তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছে। অ-নে-ক অ-নে-ক দেখতে ইচ্ছা করছে। তোমার অসীমতা আর সাথে আকাশের বিশালতার মাঝে আজ নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছা হচ্ছে। আচ্ছা শেষ কবে তোমাকে দেখেছিলাম? হুম, মনে পড়েছে ক্লাস ফোরে। ক্লাস ফোরের সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ বড় হয়ে তোমাকে আবার দেখতে চাইছে। ছোট্ট বেলায় তোমাকে প্রথম দেখে আমার অনুভূতি কেমন হয়েছিল জান? অনেক বিস্ময়কর! চারদিকে শুধুই অসীমতা বিরাজ করছিল, তোমার অসীমতার মাঝে নিজেকে শুধুই হারিয়ে ফেলছিলাম। তখন ক্ষুদ্র নিজ সত্তাকে তোমার সামনে আরো বেশি ক্ষুদ্রতর মনে হচ্ছিল।এখনও কি তাই মনে হবে তোমাকে আবার দেখলে?
খুব বেশি ব্যবধান নয়, মাত্র ১১ বছরের ব্যব্যধান। এতদিনে তোমার কি কোন পরিবর্তন হয়েছে? নাকি তুমি সেই আগেরই মত রয়েছ? দশ বছরের ক্ষুদ্র বালিকার দৃষ্টিতে তুমি ছিলে অসীম, আর একুশ বছরের এই আমার চোখে তুমি মনে হয় সসীম। সত্যি বলছি। তুমি বিশ্বাস করছনা?
এত্ত কমপ্লেক্স, এত্ত জট্টিল সব মানুষের মাঝে বসবাস যে প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে যাই। আচ্ছা তোমারো কি তাই করতে হয়? প্রতিনয়ত আমাকে জীবন দর্শন খুজে যেতে হয়, প্রতিনিয়ত বিভিন্নমুখী সত্তার সম্মুখীন হতে হয়, প্রতিনিয়ত সত্যিকার বন্ধুত্ব খুজতে গিয়ে এক নির্মম নিষ্ঠুর বন্ধুত্বের সন্ধান পাই, প্রতিনিয়ত এক অজানা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে যেতে হয়, প্রতিনিয়ত স্বপ্ন পূরণ আর স্বপ্ন ভঙ্গের মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের প্রেরণা পাই, প্রতিনিয়ত সীমাহীন এক মনোজাগতিক জটিলতা ফেইস করতে হয়, প্রতিনিয়ত নিজ সত্তার সাথে অবিরত সংগ্রাম করতে হয়, প্রতিনিয়ত মনপবনে জোয়ার আসে।, প্রতিনিয়ত মনপবনের ভাটা আসে, প্রতিনিয়ত কোন পরম সত্যকে সন্ধান করতে হয়, প্রতিনিয়ত নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই, প্রতিনিয়ত সীমাবদ্ধতার মাঝে এক সুষম সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়, প্রতিনিয়ত ভুল করে যাই, প্রতিনিয়ত ভুল শুধরাতে হয়, প্রতিনিয়ত কারও কাছ থেকে একটু একটু করে দূরে সরে যাই, প্রতিনিয়ত কারো খুব কাছাকাছি চলে যাই, প্রতিনিয়ত কারো জটিলতাকে নিজের সরলতা দিয়ে ঢেকে দিতে চাই, প্রতিনিয়ত নিজের জটিলতাকে অন্যের সরলতার মাঝে নবরূপ পায়, প্রতিনিয়ত সবাইকে ভালবেসে যাই, প্রতিনিয়ত সবার ভালবাসা পেতে চাই...
তোমারও কি আমার মত এরকম প্রতিনিয়ত রঙ বদলায়? নাকি তুমি চিরকাল একই ধারায় বহমান প্রতিনিয়ত?? আকাশের নীলীমা আর তোমার সাথে গোধূলীর মিশ্রিত ঐন্দ্রজালিক মুহূর্ত আমি নতুন করে উপভোগ করতে চাই। তুমিও কি চাও? তোমার রঙ কি আমার মনের মত কখনও লাল, কখনও নীল, কখনও সবুজ, কখনও বেগুনী কিংবা আসমানী!!! কিংবা সর্বদাএকই থাকে?
তুমি কি বুঝতে পারছ তোমার ক্ষুদ্রতা কোথায়? আর আমার অসীমতা কোথায়? তুমি কি রাগ করেছ? তোমার কি আজ মন খারাপ সমুদ্র..................!!!!!
মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০১০
সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০১০
হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান এন্ড ডিলিউসান….
কিছুদিন আগেই সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ড শেষ হল। মনোজগতের কিছু অস্বাভাবিকতার সাথে পরিচিত হলাম। অনেক কেইস হিস্ট্রি রেকর্ড করলাম, হিস্ট্রি নিয়ে স্যারের সাথে অনেক ডিসকাশনও হল। প্রতিটা হিস্ট্রির পিছনে যে গভীর প্রভাববিস্তারকারী ফ্যক্টর আছে সেগুলো নিয়ে স্যার ডিপলি লেকচার দিলেন। মেডিক্যাল লাইফে এই প্রথম আমি কিছু ব্যাপার খুব আগ্রহ ও চরম উদ্দ্যম নিয়ে স্টাডি করলাম। আসলে মেডিসিন/সার্জারি ওয়ার্ড যখন করতাম তখন এটা মনে করতাম যে মেডিক্যালে যখন পড়তেছি তখনতো এসব করতেই হবে।এটলিস্ট পরীক্ষা হবে, পাশ করতে হবে এসব চিন্তা করেই পড়াশুনা। কিন্তু সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ডে আমি নিজেকে ভিন্নভাবে ফিল করলাম।
সাইকোলজি আর সাইকিয়াট্রির মধ্যে যে বেসিক পার্থক্য আমি বুঝলাম তা হল সাইকোলজি ডিল করে মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহার ও তার সমস্যার পরিব্যাপ্তি নিয়ে যা কাউন্সিলিং এর গুরুত্ব প্রমোট করে। আর সাইকিয়াট্রি ডিল করে মানুষের অস্বাভাবিক ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে যা অবশ্যই মেডিকেশানের সাথে রিলেইটেড।
মন অদ্ভুত এক ব্যাপার। ব্রেইনে যেখানে মন নামক সেন্টার টা আছে তার প্রকৃতি খুব আজব। মনকে রেগুলেট করা, কন্ট্রোল করা সবকিছুই অনেক জটিল এক প্রসেস। একেকজনের ক্ষেত্রে এই রেগুলেটিং সিস্টেম আলাদা। কথায় বলে নানা মুনির নানা মত। ছেলেবেলা থেকে যেভাবে গড়ে তোলা হয় আমাদের মনও সেদিকেই ধাবিত হয়।
সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ডে বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা শুরু হয় অত্যধিক ধার্মিকতা দিয়ে। তাদের হিস্ট্রি নিয়ে জানা যায় যে তারা কোন পীর/হুজুর/মাজার এ যেত। গায়েবী কিছু এডভাইস অনুযায়ী তারা কাজ করত। নিজে খুব বেশি ধার্মিক না হলেও এটলিস্ট ইসলামকে বুঝে পালন করার ট্রাই করি। তাই যতবারই হিস্ট্রি নিতে যাই ততবারই কিছুটা বিব্রত ফিল করি। ইসলাম ধর্ম অত্যধিক পালন করতে গিয়ে কেউ সাইকো হয়ে যাবে এই ব্যাপারটা খুব বিব্রতকর। আমি যতবার হিস্ট্রি নেই ততবার একজায়গায় প্রশ্ন করে থেমে যায় যে তারা কেন অমুক পীর/হুজুরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে? ইসলামে কোথাওতো লেখা নাই যে ধর্মীয় আনুগত্য ও ভালবাসার একটা ধাপ হল পীর/হুজুরকে ভালবাসা, তাদের ইললজিক্যাল কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা!
হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান,ডিলিউসান যেভাবে হয়…একটু নিজের মত ব্যখ্যা করি।
ইসলাম ধর্মে বেসিক সাতটি বিষয় মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বাকি জীবনের সমগ্র বিষয় যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করতে হবে। আমি ইসলাম কে নিয়ে শুধু এটুক্লুই বুঝি যে ঈমানের সাতটি বিষয় ব্যতিরেকে বাকি সব কিছু অত্যধিক স্ট্রং লজিক দিয়ে নিজের লাইফে ইম্পলিমেন্ট করতে হবে।
হুমায়ুন আহমেদের আত্বজীবনীমূলক একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে লেখক এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কমেন্ট করেছিলেন যে, গ্রামের মানুষ যা বিশ্বাসযোগ্য নয় তা খুব সহজেই বিশ্বাস করে। আর যেসব ব্যাপার খুব লজিক্যাল সেগুলো নিয়ে তাদের মাথা ব্যথার শেষ নাই। আচ্ছা যে ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখক এই কমেন্ট করেছিলেন ঘটনাটা একটু সংক্ষেপে বলি।
এক ছেলে যে খুব চুরি করে। যেখানেই যায় সেখান থেকেই কিছু না কিছু চুরি করে। সে কারো সাথে খুব একটা কথাও বলেনা। একাকি বসবাস করে। তাকে নিয়ে প্রায়ই সময় গ্রামে শালিস বসে। অভিযোগ একটাই সে চুরি করে। তার এই চুরির স্বভাবের জন্য কোন মানুষ তার সাথে ঠিকভাবে কথাও বলেনা। লেখকের সাথে পরিচয় হল ছেলেটার। লেখক তার সাথে অনেক ভালভাবে ব্যবহার করলেন, কিন্তু যাবার আগে লোকটা লেখকের কলম চুরি করে নিয়ে যায়। পরে তার এই চুরি করা কলম গ্রামের কেউ একজন দেখে ফেললাম তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়। চুরির সাক্ষী হিসাবে লেখককে উপস্থিত করানো হলে লেখক বলে যে কলমটা সে তাকে গিফট করেছে। এটা বলার কারণ ছিল লেখত ইতোমধ্যেই ছেলেটার একটা হিস্ট্রি নিয়ে ফেলেছে। হিস্ট্রিটা ছিল এরকম…একবার ছেলেটার খুব অসুখ হয়। এতটাই মারাত্বক যে একসময় সে সেন্স হারিয়ে ফেলে এরপর আর সেন্স ফিরে আসেনি। সবাই তাকে মৃত ভেবে কবরে রেখে আসে। এরপর ছেলেটার বোন দেখতে আসলে বলে যে তার মন বলছে যে তাই ভাই বেচে আছে তাই কবর থেকে তাকে তুলা হোক। সত্যিই তাকে কবর থেকে তুলে আনা হলে দেখা যায় সে বেচে আছে। কিন্তু সে অনেক মেন্টালি আস্বাভাবিক ছিল। এরপর থেকেই সে চুপ হয়ে যায়, কারো সাথে সেরকম মিশেনা। আর কোথাও গেলেই কিছু না কিছু চুরি করে।
এরকম একটা আস্বাভাবিক ঘটনা গ্রামের সবাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে। কারণ তাদের ধারনা ছেলেটা আসলেই মরে গিয়েছিল পরে আল্লাহর কুদরতে সে আবার বেচে গিয়েছে। কিন্তু একটা ছেলের জীবনে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তার মানসিক যে বড়রকম এক পরিবর্তন আসল, তার ব্যবহার অস্বাভাবিক হয়ে গেল এসব তারা কোন আমলে না দিয়ে তারা সামান্য চুরির ব্যাপার নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়।
বাঙ্গালিকে যত সহজে ধর্ম দিয়ে ইললজিক্যালি বাইয়াসড করা যায় তা মনে হয় হাজার নিউটন/আইন্সটাইন তাদের লজিক দিয়ে বাইয়াসড করতে পারবেনা। ছেলেবেলা থেকেই কেন যেন ইসলাম কে যুক্তি দিয়ে না বুঝিয়ে অলৌকিক কিছু অদ্ভুত ব্যপার স্যাপার দিয়ে বুঝানো হয়। শুধু যে বুঝানো হয় তা নয়, সেটা মানতে বাধ্য করা হয়। একসময় এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায় আমরা। ফলে কোন অলৌকিক, আস্বাভাবিক খুব সহজেই বিশ্বাস করতে পারি। যেহেতু ছেলেবেলা থেকেই শুনে এসেছি যে বিশ্বাসই মূল জিনিস! গায়েবী আওয়াজ বিশ্বাস করি, পীর/হুজুরের ম্যজিক্যাল স্বপ্নে পাওয়া চিকিৎসাকে অমোঘ বিধান মনে করি। হ্যালুসিনাশান, ইলিউশান মনে হয় এভাবেই তৈরি হয়।
১৫বছরের এক কিশোরি মেয়ের হিস্ট্রি নিচ্ছিলাম। খুব ভাল পড়াশুনায় সে। চলাফেরা স্বাভাবিক আর আট-দশটা মেয়ের মতই। একদিন হঠাৎ সে এক নিকটস্থ পীরের কাছে যায়, পীরের উপদেশ অনুযায়ী সে কঠিন পর্দা শুরু করে। হাত/পা মোজা থেকে শুরু করে শুধুমাত্র চোখ ছাড়া তার আর কিছুই দেখা যায়না। পীর তাকে আরো উপদেশ দিয়েছিল মেয়েদের জন্য পড়াশুনা নাকি ইসলামে পারমিট করেনাই। তাই সে পড়াশুনায় আর উদ্যম পায়না। পীর তাকে বলেছিল য বেশি বেশি তওবা করতে, বেশি বেশি দুনিয়াবি কাজ বাদ দিয়ে নামাজ-রোজা করতে। এভাবেই মেয়েটি একসময় গায়েবি আওয়াজ শুনতে পায়। ফেরেশতারা নাকি তাকে কি কি সব করতে বলে। পরে ধীরে ধীরে পুরা সাইকো হয়ে যায়। তার ব্যবহার, আচার-আচরন সব কিছু আস্বাভাবিক। মেডিকেশান দিয়ে স্ট্যাবল রাখতে হয়। হিস্ট্রি নিতে গিয়ে আমি ভাবলাম ধর্মকে ইউজ করে যেভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে আস্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে এব্যাপারে আমাদের পজিশান কোথায়? মিডিয়াতে হিল্লা বিবাহ, দোররা মারা, পর্দা, স্বামী কতৃক স্ত্রীকে পিটানোর যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ইসলামকে ফোকাস করা হয় সেটা কি আদৌ সঠিক ইসলাম?
