এই ছবি আকা। এখন সেই স্মৃতি রোমন্থন করলে খুব হাসি পায়, কি হাস্যকর রকম মানসিকতা ছিল তখন। কিন্তু আজ আমি শিশুসুলভ সেই মানসিকতাকে খুব বেশি অনুভব করছি, খুব মিস করছি। আমাকে কেউ হয়তবা কখনও হাতে লিখে চিঠি পাঠাবেনা। তাই কারো আবেগ,ভালবাসা ও স্নেহের উষ্ণতা আমাকে আর শিহরিত করবেনা। যান্ত্রিকতার এই যুগে সবকিছু হাতের মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও আমি আজও খুজে ফিরি বারবার আদিম সেই প্রাচীন সম্পর্ক যা বার বার আবেগে আমাকে প্রকম্পিত করবে।
নস্টালজিক আমি কখনই সেরকম ছিলামনা। হতেও চাইনি। দৃষ্টিতে শুধু ভবিষ্যত দেখি। অতীত আমাকে প্রেরণা যোগায় কিন্তু কখনও অতীতে ফিরে যেতে চাইনি। অতীতের দুঃখ বর্তমানে আমাকে ব্যথিত করেনা, বরং ভবিষ্যতের জন্য পাথেয় যোগায়। কিন্তু তাহলে আজ কেন বার বার ব্যতিক্রম হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে যাবার পথে হাইওয়ের পাশে সবুজের মাঝে ছোট ছোট ঘর,পাশে বয়ে যাওয়া নদী,মাথার উপর অন্তিম আকাশ আর রাতের বেলায় ঘরের উঠোনে বসে জ্যোৎস্না স্নান করতে আজ খুব মন চাইছে। হোক না সাদা-মাটা জীবন তাতে কি! সেখানে আর কিছু না থাকুক অন্তত পরস্পরের প্রতি ভালবাসার কোন অভাব থাকতনা। ঠিক কবির মত আজ আমারও বলতে ইচ্ছা করছে ভালবাসাহীন হাজার বছর আমি চাইনা। চাই একটুখানি জীবন কিন্তু ভালবাসা, মায়া-মমতা,স্নেহের আবেগে পরিপূর্ণ এক সুন্দর পৃথিবী।
পৃথিবী আজ আমার ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা অপরের সাথে শুধুই যান্ত্রিক কোন সম্পর্ক। না, কোন অভিমানে নয় চরম বাস্তবতায় আজ আর আমার সত্যি পৃথিবী ভাল লাগেনা। এখানে কি আছে? হয়তবা হাতের মুঠোয় আমার পুরা পৃথিবী আছে কিন্তু কি লাভ সেই পৃথিবী দিয়ে? যেখানে মায়ের পরকীয়ার বলি হয় ভালবাসার সন্তানের। নিজ অস্তিত্ব কি আজ হুমকির সম্মুখিন? দশ মাস দশ দিন সুগভীর নিরাপত্তার মধ্যে থেকে শিশুটি যখন নিরাপত্তাহীন পৃথিবীতে পদার্পন করে তখন তার একমাত্র নিরাপত্তা তার মা। সেই নিরাপত্তার স্থানও আজ নিরাপত্তাবিহীন। এরকম পরকীয়ার বলি কেবল একজন নয়, হয়ত আরো বেশি। ভবিষ্যতে কি হবে ভাবতে ভয় পাচ্ছি...
প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসার গভীরতাও আজ আর নেই। থাকবে কি করে? এখন বয়ফ্রেন্ড কিংবা গার্লফ্রেন্ড থাকা একটা স্ট্যাটাস। তাই ভালবেসে বিয়ে করে অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি। যেখানে আমাদের ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে, বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি? কারো ভালবাসার টানে, কারো আস্থার প্রতি আস্থা রেখে সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাব। নাহ! আজ সেই প্রেরণাও নাই। কারো প্রতি আজ আর আস্থা রাখতে পারিনা।
সন্তানের হাতে বাবা খুন কিংবা বাবার হাতে সন্তান খুন, এটা তো নিছক একটা দুঃসংবাদ এখন। পত্রিকার হাজারো দুঃসংবাদের মধ্যে এই দুঃসংবাদ এখন নিয়মিত প্রকাশিত হয়। শুধু এই নয়, আরো আছে। দুঃসংবাদের প্রকারভেদ শুনতে চান? প্রতিনিয়ত কোন না কোন মেয়েকে আত্বহত্যা করতে হচ্ছে ইভটিজিং এর কারণে। আজকাল কোন ছেলে আর মেয়েদের বোন হিসেবে সম্মান জানায়না। হয়ত বোনরাও আজকাল ভাইদের ভাই হিসেবে বিশ্বাস করতে পারেনা। সবই সম্ভাবনা...কিছুই জানিনা। শুধু এইটুকু অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে পাচ্ছি চারপাশ থেকে ভালবাসা, বিশ্বাস আর আস্থা রা হারিয়ে যাচ্ছে।
পত্রিকার পাতা উল্টায়না আজকাল। বাতাসেই খবর যেভাবে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাতে আর পত্রিকার পাতা পড়া লাগেনা। তবুও মাঝে মাঝে একটু খুজে ফিরি, কোন ভাল কিছু পাওয়া যায় কিনা! একটু ভালবাসার ছিটেফোটা দেখা যায় কিনা! বার বার হতাশ হই। বার বার চোখের মাঝে ভাসে আবু বকরের মত নিরীহ কোন ছেলে কিংবা দেশের হাজার হাজার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষারত সেইসব ভাইদের কথা যাদের মনে কতইনা স্বপ্ন ছিল দেশকে কিছু দেবার, দশের জন্য কিছু করার। ভালবাসাহীন এই নিষ্ঠুর পৃথিবী তাদের থাকতে দেয়নি। আমি কোন রাজনীতি করিনা, চাইনা কোন ক্ষমতা, করিনা কোন দল, করিনা কারো পক্ষপাতিত্ব। শুধু একটুখানি ভালবাসা চাই, ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটা ছোট পৃথিবী চাই। দরকার নেই মুঠো ফোন কিংবা অন্তর্জালের মত কোন যাদুকরি জিনিস। সেই পুরোনো পৃথিবীতে ফিরে যেতে চায়, যেখানে আর কিছু না থাকুক মায়ের ভালবাসার মত অটুট আস্থা মাথার উপর সর্বক্ষন থাকবে অন্তত।
উন্নয়নের দিক থেকে আজো আমরা পিছিয়ে আছি। তাই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসার জন্য পরিবর্তন হয় সরকার, আমরা স্বপ্ন দেখি। হয়ত এবার আমরা কিছু একটা পাব, আর কিছু না হোক অন্তত বিশ্বাস আর ভালবাসা। কিন্তু হতাশ ও পিপাসার্ত মন বার বার হতাশ হয়, পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। মনের পিপাসা মেটানোর জন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে পাশে পাইনা। প্রধাণমন্ত্রী নাকি একটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অভিভাবক, সেটাই জানতাম সব সময়। কিন্তু কই? প্রতিবারই কোন নৃশংস ঘটনার জন্য একটা নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন কিংবা বিরোধী দল বারবার আমাদের অভিভাবকের চক্ষুশূল হয়! মা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী আজ তার জনগনরূপ সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে। হায়রে মা! হায়রে সন্তান! সব ভালবাসার স্থান আজ বিষে ভরা, দূষিত হয়ে গিয়েছে। কেউ কাউকে আমরা ক্ষমা করিনা, কেউ কাউকে ভালবাসিনা। তাই ট্রেন দুর্ঘটনায় খুব সহজেই অবলিলায় আমাদের দেশের অভিভাবক বিরোধী দলের উপর দোষ চাপিয়ে সস্তি খুজে পান। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য নির্বিশেষে বিরোধী দলকে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উল্লেখ করে। কি যে এই সস্তি তিনি পান আমরা জানিনা তবে আমরা বার বার আস্থা হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে যাই।
শিক্ষা ব্যবস্থার চরম উন্নতি দরকার। এজন্য প্রয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিশীলন। সেই লক্ষ্যেই যে শিক্ষা নীতির রূপ দেখলাম সেখানেও আবার আস্থা হারালাম। যান্ত্রিকতার এই যুগে প্রযুক্তির সাথে শিক্ষাকে সংযোগ ঘটানোর জন্য আমাদের অভিভাবকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এখানেও মন ও মানসিকতা গঠনের উপকরনকে অবলিলায় ছুড়ে ফেলা হল। ধর্ম নিছক কোন ধর্মীয় ব্যাপার না যে এটা প্রযুক্তিগত শিক্ষার জন্য বাধাস্বরূপ। যা দিয়ে আমরা এই পৃথিবী গড়ে তুলব তা কিন্তু ওই প্রযুক্তির মধ্যে নেই কিংবা ওই প্রযুক্তি আমাদের শেখাবেনা কিন্তু ধর্ম শেখাবে। আবার যে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করে আমরা উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলতা চাইছি সেই পৃথিবীতে কিন্তু আমরা নিজেরাই আর বসবাস করতে চাইবনা। বিশ্বাস, আস্থা,ভালবাসা,মূল্যবোধ বিহীন প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিয়ে যে পৃথিবী গড়তে চাইছি সেখানে হয়ত কেবল রোবটই বাস করতে পারবে, কোন মানুষ নয়। অথবা এরকম হতে পারে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় আমাদের মন-মগজের বিবর্তন হয়ে যাবে ফলে মানুষ আর ভালবাসা চাইবেনা, কারো প্রতি বিশ্বাস রাখবেনা, কোন স্বপ্ন দেখবেনা, কোন আস্থার সম্পর্ক চাইবেনা, কোন আবেগ থাকবেনা, অনুভুতিগুলো দুমড়ে মুচড়ে ভোতা করে ফেলবে...কেউ আর তখন কারো জন্য পরম ভালবাসা নিয়ে অপেক্ষা করবেনা, কোন মা তার সন্তানের জন্য ভালবাসার ছিটে-ফোটাও মনের গহীনে পোষণ করবেনা, স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা হবে কেবল জৈবিক...