ইসলামিক হিস্ট্রি যত পড়ি, নবী-রাসূলদের দাওয়াহ পদ্ধতি যত পড়ি তত আমি মুগ্ধ হই। মানুষের সাইকোলজি বুঝে ভাল জিনিস প্রেসেন্ট করে দাওয়াহ পদ্ধতি বর্তমান সময়ে কেমন এপ্লাই হয় সেব্যাপারে আমি সন্দিহান। মক্কাতে যখন ইসলাম আবির্ভুত হয় তখন মানুষ অলরেডি প্রভুর ব্যাপারে কিছু নলেজ ছিল। তারা জানত যে তাদের একজন প্রভু আছে যার ইবাদাত করা তাদের দায়িত্ব। আমাদের নবীজি(সাঃ) যখন আসলেন তখন তিনি তাওহীদ নিয়ে সর্বপ্রথম দাওয়াহ দিলেন। কারণ তাওহিদের একাত্বতা ঘোষণা ব্যতিত বেসিক ইসলামে প্রবেশ করা যাবেনা। তাওহীদের মূল কথা মূলতঃ ৩টি। আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস অর্থাৎ এই বিশ্বের একমাত্র শাসন কর্তা তিনি, আল্লহর সমস্ত গুনাবলি ও প্রসংশা শুধুমাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য তার বান্দার জন্য না, আর ইবাদাতের যোগ্যতা কেবল আল্লাহর। এই তিনটা জিনিস বুঝতে পারলে বেসিক ইসলামে বুঝতে খুব অসুবিধা হয়না। কারণ এখানেই নিহিত রয়েছে যে এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার ফলাফল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, সবকিছু করার মালিক একমাত্র তিনি, বান্দা এবং আল্লাহর ইবাদাতের মাঝখানে কোন মিডিয়া নেই, কেউ তার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। সো দ্যাট কোন পীর/হুজুর/তাবিজের কেরামতিতে যে কিছুই হবেনা তা শুধুমাত্র এই তাওহীদের কনসেপ্টেই বুঝা যায়।
কিন্তু ইসলাম আরব থেকে যখন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে গিয়েছে তখনই সমস্যাটা হয়েছে। কারণ মক্কার মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট বুঝে ইসলাম গ্রহন/ত্যগ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট না বুঝেই ইসলাম কে মনে প্রানে ভালবেসে বহুরকম নিজের অজান্তেই শিরকে লিপ্ত আছে। বলা যায় ইসলামবিহীন মুসলিম জাতি আমরা। তাই এখানে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। খুব আজব ব্যাপার এটা। কারণ যেখানে ৮০% মুসলমান সেখানে কেউ আমরা ইসলামের মেইন ডিমান্ড বুঝিনা, একচুয়াল ইসলাম কি চায় আমাদের কাছে সেটা বুঝিনা।
ইসলামি দাওয়াহর কনসেপ্ট কখনও জোর করে কাউকে চাপানো হয়নি। যখন মেজোরিটি ইসলাম কে বুঝে গ্রহন করেছে, ইসলামের রুলের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে তখনই ইসলামের রুল খুব স্ট্রিকটলি পালিত হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। কিন্তু যেখানে আমরা তাওহীদের মত মেজর কনসেপটই মানুষকে বুঝাতে পারিনি সেখানে ইসলামি ড্রেস কোড, দাড়ি রাখা/না রাখা এসব মাইনর ব্যাপার যদি কাউকে পালন করতে বাধ্য করানো হয় তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াবে?
ইসলাম সবসময় মানবতার কথা বলে, ইসলামে চিন্তার স্বাধীনতার সুযোগ আছে বলেই জেনে বুঝে ইসলামর বেসিক ডিমান্ড বুঝে, লাইফের কম্পলিট কোড এর প্রসেস কেন এরকম হল সেব্যাপারে রিসার্চ করে, লজিক্যালি ইসলামকে নিজের লাইফে ইম্পলিমেন্ট করতে হয়। এখানে হ্যালুসিনেসান, ইলিউসানের আশ্রয় নেবার কোন সুযোগ নায়।
মানুষের সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে দাওয়াহ না দিলে ইসলাম কে খুব কঠিন ও কট্টর মনে হবে। আচ্ছা যে বুঝেইনা ইসলাম ভাল কেন, যে জানেইনা ইসলামে এরকম ড্রেস কোড কেন দেওয়া হল, তাকে যদি আমি সেটা করতে বাধ্য করি হোক সেটা ১০০% ভাল তাহলে কি সে এটা করবে? এটলিস্ট আমাকে কেউ জোরপূর্বক কিছু করাতে বাধ্য করলে তা হাজার ভাল হলেও আমি তার কথামত সেটা করবনা। আগে নিজেকে বুঝতে হবে যে সেটা আসলেই ভাল তারপর করব, কারো জোরপূর্বক ইনফ্লুয়েন্সে না।
কেন জানিনা ইসলাম পন্থী আমরা যারা আছি তারা সব কিছু অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চাই। ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা এরকম লাগে যে, যে ক্লাস ওয়ানই পড়েনি তাকে ক্লাস এইটের জিনিস জোরপূর্বক বুঝানোর কঠোর ট্রাই করতেছি। শুধু তাই না, সে ক্লাস এইটের জিনিস কেন বুঝবেনা ও মানবেনা সেটা নিয়েও গভীর এনালাইসিস করি। ফলে হাজার হাজার বছর পূর্বে নবী-রাসূলরা সবাই একটা ইউনিট ছিল। কারণ তাদের সবাই বেসিক্যালি মানুষকে ইসলামের কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করাতেই ব্যস্ত ছিল। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে ইসলামের অন্যান্য লাইফ রিলেটেড ব্যাপারে তারা মানুষকে এডুকেইট করেছে। আর আমরা বেসিক জিনিস বাদে অন্যান্য ব্যাপারে চর্চা করতেই ব্যস্ত। ফলে ইসলামের বহু শাখা-প্রশাখা বেরিয়েছে।ফলে আমরা একই ইউনিটে অবস্থান করছিনা। যদিও মনে প্রাণে ইসলামকে ভালবাসি সবাই…
সবশেষে শুধু এটুকুই বলব, যে ইসলাম হিউম্যানিটির কথা বলে সেই ইসলাম কখনও স্বৈরাচার মূলকভাবে কোন কিছু মানুষকে চাপাতে দেয়না। আর তাই যদি হত তাহলে আল্লাহ নিজেই ফেরেশতা দিয়ে এই পৃথিবীতে সবকিছু করতে মানুষকে বাধ্য করাত। তাই মানব সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে ইসলাম কে প্রতিষ্ঠা করা যতটা সহজ ভাবা হয় আসলে ততটা না। তা না হলে নবী-রাসূলদের জীবনে এত দুঃখ-কষ্ট আসতনা যদিও তারা ছিলেন আল্লহর মনোনিত ব্যক্তি। তারা ইচ্ছা করলেই পারতেন ইসলামের রুল কে মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে, ইচ্ছা করলেই পারতেন তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের পাওয়ারে মানুষকে কিছু করাতে বাধ্য করতে। কিন্তু তারা সেটা করেননি। তারা ইসলাম কে তুলে ধরেছেন লাইফের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হিসাবে, তারা প্র্যাক্টিক্যালি প্রুফ করেছেন যে ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। যেহেতু ইসলামের বিজয় অবশ্যম্ভাবি তাই নিশ্চয় আমাদের ততদিন পর্যন্ত ওয়েট করতে হবে যতদিন পর্যন্ত আমরা ইসলামকে স্বৈরাচারি হিসাবে না বরং একমাত্র গ্রহনযোগ্য লাইফ স্টাইল হিসাবে প্রুফ করতে না পারি…
সাইকোলজি আর সাইকিয়াট্রির মধ্যে যে বেসিক পার্থক্য আমি বুঝলাম তা হল সাইকোলজি ডিল করে মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহার ও তার সমস্যার পরিব্যাপ্তি নিয়ে যা কাউন্সিলিং এর গুরুত্ব প্রমোট করে। আর সাইকিয়াট্রি ডিল করে মানুষের অস্বাভাবিক ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে যা অবশ্যই মেডিকেশানের সাথে রিলেইটেড।
মন অদ্ভুত এক ব্যাপার। ব্রেইনে যেখানে মন নামক সেন্টার টা আছে তার প্রকৃতি খুব আজব। মনকে রেগুলেট করা, কন্ট্রোল করা সবকিছুই অনেক জটিল এক প্রসেস। একেকজনের ক্ষেত্রে এই রেগুলেটিং সিস্টেম আলাদা। কথায় বলে নানা মুনির নানা মত। ছেলেবেলা থেকে যেভাবে গড়ে তোলা হয় আমাদের মনও সেদিকেই ধাবিত হয়।
সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ডে বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা শুরু হয় অত্যধিক ধার্মিকতা দিয়ে। তাদের হিস্ট্রি নিয়ে জানা যায় যে তারা কোন পীর/হুজুর/মাজার এ যেত। গায়েবী কিছু এডভাইস অনুযায়ী তারা কাজ করত। নিজে খুব বেশি ধার্মিক না হলেও এটলিস্ট ইসলামকে বুঝে পালন করার ট্রাই করি। তাই যতবারই হিস্ট্রি নিতে যাই ততবারই কিছুটা বিব্রত ফিল করি। ইসলাম ধর্ম অত্যধিক পালন করতে গিয়ে কেউ সাইকো হয়ে যাবে এই ব্যাপারটা খুব বিব্রতকর। আমি যতবার হিস্ট্রি নেই ততবার একজায়গায় প্রশ্ন করে থেমে যায় যে তারা কেন অমুক পীর/হুজুরকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করে? ইসলামে কোথাওতো লেখা নাই যে ধর্মীয় আনুগত্য ও ভালবাসার একটা ধাপ হল পীর/হুজুরকে ভালবাসা, তাদের ইললজিক্যাল কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা!
হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান,ডিলিউসান যেভাবে হয়…একটু নিজের মত ব্যখ্যা করি।
ইসলাম ধর্মে বেসিক সাতটি বিষয় মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বাকি জীবনের সমগ্র বিষয় যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করতে হবে। আমি ইসলাম কে নিয়ে শুধু এটুক্লুই বুঝি যে ঈমানের সাতটি বিষয় ব্যতিরেকে বাকি সব কিছু অত্যধিক স্ট্রং লজিক দিয়ে নিজের লাইফে ইম্পলিমেন্ট করতে হবে।
হুমায়ুন আহমেদের আত্বজীবনীমূলক একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে লেখক এক অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কমেন্ট করেছিলেন যে, গ্রামের মানুষ যা বিশ্বাসযোগ্য নয় তা খুব সহজেই বিশ্বাস করে। আর যেসব ব্যাপার খুব লজিক্যাল সেগুলো নিয়ে তাদের মাথা ব্যথার শেষ নাই। আচ্ছা যে ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখক এই কমেন্ট করেছিলেন ঘটনাটা একটু সংক্ষেপে বলি।
এক ছেলে যে খুব চুরি করে। যেখানেই যায় সেখান থেকেই কিছু না কিছু চুরি করে। সে কারো সাথে খুব একটা কথাও বলেনা। একাকি বসবাস করে। তাকে নিয়ে প্রায়ই সময় গ্রামে শালিস বসে। অভিযোগ একটাই সে চুরি করে। তার এই চুরির স্বভাবের জন্য কোন মানুষ তার সাথে ঠিকভাবে কথাও বলেনা। লেখকের সাথে পরিচয় হল ছেলেটার। লেখক তার সাথে অনেক ভালভাবে ব্যবহার করলেন, কিন্তু যাবার আগে লোকটা লেখকের কলম চুরি করে নিয়ে যায়। পরে তার এই চুরি করা কলম গ্রামের কেউ একজন দেখে ফেললাম তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়। চুরির সাক্ষী হিসাবে লেখককে উপস্থিত করানো হলে লেখক বলে যে কলমটা সে তাকে গিফট করেছে। এটা বলার কারণ ছিল লেখত ইতোমধ্যেই ছেলেটার একটা হিস্ট্রি নিয়ে ফেলেছে। হিস্ট্রিটা ছিল এরকম…একবার ছেলেটার খুব অসুখ হয়। এতটাই মারাত্বক যে একসময় সে সেন্স হারিয়ে ফেলে এরপর আর সেন্স ফিরে আসেনি। সবাই তাকে মৃত ভেবে কবরে রেখে আসে। এরপর ছেলেটার বোন দেখতে আসলে বলে যে তার মন বলছে যে তাই ভাই বেচে আছে তাই কবর থেকে তাকে তুলা হোক। সত্যিই তাকে কবর থেকে তুলে আনা হলে দেখা যায় সে বেচে আছে। কিন্তু সে অনেক মেন্টালি আস্বাভাবিক ছিল। এরপর থেকেই সে চুপ হয়ে যায়, কারো সাথে সেরকম মিশেনা। আর কোথাও গেলেই কিছু না কিছু চুরি করে।
এরকম একটা আস্বাভাবিক ঘটনা গ্রামের সবাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে। কারণ তাদের ধারনা ছেলেটা আসলেই মরে গিয়েছিল পরে আল্লাহর কুদরতে সে আবার বেচে গিয়েছে। কিন্তু একটা ছেলের জীবনে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তার মানসিক যে বড়রকম এক পরিবর্তন আসল, তার ব্যবহার অস্বাভাবিক হয়ে গেল এসব তারা কোন আমলে না দিয়ে তারা সামান্য চুরির ব্যাপার নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়।
বাঙ্গালিকে যত সহজে ধর্ম দিয়ে ইললজিক্যালি বাইয়াসড করা যায় তা মনে হয় হাজার নিউটন/আইন্সটাইন তাদের লজিক দিয়ে বাইয়াসড করতে পারবেনা। ছেলেবেলা থেকেই কেন যেন ইসলাম কে যুক্তি দিয়ে না বুঝিয়ে অলৌকিক কিছু অদ্ভুত ব্যপার স্যাপার দিয়ে বুঝানো হয়। শুধু যে বুঝানো হয় তা নয়, সেটা মানতে বাধ্য করা হয়। একসময় এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায় আমরা। ফলে কোন অলৌকিক, আস্বাভাবিক খুব সহজেই বিশ্বাস করতে পারি। যেহেতু ছেলেবেলা থেকেই শুনে এসেছি যে বিশ্বাসই মূল জিনিস! গায়েবী আওয়াজ বিশ্বাস করি, পীর/হুজুরের ম্যজিক্যাল স্বপ্নে পাওয়া চিকিৎসাকে অমোঘ বিধান মনে করি। হ্যালুসিনাশান, ইলিউশান মনে হয় এভাবেই তৈরি হয়।
১৫বছরের এক কিশোরি মেয়ের হিস্ট্রি নিচ্ছিলাম। খুব ভাল পড়াশুনায় সে। চলাফেরা স্বাভাবিক আর আট-দশটা মেয়ের মতই। একদিন হঠাৎ সে এক নিকটস্থ পীরের কাছে যায়, পীরের উপদেশ অনুযায়ী সে কঠিন পর্দা শুরু করে। হাত/পা মোজা থেকে শুরু করে শুধুমাত্র চোখ ছাড়া তার আর কিছুই দেখা যায়না। পীর তাকে আরো উপদেশ দিয়েছিল মেয়েদের জন্য পড়াশুনা নাকি ইসলামে পারমিট করেনাই। তাই সে পড়াশুনায় আর উদ্যম পায়না। পীর তাকে বলেছিল য বেশি বেশি তওবা করতে, বেশি বেশি দুনিয়াবি কাজ বাদ দিয়ে নামাজ-রোজা করতে। এভাবেই মেয়েটি একসময় গায়েবি আওয়াজ শুনতে পায়। ফেরেশতারা নাকি তাকে কি কি সব করতে বলে। পরে ধীরে ধীরে পুরা সাইকো হয়ে যায়। তার ব্যবহার, আচার-আচরন সব কিছু আস্বাভাবিক। মেডিকেশান দিয়ে স্ট্যাবল রাখতে হয়। হিস্ট্রি নিতে গিয়ে আমি ভাবলাম ধর্মকে ইউজ করে যেভাবে মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে আস্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে এব্যাপারে আমাদের পজিশান কোথায়? মিডিয়াতে হিল্লা বিবাহ, দোররা মারা, পর্দা, স্বামী কতৃক স্ত্রীকে পিটানোর যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ইসলামকে ফোকাস করা হয় সেটা কি আদৌ সঠিক ইসলাম?
ইসলামিক হিস্ট্রি যত পড়ি, নবী-রাসূলদের দাওয়াহ পদ্ধতি যত পড়ি তত আমি মুগ্ধ হই। মানুষের সাইকোলজি বুঝে ভাল জিনিস প্রেসেন্ট করে দাওয়াহ পদ্ধতি বর্তমান সময়ে কেমন এপ্লাই হয় সেব্যাপারে আমি সন্দিহান। মক্কাতে যখন ইসলাম আবির্ভুত হয় তখন মানুষ অলরেডি প্রভুর ব্যাপারে কিছু নলেজ ছিল। তারা জানত যে তাদের একজন প্রভু আছে যার ইবাদাত করা তাদের দায়িত্ব। আমাদের নবীজি(সাঃ) যখন আসলেন তখন তিনি তাওহীদ নিয়ে সর্বপ্রথম দাওয়াহ দিলেন। কারণ তাওহিদের একাত্বতা ঘোষণা ব্যতিত বেসিক ইসলামে প্রবেশ করা যাবেনা। তাওহীদের মূল কথা মূলতঃ ৩টি। আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস অর্থাৎ এই বিশ্বের একমাত্র শাসন কর্তা তিনি, আল্লহর সমস্ত গুনাবলি ও প্রসংশা শুধুমাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য তার বান্দার জন্য না, আর ইবাদাতের যোগ্যতা কেবল আল্লাহর। এই তিনটা জিনিস বুঝতে পারলে বেসিক ইসলামে বুঝতে খুব অসুবিধা হয়না। কারণ এখানেই নিহিত রয়েছে যে এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার ফলাফল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, সবকিছু করার মালিক একমাত্র তিনি, বান্দা এবং আল্লাহর ইবাদাতের মাঝখানে কোন মিডিয়া নেই, কেউ তার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। সো দ্যাট কোন পীর/হুজুর/তাবিজের কেরামতিতে যে কিছুই হবেনা তা শুধুমাত্র এই তাওহীদের কনসেপ্টেই বুঝা যায়।
কিন্তু ইসলাম আরব থেকে যখন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে গিয়েছে তখনই সমস্যাটা হয়েছে। কারণ মক্কার মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট বুঝে ইসলাম গ্রহন/ত্যগ করেছিল। কিন্তু বর্তমানে মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট না বুঝেই ইসলাম কে মনে প্রানে ভালবেসে বহুরকম নিজের অজান্তেই শিরকে লিপ্ত আছে। বলা যায় ইসলামবিহীন মুসলিম জাতি আমরা। তাই এখানে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। খুব আজব ব্যাপার এটা। কারণ যেখানে ৮০% মুসলমান সেখানে কেউ আমরা ইসলামের মেইন ডিমান্ড বুঝিনা, একচুয়াল ইসলাম কি চায় আমাদের কাছে সেটা বুঝিনা।
ইসলামি দাওয়াহর কনসেপ্ট কখনও জোর করে কাউকে চাপানো হয়নি। যখন মেজোরিটি ইসলাম কে বুঝে গ্রহন করেছে, ইসলামের রুলের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে তখনই ইসলামের রুল খুব স্ট্রিকটলি পালিত হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। কিন্তু যেখানে আমরা তাওহীদের মত মেজর কনসেপটই মানুষকে বুঝাতে পারিনি সেখানে ইসলামি ড্রেস কোড, দাড়ি রাখা/না রাখা এসব মাইনর ব্যাপার যদি কাউকে পালন করতে বাধ্য করানো হয় তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াবে?
ইসলাম সবসময় মানবতার কথা বলে, ইসলামে চিন্তার স্বাধীনতার সুযোগ আছে বলেই জেনে বুঝে ইসলামর বেসিক ডিমান্ড বুঝে, লাইফের কম্পলিট কোড এর প্রসেস কেন এরকম হল সেব্যাপারে রিসার্চ করে, লজিক্যালি ইসলামকে নিজের লাইফে ইম্পলিমেন্ট করতে হয়। এখানে হ্যালুসিনেসান, ইলিউসানের আশ্রয় নেবার কোন সুযোগ নায়।
মানুষের সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে দাওয়াহ না দিলে ইসলাম কে খুব কঠিন ও কট্টর মনে হবে। আচ্ছা যে বুঝেইনা ইসলাম ভাল কেন, যে জানেইনা ইসলামে এরকম ড্রেস কোড কেন দেওয়া হল, তাকে যদি আমি সেটা করতে বাধ্য করি হোক সেটা ১০০% ভাল তাহলে কি সে এটা করবে? এটলিস্ট আমাকে কেউ জোরপূর্বক কিছু করাতে বাধ্য করলে তা হাজার ভাল হলেও আমি তার কথামত সেটা করবনা। আগে নিজেকে বুঝতে হবে যে সেটা আসলেই ভাল তারপর করব, কারো জোরপূর্বক ইনফ্লুয়েন্সে না।
কেন জানিনা ইসলাম পন্থী আমরা যারা আছি তারা সব কিছু অন্যের উপর চাপিয়ে দিতে চাই। ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা এরকম লাগে যে, যে ক্লাস ওয়ানই পড়েনি তাকে ক্লাস এইটের জিনিস জোরপূর্বক বুঝানোর কঠোর ট্রাই করতেছি। শুধু তাই না, সে ক্লাস এইটের জিনিস কেন বুঝবেনা ও মানবেনা সেটা নিয়েও গভীর এনালাইসিস করি। ফলে হাজার হাজার বছর পূর্বে নবী-রাসূলরা সবাই একটা ইউনিট ছিল। কারণ তাদের সবাই বেসিক্যালি মানুষকে ইসলামের কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করাতেই ব্যস্ত ছিল। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে ইসলামের অন্যান্য লাইফ রিলেটেড ব্যাপারে তারা মানুষকে এডুকেইট করেছে। আর আমরা বেসিক জিনিস বাদে অন্যান্য ব্যাপারে চর্চা করতেই ব্যস্ত। ফলে ইসলামের বহু শাখা-প্রশাখা বেরিয়েছে।ফলে আমরা একই ইউনিটে অবস্থান করছিনা। যদিও মনে প্রাণে ইসলামকে ভালবাসি সবাই…
সবশেষে শুধু এটুকুই বলব, যে ইসলাম হিউম্যানিটির কথা বলে সেই ইসলাম কখনও স্বৈরাচার মূলকভাবে কোন কিছু মানুষকে চাপাতে দেয়না। আর তাই যদি হত তাহলে আল্লাহ নিজেই ফেরেশতা দিয়ে এই পৃথিবীতে সবকিছু করতে মানুষকে বাধ্য করাত। তাই মানব সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে ইসলাম কে প্রতিষ্ঠা করা যতটা সহজ ভাবা হয় আসলে ততটা না। তা না হলে নবী-রাসূলদের জীবনে এত দুঃখ-কষ্ট আসতনা যদিও তারা ছিলেন আল্লহর মনোনিত ব্যক্তি। তারা ইচ্ছা করলেই পারতেন ইসলামের রুল কে মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে, ইচ্ছা করলেই পারতেন তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের পাওয়ারে মানুষকে কিছু করাতে বাধ্য করতে। কিন্তু তারা সেটা করেননি। তারা ইসলাম কে তুলে ধরেছেন লাইফের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হিসাবে, তারা প্র্যাক্টিক্যালি প্রুফ করেছেন যে ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। যেহেতু ইসলামের বিজয় অবশ্যম্ভাবি তাই নিশ্চয় আমাদের ততদিন পর্যন্ত ওয়েট করতে হবে যতদিন পর্যন্ত আমরা ইসলামকে স্বৈরাচারি হিসাবে না বরং একমাত্র গ্রহনযোগ্য লাইফ স্টাইল হিসাবে প্রুফ করতে না পারি…
শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০১০
তুমি নারী বলেই এই লেখা তোমার জন্য উৎসর্গিত !!!
লেখাটা শুরুর করার পূর্বেই বলে নেই এই চিন্তা ভাবনার প্রেরণা পেয়েছি আমার সবচেয়ে প্রিয় আপুর কাছ থেকে। নারী কেন্দ্রিক লেখাটা খুব সাহস করেই লিখে ফেললাম যেহেতু আমি নিজেও একজন নারী। তাই একজন নারী হিসাবে নিজেকে যেভাবে দেখতে চাই ও অন্য নারীদের প্রতি প্রত্যাশা করি সেটাই অকপটে বলে ফেললাম। কেউ এটা পড়ে যদি মাইন্ড করেন তবে সেটার দায় দায়িত্ব তার উপর পড়বে, লেখকের উপর নয়।
নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই বিশ্বে একজন নারী যখন উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন এক জটিল সমস্যা অনুভব করে সে। একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার পাবার চরম আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে নিজ অস্তিত্ব সংকট। সবকিছুর সংমিশ্রন একজন নারীর চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
যাইহোক হাজার নেগেটিভিটি, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এক নারী যখন নিজেকে নিয়ে প্রচলিত ট্রেডিশান বা ঐতিহ্যের বাইরে নিজেকে নিয়ে ভিন্নরকম চিন্তা শুরু করে এবং বাস্তব জগতে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় তখনই তাকে সম্মুখিন হতে হয় বিভিন্নমুখী পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির। অবশ্য আজকাল পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমে গেছে। এজন্যই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীকে কেবল আমরা ঘরের ঘরনী হিসাবে দেখিনা। বরং চিকিৎসক, আর্কিটেক্ট, টিচার, সংবাদ পাঠিকা, জার্নালিস্ট, মিডিয়া ওয়ার্কার ইত্যাদি বিভিন্ন প্রফেশানে একজন নারী নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এসব যত দেখি তত ভাল লাগে, নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগে, সমাজে নারী হিসাবে কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। আসলে নারী-পুরুষের সমান পার্টিসিপেশান নিশ্চিত করে সমাজের চাকা গতিশীল রাখতে। কিন্তু, কিন্তু এত কিছুর পরেও কোথায় যেন একটা সমস্যা দেখতে পাই।
সেদিন আমার এক স্টুডেন্টের সাথে কথা বলছিলাম, সে খুব আফসোস করে বাংলাদেশের ছেলেদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে বলল, নিউজিল্যান্ড থেকে একজন চিকিৎসক এদেশের গরীব মানুষের সেবা দেবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কতটা মানবদরদী না হলে সে তার নিজের দেশের উন্নত ব্যবস্থা বাদ দিয়ে, নিজের আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে অন্য দেশের গরীব মানুষের জন্য নিজেকে এভাবে উৎসর্গ করতে পারে? অথচ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পক্ষে কি এটা সম্ভব? এরা তো নিজের দেশের গরীব মানুষকে কিভাবে তিলে তিলে শেষ করতে পারে এই প্রতিযোগিতায় নেমেছে! কথা বলার সময়ই আমার মধ্যে ভিন্ন একধরনের চিন্তা শুরু হল......একটা পরিবারের পুরা ভরনপোষণের দায়িত্ব থাকে সেই পরিবারের পুরুষের উপর। গৃহকর্ত্রী বাইরে জব করলেও পরিবারের ভরনপোষণের জন্য বিন্দুমাত্র কোন মাথা-ব্যাথা তার উপর বর্তায় না, যতটা বর্তায় একজন পুরুষের উপর। চিন্তা ভাবনাটাকে আরো একটু এক্সটেন্ড করে দেখলাম যে, পরিবারের সেই পুরুষ যদি তার নিজের জীবন নিউজিল্যান্ডের সেই চিকিৎসকের মত মানবতার উদ্দেশ্যে স্যক্রিফাইস করে তাহলে তো মহা সর্বনাশ!! তাই পুরুষরা কেন মানবতাবাদী হয়ে সেই নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসকের মত হয়না একথাটা বাইর থেকে বলা যতটা সহজ বাস্তব জীবনে এটার প্র্যাক্টিক্যাল প্রয়োগ ততটাই কঠিন।
ভাবতে ভাল লাগে যে নারীরা আজ শিক্ষার অবাধ সুযোগ পেয়েছে।পরিবারেও নারীকেশিক্ষার ব্যাপারে প্রচুর সহযোগিতা করা হয়। ফলে সর্বত্র পুরুষের পাশাপাশি নারীর দৃড় পদচারনা আমাকে স্বপ্ন দেখায় একটি সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু যে শিক্ষার সুযোগ পাবার জন্য নারীরা এত সংগ্রাম করল সেই শিক্ষার আলো পেয়ে কতজন নারী তাদের চিন্তা ভাবনার জগতকে আলোকিত করতে পেরেছেন? খুব দূরে যাবনা, আমার ফ্রেন্ড সার্কেলেই যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল আলোচনা করেছিলাম। কারও ইচ্ছা প্রচুর টাকা ইনকাম করার, কারও শুধুই গাড়ি,বাড়ি,শপিং, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর, কারও ইচ্ছা সোস্যাল স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য বড় বড় ডিগ্রি নেবার, কারও ইচ্ছা শখের মেডিক্যাল শেষে একদম ঘরোয়া হয়ে যাবার। কেন জানি অসামঞ্জস্য লাগছিল তাদের এই ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাগুলো। নিজের প্রতি, নিজ পরিবার,সমাজ ও দেশের প্রতি নারী হিসাবে কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? আবার সেই নারী তাহলে কিভাবে পুরুষের কাছ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক সকল দায়িত্বের পূর্ণ প্রয়োগ প্রত্যাশা করে??
তাই একজন নারী হিসাবে সকল নারীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা জানিয়ে কিছু অনুরোধ করতে চাই...