জানিনা এই দুঃস্বপ্নের প্রহর কখন শেষ হবে। নাকি এই দুঃস্বপ্নই সত্যিকারভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে কোন একদিন। তাহলে আমি আবার বলতে চাই ভালবাসাহীন এই পৃথিবীতে চাইনা আমি হাজার বছর, একটুখানি জীবন চাই যেখানে আস্থা, আবেগ,ভালবাসা আর বিশ্বাস আমাকে নতুন করে প্রাণে জোয়ার জোগাবে...একটুখানি জীবনের এই স্বপ্ন কি আমি দেখতে পারিনা?? নাকি এই স্বপ্নও অন্য কোন দুঃস্বপ্নের ভিন্ন রূপ!!
নস্টালজিক আমি কখনই সেরকম ছিলামনা। হতেও চাইনি। দৃষ্টিতে শুধু ভবিষ্যত দেখি। অতীত আমাকে প্রেরণা যোগায় কিন্তু কখনও অতীতে ফিরে যেতে চাইনি। অতীতের দুঃখ বর্তমানে আমাকে ব্যথিত করেনা, বরং ভবিষ্যতের জন্য পাথেয় যোগায়। কিন্তু তাহলে আজ কেন বার বার ব্যতিক্রম হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে যাবার পথে হাইওয়ের পাশে সবুজের মাঝে ছোট ছোট ঘর,পাশে বয়ে যাওয়া নদী,মাথার উপর অন্তিম আকাশ আর রাতের বেলায় ঘরের উঠোনে বসে জ্যোৎস্না স্নান করতে আজ খুব মন চাইছে। হোক না সাদা-মাটা জীবন তাতে কি! সেখানে আর কিছু না থাকুক অন্তত পরস্পরের প্রতি ভালবাসার কোন অভাব থাকতনা। ঠিক কবির মত আজ আমারও বলতে ইচ্ছা করছে ভালবাসাহীন হাজার বছর আমি চাইনা। চাই একটুখানি জীবন কিন্তু ভালবাসা, মায়া-মমতা,স্নেহের আবেগে পরিপূর্ণ এক সুন্দর পৃথিবী।
পৃথিবী আজ আমার ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা অপরের সাথে শুধুই যান্ত্রিক কোন সম্পর্ক। না, কোন অভিমানে নয় চরম বাস্তবতায় আজ আর আমার সত্যি পৃথিবী ভাল লাগেনা। এখানে কি আছে? হয়তবা হাতের মুঠোয় আমার পুরা পৃথিবী আছে কিন্তু কি লাভ সেই পৃথিবী দিয়ে? যেখানে মায়ের পরকীয়ার বলি হয় ভালবাসার সন্তানের। নিজ অস্তিত্ব কি আজ হুমকির সম্মুখিন? দশ মাস দশ দিন সুগভীর নিরাপত্তার মধ্যে থেকে শিশুটি যখন নিরাপত্তাহীন পৃথিবীতে পদার্পন করে তখন তার একমাত্র নিরাপত্তা তার মা। সেই নিরাপত্তার স্থানও আজ নিরাপত্তাবিহীন। এরকম পরকীয়ার বলি কেবল একজন নয়, হয়ত আরো বেশি। ভবিষ্যতে কি হবে ভাবতে ভয় পাচ্ছি...
প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসার গভীরতাও আজ আর নেই। থাকবে কি করে? এখন বয়ফ্রেন্ড কিংবা গার্লফ্রেন্ড থাকা একটা স্ট্যাটাস। তাই ভালবেসে বিয়ে করে অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে। ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি। যেখানে আমাদের ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে, বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি? কারো ভালবাসার টানে, কারো আস্থার প্রতি আস্থা রেখে সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাব। নাহ! আজ সেই প্রেরণাও নাই। কারো প্রতি আজ আর আস্থা রাখতে পারিনা।
সন্তানের হাতে বাবা খুন কিংবা বাবার হাতে সন্তান খুন, এটা তো নিছক একটা দুঃসংবাদ এখন। পত্রিকার হাজারো দুঃসংবাদের মধ্যে এই দুঃসংবাদ এখন নিয়মিত প্রকাশিত হয়। শুধু এই নয়, আরো আছে। দুঃসংবাদের প্রকারভেদ শুনতে চান? প্রতিনিয়ত কোন না কোন মেয়েকে আত্বহত্যা করতে হচ্ছে ইভটিজিং এর কারণে। আজকাল কোন ছেলে আর মেয়েদের বোন হিসেবে সম্মান জানায়না। হয়ত বোনরাও আজকাল ভাইদের ভাই হিসেবে বিশ্বাস করতে পারেনা। সবই সম্ভাবনা...কিছুই জানিনা। শুধু এইটুকু অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে পাচ্ছি চারপাশ থেকে ভালবাসা, বিশ্বাস আর আস্থা রা হারিয়ে যাচ্ছে।
পত্রিকার পাতা উল্টায়না আজকাল। বাতাসেই খবর যেভাবে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাতে আর পত্রিকার পাতা পড়া লাগেনা। তবুও মাঝে মাঝে একটু খুজে ফিরি, কোন ভাল কিছু পাওয়া যায় কিনা! একটু ভালবাসার ছিটেফোটা দেখা যায় কিনা! বার বার হতাশ হই। বার বার চোখের মাঝে ভাসে আবু বকরের মত নিরীহ কোন ছেলে কিংবা দেশের হাজার হাজার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষারত সেইসব ভাইদের কথা যাদের মনে কতইনা স্বপ্ন ছিল দেশকে কিছু দেবার, দশের জন্য কিছু করার। ভালবাসাহীন এই নিষ্ঠুর পৃথিবী তাদের থাকতে দেয়নি। আমি কোন রাজনীতি করিনা, চাইনা কোন ক্ষমতা, করিনা কোন দল, করিনা কারো পক্ষপাতিত্ব। শুধু একটুখানি ভালবাসা চাই, ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটা ছোট পৃথিবী চাই। দরকার নেই মুঠো ফোন কিংবা অন্তর্জালের মত কোন যাদুকরি জিনিস। সেই পুরোনো পৃথিবীতে ফিরে যেতে চায়, যেখানে আর কিছু না থাকুক মায়ের ভালবাসার মত অটুট আস্থা মাথার উপর সর্বক্ষন থাকবে অন্তত।
উন্নয়নের দিক থেকে আজো আমরা পিছিয়ে আছি। তাই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসার জন্য পরিবর্তন হয় সরকার, আমরা স্বপ্ন দেখি। হয়ত এবার আমরা কিছু একটা পাব, আর কিছু না হোক অন্তত বিশ্বাস আর ভালবাসা। কিন্তু হতাশ ও পিপাসার্ত মন বার বার হতাশ হয়, পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। মনের পিপাসা মেটানোর জন্য কাউকে অভিভাবক হিসেবে পাশে পাইনা। প্রধাণমন্ত্রী নাকি একটা গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অভিভাবক, সেটাই জানতাম সব সময়। কিন্তু কই? প্রতিবারই কোন নৃশংস ঘটনার জন্য একটা নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন কিংবা বিরোধী দল বারবার আমাদের অভিভাবকের চক্ষুশূল হয়! মা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী আজ তার জনগনরূপ সন্তানের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে। হায়রে মা! হায়রে সন্তান! সব ভালবাসার স্থান আজ বিষে ভরা, দূষিত হয়ে গিয়েছে। কেউ কাউকে আমরা ক্ষমা করিনা, কেউ কাউকে ভালবাসিনা। তাই ট্রেন দুর্ঘটনায় খুব সহজেই অবলিলায় আমাদের দেশের অভিভাবক বিরোধী দলের উপর দোষ চাপিয়ে সস্তি খুজে পান। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য নির্বিশেষে বিরোধী দলকে ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উল্লেখ করে। কি যে এই সস্তি তিনি পান আমরা জানিনা তবে আমরা বার বার আস্থা হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে যাই।
শিক্ষা ব্যবস্থার চরম উন্নতি দরকার। এজন্য প্রয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিশীলন। সেই লক্ষ্যেই যে শিক্ষা নীতির রূপ দেখলাম সেখানেও আবার আস্থা হারালাম। যান্ত্রিকতার এই যুগে প্রযুক্তির সাথে শিক্ষাকে সংযোগ ঘটানোর জন্য আমাদের অভিভাবকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এখানেও মন ও মানসিকতা গঠনের উপকরনকে অবলিলায় ছুড়ে ফেলা হল। ধর্ম নিছক কোন ধর্মীয় ব্যাপার না যে এটা প্রযুক্তিগত শিক্ষার জন্য বাধাস্বরূপ। যা দিয়ে আমরা এই পৃথিবী গড়ে তুলব তা কিন্তু ওই প্রযুক্তির মধ্যে নেই কিংবা ওই প্রযুক্তি আমাদের শেখাবেনা কিন্তু ধর্ম শেখাবে। আবার যে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করে আমরা উন্নত পৃথিবী গড়ে তুলতা চাইছি সেই পৃথিবীতে কিন্তু আমরা নিজেরাই আর বসবাস করতে চাইবনা। বিশ্বাস, আস্থা,ভালবাসা,মূল্যবোধ বিহীন প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিয়ে যে পৃথিবী গড়তে চাইছি সেখানে হয়ত কেবল রোবটই বাস করতে পারবে, কোন মানুষ নয়। অথবা এরকম হতে পারে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় আমাদের মন-মগজের বিবর্তন হয়ে যাবে ফলে মানুষ আর ভালবাসা চাইবেনা, কারো প্রতি বিশ্বাস রাখবেনা, কোন স্বপ্ন দেখবেনা, কোন আস্থার সম্পর্ক চাইবেনা, কোন আবেগ থাকবেনা, অনুভুতিগুলো দুমড়ে মুচড়ে ভোতা করে ফেলবে...কেউ আর তখন কারো জন্য পরম ভালবাসা নিয়ে অপেক্ষা করবেনা, কোন মা তার সন্তানের জন্য ভালবাসার ছিটে-ফোটাও মনের গহীনে পোষণ করবেনা, স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা হবে কেবল জৈবিক...
জানিনা এই দুঃস্বপ্নের প্রহর কখন শেষ হবে। নাকি এই দুঃস্বপ্নই সত্যিকারভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে কোন একদিন। তাহলে আমি আবার বলতে চাই ভালবাসাহীন এই পৃথিবীতে চাইনা আমি হাজার বছর, একটুখানি জীবন চাই যেখানে আস্থা, আবেগ,ভালবাসা আর বিশ্বাস আমাকে নতুন করে প্রাণে জোয়ার জোগাবে...একটুখানি জীবনের এই স্বপ্ন কি আমি দেখতে পারিনা?? নাকি এই স্বপ্নও অন্য কোন দুঃস্বপ্নের ভিন্ন রূপ!!
প্রকৃত সুখের সন্ধান...
মানব মনের প্রকৃতি বড়ই বিচিত্র। কিসে সে কষ্ট পায় কিসে সে সুখী হয় তা সে নিজেই জানেইনা। হয়ত বিচিত্র মনের বৈচিত্রতায় আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। রাতের আকাশের যে মোহনীয় চাঁদ দেখে মন আনন্দে উদ্বেলিত হয় সেই একই চাঁদ দেখে চোখের কোণে জমে দুঃখের অশ্রুবিন্দু। সমুদ্রের বিশালতা কখনও এনে দেয় অসীম শূণ্যতা কখনওবা পূর্ণতা। বহুরূপী মনের এই সত্তা তাই বিশ্লেষণ করা খুব সহজ না।
কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে একজন নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারে? হঠাৎ এই প্রশ্নে চিন্তার জগতে ছেদ ধরল। আসলেই কি মানুষ কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে? খুব চিরন্তন ও আদি প্রশ্ন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাপকাঠি নাকি বয়স! কিন্তু বয়সই কি সবসময় সেই মাপকাঠি হতে পারে?
আট/দশ বছরের কোন ছেলের অভিজ্ঞতার পরিসীমা কতটুকু? সাথে সাথে একটি চিত্র মনের পর্দায় ভেসে আসল । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিভাবে স্কুল ফাঁকি দেওয়া যায়, কিভাবে আজ বিকালে ক্রিকেট খেলায় জেতা যায় কিংবা বাবাকে যে নতুন গাড়ি,ক্যাটবেরি কিনতে বলা হয়েছে তা আনতে ভুলে যাবেনাতো! মাকে কিভাবে কনভিন্স করে কম্পিউটারে “মোস্ট ওয়ান্টেড’’ গেইমস খেলা যায়...এইরকম হাজারো চিন্তায় ছেলেটির মন বিভোর থাকে। একই বয়সের যে ছেলে গাড়িতে হেল্পার এর কাজ করে তার চিন্তা জুড়ে থাকে কিভাবে যাত্রী বেশি উঠানো যায়, কিভাবে বেশি টাকা আয় করে পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যায়। সারাদিন কাজের ফাঁকে হয়ত সে চিন্তা করে তার মা চুলার পাশে বসে আছে এই অপেক্ষায় যে তার ছেলে কখন বাজার নিয়ে আসবে! আরো যে ছোট ভাই-বোন আছে তারাও সারাদিন বড় ভাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। স্কুল ফাঁকি দেওয়া দূরে থাক পড়াশুনার চিন্তায় সেখানে বিলাসিতা মাত্র। চিন্তার এই অভিজ্ঞতা তার বয়সকেও হার মানিয়েছে। হয়ত অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব...
এই অভিজ্ঞতা যেহেতু আমাদের নাই তাই এগুলো দেখতে দেখতেই আমরা অভিজ্ঞ। চারপাশে এত্ত অস্বাভাবিকতার ছড়াছড়ি মাঝে মাঝেই স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকের মধ্যে পার্থক্য করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
সুখের সন্ধানে আজ মানুষ দিশেহারা। সুখের আসল সংজ্ঞা কেঊ দিতে পারেনি।কিন্তু আইন্সটাইন সেই অসাধ্য সাধন করে গেছে। পৃথিবীতে সব কিছুই আপেক্ষিক, কোন কিছুই পরম নয়। আমার কাছে যা সুখ অন্যের কাছে তা অসুখ। কিন্তু তারপরও সুখের সংজ্ঞা মিললেও সুখ খুজে পাচ্ছেনা মানুষ। সমাজের একটা পার্ট বাদ দিয়ে সুখের অন্বেষণ যেন ট্রেডিশানে পরিণত হয়েছে। শরীরের একটা অংশ প্যারালাইসিস হলে হয়ত তার ব্যথা অনুভব করা যায়না কিন্তু সেই অঙ্গের অনুপস্থিতি ঠিকই অনুভুত হয়।
অপূর্ণ শরীর হাজার চেষ্টা করলেও পূর্ণ হতে পারবেনা যতক্ষন না ওই অংশ ঠিক হয়। এসব কথা ভাবতেই পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ল। সে বছরে আনুষ্ঠানিক একবার এতিমখানায়, মসজিদে টাকা দান করে আত্বতৃপ্তি অনুভব করে। মনে করে ইসলামের বড় একজন খাদেম...সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু যদি সে ব্যাপারটা ট্রেডিশনালি না নিত , যদি মনে করত তার উপার্জনের টাকায় গরীবেরও হক আছে তাহলে হয়তবা সে এরকম অকেশনাল ইসলামের সেবা করে আত্বতৃপ্তি পেতনা। পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস/বিজয় দিবস উদযাপন সবই আজ নিছক ট্রেডিশান। একারনেই যারা পহেলা বৈশাখে লাল-সাদা শাড়ি পরে পুরো বাঙ্গালিয়ানা সাজে তারাই আবার থার্টি ফার্স্ট নাইটে ওয়েস্টার্ন কালচার খুব গর্বের সাথে পালন করে। নারী দিবসে নারী অধিকারের দাবি যাদের মুখে সোচ্চার হয় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকার পাতায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে নিউজ আসে। খুব বিচিত্রভাবেই ট্রেডিশানের এই সিলসিলা প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ বিদ্যমান।
মানব মনের প্রকৃতি অনুসন্ধান করে চলছিলাম। অভিজ্ঞতা অর্জন নাকি এই রিসার্চে ওনেক হেল্পফুল হবে। সব কিছু প্র্যাকটিক্যালি অভিজ্ঞতা অর্জন যেহেতু সম্ভব না তাই দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। প্রকৃতি কখনও মনকে শূন্য থাকতে দেয়না। সুখের জন্য আকুল মন যে অংশ ডিলিট করে সেই অংশটি মন আরেকটি অংশ দিয়ে রিফিল করে। অটোমেটিক প্রোসেস। যে সত্তা মনকে একটিভলি লিড দিবে সে আজ প্যাসিভ। এই জন্যই হয়তবা যা কিছু করছি সব ট্রেডিশান, সব শুণ্য মনকে রিফিল করার চেষ্টা মাত্র। প্রকৃত সুখ পাবার প্রোসেসকে ইগ্নোর করে, সমাজের একটা পার্টকে বঞ্চিত করে সব কিছু ট্রেডিশনালি করে সবাই আমরা কৃত্তিম সুখের নিদ্রায় বিভোর । জানিনা এই নিদ্রার প্রহর কখন শেষ হবে...জানিনা দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিন কবে শেষ হবে...জানিনা ট্রেডিশনাল সুখের কালচার কবে সমাপ্তি হবে...
কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে একজন নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারে? হঠাৎ এই প্রশ্নে চিন্তার জগতে ছেদ ধরল। আসলেই কি মানুষ কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে? খুব চিরন্তন ও আদি প্রশ্ন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাপকাঠি নাকি বয়স! কিন্তু বয়সই কি সবসময় সেই মাপকাঠি হতে পারে?