অবিবাহিত নারীর প্রতিঃ
নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য আপ্রানচেষ্টা করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায় পারে সংকীর্ণ চিন্তার গন্ডি থেকে মুক্তি দিতে। নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি সচতন হোন। সমাজে আপনার ভূমিকা কি হবে এটা ক্যালকুলেইট করেন। নিছক উচ্চ শিক্ষা নারী মুক্তি আনবেনা বরং শিক্ষার সাথে নিজের চারপাশ, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। শুধু শপিং, পার্লার, ঘুরাঘুরি করে নয় বরং অবসর সময়ে নিজেকে ক্রিয়েটিভ ও প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। একটা ব্যাপার বিয়ের পর সংসার বা দাম্পত্য ঝামেলা, মনোমালিন্য এড়াতে আজকাল এফেয়ারের যে নতুন ট্রেডিশান শুরু হয়েছে এতে করে ঝামেলা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। একে অপরকে চেনার জন্য বিয়ের পূর্বে প্রেম এই থিওরিটা এখন চরম আকারে ধ্বসের সম্মুখিন হচ্ছে। কারণ সিটি কর্পোরেশানের এক জরীপের মতে বর্তমানে ভালবাসাজনিত বিয়ের ডিভোর্সের সংখ্যা আনুপাতিকহারে বেড়েই চলেছে। তাই বিয়ের আগে এফেয়ার জনিত কেইসে সময় না দিয়ে সর্বোপরি জীবনমুখী বাস্তব চিন্তা করুন। বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত ডকুমেন্টে আসুন। এতে করে পরে ঝামেলা হলেও সেটা সলিউশান করা খুব বেশি কষ্টের হবেনা আশা করি। আর যেটা অনিশ্চিত সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে নিশ্চিত যেটা আপনি করতে পারবেন সেটা নিয়ে রিসার্চ করেন। আপনি পারবেন ভবিষ্যত একটি পরিবারকে নেতৃত্ব দেবার, নিজের অবস্থানকে সুদৃড় করে সামাজিকভাবে নিজেকে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলতে।
বিবাহিত নারীর প্রতিঃ
খুব সাধারণ কিন্তু ভুল একটি ধারণা বর্তমান আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে আর সেটা হল একটা মেয়ে পড়াশুনা করবে অথচ বাইরে জব করবেনা তাই কি হয়!! এতে করে মনে করা হয় নারীর সমস্ত শিক্ষায় বৃথা, নারী নিজের প্রতি এব্যাপারে খুব হীনমন্যতায়ও ভুগে। অথচ একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব পরি্চালনায় অংশগহন করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ
নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে! আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারিরীক বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয় আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা। একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা
একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী টিকে আছে। তাই ঘরে বসে বাইরে জব না করার আক্ষেপ না করে বিশ্ব পরিচালনায় অংশ নেবার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক ঘরে বসে এই বিশ্বপরিচালনার কাজ পৃথিবীর হাজার শ্রেষ্ঠ কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। একজন পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল একজন নারী। তাই সাধ্যের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে নিজের স্বামীকে খারাপ পথে ইনকাম করতে বাধ্য করবেননা, অন্ধকার জগতে পা বাড়াতে দিবেননা। নিজেদের মধ্যে সামান্য ব্যাপারে দাম্পত্য কলহ না করে সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করুন। আপনাদের এই কলহ বাচ্চার মনে যে গভীর খারাপ ইফেক্ট ফেলবে সেটার ক্ষতি পূরণ সহজে হবেনা।
আর যেসব নারী বিবাহিত এবং বাইরে জব করছেন , কিংবা যারা নিছক ঘরনী হতে চাননা আবার বাইরেও জব করেননা তাদের প্রতি অনুরোধ আমি জানি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনি অবস্থান করছেন। যেহেতু পারিবারিক ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাপারের দায়ভার আপনার উপর নেই তাই আপনি খুব দারুন ভূমিকা রাখতে পারেন সোস্যাল ওয়ার্কে। যেহেতু আপনার দক্ষতা আছে নেতৃত্ব দেবার, সময় আছে নিজেকে অন্যরকমভাবে রিপ্রেজেন্ট করার তাই কেবল শখের জব নয় পাশাপাশি সামাজিক ও মানবতাবাদী কাজে সময় দিন। যে দায়িত্ব পুরুষের পক্ষে নেওয়া কিছুটা কষ্টকর সেই দায়িত্ব আপনি নিয়ে নেন। নারীদের জন্য উপকারি কোন কিছু করার পরিকল্পনা নেন। কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক ও মানবতাবাদি কাজে নিযুক্ত করুন ও সমাজে নারীর অবস্থান, প্রাপ্য অধিকার, স্বাধীনতার ক্ষেত্র এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত নারীর দুর্ভোগ নিয়ে গবেষনার কাজে নিযুক্ত থাকুন। বাইরে জব করা মানেই নিছক টাকা ইনকাম করা কিংবা কেবল চাকরির উদ্দেশ্যে চাকরি নয় বরং সমাজে নিজের উপস্থিতি প্রমান করা এইভাবে যে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নারীরাও এগিয়ে। এখনই সময় এসেছে নারীর সমান অধিকারের নামে যুক্তিহীন সংগ্রামে পুরুষের সাথে না ঝাপিয়ে নিজেদের ব্যাপারে সচেতন হোন, নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের ব্যাপারে সংগ্রামী হোন। পুরুষরা আপনাদের প্রতিযোগী নয়, আবার আপনারাও পুরুষদের প্রতিযোগী নন, তাই নারী-পুরুষ সমান এটা প্রমাণের উদ্দেশ্যে বাইরে জব করা নারীর জন্য বোকামী ছাড়া কিছুইনা। তাই একজন প্রফেশনাল নারীর প্রতি এই অনুরোধ আপনারা এই বোকামী ছেড়ে নিজের ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সাথে পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে খুব স্মার্টভাবে রিপ্রেজেন্ট করুন।
নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই বিশ্বে একজন নারী যখন উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন এক জটিল সমস্যা অনুভব করে সে। একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার পাবার চরম আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে নিজ অস্তিত্ব সংকট। সবকিছুর সংমিশ্রন একজন নারীর চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
যাইহোক হাজার নেগেটিভিটি, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এক নারী যখন নিজেকে নিয়ে প্রচলিত ট্রেডিশান বা ঐতিহ্যের বাইরে নিজেকে নিয়ে ভিন্নরকম চিন্তা শুরু করে এবং বাস্তব জগতে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় তখনই তাকে সম্মুখিন হতে হয় বিভিন্নমুখী পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির। অবশ্য আজকাল পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমে গেছে। এজন্যই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নারীকে কেবল আমরা ঘরের ঘরনী হিসাবে দেখিনা। বরং চিকিৎসক, আর্কিটেক্ট, টিচার, সংবাদ পাঠিকা, জার্নালিস্ট, মিডিয়া ওয়ার্কার ইত্যাদি বিভিন্ন প্রফেশানে একজন নারী নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করছে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। এসব যত দেখি তত ভাল লাগে, নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগে, সমাজে নারী হিসাবে কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। আসলে নারী-পুরুষের সমান পার্টিসিপেশান নিশ্চিত করে সমাজের চাকা গতিশীল রাখতে। কিন্তু, কিন্তু এত কিছুর পরেও কোথায় যেন একটা সমস্যা দেখতে পাই।
সেদিন আমার এক স্টুডেন্টের সাথে কথা বলছিলাম, সে খুব আফসোস করে বাংলাদেশের ছেলেদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে বলল, নিউজিল্যান্ড থেকে একজন চিকিৎসক এদেশের গরীব মানুষের সেবা দেবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কতটা মানবদরদী না হলে সে তার নিজের দেশের উন্নত ব্যবস্থা বাদ দিয়ে, নিজের আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে অন্য দেশের গরীব মানুষের জন্য নিজেকে এভাবে উৎসর্গ করতে পারে? অথচ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পক্ষে কি এটা সম্ভব? এরা তো নিজের দেশের গরীব মানুষকে কিভাবে তিলে তিলে শেষ করতে পারে এই প্রতিযোগিতায় নেমেছে! কথা বলার সময়ই আমার মধ্যে ভিন্ন একধরনের চিন্তা শুরু হল......একটা পরিবারের পুরা ভরনপোষণের দায়িত্ব থাকে সেই পরিবারের পুরুষের উপর। গৃহকর্ত্রী বাইরে জব করলেও পরিবারের ভরনপোষণের জন্য বিন্দুমাত্র কোন মাথা-ব্যাথা তার উপর বর্তায় না, যতটা বর্তায় একজন পুরুষের উপর। চিন্তা ভাবনাটাকে আরো একটু এক্সটেন্ড করে দেখলাম যে, পরিবারের সেই পুরুষ যদি তার নিজের জীবন নিউজিল্যান্ডের সেই চিকিৎসকের মত মানবতার উদ্দেশ্যে স্যক্রিফাইস করে তাহলে তো মহা সর্বনাশ!! তাই পুরুষরা কেন মানবতাবাদী হয়ে সেই নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসকের মত হয়না একথাটা বাইর থেকে বলা যতটা সহজ বাস্তব জীবনে এটার প্র্যাক্টিক্যাল প্রয়োগ ততটাই কঠিন।
ভাবতে ভাল লাগে যে নারীরা আজ শিক্ষার অবাধ সুযোগ পেয়েছে।পরিবারেও নারীকেশিক্ষার ব্যাপারে প্রচুর সহযোগিতা করা হয়। ফলে সর্বত্র পুরুষের পাশাপাশি নারীর দৃড় পদচারনা আমাকে স্বপ্ন দেখায় একটি সুখি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু যে শিক্ষার সুযোগ পাবার জন্য নারীরা এত সংগ্রাম করল সেই শিক্ষার আলো পেয়ে কতজন নারী তাদের চিন্তা ভাবনার জগতকে আলোকিত করতে পেরেছেন? খুব দূরে যাবনা, আমার ফ্রেন্ড সার্কেলেই যারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল আলোচনা করেছিলাম। কারও ইচ্ছা প্রচুর টাকা ইনকাম করার, কারও শুধুই গাড়ি,বাড়ি,শপিং, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর, কারও ইচ্ছা সোস্যাল স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য বড় বড় ডিগ্রি নেবার, কারও ইচ্ছা শখের মেডিক্যাল শেষে একদম ঘরোয়া হয়ে যাবার। কেন জানি অসামঞ্জস্য লাগছিল তাদের এই ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাগুলো। নিজের প্রতি, নিজ পরিবার,সমাজ ও দেশের প্রতি নারী হিসাবে কি কোন দায়বদ্ধতা নেই? আবার সেই নারী তাহলে কিভাবে পুরুষের কাছ থেকে পারিবারিক ও সামাজিক সকল দায়িত্বের পূর্ণ প্রয়োগ প্রত্যাশা করে??
তাই একজন নারী হিসাবে সকল নারীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা জানিয়ে কিছু অনুরোধ করতে চাই...
অবিবাহিত নারীর প্রতিঃ
নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য আপ্রানচেষ্টা করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায় পারে সংকীর্ণ চিন্তার গন্ডি থেকে মুক্তি দিতে। নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি সচতন হোন। সমাজে আপনার ভূমিকা কি হবে এটা ক্যালকুলেইট করেন। নিছক উচ্চ শিক্ষা নারী মুক্তি আনবেনা বরং শিক্ষার সাথে নিজের চারপাশ, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। শুধু শপিং, পার্লার, ঘুরাঘুরি করে নয় বরং অবসর সময়ে নিজেকে ক্রিয়েটিভ ও প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। একটা ব্যাপার বিয়ের পর সংসার বা দাম্পত্য ঝামেলা, মনোমালিন্য এড়াতে আজকাল এফেয়ারের যে নতুন ট্রেডিশান শুরু হয়েছে এতে করে ঝামেলা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। একে অপরকে চেনার জন্য বিয়ের পূর্বে প্রেম এই থিওরিটা এখন চরম আকারে ধ্বসের সম্মুখিন হচ্ছে। কারণ সিটি কর্পোরেশানের এক জরীপের মতে বর্তমানে ভালবাসাজনিত বিয়ের ডিভোর্সের সংখ্যা আনুপাতিকহারে বেড়েই চলেছে। তাই বিয়ের আগে এফেয়ার জনিত কেইসে সময় না দিয়ে সর্বোপরি জীবনমুখী বাস্তব চিন্তা করুন। বিয়ের পূর্বে নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত ডকুমেন্টে আসুন। এতে করে পরে ঝামেলা হলেও সেটা সলিউশান করা খুব বেশি কষ্টের হবেনা আশা করি। আর যেটা অনিশ্চিত সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে নিশ্চিত যেটা আপনি করতে পারবেন সেটা নিয়ে রিসার্চ করেন। আপনি পারবেন ভবিষ্যত একটি পরিবারকে নেতৃত্ব দেবার, নিজের অবস্থানকে সুদৃড় করে সামাজিকভাবে নিজেকে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলতে।
বিবাহিত নারীর প্রতিঃ
খুব সাধারণ কিন্তু ভুল একটি ধারণা বর্তমান আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে আর সেটা হল একটা মেয়ে পড়াশুনা করবে অথচ বাইরে জব করবেনা তাই কি হয়!! এতে করে মনে করা হয় নারীর সমস্ত শিক্ষায় বৃথা, নারী নিজের প্রতি এব্যাপারে খুব হীনমন্যতায়ও ভুগে। অথচ একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব পরি্চালনায় অংশগহন করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ
নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে! আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারিরীক বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয় আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা। একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা
একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী টিকে আছে। তাই ঘরে বসে বাইরে জব না করার আক্ষেপ না করে বিশ্ব পরিচালনায় অংশ নেবার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক ঘরে বসে এই বিশ্বপরিচালনার কাজ পৃথিবীর হাজার শ্রেষ্ঠ কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। একজন পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল একজন নারী। তাই সাধ্যের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে নিজের স্বামীকে খারাপ পথে ইনকাম করতে বাধ্য করবেননা, অন্ধকার জগতে পা বাড়াতে দিবেননা। নিজেদের মধ্যে সামান্য ব্যাপারে দাম্পত্য কলহ না করে সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করুন। আপনাদের এই কলহ বাচ্চার মনে যে গভীর খারাপ ইফেক্ট ফেলবে সেটার ক্ষতি পূরণ সহজে হবেনা।
আর যেসব নারী বিবাহিত এবং বাইরে জব করছেন , কিংবা যারা নিছক ঘরনী হতে চাননা আবার বাইরেও জব করেননা তাদের প্রতি অনুরোধ আমি জানি সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনি অবস্থান করছেন। যেহেতু পারিবারিক ফাইন্যান্সিয়াল ব্যাপারের দায়ভার আপনার উপর নেই তাই আপনি খুব দারুন ভূমিকা রাখতে পারেন সোস্যাল ওয়ার্কে। যেহেতু আপনার দক্ষতা আছে নেতৃত্ব দেবার, সময় আছে নিজেকে অন্যরকমভাবে রিপ্রেজেন্ট করার তাই কেবল শখের জব নয় পাশাপাশি সামাজিক ও মানবতাবাদী কাজে সময় দিন। যে দায়িত্ব পুরুষের পক্ষে নেওয়া কিছুটা কষ্টকর সেই দায়িত্ব আপনি নিয়ে নেন। নারীদের জন্য উপকারি কোন কিছু করার পরিকল্পনা নেন। কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক ও মানবতাবাদি কাজে নিযুক্ত করুন ও সমাজে নারীর অবস্থান, প্রাপ্য অধিকার, স্বাধীনতার ক্ষেত্র এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত নারীর দুর্ভোগ নিয়ে গবেষনার কাজে নিযুক্ত থাকুন। বাইরে জব করা মানেই নিছক টাকা ইনকাম করা কিংবা কেবল চাকরির উদ্দেশ্যে চাকরি নয় বরং সমাজে নিজের উপস্থিতি প্রমান করা এইভাবে যে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নারীরাও এগিয়ে। এখনই সময় এসেছে নারীর সমান অধিকারের নামে যুক্তিহীন সংগ্রামে পুরুষের সাথে না ঝাপিয়ে নিজেদের ব্যাপারে সচেতন হোন, নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের ব্যাপারে সংগ্রামী হোন। পুরুষরা আপনাদের প্রতিযোগী নয়, আবার আপনারাও পুরুষদের প্রতিযোগী নন, তাই নারী-পুরুষ সমান এটা প্রমাণের উদ্দেশ্যে বাইরে জব করা নারীর জন্য বোকামী ছাড়া কিছুইনা। তাই একজন প্রফেশনাল নারীর প্রতি এই অনুরোধ আপনারা এই বোকামী ছেড়ে নিজের ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সাথে পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে খুব স্মার্টভাবে রিপ্রেজেন্ট করুন।
শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০১০
ইভটিজিংঃ নেপথ্যের আড়ালে ও আমাদের দায়বদ্ধতা।
অনেকদিন ধরে ভাবছি কিছু লিখব। কিন্তু চারপাশের পরিবেশ, সাম্প্রতিক ঘটনা সব মিলিয়ে চিন্তা-ভাবনা গুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা ও দুর্যোগের এমন এক চেইন রিএ্যকশানের মধ্যে পড়ে গেছি , যে, চিন্তা ভাবনার জট একটি খুলার পর দেখি আরেকটিতে জট লেগে গেছে। তারপরও কী-বোর্ড হাতে নিলাম। নিজের একদম ভিতরের স্বত্তার জোরেই কিছু লেখার সাহস খুজে পেলাম।
ফার্মগেট হতে রিক্সা করে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড বাসায় ফিরছিলাম। তখন সম্ভবত এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলছিল। যাইহোক পরীক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চারপাশে। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমাদের ঠিক সামনের রিক্সাতে দুইজন কলেজ ইউনিফর্ম পরা মেয়েকে একটি ছেলে খুব বাজে মন্তব্য করতেছে। ছেলেটি রিক্সার পাশে পাশে দৌড়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটা আরো বেশি নজরে আসল তখন দেখি ছেলেটি তার হাতে কোমল পানীয়ের একটি বোতল মেয়েগুলোর দিকে সজোরে ছুড়ে মারে। সাথে কিছু কথা “ তুমি আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছ। আমি তোমাকে ছাড়বোনা।এভাবে তুমি আমাকে রেখে ওই ছেলের সাথে প্রেম করলে আমি দেখে নিব...............”
ঘটনাটা ক্রমেই খুব মারাত্বক আকার ধারণ করছিল। ছেলেটা কে আমার খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। মনে হল ছেলেটাকে আমার কিছু বলা উচিৎ। কিন্তু পাশ থেকে আমার ফ্রেন্ড আমাকে খুব স্ট্রঙ্গলি বাঁধা দিল। এতক্ষন ধরে যে ছেলেটিকে আমার অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল তখন আমার চারপাশের মানুষকে আরো বেশি অস্বাভাবিক মনে হল। রাস্তা ভর্তি মানুষ, সবাই ঘটনাটা মনে হল খুব উপভোগ করছিল। কেউ ছিলনা ওখানে ছেলেটাকে বাঁধা দেবার। নিজের চোখের সামনে সংঘটিত ঘটনার সাক্ষী হয়ে মন খুব খারাপ করে বাসায় ফিরলাম। বাসায় পত্রিকা খুলতেই দেখি, ইভটিজিং খুব মারাত্বক আকার ধারণ করেছে...
রেগুলার বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম পড়ে বুঝার চেষ্টা করলাম আসলে ইভটিজিংকে কে কিভাবে ব্যাখ্যা করছে। কে বা কারা দায়ী এটা বিশ্লেষণ করার আগে কি জন্য এরকম হচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তিত হলাম।
ছেলে এবং মেয়ের প্রতি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আকর্ষন আছে। সুতরাং কোন সুন্দর ড্রেস আপ, গেট আপের কোন মেয়ে দেখলে যেকোন ছেলে আকর্ষিত হবে সেটাই স্বাভাবিক। মেয়েদের প্রতি ছেলেদের এই আকর্ষনের প্রকাশ ভঙ্গি যখন কোন মেয়েকে সামাজিকভাবে হেয় করে, বিব্রত করে সেটাই ইভটিজিং এর পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছে। খুব সহজভাবে পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় যে ইভটিজিং এর জন্য ছেলে
এবং মেয়ে উভয়ই দায়ী। কোন মেয়ে যদি বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষিত করার জন্য অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের হয় সেক্ষেত্রে ছেলেরাতো ইভটিজিং করবেই। আর ছেলেদের যদি এই নৈতিক ও মানবিকবোধ না থাকে যে যাকে সে টিজ করছে সে হতে পারত তারই বোন। আল্টিমেইটলি যা হছে মেডিকেলের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় ইভটিজিং এর সাফারার হচ্ছে মেয়েরা আর ক্যারিয়ার হল ছেলেরা।
কে বা কারা দায়ী এই প্রশ্নে আসলে আমি যেটা খুব স্ট্রঙ্গলি ফিল করি সেটা হল আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও আমাদের রাষ্ট্র। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা যখন নারীদের সমান অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম তখন আমরা কি একবারও ভেবেছিলাম যে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম লাগবে যেটা নিশ্চিত করবে নারীর নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের সুন্দরতম সমন্বয়। যে নারীরা শিক্ষা ও বাইরে চাকরি থেকে বঞ্চিত ছিল তারাই পেল শিক্ষার অধিকার, ঘরের বাইরে পুরুষের সহকর্মী হিসাবে চাকরি করার অধিকার। নারীরা যখন অশিক্ষিত ছিল তখন তারা অত্যাচারিত ও লাঞ্ছিত হত ঘরের ভিতরে আর যখন নারী শিক্ষিত হয়ে বাইরের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেল তখন তারা লাঞ্চিত ও অপমানিত হল সর্বত্র। যেখানেই নারীরা সদর্পে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমে এল ঠিক তখনি নারীর সমঅধিকার আদায়ের কর্ণধার পুরুষরা তাদের বিভিন্নক্ষেত্রে লাঞ্চিত করল। তাই শুরুতেই ছিল একটি বিরাট ভুল। যতক্ষন পর্যন্ত এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রসেস বন্ধ রাখাই ভাল। নারীরা নিজেদের অবস্থান নিজেরা বুঝতে পারেনি। শুধুই কি তাই? আজকাল রাস্তার বিলবোর্ড বা টিভি খুললেই দেখি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারীরাও খুব স্বতঃস্ফুর্তভাবে নিজেদের পণ্য হিসাবে প্রচার করে। কর্পোরেট মিডিয়া এই নারী পণ্যকে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন নতুন আইডিয়া জেনারেট করছে। সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানের নামে নারী সৌন্দর্যের নামে যে নগ্ন প্রচারণা চলছে তা দেখে এই প্রজন্ম কি শিখবে? নারীরা কেবল ভোগ্যবস্তু ব্যতীত কিছুইনা!! ফলে রাস্তা ঘাটে মেয়েদের প্রতিটি ছেলে ভোগ্যপণ্য হিসাবে দেখছে এবং ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে নারীরা। এর জন্য দায়ী কারা পাঠক বিবেচনা করুন।
আর আমদের রাষ্ট্রের ভূমিকা আর কি বা বলব! আইনের শাসন যদি কড়া না হয় এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিটি ছেলের নৈতিক শিক্ষা ও মেয়েদের ধর্মীয় অনুশাসনে গড়ে তোলা না হয় তাহলে ইভটিজিং এর করাল গ্রাস কখনই বন্ধ হবেনা। ভেবেছিলাম যে ইভটিসিং এর জন্য এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারের অবস্থান হবে খুব দৃঢ়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যা হল তা দেখে মনে হল লোকদেখানো দৃঢ়তা প্রদর্শনীর ছলনা মাত্র!
তাই ভাবতে ভয় লাগে, চিন্তা করতে শিহরিত হই , আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও আমাদের রাষ্ট্র যদি এখনও এব্যাপারে সচেতন পদক্ষেপ না নেই হয়তবা আরো হাজার হাজার মেয়েকে ইভটিজিং এর স্বীকার হতে হবে। জীবন ও সমাজের প্রতি ঘৃণা থেকে হয়ত অনেক নারীকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আত্বহননের পথ বেছে নিতে হবে।
স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন নিরবে নিভৃতে কাঁদে। কিন্তু বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সরকার দেশ শাসন করে পাঁচ বছর আর দেশের সুশীল সমাজ,সাংবাদিক,লেখক বা যাদের বিবেক বলে কিছু আছে তারা সত্য প্রকাশ করে, নিজেদের জান-মালের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, দেশ শাসন করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু লিখে নিজেকে দায়মুক্ত করার এক কৃত্তিম প্রচেষ্টা চালালাম।
ফার্মগেট হতে রিক্সা করে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড বাসায় ফিরছিলাম। তখন সম্ভবত এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলছিল। যাইহোক পরীক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চারপাশে। হঠাৎ খেয়াল করলাম আমাদের ঠিক সামনের রিক্সাতে দুইজন কলেজ ইউনিফর্ম পরা মেয়েকে একটি ছেলে খুব বাজে মন্তব্য করতেছে। ছেলেটি রিক্সার পাশে পাশে দৌড়ে যাচ্ছিল। ঘটনাটা আরো বেশি নজরে আসল তখন দেখি ছেলেটি তার হাতে কোমল পানীয়ের একটি বোতল মেয়েগুলোর দিকে সজোরে ছুড়ে মারে। সাথে কিছু কথা “ তুমি আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছ। আমি তোমাকে ছাড়বোনা।এভাবে তুমি আমাকে রেখে ওই ছেলের সাথে প্রেম করলে আমি দেখে নিব...............”
ঘটনাটা ক্রমেই খুব মারাত্বক আকার ধারণ করছিল। ছেলেটা কে আমার খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। মনে হল ছেলেটাকে আমার কিছু বলা উচিৎ। কিন্তু পাশ থেকে আমার ফ্রেন্ড আমাকে খুব স্ট্রঙ্গলি বাঁধা দিল। এতক্ষন ধরে যে ছেলেটিকে আমার অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল তখন আমার চারপাশের মানুষকে আরো বেশি অস্বাভাবিক মনে হল। রাস্তা ভর্তি মানুষ, সবাই ঘটনাটা মনে হল খুব উপভোগ করছিল। কেউ ছিলনা ওখানে ছেলেটাকে বাঁধা দেবার। নিজের চোখের সামনে সংঘটিত ঘটনার সাক্ষী হয়ে মন খুব খারাপ করে বাসায় ফিরলাম। বাসায় পত্রিকা খুলতেই দেখি, ইভটিজিং খুব মারাত্বক আকার ধারণ করেছে...
রেগুলার বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম পড়ে বুঝার চেষ্টা করলাম আসলে ইভটিজিংকে কে কিভাবে ব্যাখ্যা করছে। কে বা কারা দায়ী এটা বিশ্লেষণ করার আগে কি জন্য এরকম হচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তিত হলাম।
ছেলে এবং মেয়ের প্রতি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আকর্ষন আছে। সুতরাং কোন সুন্দর ড্রেস আপ, গেট আপের কোন মেয়ে দেখলে যেকোন ছেলে আকর্ষিত হবে সেটাই স্বাভাবিক। মেয়েদের প্রতি ছেলেদের এই আকর্ষনের প্রকাশ ভঙ্গি যখন কোন মেয়েকে সামাজিকভাবে হেয় করে, বিব্রত করে সেটাই ইভটিজিং এর পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছে। খুব সহজভাবে পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় যে ইভটিজিং এর জন্য ছেলে
এবং মেয়ে উভয়ই দায়ী। কোন মেয়ে যদি বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষিত করার জন্য অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের হয় সেক্ষেত্রে ছেলেরাতো ইভটিজিং করবেই। আর ছেলেদের যদি এই নৈতিক ও মানবিকবোধ না থাকে যে যাকে সে টিজ করছে সে হতে পারত তারই বোন। আল্টিমেইটলি যা হছে মেডিকেলের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় ইভটিজিং এর সাফারার হচ্ছে মেয়েরা আর ক্যারিয়ার হল ছেলেরা।
কে বা কারা দায়ী এই প্রশ্নে আসলে আমি যেটা খুব স্ট্রঙ্গলি ফিল করি সেটা হল আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও আমাদের রাষ্ট্র। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা যখন নারীদের সমান অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম তখন আমরা কি একবারও ভেবেছিলাম যে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম লাগবে যেটা নিশ্চিত করবে নারীর নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের সুন্দরতম সমন্বয়। যে নারীরা শিক্ষা ও বাইরে চাকরি থেকে বঞ্চিত ছিল তারাই পেল শিক্ষার অধিকার, ঘরের বাইরে পুরুষের সহকর্মী হিসাবে চাকরি করার অধিকার। নারীরা যখন অশিক্ষিত ছিল তখন তারা অত্যাচারিত ও লাঞ্ছিত হত ঘরের ভিতরে আর যখন নারী শিক্ষিত হয়ে বাইরের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেল তখন তারা লাঞ্চিত ও অপমানিত হল সর্বত্র। যেখানেই নারীরা সদর্পে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নেমে এল ঠিক তখনি নারীর সমঅধিকার আদায়ের কর্ণধার পুরুষরা তাদের বিভিন্নক্ষেত্রে লাঞ্চিত করল। তাই শুরুতেই ছিল একটি বিরাট ভুল। যতক্ষন পর্যন্ত এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারবে ততদিন পর্যন্ত নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রসেস বন্ধ রাখাই ভাল। নারীরা নিজেদের অবস্থান নিজেরা বুঝতে পারেনি। শুধুই কি তাই? আজকাল রাস্তার বিলবোর্ড বা টিভি খুললেই দেখি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নারীরাও খুব স্বতঃস্ফুর্তভাবে নিজেদের পণ্য হিসাবে প্রচার করে। কর্পোরেট মিডিয়া এই নারী পণ্যকে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন নতুন আইডিয়া জেনারেট করছে। সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানের নামে নারী সৌন্দর্যের নামে যে নগ্ন প্রচারণা চলছে তা দেখে এই প্রজন্ম কি শিখবে? নারীরা কেবল ভোগ্যবস্তু ব্যতীত কিছুইনা!! ফলে রাস্তা ঘাটে মেয়েদের প্রতিটি ছেলে ভোগ্যপণ্য হিসাবে দেখছে এবং ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে নারীরা। এর জন্য দায়ী কারা পাঠক বিবেচনা করুন।
আর আমদের রাষ্ট্রের ভূমিকা আর কি বা বলব! আইনের শাসন যদি কড়া না হয় এবং পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিটি ছেলের নৈতিক শিক্ষা ও মেয়েদের ধর্মীয় অনুশাসনে গড়ে তোলা না হয় তাহলে ইভটিজিং এর করাল গ্রাস কখনই বন্ধ হবেনা। ভেবেছিলাম যে ইভটিসিং এর জন্য এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারের অবস্থান হবে খুব দৃঢ়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যা হল তা দেখে মনে হল লোকদেখানো দৃঢ়তা প্রদর্শনীর ছলনা মাত্র!