আট/দশ বছরের কোন ছেলের অভিজ্ঞতার পরিসীমা কতটুকু? সাথে সাথে একটি চিত্র মনের পর্দায় ভেসে আসল । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিভাবে স্কুল ফাঁকি দেওয়া যায়, কিভাবে আজ বিকালে ক্রিকেট খেলায় জেতা যায় কিংবা বাবাকে যে নতুন গাড়ি,ক্যাটবেরি কিনতে বলা হয়েছে তা আনতে ভুলে যাবেনাতো! মাকে কিভাবে কনভিন্স করে কম্পিউটারে “মোস্ট ওয়ান্টেড’’ গেইমস খেলা যায়...এইরকম হাজারো চিন্তায় ছেলেটির মন বিভোর থাকে। একই বয়সের যে ছেলে গাড়িতে হেল্পার এর কাজ করে তার চিন্তা জুড়ে থাকে কিভাবে যাত্রী বেশি উঠানো যায়, কিভাবে বেশি টাকা আয় করে পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যায়। সারাদিন কাজের ফাঁকে হয়ত সে চিন্তা করে তার মা চুলার পাশে বসে আছে এই অপেক্ষায় যে তার ছেলে কখন বাজার নিয়ে আসবে! আরো যে ছোট ভাই-বোন আছে তারাও সারাদিন বড় ভাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। স্কুল ফাঁকি দেওয়া দূরে থাক পড়াশুনার চিন্তায় সেখানে বিলাসিতা মাত্র। চিন্তার এই অভিজ্ঞতা তার বয়সকেও হার মানিয়েছে। হয়ত অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব...
এই অভিজ্ঞতা যেহেতু আমাদের নাই তাই এগুলো দেখতে দেখতেই আমরা অভিজ্ঞ। চারপাশে এত্ত অস্বাভাবিকতার ছড়াছড়ি মাঝে মাঝেই স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকের মধ্যে পার্থক্য করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
সুখের সন্ধানে আজ মানুষ দিশেহারা। সুখের আসল সংজ্ঞা কেঊ দিতে পারেনি।কিন্তু আইন্সটাইন সেই অসাধ্য সাধন করে গেছে। পৃথিবীতে সব কিছুই আপেক্ষিক, কোন কিছুই পরম নয়। আমার কাছে যা সুখ অন্যের কাছে তা অসুখ। কিন্তু তারপরও সুখের সংজ্ঞা মিললেও সুখ খুজে পাচ্ছেনা মানুষ। সমাজের একটা পার্ট বাদ দিয়ে সুখের অন্বেষণ যেন ট্রেডিশানে পরিণত হয়েছে। শরীরের একটা অংশ প্যারালাইসিস হলে হয়ত তার ব্যথা অনুভব করা যায়না কিন্তু সেই অঙ্গের অনুপস্থিতি ঠিকই অনুভুত হয়।
অপূর্ণ শরীর হাজার চেষ্টা করলেও পূর্ণ হতে পারবেনা যতক্ষন না ওই অংশ ঠিক হয়। এসব কথা ভাবতেই পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ল। সে বছরে আনুষ্ঠানিক একবার এতিমখানায়, মসজিদে টাকা দান করে আত্বতৃপ্তি অনুভব করে। মনে করে ইসলামের বড় একজন খাদেম...সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু যদি সে ব্যাপারটা ট্রেডিশনালি না নিত , যদি মনে করত তার উপার্জনের টাকায় গরীবেরও হক আছে তাহলে হয়তবা সে এরকম অকেশনাল ইসলামের সেবা করে আত্বতৃপ্তি পেতনা। পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস/বিজয় দিবস উদযাপন সবই আজ নিছক ট্রেডিশান। একারনেই যারা পহেলা বৈশাখে লাল-সাদা শাড়ি পরে পুরো বাঙ্গালিয়ানা সাজে তারাই আবার থার্টি ফার্স্ট নাইটে ওয়েস্টার্ন কালচার খুব গর্বের সাথে পালন করে। নারী দিবসে নারী অধিকারের দাবি যাদের মুখে সোচ্চার হয় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকার পাতায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে নিউজ আসে। খুব বিচিত্রভাবেই ট্রেডিশানের এই সিলসিলা প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ বিদ্যমান।
মানব মনের প্রকৃতি অনুসন্ধান করে চলছিলাম। অভিজ্ঞতা অর্জন নাকি এই রিসার্চে ওনেক হেল্পফুল হবে। সব কিছু প্র্যাকটিক্যালি অভিজ্ঞতা অর্জন যেহেতু সম্ভব না তাই দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। প্রকৃতি কখনও মনকে শূন্য থাকতে দেয়না। সুখের জন্য আকুল মন যে অংশ ডিলিট করে সেই অংশটি মন আরেকটি অংশ দিয়ে রিফিল করে। অটোমেটিক প্রোসেস। যে সত্তা মনকে একটিভলি লিড দিবে সে আজ প্যাসিভ। এই জন্যই হয়তবা যা কিছু করছি সব ট্রেডিশান, সব শুণ্য মনকে রিফিল করার চেষ্টা মাত্র। প্রকৃত সুখ পাবার প্রোসেসকে ইগ্নোর করে, সমাজের একটা পার্টকে বঞ্চিত করে সব কিছু ট্রেডিশনালি করে সবাই আমরা কৃত্তিম সুখের নিদ্রায় বিভোর । জানিনা এই নিদ্রার প্রহর কখন শেষ হবে...জানিনা দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিন কবে শেষ হবে...জানিনা ট্রেডিশনাল সুখের কালচার কবে সমাপ্তি হবে...
বৃহস্পতিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১০
মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৪
আমি খুব ভালভাবেই খেয়াল করলাম যে আমরা যে বিষয়েই তর্ক-বিতর্ক করিনা কেন সবশেষ ফলাফলে যা হয় তা হল আমরা সবাই আসলে একই গ্রাউন্ডে কথা বলেছি, আমরা কেউ কারও যুক্তিকে অগ্রাহ্য করিনি। কিন্তু তবুও এই বিতর্ক চলতে থাকে।
একজনের কিছু কমেন্টের ভিত্তিতে এই ব্যাপারটা ফোকাস করলাম। আমি আমার নোটেই বলে দিয়েছি যে সব পেশাতেই আত্বমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যাবে। এখন কেউ কি ইচ্ছা করলেই নিজেকে সব পেশাতে নিয়োজিত করতে পারবে? সেটা তো অসম্ভব। ছোট বেলায় আমি মনে করতাম কেন একই সাথে চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়না? সকালে মেডিকেলে ক্লাস করলাম আর বিকালে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্লাস। তাহলেই তো আমি একই সাথে চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম। যাইহোক এখন সব পেশার গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কোন পেশা বেছে নিবে সেটা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ তার রিয়েলাইজেশানের উপর, তার ক্যাপাবিলিটির উপর। ঠিক এই কথাই আমি ফোকাস করতে চেয়েছি। চিকিৎসা পেশাকে ভাল বলা মানে অন্য পেশাকে অবমাননা করা নয়। একজনের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল, সে কিসে পড়ে এটা জিজ্ঞেস করতেই সে এন্সার দিল সে নন-মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরে! পৃথিবীতে কি মেডিকেল ছাড়া আর কোন সাব্জেক্ট নাই? খুব বিরক্ত হয়ে আমি তাকে এই কথা বললাম। আমার এই জবাবে সে স্বস্তি নিয়ে বলল, “ যাক, তাহলে আপনারা মেডিকেল বাদে অন্য সাবজেক্টকেও গুরুত্ব দেন...”
আসলে পেশা টা কোন ফ্যক্টর নয়। আমি নিজের জন্য কোন পেশাকে ভাইটাল মনে করছি, কোন ফ্যাক্টর আমার ক্যারেক্টারিস্টিকের সাথে যাবে সেটা তো একেক জনের কাছে একেক রকম। আমার কাছে মেডিকেল পেশা আমার রিয়েলাইজেশানের উপর ভিত্তি করে বেস্ট মনে হয়েছে। এখন সেটা আমার কেন মনে হল এটা কোন বিতর্কের টপিকস হতে পারেনা।
তবে খুব জোর গুরুত্ব দিয়ে বলছি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া মেডিকেল পেশা পুরাই অর্থহীন হয়ে যাবে। অপারেশান থিয়েটারে আমি যতদিন ঢুকেছি ততদিনই আমার মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়াররা যদি এত প্রযুক্তি আবিষ্কার না করত তাহলে মেডিকেল পেশা মনে হয় চিরকাল অন্ধকার যুগেই পড়ে থাকত। এই যে আমি মেডিকেল পেশার গুনাগুন করছি সেটাও করছি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, যা কোন ইঞ্জিনিয়ারের অবদান, কোন চিকিৎসকের নয়। তারপরও মেডিকেল পেশাকে আমার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, ইঞ্জিনিয়ারিং কে নয়। হয়ত আমার ক্যাপাবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাকে সাপোর্ট করবেনা, কিংবা আমার উপলব্ধিতে ইঞ্জিনিয়ারিং টা সেরকম জায়গা করে নিতে পারছেনা। সেটা কেবল আমার জন্য, অন্যের জন্য না।
যাইহোক হাসপাতালে প্রতিদিন আমি যখন সুইপারকে ঝাড়ু দিতে দেখি, হাসপাতাল পরিস্কার করতে দেখি তাদের দেখে আমি ফিল করি কাজটা অনেক ছোট, কিন্তু এটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা হয়ত ওই সুইপারও জানেনা। নার্সদের যোগ্যতা চিকিৎসকদের তুলনায় কম হলেও তাদের কাজের গুরুত্ব যে চিকিৎসকদের তুলনায় বেশি তা আমি নির্দ্বিধায় স্বীকার করব। একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি কন্ট্যাক্টে থাকে নার্স, চিকিৎসক নয়। অর্থাৎ আমি যদি এভাবে হিসাব করতে থাকি তাহলে হয়ত প্রতিটা পেশার কতখানি গুরুত্ব তা বর্ণনা করতে অনেক সময় লেগে যাবে। তারপরও কথা থেকে যায়, শেষ পর্যন্ত আমি নিজের জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট বলব। এত কিছু বলার পরও কেউ যদি আবার এটা নিয়ে বিতর্ক করতে বসে যায় তাহলে ভাবব, এতক্ষন যা বলেছি তা সবই বৃথা...