তাই ভাবতে ভয় লাগে, চিন্তা করতে শিহরিত হই , আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও আমাদের রাষ্ট্র যদি এখনও এব্যাপারে সচেতন পদক্ষেপ না নেই হয়তবা আরো হাজার হাজার মেয়েকে ইভটিজিং এর স্বীকার হতে হবে। জীবন ও সমাজের প্রতি ঘৃণা থেকে হয়ত অনেক নারীকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আত্বহননের পথ বেছে নিতে হবে।
স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন নিরবে নিভৃতে কাঁদে। কিন্তু বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সরকার দেশ শাসন করে পাঁচ বছর আর দেশের সুশীল সমাজ,সাংবাদিক,লেখক বা যাদের বিবেক বলে কিছু আছে তারা সত্য প্রকাশ করে, নিজেদের জান-মালের নিরাপত্তার কথা না ভেবে, দেশ শাসন করে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু লিখে নিজেকে দায়মুক্ত করার এক কৃত্তিম প্রচেষ্টা চালালাম।
শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০১০
লাভগুরু আপনাকেই বলছি...
আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যদি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে অন্য কোন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভালবাসে এবং সেক্ষেত্রে যদি দুই পরিবার এই বিয়েতে রাজি না থাকে তাহলে তারা কি করতে পারে? কেন জানিনা আমাকে এই ধরনের পরিস্থিতি বেশি ফেইস করতে হয়। বিশেষ করে এই ধরনের ভালবাসার কেস বেশি হ্যান্ডেল করতে হয়। তবে ফলাফল আল্টিমেইটলি জিরো। কেননা ভালবাসার রঙ এর মধ্যে কোন এক অদৃশ্য প্রবল আকররষণী শক্তি থাকে যেটার সামনে সব যুক্তি একেবারে ভ্যানিশ হয়ে যায়। ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবির একজনের সাথে এফেয়ার ছিল। সূত্র মোবাইল ফোন। একেবারেই অজানা, অচেনা,অদেখা। ইমেইলও চালাচালি হত। ঘটনা আমি জানতাম। শুরু থেকেই শুধু তাকে একটা কথা বলেছিলাম যে এভাবে মোবাইলে এফেয়ার পুরাই অযৌক্তিক। তাছাড়া আমার আর বলার কিছু ছিলনা। প্রায় ৬/৭ মাস পর সেই মোবাইল প্রেম ভেঙ্গে যায়। কারণ ছিল খুব ইন্টারেস্টিং। মুঠোফোনের ছেলেটি তার একটা ছবি পাঠায় ডাকযোগে। সেই ছবি দেখে আমার বান্ধবির স্বপ্ন একেবারে চুরমার হয়ে যায়। তারপর মোবাইল প্রেম সেদিনই শেষ। মোবাইল প্রেম শেষে আরো কিছু এফেয়ার ঘটিত ঘটনায় সে আবার জড়িয়ে যায়। সেটা এতটাই সিরিয়াস পর্যায়ের ছিল যে কলেজ ক্যাম্পাসে সেটা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর অঘটন...সন্ত্রাসী দ্বারা বিপক্ষের কোন গ্রুপ আহত হল। সব কিছুর সাথে কিভাবে যেন সে জড়িয়ে পড়ল। প্রিন্সিপাল পর্যন্ত ঘটনা গেলে আমার বান্ধবির টিসির সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা সে পেয়ে গেল। এই নিয়ে অবশ্য আমাকে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে বেশ। উপর মহলের সাথে যোগাযোগ করে তাকে টিসি থেকে নিস্তার দেয়া হল। অবশ্য ক্রেডিট ছিল ওরই বেশি। কারণ প্রচন্ড মেধাবী ছিল সে, কলেজের কিছু একাডেমিক পরীক্ষায় তার সাফল্যের কাছে কেউ দাড়াতে পারেনি। মোটামুটি মেধার জোরেই তার জন্য সুপারিশ করা সহজ হয়েছিল। কেন জানিনা ভালবাসার অবমনানা আমাকে যেভাবে পীড়া দেয় তা অন্য ক্ষেত্রে খুব কম দেয়।
বন্ধুত্বের দাবি থেকে ভালবাসার সর্বনাশা স্থান থেকে কাউকে যখন দূরে সরাতে ক্রমাগত চোখের পানি দিয়ে হলেও তার জন্য চেষ্টা করে যাই ঠিক তখনই যদি জানতে পারি যে তার কোন ভাই কিংবা বোন পরিবার থেকে মা-বাবার অলক্ষ্যে তাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে তখন নিজেকে খুব ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। পরিবারেই যেখানে আদর্শগত শিক্ষা দিয়ে কেউ বেড়ে উঠেনা সেখানে ভাই/বোন তো সাহায্য করবেই!!! বাবা-মা আক্ষেপ করে আর কতটুকুই বা শেষ রক্ষা করতে পারবে......
টিভি দেখা হয়না অনেক অনেক বছর। মাঝে মাঝে দুই একটা অনুষ্ঠান হয়ত পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখি, সেটাই আমাকে বিনোদন জগতের আপডেইট রাখে। ছোট ছোট কোমলমতি বাচ্চাদের নিয়ে আজকাল যে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করা হয় সেগুলো দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। বাচ্চাদের মধ্যে এখন থেকেই মিডিয়াতে আসার যে প্রবনতা, নিজেদের টিভি পর্দায় আনার লোভ, স্টার হবার যে ইচ্ছা জাগিয়ে তোলা হচ্ছে সেটা কতটা যৌক্তিক আমি বুঝিনা। সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম বাচ্চারা যেসব গান বা নাচের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে সেখানে যে যত বেশি ম্যচিউর রোমান্টিক ভাব তুলে ধরতে পার বিচারক তাতেই বেশি খুশি হয়। এত অল্প বয়সে যাদের ভালবাসার রূপ বুঝানোর জন্য ইন্সপায়ার করা হচ্ছে তারা ইন ফিউচার কি রিপ্রেসেন্ট করবে সেটা আর ভাবতে ইচ্ছা করেনা।
মনোবিদ্যার অধ্যাপক মেহতাব খানমের আর্টিকেল আমার সবসময় খুব ফেবারিট। সেদিন প্রথম আলোতে উনি একটি ফিচারে বাচ্চাদের নিয়ে করা কিছু বিজ্ঞাপনের চরম সমালোচনা করে দারুন কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। আজকাল ফ্ল্যাট বাড়ি,গাড়ি,এসি র বিজ্ঞাপনে একটা বাচ্চা যখন বলে “কক্সবাজারে সমুদ্রের পাশে আমাদের কি একটি বাড়ি বা ডট ডট ইত্যাদি হবেনা?” লেখিকা ফোকাস করেছেন যে একটা বাচ্চা সমুদ্রের পাশে বাড়ি থাকার মর্ম কি বুঝে? এতে করে কি আমরা তাদের স্বাভাবিক শিশুকাল কে ব্যহত করে কিছু মানবিক দূর্বলতম বৈশিষ্ট্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছিনা? তাদের লোভকে আমরা জাগিয়ে দিচ্ছিনা? রোমান্সের ব্যাপারটা অস্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে গ্রো করার জন্য কি আমরা দায়ী না? তিনি এসব বিজ্ঞাপনের চরম নিন্দা জানিয়ে বাচ্চাদের মাধ্যমে কর্পোরেট বাণিজ্যকে বিজনেস না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
যাইহোক ভালবাসার কথার মধ্য ছিলাম। যে দেশে বাচ্চাদের নিয়েও বিজনেস হয় সেখানে বড় হয়ে তারা আর কতটুকুই বা দিতে পারে বা আমরাই বা কতটুকু আশা করতে পারি? রেডিও আমারে আমার ভালবাসা নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ভাল। এতে করে সাধারণ যারা এপর্যন্ত ভালবাসা নিয়ে যেসব ভুল করে এসেছে রেডিও আমারের দর্শকরা যেন এই ভুল না করে সেই জন্য এই অনুষ্ঠান। কিন্তু আমার সন্দেহ এতে করে উদ্দেশ্যে কতটুকু পরিপূর্ণতা পাচ্ছে? যাই হোক আমার কাজিন এই অনুষ্ঠান রেগুলার শুনে থাকে, সেই সুবাদে আমারও মাঝে মাঝে শোনা হয়। রিসেন্টলি সেখানে ভালবাসার যে ঘটনা শুনলাম সেটা শুনে আমি পুরাই তাজ্জব। ক্লাস এইটের একটা মেয়ে ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করে। জাস্ট এটুকু শুনেই বাকিটুকু শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। লাভগুরুর কথা শোনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। যে প্রশ্ন দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম ঠিক সেই প্রশ্নই এবার লাভগুরুকে করে সেই মেয়েটি। খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। লাভগুরু প্রথমে একটু এভয়েড করে এন্সার দিলেন পরে সেটা আবার শুধরে দিয়ে উলটা মেয়েটিকে প্রশ্ন করলেন “ তুমি কি পারবা বাবা/মা কে রেখে শুধু তোমার ভালবাসার জন্য বাবা-মাকে ত্যাগ করতে?” মেয়েটি সুন্দর জবাব দিল নেগেটিভ। অথচ এই নেগেইভ জবাবটাই কেন যেন ভালবাসার আবেগের রসাতলে একদম ভেসে চলে যায়। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই লাভগুরুকে তার প্রশ্নের জন্য। এখন আমার লাভগুরুর প্রতি একটাই অনুরোধ যে-
“ আপনার প্রোগ্রামে যারা ভালবাসা নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় তারাই আপনার কাছে সেই কাহিনি শুনাতে আসে। এরকম কি কোন প্রোগ্রাম করতে পারবেন যেখানে যেসব তরুন সমাজ বর্তমান ভালবাসা নিয়ে সঙ্কটে আছে, ক্রাইসিসের মধ্যে আছে তারা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার প্রোগ্রামে আসবে? যদি করতে পারেন আমার বিশ্বাস হাজার হাজার তরুণ-তরুণি আপনার প্রোগ্রামে আসবে সমস্যার সমাধানের জন্য। এতে করে হয়ত অনেককেই আপনি পারবেন জীবনের স্বাভাবিক গতিপথে ফিরিয়ে আনতে। হয়ত পারবেন জীবন আধারের করাল গ্রাসে প্রায় ডুবন্ত কোন তরুন-তরুণীকে বেঁচে থাকার কোন উপকরণ বের করে দিতে। কারন রেডিও আমারে ভালবাসার কাহিনি শুনে নিজের ভালবাসার সময় কেউ তাদের ভুল প্র্যাকটিক্যালি দেখতে পায়না। যদি পারেন তাহলে প্লিজ আমার এই অনুরোধটা রাখবেন। আশা করি এতে করে তরুণ সমাজ সুন্দর সমাধানের একটা মিডিয়া সোর্স পাবে।"
বন্ধুত্বের দাবি থেকে ভালবাসার সর্বনাশা স্থান থেকে কাউকে যখন দূরে সরাতে ক্রমাগত চোখের পানি দিয়ে হলেও তার জন্য চেষ্টা করে যাই ঠিক তখনই যদি জানতে পারি যে তার কোন ভাই কিংবা বোন পরিবার থেকে মা-বাবার অলক্ষ্যে তাকে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে তখন নিজেকে খুব ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। পরিবারেই যেখানে আদর্শগত শিক্ষা দিয়ে কেউ বেড়ে উঠেনা সেখানে ভাই/বোন তো সাহায্য করবেই!!! বাবা-মা আক্ষেপ করে আর কতটুকুই বা শেষ রক্ষা করতে পারবে......