চলবে...
একজনের কিছু কমেন্টের ভিত্তিতে এই ব্যাপারটা ফোকাস করলাম। আমি আমার নোটেই বলে দিয়েছি যে সব পেশাতেই আত্বমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যাবে। এখন কেউ কি ইচ্ছা করলেই নিজেকে সব পেশাতে নিয়োজিত করতে পারবে? সেটা তো অসম্ভব। ছোট বেলায় আমি মনে করতাম কেন একই সাথে চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়না? সকালে মেডিকেলে ক্লাস করলাম আর বিকালে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্লাস। তাহলেই তো আমি একই সাথে চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম। যাইহোক এখন সব পেশার গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও একজন কোন পেশা বেছে নিবে সেটা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ তার রিয়েলাইজেশানের উপর, তার ক্যাপাবিলিটির উপর। ঠিক এই কথাই আমি ফোকাস করতে চেয়েছি। চিকিৎসা পেশাকে ভাল বলা মানে অন্য পেশাকে অবমাননা করা নয়। একজনের সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল, সে কিসে পড়ে এটা জিজ্ঞেস করতেই সে এন্সার দিল সে নন-মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরে! পৃথিবীতে কি মেডিকেল ছাড়া আর কোন সাব্জেক্ট নাই? খুব বিরক্ত হয়ে আমি তাকে এই কথা বললাম। আমার এই জবাবে সে স্বস্তি নিয়ে বলল, “ যাক, তাহলে আপনারা মেডিকেল বাদে অন্য সাবজেক্টকেও গুরুত্ব দেন...”
আসলে পেশা টা কোন ফ্যক্টর নয়। আমি নিজের জন্য কোন পেশাকে ভাইটাল মনে করছি, কোন ফ্যাক্টর আমার ক্যারেক্টারিস্টিকের সাথে যাবে সেটা তো একেক জনের কাছে একেক রকম। আমার কাছে মেডিকেল পেশা আমার রিয়েলাইজেশানের উপর ভিত্তি করে বেস্ট মনে হয়েছে। এখন সেটা আমার কেন মনে হল এটা কোন বিতর্কের টপিকস হতে পারেনা।
তবে খুব জোর গুরুত্ব দিয়ে বলছি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া মেডিকেল পেশা পুরাই অর্থহীন হয়ে যাবে। অপারেশান থিয়েটারে আমি যতদিন ঢুকেছি ততদিনই আমার মনে হয়েছে ইঞ্জিনিয়াররা যদি এত প্রযুক্তি আবিষ্কার না করত তাহলে মেডিকেল পেশা মনে হয় চিরকাল অন্ধকার যুগেই পড়ে থাকত। এই যে আমি মেডিকেল পেশার গুনাগুন করছি সেটাও করছি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, যা কোন ইঞ্জিনিয়ারের অবদান, কোন চিকিৎসকের নয়। তারপরও মেডিকেল পেশাকে আমার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, ইঞ্জিনিয়ারিং কে নয়। হয়ত আমার ক্যাপাবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাকে সাপোর্ট করবেনা, কিংবা আমার উপলব্ধিতে ইঞ্জিনিয়ারিং টা সেরকম জায়গা করে নিতে পারছেনা। সেটা কেবল আমার জন্য, অন্যের জন্য না।
যাইহোক হাসপাতালে প্রতিদিন আমি যখন সুইপারকে ঝাড়ু দিতে দেখি, হাসপাতাল পরিস্কার করতে দেখি তাদের দেখে আমি ফিল করি কাজটা অনেক ছোট, কিন্তু এটা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা হয়ত ওই সুইপারও জানেনা। নার্সদের যোগ্যতা চিকিৎসকদের তুলনায় কম হলেও তাদের কাজের গুরুত্ব যে চিকিৎসকদের তুলনায় বেশি তা আমি নির্দ্বিধায় স্বীকার করব। একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি কন্ট্যাক্টে থাকে নার্স, চিকিৎসক নয়। অর্থাৎ আমি যদি এভাবে হিসাব করতে থাকি তাহলে হয়ত প্রতিটা পেশার কতখানি গুরুত্ব তা বর্ণনা করতে অনেক সময় লেগে যাবে। তারপরও কথা থেকে যায়, শেষ পর্যন্ত আমি নিজের জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট বলব। এত কিছু বলার পরও কেউ যদি আবার এটা নিয়ে বিতর্ক করতে বসে যায় তাহলে ভাবব, এতক্ষন যা বলেছি তা সবই বৃথা...
চলবে...
মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৩
কিছু কিছু মানুষের পড়াশুনার স্টাইল এত বিরক্তিকর যে বলার বাইরে। কেন জানিনা এই বিরক্তিকর পরিস্থিতি সবসময় আমার সামনেই ঘটে থাকে। দশম শ্রেণীতে যখন পড়ি তখন মিলি আপুর বাসা অনেক দূরে হওয়াতে আম্মা মিলি আপুকে বললেন আমাদের বাসা থেকে ক্লাস করতে। আপু তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। খুব ভাল কথা। উনি সন্ধ্যায় পড়তে বসেন। সেটাও ভাল কথা। এরপর শুরু হল উনার পড়া। সেটা কে একচুয়ালি পড়া বলা হয় কিনা জানিনা তবে আমার যে কানের বারোটা বেজে তা উনি কখনই খেয়াল করেননা। গলা ফাটায়, চিৎকার করে উনি পড়ে। বাট আমি কিছু বলতামনা। কারণ উনাকে কিছুটা ভয় পেতাম আর আম্মার কাছেও নালিশ করতামনা। মিলি আপুকে আম্মা আবার চরম আকারে পছন্দ করে। পছন্দের কারণ আর কিছুই না। আপু অসাধারণ ব্রিলিয়্যান্ট। আর জোরে জোরে চিৎকার করে পড়া আম্মার খুব পছন্দ। তার ধারণা এতে করে পড়াশুনা খুব ভাল হয়। অথচ সারাজীবন আমি কোনদিন জোরে জোরে পড়িনি। একদম লো সাউন্ডে পড়ি যেন আমিই কেবল শুনতে পাই। মিলি আপুর এই যন্ত্রণা মোটামুটি আমাকে ছয় মাস সহ্য করতে হয়েছে।
মনে পড়ে প্রথম যখন যশোরে বাসা নেই তখন আমাদের পাশের বাসার এক ছেলে যে ভোর বেলা থেকে তার ঐতিহাসিক পড়া শুরু করে সেটা থামতে থামতে সাত/আট ঘণ্টা লেগে যায়। সেই ছেলের যন্ত্রণাও প্রায় আমাকে এক বছর সহ্য করতে হয়েছে। সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল আম্মা সবসময় আমাকে সেই ছেলের মত ভোর বেলা উঠে জোরে জোরে পড়তে বলতেন, তখন আমি পড়ি ক্লাস ফাইভে।সেই ছেলে পড়ে ক্লাস সেভেনে। আমার তখন মনে হত ভোর থেকে উঠে সাত/আট ঘণ্টা পড়ার মত পড়া আসলে আমার নাই। সো এত কষ্ট করার কোন মানে হয়না। তারপরও প্রায় প্রতিদিনই ওই ছেলের জন্য আমাকে বকা শুনতে হত।
ইন্টার পরীক্ষার সময় আমার এক ফ্রেন্ড তার বাসা রিলেইটেড কিছু সমস্যার জন্য আমাদের বাসায় কিছুদিনের জন্য থেকেছিল। তার পড়াশুনার স্টাইল হচ্ছে সারারাত জেগে জেগে পড়বে। অথচ আমি রাত ১২টার পরে জেগে থাকলেও আর পড়তে পারিনা। যেহেতু আমার ফ্রেন্ড সারারাত ধরে পড়ে তাই আম্মার ধারণা যে আমি কিছুই পড়িনা তার তুলনায়। সেটার জন্যও অনেক বকা শুনতে হয়েছে।
ঢাকায় যখন আসি কোচিং করতে তখন আমার সাথে আরো দুজন ফ্রেন্ড এসেছিল। তারাও আমাদের বাসায় থেকেই কোচিং করত। এরমধ্যে একজন ছিল সে যখন পড়ত, মোটামুটি আশে পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ সবাই জেনে যেত যে আমাদের বাসায় পড়াশুনার তুফান বয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমি কোন উচ্চবাচ্য করিনি, যদিও আমি চরমভাবে ডিস্টার্ব ফিল করতাম।মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে গেলে ওর পাশে বসে থাকতাম। ও জোরে জোরে পড়ত সেটা শুনে শুনে আমি পড়ার চেষ্টা করতাম। এরপর একসময় যখন দেখলাম যে আসলেই ওর পাশে বসে আর যাই হোক পড়াশুনা করা সম্ভব না। তখন ওকে এক রুম ছেড়ে দিলাম। এদিকে মামুনের জন্য এক রুম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আল্টিমেইটলি অন্য রুমে বাকি দুজন মিলে চুপচাপ পড়তাম। একদিন পাশের ফ্ল্যাটেই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে। রাত হতেই জোরে জোরে গান-বাজনা শুরু হয়ে গেল। আমরা সব দরজা-জানালা আটকিয়ে দিয়েও সেই লাউড সাউন্ড কমাতে পারিনি। সেই রাতে পড়াও হয়নি। অথচ সেই রাতেও আমার সেই ফ্রেন্ড গলা ফাটিয়ে জোরে জোরে বোটানি পড়েছে।
এরপর যাইহোক মেডিকেলের এডমিশানের পর একজন খুলনা মেডিকেল এবং অন্যজন আর্মড ফোর্সে চলে গেল। আমি সেদিন খুলনা মেডিকেলের ওই ফ্রেন্ড কে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিলাম যে সে এখন কিভাবে পড়ে? আমার একথা শুনে সে কিছুক্ষন হেসে বলল, “আসলে আমি তোমাদের অনেক জ্বালিয়েছি, না? তুমি বিশ্বাস করবানা আমি এখন চুপচাপ পড়ি। কারণ আমার জন্য হলের বাকি কেউ পড়তে পারেনা। এজন্য বাধ্য হয়েই পড়াশুনার স্টাইল চেইঞ্জ করেছি।“ ওর কথা শুনে সেদিন সস্তি পেয়েছিলাম।
এরপর যুথী আর সাথী ওরা দুবোন যখন আমাদের বাসায় কোচিং করতে আসল, তখনও দেখি সেইম কেইস। যুথীও গলা ফাটায় ফাটায় পড়ে। কিছু বলিনি সেই বছর। এরপর যুথী যখন আমার কানের পাশে বসে বসে এনাটমি গলা ফাটায় পড়ে তখন ওকে বলি “ আচ্ছা হলে সিট কবে পাচ্ছ তুমি?” ও বুঝতে পেরে হাসতে হাসতে বলে আপু আমাকে তো সবাই হল থেকে বের করে দিবে!! একটা বিরক্তিকর ফেসিয়াল এক্সপ্রেসান দেখিয়ে আর কিছু বলিনা....
চলবে......
মনে পড়ে প্রথম যখন যশোরে বাসা নেই তখন আমাদের পাশের বাসার এক ছেলে যে ভোর বেলা থেকে তার ঐতিহাসিক পড়া শুরু করে সেটা থামতে থামতে সাত/আট ঘণ্টা লেগে যায়। সেই ছেলের যন্ত্রণাও প্রায় আমাকে এক বছর সহ্য করতে হয়েছে। সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল আম্মা সবসময় আমাকে সেই ছেলের মত ভোর বেলা উঠে জোরে জোরে পড়তে বলতেন, তখন আমি পড়ি ক্লাস ফাইভে।সেই ছেলে পড়ে ক্লাস সেভেনে। আমার তখন মনে হত ভোর থেকে উঠে সাত/আট ঘণ্টা পড়ার মত পড়া আসলে আমার নাই। সো এত কষ্ট করার কোন মানে হয়না। তারপরও প্রায় প্রতিদিনই ওই ছেলের জন্য আমাকে বকা শুনতে হত।
ইন্টার পরীক্ষার সময় আমার এক ফ্রেন্ড তার বাসা রিলেইটেড কিছু সমস্যার জন্য আমাদের বাসায় কিছুদিনের জন্য থেকেছিল। তার পড়াশুনার স্টাইল হচ্ছে সারারাত জেগে জেগে পড়বে। অথচ আমি রাত ১২টার পরে জেগে থাকলেও আর পড়তে পারিনা। যেহেতু আমার ফ্রেন্ড সারারাত ধরে পড়ে তাই আম্মার ধারণা যে আমি কিছুই পড়িনা তার তুলনায়। সেটার জন্যও অনেক বকা শুনতে হয়েছে।
ঢাকায় যখন আসি কোচিং করতে তখন আমার সাথে আরো দুজন ফ্রেন্ড এসেছিল। তারাও আমাদের বাসায় থেকেই কোচিং করত। এরমধ্যে একজন ছিল সে যখন পড়ত, মোটামুটি আশে পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ সবাই জেনে যেত যে আমাদের বাসায় পড়াশুনার তুফান বয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমি কোন উচ্চবাচ্য করিনি, যদিও আমি চরমভাবে ডিস্টার্ব ফিল করতাম।মাঝে মাঝে খুব বিরক্ত হয়ে গেলে ওর পাশে বসে থাকতাম। ও জোরে জোরে পড়ত সেটা শুনে শুনে আমি পড়ার চেষ্টা করতাম। এরপর একসময় যখন দেখলাম যে আসলেই ওর পাশে বসে আর যাই হোক পড়াশুনা করা সম্ভব না। তখন ওকে এক রুম ছেড়ে দিলাম। এদিকে মামুনের জন্য এক রুম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আল্টিমেইটলি অন্য রুমে বাকি দুজন মিলে চুপচাপ পড়তাম। একদিন পাশের ফ্ল্যাটেই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে। রাত হতেই জোরে জোরে গান-বাজনা শুরু হয়ে গেল। আমরা সব দরজা-জানালা আটকিয়ে দিয়েও সেই লাউড সাউন্ড কমাতে পারিনি। সেই রাতে পড়াও হয়নি। অথচ সেই রাতেও আমার সেই ফ্রেন্ড গলা ফাটিয়ে জোরে জোরে বোটানি পড়েছে।
এরপর যাইহোক মেডিকেলের এডমিশানের পর একজন খুলনা মেডিকেল এবং অন্যজন আর্মড ফোর্সে চলে গেল। আমি সেদিন খুলনা মেডিকেলের ওই ফ্রেন্ড কে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিলাম যে সে এখন কিভাবে পড়ে? আমার একথা শুনে সে কিছুক্ষন হেসে বলল, “আসলে আমি তোমাদের অনেক জ্বালিয়েছি, না? তুমি বিশ্বাস করবানা আমি এখন চুপচাপ পড়ি। কারণ আমার জন্য হলের বাকি কেউ পড়তে পারেনা। এজন্য বাধ্য হয়েই পড়াশুনার স্টাইল চেইঞ্জ করেছি।“ ওর কথা শুনে সেদিন সস্তি পেয়েছিলাম।
এরপর যুথী আর সাথী ওরা দুবোন যখন আমাদের বাসায় কোচিং করতে আসল, তখনও দেখি সেইম কেইস। যুথীও গলা ফাটায় ফাটায় পড়ে। কিছু বলিনি সেই বছর। এরপর যুথী যখন আমার কানের পাশে বসে বসে এনাটমি গলা ফাটায় পড়ে তখন ওকে বলি “ আচ্ছা হলে সিট কবে পাচ্ছ তুমি?” ও বুঝতে পেরে হাসতে হাসতে বলে আপু আমাকে তো সবাই হল থেকে বের করে দিবে!! একটা বিরক্তিকর ফেসিয়াল এক্সপ্রেসান দেখিয়ে আর কিছু বলিনা....
চলবে......
মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-২
প্রথম প্যাথোলজি পরীক্ষা ভাল হল। তিন ঘণ্টা লিখতে লিখতে কিভাবে কেটে গেল টেরই পেলামনা। এরপর কমিউনিটি মেডিসিন পরীক্ষা। প্রিপারেশান ভালই ছিল, কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে ঠিক ২ঘণ্টা পর খেয়াল করলাম যে আমি আর লিখতে পারছিনা। কারণ লিখার জন্য যে মুড দরকার তা শেষ। খুব কষ্টের সাথে বাকি একঘণ্টা কাটালাম, এন্সার জানা সত্ত্বেও খুব শর্ট-কাট এন্সার দিয়ে দ্রুত লেখা শেষ করে ফেললাম। এরপর মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষা। সাবজেক্টটা আমার কাছে দারুন লাগে। কোয়েশ্চেন ও খুব ভাল হয়েছে। কিন্তু সেদিনও সেইম কেইস। ২ঘণ্টা পর আমি চুপচাপ বসে ছিলাম কিছুক্ষন। স্যার এসে আমাকে চুপচাপ বসে থাকার কারণ জানতে চাইলেন। আমি বললাম যে মাথা ব্যাথা করছে...স্যার প্যারাসিটামল দিতে চাইলেন আমাকে, আমি বললাম যে স্যার আমি সকালে প্যারাসিটামল খেয়ে এসেছি। যাইহোক স্যারের জন্য শান্তিমত চুপচাপ বসে থাকতেও পারছিনা। কিছুক্ষন পর স্যার আবার এসে বললেন যে আমার পানি লাগবে কিনা, পানি খেলে হয়ত কিছুটা ভাল ফিল করতে পারি। আমি বললাম যে স্যার আমার কাছে পানি আছে। অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম, খারাপ হয়নি একেবারে। এরপর আরো দুইটা পরীক্ষা মুড অফ/অনের মধ্যে দিয়ে শেষ করলাম। যেহেতু রিটেন তাই কোন প্রভাব পড়েনি...যদিও ফরেনসিক মেডিসিন পরীক্ষা দেবার সময় একবার মনে হল কোয়েশ্চার পেপার ছিড়ে এক্সাম হল থেকে বের হয়ে যায়। প্রেগনেন্সির বায়োলজিক্যাল টেস্ট ব্যাখ্যা করতে বলেছে। এটা কি কোন প্রশ্ন হল? মেজাজ হঠাৎ করেই খুব খারাপ হয়ে গেল। ঠিক তখনি ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টাল হেড স্যার মাইকে বলছিলেন যে প্রশ্ন দেখে ভয় পাবার কিছু নাই, একটু আনিউজুয়াল প্রশ্ন এসেছে, তাই প্রতিটা প্রশ্নে টাচ করলেই পাশ হয়ে যাবে।
বাসায় এসে ভাবলাম মনটা ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু না হয়নি। বরাবরের মত মামুনের একটা লেইট গুড নিউজ শুনলাম আর সেটা হল ও এইচএসসি তে ঢাকা বোর্ডে ৪৪তম হয়েছে, ট্যালন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে বাট ও কিছুই জানেনা। অথচ এটা একবছর লেইট নিউজ। মেডিকেলে ভর্তির জন্য নটরডেম থেকে সব কাগজ-পত্র তুলতে গিয়ে ও এটা জানল। যাইহোক এই ধরনের ব্যাপার ওর জন্য এখন খুব ইউজুয়াল একটা ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।
আমাকে প্রায় সময়ই অনেকে জিজ্ঞাসা করে কেন দুইভাই-বোনই চিকিৎসক হতে চাই? একজন না হয় ইঙ্গিনিয়ার হলাম! সেদিন একজনকে কথাইয় কথায় বলছিলাম যে আমার এক জুনিয়র ভাই আছে, আমার মেডিকেলেই পড়ে। তার বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক, তার ছোট ভাইকে এবার বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করাবে, তার যে ছোট বোন আছে তাকেও মেডিকেলে পড়াবে। মেডিকেল ব্যাপারটাতে একটা নেশা আছে। সবাই এই নেশা ধরতে পারবেনা। আর এটা ঠিক বলেও বুঝানো যাবেনা। আমার খুব ইচ্ছা আমার যে ছোট ছোট কাজিন আছে তারাও সবাই মেডিকেলেই পড়ুক। আসলে পেশার সাথে নিজেকে মানবতার সেবাই ডিরেক্টলি যেভাবে এই পেশাতে আত্বনিয়োগ করা যাবে অন্য কোন পেশাতে হয়ত আমি সেভাবে চিন্তা করতে পারছিনা। ওই যে রিয়েলাইজেশানের ব্যাপার! একেজনের রিয়েলাইজেশান একেকরকম। আমি জানি মেডিকেল বাদে অন্য বহু পেশায় নিজেকে মানবতার তরে বিলিয়ে দেবার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু আমার রিয়েলাইজেশান আপাতত আমার জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট মনে করছে। এটা কিন্তু শুধু যে আমার ক্ষেত্রেই এরকম রিয়েলাইজেশান এসেছে তা নয় আমার ভাইয়ের জন্যও, কাজিনের জন্যও। তাই গতবার যখন যুথী মেডিকেলে চান্স পেল তখনও খুব আনন্দ লেগেছিল যেমন এবার মামুন চান্স পাওয়াতে আনন্দ পেলাম। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও ডিপ্রেশানের কারণ খুজে পেলাম না। হরমোনাল চেইঞ্জ ডিপ্রেসানের সাথে রিলেটেড। ব্রেইনের অনেক নিউরোট্রান্সমিটার, কেমিক্যাল বস্তুও ডিপ্রেসানের জন্য দায়ী। সেরোটনিন, ডোপামিন লেভেল অনেক কমে গেছে মনে হয়। শেষের দিন ফার্মাকোলজি পরীক্ষা ছিল। এন্টি-ডিপ্রেস্যান্ট,এন্টি-সাইকোটিক, এন্টি-এপিলেপ্টিক,এন্টি-পারকিনসনিজম সহ আরো কিছু টপিকসের ড্রাগস যেভাবে পড়েছিলাম সেই ড্রাগসের নামগুলো এখনও মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে...আমার জন্য সত্যি ডিপ্রেসানের ড্রাগস লাগবে কিনা বুঝতেছিনা। তবে আর যাইহোক এই সমস্যার জন্য আমি কখনই টিচারের কাছে যাবনা...কারণ স্যার আমাকে কি বলবেন তা আমি খুব ভাল ভাবেই জানি, কিছুদিন আগেই মেন্টাল ডিসঅর্ডারের ওয়ার্ড করে এসেছি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট থেকে। সো স্যারের কাছে যাবার নেসেসিটি ফিল করছিনা আপাতত...
খুব এলোমেলো, অগোছালো লেখা লিখলাম। সবকিছুর মূলে ছিল নিজের ডিপ্রেশানের একটা এনালাইসিস করা...কিন্তু রিপোর্ট কোনভাবেই আসছেনা.........
চলবে...
বাসায় এসে ভাবলাম মনটা ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু না হয়নি। বরাবরের মত মামুনের একটা লেইট গুড নিউজ শুনলাম আর সেটা হল ও এইচএসসি তে ঢাকা বোর্ডে ৪৪তম হয়েছে, ট্যালন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে বাট ও কিছুই জানেনা। অথচ এটা একবছর লেইট নিউজ। মেডিকেলে ভর্তির জন্য নটরডেম থেকে সব কাগজ-পত্র তুলতে গিয়ে ও এটা জানল। যাইহোক এই ধরনের ব্যাপার ওর জন্য এখন খুব ইউজুয়াল একটা ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।
আমাকে প্রায় সময়ই অনেকে জিজ্ঞাসা করে কেন দুইভাই-বোনই চিকিৎসক হতে চাই? একজন না হয় ইঙ্গিনিয়ার হলাম! সেদিন একজনকে কথাইয় কথায় বলছিলাম যে আমার এক জুনিয়র ভাই আছে, আমার মেডিকেলেই পড়ে। তার বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক, তার ছোট ভাইকে এবার বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করাবে, তার যে ছোট বোন আছে তাকেও মেডিকেলে পড়াবে। মেডিকেল ব্যাপারটাতে একটা নেশা আছে। সবাই এই নেশা ধরতে পারবেনা। আর এটা ঠিক বলেও বুঝানো যাবেনা। আমার খুব ইচ্ছা আমার যে ছোট ছোট কাজিন আছে তারাও সবাই মেডিকেলেই পড়ুক। আসলে পেশার সাথে নিজেকে মানবতার সেবাই ডিরেক্টলি যেভাবে এই পেশাতে আত্বনিয়োগ করা যাবে অন্য কোন পেশাতে হয়ত আমি সেভাবে চিন্তা করতে পারছিনা। ওই যে রিয়েলাইজেশানের ব্যাপার! একেজনের রিয়েলাইজেশান একেকরকম। আমি জানি মেডিকেল বাদে অন্য বহু পেশায় নিজেকে মানবতার তরে বিলিয়ে দেবার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু আমার রিয়েলাইজেশান আপাতত আমার জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট মনে করছে। এটা কিন্তু শুধু যে আমার ক্ষেত্রেই এরকম রিয়েলাইজেশান এসেছে তা নয় আমার ভাইয়ের জন্যও, কাজিনের জন্যও। তাই গতবার যখন যুথী মেডিকেলে চান্স পেল তখনও খুব আনন্দ লেগেছিল যেমন এবার মামুন চান্স পাওয়াতে আনন্দ পেলাম। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও ডিপ্রেশানের কারণ খুজে পেলাম না। হরমোনাল চেইঞ্জ ডিপ্রেসানের সাথে রিলেটেড। ব্রেইনের অনেক নিউরোট্রান্সমিটার, কেমিক্যাল বস্তুও ডিপ্রেসানের জন্য দায়ী। সেরোটনিন, ডোপামিন লেভেল অনেক কমে গেছে মনে হয়। শেষের দিন ফার্মাকোলজি পরীক্ষা ছিল। এন্টি-ডিপ্রেস্যান্ট,এন্টি-সাইকোটিক, এন্টি-এপিলেপ্টিক,এন্টি-পারকিনসনিজম সহ আরো কিছু টপিকসের ড্রাগস যেভাবে পড়েছিলাম সেই ড্রাগসের নামগুলো এখনও মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে...আমার জন্য সত্যি ডিপ্রেসানের ড্রাগস লাগবে কিনা বুঝতেছিনা। তবে আর যাইহোক এই সমস্যার জন্য আমি কখনই টিচারের কাছে যাবনা...কারণ স্যার আমাকে কি বলবেন তা আমি খুব ভাল ভাবেই জানি, কিছুদিন আগেই মেন্টাল ডিসঅর্ডারের ওয়ার্ড করে এসেছি জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট থেকে। সো স্যারের কাছে যাবার নেসেসিটি ফিল করছিনা আপাতত...
খুব এলোমেলো, অগোছালো লেখা লিখলাম। সবকিছুর মূলে ছিল নিজের ডিপ্রেশানের একটা এনালাইসিস করা...কিন্তু রিপোর্ট কোনভাবেই আসছেনা.........
চলবে...
মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-১
মহানুভব হওয়া কিংবা মহত্ত দেখানো আসলে এত সোজা না। কারণ নিজের অনেক কিছু স্যক্রিফাইস করে লোক দেখানো মহানুভব হওয়া যায়না। খুব আশ্চর্য বস্তু এই “বিবেক”। যা কিছুই করিনা কেন বিবেক সেই কাজের পোস্টমর্টেম করবেই। বাইরে থেকে বলি নিজে যা করেছি ঠিক করেছি কিন্তু বিবেক ঠিকই রিপোর্ট দিয়ে দেয় যে সবসময় যা করি তা ঠিক না। প্রতিনিয়ত আমরা এই বিবেকের রিপোর্টের সম্মুখিন হচ্ছি। ধর্ম দিয়ে আসলে মনে হয় বিবেকের সচেতনতাকে জাগ্রত করা হয় যেন বিবেকের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ করতে পারি। তা না হলে কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ তা মোটামুটি সবাই জানা সত্ত্বেও সমাজে এর কোন কন্সিকুয়েন্স আমরা দেখিনা কেন? বিবেকের রিপোর্টকে আমরা ক্রমাগত ইগনোর করে চলেছি বোধহয়। কয়েকদিন ধরে কিছু ব্যাপার খুব তীব্রভাবে ফিল করছি। এবসলিউট বলে আসলে কিছু আছে কিনা! মনে হয় নেই। আমি একটা ঘটনাকে যেভাবে ব্যাখ্যা করব অন্যজন সেটা সেভাবে করবেনা। এটাই স্বাভাবিক। ধর্মীয় কিছু ব্যাপারেও মনে হয় সেরকম কিছু আছে। এবসলিউট বলতে শুধু এই যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মহানবী (সাঃ) তার রাসূল। আর জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মনোনিত করা হয়েছে। এখন ইসলামের অনেক কিছুই বিভিন্নভাবে ইন্টারপ্রিটেট করা যায়। সবগুলোই সত্য হতে পারে, নাও পারে। কিন্তু কে জাস্টিফাই করবে কোনটা সত্য? এখানেই মনে হয় বিবেকের মেইন কাজ নিহিত রয়েছে। বিবেক ঘটনাকে নিবে যার যার ক্যারেক্টারিস্টিক,পারসোনালিটি আর রিয়েলাইজেসান অনুপাতে। হযরত আবু বকর (রাঃ), কিংবা উমার (রাঃ) কিংবা ওমর (রাঃ) তিনজনের পারসোনালিটি তিনরকম। এবসলিউট ছিল এক জায়গায় যে তারা সবাই মুসলিম, আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা আর মহানবী (সাঃ) কে তারা সবাই জানপ্রাণ দিয়ে ভালবাসত। ঠিক এই জায়গায় এসে যখন চিন্তা করছি তখনই আমার খুব বড় একটা ভুল সংশোধন হল। অনেক ক্ষেত্রেই আমি মনে করি ব্যাপারটা এবসলিউট, সবার একইভাবে ঘটনা ব্যাখ্যা করা উচিত। ইসলামকে মনে হয় আমি এভাবেই অনেক সময় সংকীর্ণ করে ফেলেছিলাম আমার চিন্তা চেতনা দিয়ে। ইসলাম আসলে অনেক অনেক বড় একটা ক্ষেত্র যেটা হয়ত আমার চিন্তার সীমানারও বাইরে। পৃথিবীতে যত মুসলিম রয়েছে সবার চিন্তা ভাবনার গন্ডি সেইম হবেনা। কিন্তু শুধুমাত্র একজায়গায় আমরা সবাই সেইম যে আমরা মুসলিম।এটা পুরাই এবসলিউট। এই সিম্পল ব্যাপারটা আমি বুঝলাম অনেক পরে। তাও সেদিন এক আপু একটা ঘটনা বলতে গিয়ে তার মনোভাবের কথা যখন বলছিলেন তখনই আমি ব্যাপারটা ধরতে পারলাম। সাথে সাথে বাসায় এসে আম্মাকে বললাম যে ইসলামের প্রতি ডেডিকেশান কিংবা ইসলামকে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে ধারন করা একেকজনের কাছে একেকরকম। এটা সম্পূর্ণ রিয়েলাইজেশানের উপর ডিপেন্ড করছে। আমি হয়ত মনে করি আমার দিক থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এভাবে হতে পারে, অন্যজনের কাছে তার প্রচেষ্টা অন্যরকম হবে। কিন্তু দুজনই আমরা ইসলামের জন্যই ডেডিকেশানের দিক থেকে চিন্তা করেছি। তাই কিভাবে বলি তার রিয়েলাইজেশান ভুল আর আমারটা সঠিক! সেই নিখুত বিচারের সাধ্য কি আমাদের আছে?
আজকাল প্রায়ই আমি ডিপ্রেশানের মধ্যে থাকি। কোন কারন ছাড়া, পুরাই ইডিওপ্যাথিক। ২৬শে অক্টোবর থেকে সেকেন্ড এসেসমেন্ট শুরু হয়ে গেল। ২৩থেকেই তাই আমি হলে উঠে গেলাম। খুব কন্সেন্ট্রেসানের সাথে স্টাডি করছিলাম। ২৪ তারিখ খুব টেন্সানের মধ্যে ছিলাম মামুনের রেসাল্ট নিয়ে। মেডিক্যাল এডমিশান আজকাল দূর আকাশের চাদ হয়ে গিয়েছে। ইচ্ছা করলেও সবাই চিকিৎসক হতে পারেনা যদিনা সে ধনী পরিবারের কেউ হয়। সো সেই দিক থেকেই চিন্তা হচ্ছিল বেশি। কারণ বেসরকারী মেডিক্যালে পড়ানোর মত আপাতত চিন্তা-ভাবনা আব্বা-আম্মার নাই। একটু হিসাব দেই সরকারী মেডিকেল আর বেসরকারী মেডিকেলের মধ্যে। সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে লাগে ৫-৬ হাজার টাকা আর বেসরকারি মেডিকেলে লাগে ১০-১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুপাতটা অনেকটা আকাশ-পাতাল হয়ে যায়। যাইহোক ২৪ তারিখ রেসাল্ট দিলনা। সারারাত ঘুম ভাল হয়নি। খুব ভালভাবেই একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম মামুনের ক্ষেত্রে সবকিছু লেইট করে হয়। ও যেবার এইটে স্কলারশিপ পেল রেসাল্টের দুইদিন পর ও জানতে পারল যে ও স্কলারশীপ পেয়েছে। এরপর এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ পেল সেই রেসাল্টও সে পরে জেনেছে। এরপর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ পাওয়া সত্ত্বেও সে মেডিকেলে চান্স পেলনা, তারউপর আবার নটরডেমের স্টুডেন্ট। তাই ওর রেসাল্ট আমার থেকে ভাল হওয়া সত্ত্বেও আব্বা-আম্মা ওকে নিয়েই বেশি টেনসান করে। একবছর গ্যাপ দিয়ে সে আবারো মেডিকেলের জন্য চেষ্টা করে গেল। অথচ আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুব স্মুথলি হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। যাইহোক ২৫তারিখে বিকেলে ওর রেসাল্ট পেলাম, সলিমুল্লাহ মেডিকেলে চান্স পেল। মনে হল আমি নিজেই চান্স পেয়েছি, সেরকম আনন্দ ফিল করলাম। এরপর পড়তে বসেছি হঠাৎ মুড অফ হয়ে গেল। মুড অফ এবং অন সেখান থেকেই শুরু...
চলবে...
আজকাল প্রায়ই আমি ডিপ্রেশানের মধ্যে থাকি। কোন কারন ছাড়া, পুরাই ইডিওপ্যাথিক। ২৬শে অক্টোবর থেকে সেকেন্ড এসেসমেন্ট শুরু হয়ে গেল। ২৩থেকেই তাই আমি হলে উঠে গেলাম। খুব কন্সেন্ট্রেসানের সাথে স্টাডি করছিলাম। ২৪ তারিখ খুব টেন্সানের মধ্যে ছিলাম মামুনের রেসাল্ট নিয়ে। মেডিক্যাল এডমিশান আজকাল দূর আকাশের চাদ হয়ে গিয়েছে। ইচ্ছা করলেও সবাই চিকিৎসক হতে পারেনা যদিনা সে ধনী পরিবারের কেউ হয়। সো সেই দিক থেকেই চিন্তা হচ্ছিল বেশি। কারণ বেসরকারী মেডিক্যালে পড়ানোর মত আপাতত চিন্তা-ভাবনা আব্বা-আম্মার নাই। একটু হিসাব দেই সরকারী মেডিকেল আর বেসরকারী মেডিকেলের মধ্যে। সরকারি মেডিকেলে ভর্তি হতে লাগে ৫-৬ হাজার টাকা আর বেসরকারি মেডিকেলে লাগে ১০-১২ লাখ টাকা। অর্থাৎ অনুপাতটা অনেকটা আকাশ-পাতাল হয়ে যায়। যাইহোক ২৪ তারিখ রেসাল্ট দিলনা। সারারাত ঘুম ভাল হয়নি। খুব ভালভাবেই একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম মামুনের ক্ষেত্রে সবকিছু লেইট করে হয়। ও যেবার এইটে স্কলারশিপ পেল রেসাল্টের দুইদিন পর ও জানতে পারল যে ও স্কলারশীপ পেয়েছে। এরপর এসএসসিতে গোল্ডেন এ+ পেল সেই রেসাল্টও সে পরে জেনেছে। এরপর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+ পাওয়া সত্ত্বেও সে মেডিকেলে চান্স পেলনা, তারউপর আবার নটরডেমের স্টুডেন্ট। তাই ওর রেসাল্ট আমার থেকে ভাল হওয়া সত্ত্বেও আব্বা-আম্মা ওকে নিয়েই বেশি টেনসান করে। একবছর গ্যাপ দিয়ে সে আবারো মেডিকেলের জন্য চেষ্টা করে গেল। অথচ আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা খুব স্মুথলি হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। যাইহোক ২৫তারিখে বিকেলে ওর রেসাল্ট পেলাম, সলিমুল্লাহ মেডিকেলে চান্স পেল। মনে হল আমি নিজেই চান্স পেয়েছি, সেরকম আনন্দ ফিল করলাম। এরপর পড়তে বসেছি হঠাৎ মুড অফ হয়ে গেল। মুড অফ এবং অন সেখান থেকেই শুরু...
চলবে...
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)