টিভি দেখা হয়না অনেক অনেক বছর। মাঝে মাঝে দুই একটা অনুষ্ঠান হয়ত পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেখি, সেটাই আমাকে বিনোদন জগতের আপডেইট রাখে। ছোট ছোট কোমলমতি বাচ্চাদের নিয়ে আজকাল যে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করা হয় সেগুলো দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। বাচ্চাদের মধ্যে এখন থেকেই মিডিয়াতে আসার যে প্রবনতা, নিজেদের টিভি পর্দায় আনার লোভ, স্টার হবার যে ইচ্ছা জাগিয়ে তোলা হচ্ছে সেটা কতটা যৌক্তিক আমি বুঝিনা। সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম বাচ্চারা যেসব গান বা নাচের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে সেখানে যে যত বেশি ম্যচিউর রোমান্টিক ভাব তুলে ধরতে পার বিচারক তাতেই বেশি খুশি হয়। এত অল্প বয়সে যাদের ভালবাসার রূপ বুঝানোর জন্য ইন্সপায়ার করা হচ্ছে তারা ইন ফিউচার কি রিপ্রেসেন্ট করবে সেটা আর ভাবতে ইচ্ছা করেনা।
মনোবিদ্যার অধ্যাপক মেহতাব খানমের আর্টিকেল আমার সবসময় খুব ফেবারিট। সেদিন প্রথম আলোতে উনি একটি ফিচারে বাচ্চাদের নিয়ে করা কিছু বিজ্ঞাপনের চরম সমালোচনা করে দারুন কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। আজকাল ফ্ল্যাট বাড়ি,গাড়ি,এসি র বিজ্ঞাপনে একটা বাচ্চা যখন বলে “কক্সবাজারে সমুদ্রের পাশে আমাদের কি একটি বাড়ি বা ডট ডট ইত্যাদি হবেনা?” লেখিকা ফোকাস করেছেন যে একটা বাচ্চা সমুদ্রের পাশে বাড়ি থাকার মর্ম কি বুঝে? এতে করে কি আমরা তাদের স্বাভাবিক শিশুকাল কে ব্যহত করে কিছু মানবিক দূর্বলতম বৈশিষ্ট্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছিনা? তাদের লোভকে আমরা জাগিয়ে দিচ্ছিনা? রোমান্সের ব্যাপারটা অস্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে গ্রো করার জন্য কি আমরা দায়ী না? তিনি এসব বিজ্ঞাপনের চরম নিন্দা জানিয়ে বাচ্চাদের মাধ্যমে কর্পোরেট বাণিজ্যকে বিজনেস না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।
যাইহোক ভালবাসার কথার মধ্য ছিলাম। যে দেশে বাচ্চাদের নিয়েও বিজনেস হয় সেখানে বড় হয়ে তারা আর কতটুকুই বা দিতে পারে বা আমরাই বা কতটুকু আশা করতে পারি? রেডিও আমারে আমার ভালবাসা নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ভাল। এতে করে সাধারণ যারা এপর্যন্ত ভালবাসা নিয়ে যেসব ভুল করে এসেছে রেডিও আমারের দর্শকরা যেন এই ভুল না করে সেই জন্য এই অনুষ্ঠান। কিন্তু আমার সন্দেহ এতে করে উদ্দেশ্যে কতটুকু পরিপূর্ণতা পাচ্ছে? যাই হোক আমার কাজিন এই অনুষ্ঠান রেগুলার শুনে থাকে, সেই সুবাদে আমারও মাঝে মাঝে শোনা হয়। রিসেন্টলি সেখানে ভালবাসার যে ঘটনা শুনলাম সেটা শুনে আমি পুরাই তাজ্জব। ক্লাস এইটের একটা মেয়ে ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করে। জাস্ট এটুকু শুনেই বাকিটুকু শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। লাভগুরুর কথা শোনার জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। যে প্রশ্ন দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম ঠিক সেই প্রশ্নই এবার লাভগুরুকে করে সেই মেয়েটি। খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। লাভগুরু প্রথমে একটু এভয়েড করে এন্সার দিলেন পরে সেটা আবার শুধরে দিয়ে উলটা মেয়েটিকে প্রশ্ন করলেন “ তুমি কি পারবা বাবা/মা কে রেখে শুধু তোমার ভালবাসার জন্য বাবা-মাকে ত্যাগ করতে?” মেয়েটি সুন্দর জবাব দিল নেগেটিভ। অথচ এই নেগেইভ জবাবটাই কেন যেন ভালবাসার আবেগের রসাতলে একদম ভেসে চলে যায়। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই লাভগুরুকে তার প্রশ্নের জন্য। এখন আমার লাভগুরুর প্রতি একটাই অনুরোধ যে-
“ আপনার প্রোগ্রামে যারা ভালবাসা নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় তারাই আপনার কাছে সেই কাহিনি শুনাতে আসে। এরকম কি কোন প্রোগ্রাম করতে পারবেন যেখানে যেসব তরুন সমাজ বর্তমান ভালবাসা নিয়ে সঙ্কটে আছে, ক্রাইসিসের মধ্যে আছে তারা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার প্রোগ্রামে আসবে? যদি করতে পারেন আমার বিশ্বাস হাজার হাজার তরুণ-তরুণি আপনার প্রোগ্রামে আসবে সমস্যার সমাধানের জন্য। এতে করে হয়ত অনেককেই আপনি পারবেন জীবনের স্বাভাবিক গতিপথে ফিরিয়ে আনতে। হয়ত পারবেন জীবন আধারের করাল গ্রাসে প্রায় ডুবন্ত কোন তরুন-তরুণীকে বেঁচে থাকার কোন উপকরণ বের করে দিতে। কারন রেডিও আমারে ভালবাসার কাহিনি শুনে নিজের ভালবাসার সময় কেউ তাদের ভুল প্র্যাকটিক্যালি দেখতে পায়না। যদি পারেন তাহলে প্লিজ আমার এই অনুরোধটা রাখবেন। আশা করি এতে করে তরুণ সমাজ সুন্দর সমাধানের একটা মিডিয়া সোর্স পাবে।"
বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০১০
আত্বকথন...
দুঃখবোধ পুরা মন জুড়ে ব্যপ্ত থাকে। মনের কষ্ট যে এত উপকারী সেটা আগে বুঝিনি। খুব কাছের কেউ কষ্ট দিলে সেটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। এতদিন পরে বুঝতে পারলাম যে উদার হওয়া এত্ত সহজ না। অথচ নিজেকে একসময় খুব উদার মনে হত। কিন্তু উদার হবার সুযোগ যখন এল তখনই বুঝলাম উদারতা প্রদর্শনের জন্য মানসিক শক্তি কত প্রকট হতে হয়। মনটা যদিও খুব খারাপ লাগছে, তারপরও ভাল লাগছে । চরম কঠিন সত্য নিজের কাছে প্রকাশিত হল। মানুষ সর্ব প্রথম পরাজিত হয় নিজ সত্তার কাছে। আমিও হলাম। কিন্তু এই পরাজয় আমাকে যে শিক্ষা দিল তা হাজার বিজয়ের চেয়েও অনেক বেশি।
ক্ষমা অনেক বড় গুন। মাঝেই মাঝেই চিন্তা করি কত শত শত অন্যায় করছি, অথচ এর জন্য আল্লাহ সাথে সাথে আমাকে শাস্তি দিচ্ছেননা। বরং অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চাইলে আমাদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নবী রাসূল (সাঃ) এর জীবনী যখন পড়ি তখন মনে হয় কি অসীম মানবতাবাদী ছিলেন তিনি। নির্দ্বিধায় চরম শত্রুদের ক্ষমা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এখানেই সম্ভবত একজন মহামানব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তফাৎ। ইচ্ছা করলে আমিও পারি ক্ষমা করে দিতে যে ভুল করেছে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা! আমি সেটা করতে পারছিনা। নিজের ভিতর অন্য আরেকটি সত্তার উপস্থিতি অনুভব করছি খুব দৃড়ভাবে। প্রতিনিয়ত দুইটি সত্তার মধ্যে ক্রমাগত বিতর্ক চলছে। কিন্তু আবেগী সত্তার কাছে যুক্তিবাদি সত্তা কোন পাত্তাই পাচ্ছেনা।
অন্যের ভুল, অন্যের সমস্যা আমার কাছে কখনও প্রাধাণ্য পায়নি। কিন্তু এবার পাচ্ছে। বুঝতে পারলাম মানুষ কেন এত কষ্ট পায়। অন্যের প্রতি প্রত্যাশা থাকে বেশি। নিজে কি করলাম সেটা কোন ব্যাপার না, কিন্তু অন্যে কি করল সেটাই মূখ্য ব্যাপার। মানুষের কষ্টের কারণ খুব গভীরভাবে অনুভব করলাম। অথচ এই দিকটা আমি কখনও এত গভীরভাবে ভাবিনি। আমি খুব সহজেই অন্যের দোষ ইগ্নোর করতে পারি। কিন্তু কেন জানি অনেক চেষ্টা করেও আমি ইগ্নোর করতে পারছিনা।
অনেক কষ্টে শেষ পর্যন্ত নিজেকে একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে আনতে পেরেছি। এখন নিউট্রাল হয়ে গেছে মনের বেদনাঘন পরিবেশ। খুব কাছের কাউকে আউটসাইডার মনে হচ্ছে। আর আউটসাইডারের কোন কিছু আমাকে এফেক্ট করেনা। এখন তার অন্যায় আচরন খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছি। কষ্টের ব্যাপার যে একজন কাছের মানুষ কত সহজে আউটসাইডার হয়ে গেল!! এটা কি স্বাভাবিক? অথচ সেই মানুষটা কখনও বুঝতেও পারবেনা যে আমি তার থেকে দূরে সরে গেলাম। আমার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েই তাকে নিরাপদ স্থানে রেখে গেলাম। হয়ত সে বুঝতে পারবে, কিংবা পারবেনা।
মানব মনের রসায়ন আসলেই রহস্যময়। দুঃখ, কষ্ট না পেলে সেই রসায়নের ক্রিয়া-বিক্রিয়া বুঝা যায়না। তাই স্যালুট জানাই দুঃখ ও কষ্ট...............
৯/৩/২০১০
ক্ষমা অনেক বড় গুন। মাঝেই মাঝেই চিন্তা করি কত শত শত অন্যায় করছি, অথচ এর জন্য আল্লাহ সাথে সাথে আমাকে শাস্তি দিচ্ছেননা। বরং অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা চাইলে আমাদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নবী রাসূল (সাঃ) এর জীবনী যখন পড়ি তখন মনে হয় কি অসীম মানবতাবাদী ছিলেন তিনি। নির্দ্বিধায় চরম শত্রুদের ক্ষমা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এখানেই সম্ভবত একজন মহামানব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তফাৎ। ইচ্ছা করলে আমিও পারি ক্ষমা করে দিতে যে ভুল করেছে। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা! আমি সেটা করতে পারছিনা। নিজের ভিতর অন্য আরেকটি সত্তার উপস্থিতি অনুভব করছি খুব দৃড়ভাবে। প্রতিনিয়ত দুইটি সত্তার মধ্যে ক্রমাগত বিতর্ক চলছে। কিন্তু আবেগী সত্তার কাছে যুক্তিবাদি সত্তা কোন পাত্তাই পাচ্ছেনা।
অন্যের ভুল, অন্যের সমস্যা আমার কাছে কখনও প্রাধাণ্য পায়নি। কিন্তু এবার পাচ্ছে। বুঝতে পারলাম মানুষ কেন এত কষ্ট পায়। অন্যের প্রতি প্রত্যাশা থাকে বেশি। নিজে কি করলাম সেটা কোন ব্যাপার না, কিন্তু অন্যে কি করল সেটাই মূখ্য ব্যাপার। মানুষের কষ্টের কারণ খুব গভীরভাবে অনুভব করলাম। অথচ এই দিকটা আমি কখনও এত গভীরভাবে ভাবিনি। আমি খুব সহজেই অন্যের দোষ ইগ্নোর করতে পারি। কিন্তু কেন জানি অনেক চেষ্টা করেও আমি ইগ্নোর করতে পারছিনা।
অনেক কষ্টে শেষ পর্যন্ত নিজেকে একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে আনতে পেরেছি। এখন নিউট্রাল হয়ে গেছে মনের বেদনাঘন পরিবেশ। খুব কাছের কাউকে আউটসাইডার মনে হচ্ছে। আর আউটসাইডারের কোন কিছু আমাকে এফেক্ট করেনা। এখন তার অন্যায় আচরন খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছি। কষ্টের ব্যাপার যে একজন কাছের মানুষ কত সহজে আউটসাইডার হয়ে গেল!! এটা কি স্বাভাবিক? অথচ সেই মানুষটা কখনও বুঝতেও পারবেনা যে আমি তার থেকে দূরে সরে গেলাম। আমার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েই তাকে নিরাপদ স্থানে রেখে গেলাম। হয়ত সে বুঝতে পারবে, কিংবা পারবেনা।
মানব মনের রসায়ন আসলেই রহস্যময়। দুঃখ, কষ্ট না পেলে সেই রসায়নের ক্রিয়া-বিক্রিয়া বুঝা যায়না। তাই স্যালুট জানাই দুঃখ ও কষ্ট...............
৯/৩/২০১০
মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১০
স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…
স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…
স্টার কাবাবে প্রায় ৯/১০ জনের মত বসে খাচ্ছিলাম। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হঠাৎ বাইরে লাঠি হাতে জীর্ন-শীর্ণ এক বৃদ্ধ ফকিরকে দেখা গেল। দেখা মাত্রই তিঁনি উঠে গেলেন। নিজ হাতে তাকে পিৎজা খাওয়ালেন, কোক দিলেন। সবচেয়ে নতুন ৫০টাকার একটা নোট দিলেন বেছে বেছে। অবাক হয়ে দেখছিলাম এই দৃশ্যটা। কিন্তু আমার অবাক হবার যে আরো বাকি ছিল সেটি তখনও বুঝতে পারিনি।
স্টার কাবাব থেকে বের হলাম সবাই। তিঁনি চিন্তা করছেন সবাই কিভাবে বাসায় যাবে? অতঃপর সবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে তাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। এরপর বাকি ছিলাম আমি,যুথি আর মামুন। আমাদের জন্য একটি ট্যাক্সি ক্যাব ঠিক করে নিজে সি.এন.জি করে রওনা দিলেন।
গন্তব্য আমাদের মোহাম্মদপুর, তাঁর বাসায়। বিশেষ আতিথেয়তায় তিঁনি আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন তার বাসায়। বয়সে অনেক অনেক সিনিয়র হবেন, তবুও মনে হচ্ছিল আমাদের অন্তরংগ বন্ধুর মত। রাস্তা জুড়ে মনে আরো অনেক জল্পনা-কল্পনা করছিলাম। অবশেষে উঁনার বাসায় পৌছলাম।
দীর্ঘ বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রায়ই দেশের টানে, দেশের মানুষের টানে জন্মভুমিতে ফিরে আসেন। এখনও তাই কানাডা ফিরে যাবার ডেইট পার হয়ে গেলেও দেশে রয়েছেন শুধু দেশের মানুষের টানেই। বাসায় থাকে তাঁর মা ও ভাবি। খুব অনাড়ম্বর জীবন-যাপন তাঁর। রাস্তা-ঘাটে দুঃখি-গরীব মানুষের জন্য যে নিঃশর্তে ক্রমাগত দান করতে থাকে তাঁর জীবন-যাপন অনাড়ম্বর হবে এটাই স্বাভাবিক। একসাথে বসলাম, বিভিন্ন কথা শেয়ার করলাম। সবচেয়ে অবাক হলাম যেকথা শেয়ার করার জন্য মানুষ খুজে পাচ্ছিলাম না মনে হলে আল্লাহ আমাদের নিজে তাঁর সন্ধান দিলেন। খুব প্রাঞ্জল একটা আলোচনা করলাম আমরা সবাই।
জোহরের নামাজ শেষে আবার একসাথে বসলাম ফ্লোরে এক মাদূরে। সোফা ছিল কিন্তু উনার ফেবারিট প্লেস ফ্লোর। আমার মনে হচ্ছিল রাজকীয় কোন স্থানে বসে আছি। আসলে মনের প্রাচুর্যর কাছে পার্থিব সবই যে হার মানায় সেটা খুব গভীরভাবে অনুভব করলাম।
দুপুরের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিলেন তিঁনি। সব কিছু নিজ হাতে করলেন। আতিথেয়তায় যে তিঁনি অনন্য সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
একজন ড্রাগ এডিক্টেড মানুষের জীবনের মোড় কিভাবে ঘুরে যায় ল্যাপটপে বসে তিঁনি আমাদের সেটাই দেখাচ্ছিলেন। একবার ল্যাপটপে আরেকবার তাঁর দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। এত সুন্দরভাবে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রতিটা কথার জবাব অদ্ভুত লাগছিল। অনেক ঘটনা বললেন। একটি ঘটনা শুনাই...
জাহাঙ্গিরনগর ইউনিভার্সিটি একবার এক ছেলের সাথে কথা হচ্ছিল উঁনার। ছেলেটি নাস্তিক ছিল। তাই উনাকে প্রশ্ন করলেন “ আচ্ছা আল্লাহ দেখতে কেমন?” জবাবে তিনি হাসতে হাসতে বললেন “ ভাই তুমি বিয়ে করবানা আবার কনে কিরকম তা জানতে চাও কেন?” জবাবে ছেলেটি কিছুই বুঝলনা। পরে উনি ব্যাখ্যা করলেন “ তুমি তো আল্লাহ কে বিশ্বাস করনা তাইলে আবার জানতে চাও কেন যে আল্লাহ দেখতে কেমন” এই জবাবে ছেলেটি তাৎক্ষনিক জবাব দিল “ ধরেন আমি বিশ্বাস করি এবার বলেন আল্লাহ দেখতে কেমন?” না না ভাই, কোন ধরাধরিতে আমি নাই,যদি বিশ্বাস করেন তাইলে বলতে রাজি আছি।
এবার ছেলেটা বাধ্য হয়ে বলল “ হ্যা আমি বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আছে” এই জবাবে খুশি হয়ে তিনি বললেন “ যিনি ক্ষুদ্র পিপড়া সৃষ্টি করেছেন, তিনি বৃহৎ হাতি সৃষ্টি করেছেন, আবার তিনিই তোমারে আর আমারে সৃষ্টি করেছেন, এখন তিনি দেখতে কেমন হবে সেটা বাড়ি বসে তুমি চিন্তা কর, উত্তর পেয়ে যাবা”…কি এন্সার!!!!
এটিএন বাংলায় অনেক পুর্বে থেকে তাঁর প্রোগ্রাম দেখে রীতিমত আমি তাঁর ভক্ত ছিলাম। তাঁর বাসায় তাঁর ল্যাপটপে বসে তাঁর জীবন ইতিহাসের কিছু অংশ দেখছিলাম এটা চিন্তা করেই খুব আজব লাগছিল।
কিভাবে যে ঘড়ির কাটা দ্রুত চলে যাচ্ছিল বুঝতেছিলামনা। আসরের নামাজের পর কিছু কাজের প্ল্যানের পর তাঁর বাসা থেকে বের হলাম। রাস্তায় কিছু দূরে ৩/৪ জন ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল,কেউ মোবাইলে কথা বলছিল। অনেক দূর থেকে তাঁর সালাম শুনেই ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে গেল। হাসিমুখে সালামের জবাব দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করল। মুদি দোকানদার , সেলুনের লোক, আশেপাশের বাড়ির দারোয়ান, রিকসাওয়ালা, সি.এন.জিওয়ালা কেউ তার সালামের জবাব হাসিমুখ ছাড়া দেয়নি। রাস্তায় এক ফকিরের সাথে দেখা হয়। তাকে তিঁনি সালাম দিয়ে নতুন টাকার নোট দিলেন। বৃদ্ধ খুশি হয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে দোয়া দিতে চাইল। কিন্তু উনি হাত নয় বৃদ্ধকে বুকে জড়িয়ে তার প্রতিউত্তর দিলেন। আমি দেখছিলাম, ভাবছিলাম...মনে হচ্ছিল রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতের কিছু অংশ প্র্যাকটিক্যাল দেখছি যা এতদিন থিওরিতে পড়েছিলাম।
অবশেষে সি.এন.জি ঠিক করে ভাড়া মিটিয়ে আমাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। আসার সময় প্রতিটা মুহূর্ত তাকে নিয়ে চিন্তা করছিলাম। আমার ভাই কখনও কোথাও গেলে বেশিক্ষন থাকতে পারেনা আমাদের সাথে। সেদিন সে সারাদিন ছিল,একটুও বোরড হয়নি। বাস্তবিকই মনে হল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান তাকে বলেছিলেন “ কত ডিগ্রিওয়ালা হুজুরদের এটিএন বাংলায় প্রোগ্রাম করতে দিলাম। তাদের কথা বার্তা এত টানেনি আপনি কি বলেন সবই তো মন ছুঁয়ে যায়” মানবতাবোধ কে যে ইসলামের মেইন পার্ট মনে করে ইসলামের দাওয়াহ দিচ্ছে তার কথা শুনলে যে কারো মন ছুঁয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
সন্ধ্যার কিছু পর বাসায় ফিরলাম। মনে হল এতক্ষন কোন মোহের ভিতর ছিলাম। সম্বিত ফিরে পেলাম কিছুক্ষন পর। অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংস্পর্শে থেকেছি, অনেক ইসলামপন্থী মানুষকে কাছ থেকে দেখেছি, অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের সাথে মিশেছি, অনেক বন্ধুর সাথে সময় পার করেছি কিন্তু সম্বিত ফিরে আসার পর মনে হল,
এতক্ষন যাঁর সাথে ছিলাম তার জ্ঞানের প্রাচুর্য হাজার হাজার ডিগ্রিকেও হার মানায়...মানবতাবোধ যাঁর প্রকৃত ধর্ম তথাকথিত ইসলাম্পন্থীরা তার সামনে লজ্জা পাবে...সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও অনাড়ম্বর জীবন যাপনে যে অভ্যস্ত এবং রাস্তার ফকিরদের বুকে জড়িয়ে ধরতে যে কুন্ঠাবোধ করেনা তাঁর সামনে অহংকারি উচ্চবিত্তদের প্রেস্টিজ চলে যাবে বৈকি!...আর বন্ধু? সমবয়সী অনেক ইন্টিমেইট বন্ধুর থেকেও তিনি হতে পারে যেকোন বয়সের,যেকারো প্রকৃত বন্ধু......
স্টার কাবাবে প্রায় ৯/১০ জনের মত বসে খাচ্ছিলাম। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হঠাৎ বাইরে লাঠি হাতে জীর্ন-শীর্ণ এক বৃদ্ধ ফকিরকে দেখা গেল। দেখা মাত্রই তিঁনি উঠে গেলেন। নিজ হাতে তাকে পিৎজা খাওয়ালেন, কোক দিলেন। সবচেয়ে নতুন ৫০টাকার একটা নোট দিলেন বেছে বেছে। অবাক হয়ে দেখছিলাম এই দৃশ্যটা। কিন্তু আমার অবাক হবার যে আরো বাকি ছিল সেটি তখনও বুঝতে পারিনি।
স্টার কাবাব থেকে বের হলাম সবাই। তিঁনি চিন্তা করছেন সবাই কিভাবে বাসায় যাবে? অতঃপর সবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে তাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। এরপর বাকি ছিলাম আমি,যুথি আর মামুন। আমাদের জন্য একটি ট্যাক্সি ক্যাব ঠিক করে নিজে সি.এন.জি করে রওনা দিলেন।
গন্তব্য আমাদের মোহাম্মদপুর, তাঁর বাসায়। বিশেষ আতিথেয়তায় তিঁনি আমাদের নিয়ে যাচ্ছেন তার বাসায়। বয়সে অনেক অনেক সিনিয়র হবেন, তবুও মনে হচ্ছিল আমাদের অন্তরংগ বন্ধুর মত। রাস্তা জুড়ে মনে আরো অনেক জল্পনা-কল্পনা করছিলাম। অবশেষে উঁনার বাসায় পৌছলাম।
দীর্ঘ বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রায়ই দেশের টানে, দেশের মানুষের টানে জন্মভুমিতে ফিরে আসেন। এখনও তাই কানাডা ফিরে যাবার ডেইট পার হয়ে গেলেও দেশে রয়েছেন শুধু দেশের মানুষের টানেই। বাসায় থাকে তাঁর মা ও ভাবি। খুব অনাড়ম্বর জীবন-যাপন তাঁর। রাস্তা-ঘাটে দুঃখি-গরীব মানুষের জন্য যে নিঃশর্তে ক্রমাগত দান করতে থাকে তাঁর জীবন-যাপন অনাড়ম্বর হবে এটাই স্বাভাবিক। একসাথে বসলাম, বিভিন্ন কথা শেয়ার করলাম। সবচেয়ে অবাক হলাম যেকথা শেয়ার করার জন্য মানুষ খুজে পাচ্ছিলাম না মনে হলে আল্লাহ আমাদের নিজে তাঁর সন্ধান দিলেন। খুব প্রাঞ্জল একটা আলোচনা করলাম আমরা সবাই।
জোহরের নামাজ শেষে আবার একসাথে বসলাম ফ্লোরে এক মাদূরে। সোফা ছিল কিন্তু উনার ফেবারিট প্লেস ফ্লোর। আমার মনে হচ্ছিল রাজকীয় কোন স্থানে বসে আছি। আসলে মনের প্রাচুর্যর কাছে পার্থিব সবই যে হার মানায় সেটা খুব গভীরভাবে অনুভব করলাম।
দুপুরের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিলেন তিঁনি। সব কিছু নিজ হাতে করলেন। আতিথেয়তায় যে তিঁনি অনন্য সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
একজন ড্রাগ এডিক্টেড মানুষের জীবনের মোড় কিভাবে ঘুরে যায় ল্যাপটপে বসে তিঁনি আমাদের সেটাই দেখাচ্ছিলেন। একবার ল্যাপটপে আরেকবার তাঁর দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম। এত সুন্দরভাবে হাস্যরসের মাধ্যমে প্রতিটা কথার জবাব অদ্ভুত লাগছিল। অনেক ঘটনা বললেন। একটি ঘটনা শুনাই...
জাহাঙ্গিরনগর ইউনিভার্সিটি একবার এক ছেলের সাথে কথা হচ্ছিল উঁনার। ছেলেটি নাস্তিক ছিল। তাই উনাকে প্রশ্ন করলেন “ আচ্ছা আল্লাহ দেখতে কেমন?” জবাবে তিনি হাসতে হাসতে বললেন “ ভাই তুমি বিয়ে করবানা আবার কনে কিরকম তা জানতে চাও কেন?” জবাবে ছেলেটি কিছুই বুঝলনা। পরে উনি ব্যাখ্যা করলেন “ তুমি তো আল্লাহ কে বিশ্বাস করনা তাইলে আবার জানতে চাও কেন যে আল্লাহ দেখতে কেমন” এই জবাবে ছেলেটি তাৎক্ষনিক জবাব দিল “ ধরেন আমি বিশ্বাস করি এবার বলেন আল্লাহ দেখতে কেমন?” না না ভাই, কোন ধরাধরিতে আমি নাই,যদি বিশ্বাস করেন তাইলে বলতে রাজি আছি।
এবার ছেলেটা বাধ্য হয়ে বলল “ হ্যা আমি বিশ্বাস করি যে আল্লাহ আছে” এই জবাবে খুশি হয়ে তিনি বললেন “ যিনি ক্ষুদ্র পিপড়া সৃষ্টি করেছেন, তিনি বৃহৎ হাতি সৃষ্টি করেছেন, আবার তিনিই তোমারে আর আমারে সৃষ্টি করেছেন, এখন তিনি দেখতে কেমন হবে সেটা বাড়ি বসে তুমি চিন্তা কর, উত্তর পেয়ে যাবা”…কি এন্সার!!!!
এটিএন বাংলায় অনেক পুর্বে থেকে তাঁর প্রোগ্রাম দেখে রীতিমত আমি তাঁর ভক্ত ছিলাম। তাঁর বাসায় তাঁর ল্যাপটপে বসে তাঁর জীবন ইতিহাসের কিছু অংশ দেখছিলাম এটা চিন্তা করেই খুব আজব লাগছিল।
কিভাবে যে ঘড়ির কাটা দ্রুত চলে যাচ্ছিল বুঝতেছিলামনা। আসরের নামাজের পর কিছু কাজের প্ল্যানের পর তাঁর বাসা থেকে বের হলাম। রাস্তায় কিছু দূরে ৩/৪ জন ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল,কেউ মোবাইলে কথা বলছিল। অনেক দূর থেকে তাঁর সালাম শুনেই ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে গেল। হাসিমুখে সালামের জবাব দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞাসা করল। মুদি দোকানদার , সেলুনের লোক, আশেপাশের বাড়ির দারোয়ান, রিকসাওয়ালা, সি.এন.জিওয়ালা কেউ তার সালামের জবাব হাসিমুখ ছাড়া দেয়নি। রাস্তায় এক ফকিরের সাথে দেখা হয়। তাকে তিঁনি সালাম দিয়ে নতুন টাকার নোট দিলেন। বৃদ্ধ খুশি হয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে দোয়া দিতে চাইল। কিন্তু উনি হাত নয় বৃদ্ধকে বুকে জড়িয়ে তার প্রতিউত্তর দিলেন। আমি দেখছিলাম, ভাবছিলাম...মনে হচ্ছিল রাসূল (সাঃ) এর সুন্নাতের কিছু অংশ প্র্যাকটিক্যাল দেখছি যা এতদিন থিওরিতে পড়েছিলাম।
অবশেষে সি.এন.জি ঠিক করে ভাড়া মিটিয়ে আমাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। আসার সময় প্রতিটা মুহূর্ত তাকে নিয়ে চিন্তা করছিলাম। আমার ভাই কখনও কোথাও গেলে বেশিক্ষন থাকতে পারেনা আমাদের সাথে। সেদিন সে সারাদিন ছিল,একটুও বোরড হয়নি। বাস্তবিকই মনে হল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান তাকে বলেছিলেন “ কত ডিগ্রিওয়ালা হুজুরদের এটিএন বাংলায় প্রোগ্রাম করতে দিলাম। তাদের কথা বার্তা এত টানেনি আপনি কি বলেন সবই তো মন ছুঁয়ে যায়” মানবতাবোধ কে যে ইসলামের মেইন পার্ট মনে করে ইসলামের দাওয়াহ দিচ্ছে তার কথা শুনলে যে কারো মন ছুঁয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।
সন্ধ্যার কিছু পর বাসায় ফিরলাম। মনে হল এতক্ষন কোন মোহের ভিতর ছিলাম। সম্বিত ফিরে পেলাম কিছুক্ষন পর। অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংস্পর্শে থেকেছি, অনেক ইসলামপন্থী মানুষকে কাছ থেকে দেখেছি, অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের সাথে মিশেছি, অনেক বন্ধুর সাথে সময় পার করেছি কিন্তু সম্বিত ফিরে আসার পর মনে হল,
এতক্ষন যাঁর সাথে ছিলাম তার জ্ঞানের প্রাচুর্য হাজার হাজার ডিগ্রিকেও হার মানায়...মানবতাবোধ যাঁর প্রকৃত ধর্ম তথাকথিত ইসলাম্পন্থীরা তার সামনে লজ্জা পাবে...সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও অনাড়ম্বর জীবন যাপনে যে অভ্যস্ত এবং রাস্তার ফকিরদের বুকে জড়িয়ে ধরতে যে কুন্ঠাবোধ করেনা তাঁর সামনে অহংকারি উচ্চবিত্তদের প্রেস্টিজ চলে যাবে বৈকি!...আর বন্ধু? সমবয়সী অনেক ইন্টিমেইট বন্ধুর থেকেও তিনি হতে পারে যেকোন বয়সের,যেকারো প্রকৃত বন্ধু......
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)