মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১০

স্বপ্ন দেখব বলে দুচোখ পেতেছি...



সারকেডিয়ান রিদম আমার অনেক আগেই চেইঞ্জ হয়ে গিয়েছে। তাই রাত জাগা পাখির মত নিয়ত জেগে থাকা নিয়ত অভ্যাসে দাড়িয়েছে। আর রাত জেগে পড়ার সুবাদে এই অভ্যাস আরো বেশি পাকাপোক্ত হয়েছে।
রাতের দৃশ্য দেখছিলাম। কি যেন মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম ক্রমাগত। জানালার ওপাশে ফ্লাইওভারে সোডিয়াম বাতির আলোতে সবকিছুকে আরো বেশি মায়াবী করে তুলছিল। মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ি যাচ্ছে,সাথে সাথে প্যা প্যা ধ্বনি...ফ্লাইওভারের অপর পাশেই পাঁচতলা একটি সাদা বাড়ি। সোডিয়াম বাতির আলোর প্রতিফলনে সাদা বাড়িকে ঠিক যেন আলিফ লায়লার কোন ভুতড়ে বাড়ি বলে মনে হচ্ছিল। জানালার ওপাশের দৃশ্যের একটি ফ্লোচার্ট করে ফেললাম। ফ্লোচার্ট হচ্ছেঃ আমার জানালা, বস্তি, ফ্লাইওভার,সাদা পাঁচতলা বাড়ি। অসীম আকাশে তখন নিকষ নীল অন্ধকারের প্রতিচ্ছায়া।
নতুন করে চিন্তা করতে হয়না, নিউরণে এক্সট্রা প্রেসার দিয়ে কিছু ভাবা লাগেনা...বস্তি থেকে ভেসে আসা অকথ্য ভাষায় গালাগালির আওয়াজ, কখনওবা চাপা কান্নার মৃদু করুণ সুর, কখনো পুরুষ কতৃক নারীকে প্রহারের প্রতিধ্বনি প্রকৃতিকে আনমোনা করে তোলে। আমিও প্রকৃতির সাথে বিষন্ন হয়ে যায়। নিউরনে ভাইব্রেশান হয় কিঞ্চিৎ......
সেদিন ক্যম্পাস থেকে ফেরার সময় টিকিট কেটে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এক বৃদ্ধ মহিলা কাছে এসে বলল, “ মা সকাল থেকে কিছু খাইনি কিছু টাকা দে আমারে”। পাশে এক ফ্রেন্ড ছিল। দুজন মিলে কিছু টাকা দিলাম। বৃদ্ধ মহিলা টাকা পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলল। জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনার বাড়ি কোথায়?” রাস্তা-ঘাটই আমার বাড়ি, আমার যে কোন যাওয়ার জায়গা নেই! এই জবাবে খুব ধাক্কা খাইলাম। ততক্ষনে বাস চলে এসেছে। কিছুই করার নেই ,কঠিন এক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজের ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
বস্তি থেকে এখন চরম আকারে গালিগালাজের শব্দ ভেসে আসছে। অকথ্য শব্দের প্রতধ্বনিতে প্রকৃতির নিরবতা খান খান করে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমি এই গভীর রাতে দুঃখ বিলাস করছি ,হয়তবা এই গভীর রাতেই ময়না নামের মেয়েটি রাত জেগে সেলাই করছে। খুব স্বপ্ন তার পড়ালেখা করার। কিন্তু দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। হয়ত এই গভীর মায়াবী রাতে ময়না তার স্বপ্নের সমাধি দিয়ে আপন মনে সেলাই করছে। এভাবে হাজার রাত কেটে যায় হাজার স্বপ্নের সমাধির ফুল দিয়ে...নিউরনে আবারো ভাইব্রেশান হয়...খুব অসহায় লাগে নিজেকে।
রাস্তা দিয়ে সেদিন এক রিক্সার চাকার সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে। রিক্সার চাকা সম্পূর্ন বেঁকে যায়। ঘটনার পর পরই দেখলাম গাড়ি থেকে নেমে আসলেন এক ভদ্র লোক। ভাবলাম নিশ্চয় সমবেদনা বা ক্ষতিপুরন দেবার জন্য ভদ্রলোক এগিয়ে আসছেন। পরের ঘটনায় খুব মর্মাহত হলাম। তথাকথিত ভদ্রলোকের দ্বিগুন বয়সী রিক্সাওয়ালাকে প্রচন্ড গালিগালাজ ও সাথে ক্রমাগত চড়-থাপ্পড় মারতে লাগলেন। “ এই বেটা তুই ঠিকমত রিক্সা চালাস না কেন, কত টাইম নষ্ট করছস আমার তুই জানস??” এসব বলেই রিক্সাওয়ালাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। চারপাশের লোকজন সব এই দৃশ্য উপভোগ করছিল। উহ! সেইসময় আমার যে কিরকম ফিলিংস হচ্ছিল ভাষায় বলার মত না। খুব বলতে চাইলাম সেই তথাকথিত ভদ্রলোককে “ জনাব আপনার টাইমের মূল্য আছে, তার কি নেই? তার বাড়িতে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা করছে ,সেসবের কি কোনই মূল্য নেই? তার যে ক্ষতি হয়ে গেল এর জন্য তার পরিবারের কতটা সাফার করবে সেসব কি একবারও চিন্তা করেছেন? তার ছেলে-মেয়েরা হয়ত স্বপ্ন দেখচে আজ তার বাবা অনেক টাকা আয় করে তাদের জন্য কিছু কিনে আনবে। এই স্বপ্নের কি কোন দাম নেই?” কিন্তু আমি পারিনি বলতে, আমার এবিলিটি ছিলনা ওই জঘন্য পরিবেশে এসব কথা সেই তথাকথিত ভদ্রলোককে বলার। শুধু একরাশ দুঃখবোধ নিয়ে বাড়ি ফিরলাম।
রাত যতই গভীর হচ্ছে মন ততই খারাপ হচ্ছে...যেখানে হাজার স্বপ্নের সমাধি হয় নির্দ্বিধায়, সেই সমাধির উপর দাঁড়িয়ে স্বপ্ন বিলাসীরা আনন্দ উৎসবে মেতে থাকে গর্বের সাথে...মৌসুমি ভোমিকের মত আমারও গাইতে ইচ্ছা করে

“কেন শুধু শুধু ছুটে চলা ,একে একে কথা বলা, নিজের জন্য বাঁচা নিজেকে নিয়ে,
যদি ভালবাসা নাই থাকে শুধু একা একা লাগে ,কোথায় শান্তি পাব,
বল কোথায় গিয়ে......!!
........................................................
.........................................................
আস্থা হারানো এই মন নিয়ে আমি আজ তোমাদের কাছে এসে দুহাত পেতেছি
আমি দুচোখের গও ভরে শূণ্যতা দেখি শুধু রাত ঘুমে আমি আর স্বপ্ন দেখিনা,
তাই স্বপ্ন দেখব বলে আমি দুচোখ পেতেছি...
তাই তোমাদের কাছে এসে আমি দুহাত পেতেছি...”

রাত গভীর হচ্ছে। গভীর ও জটিল হচ্ছে আমার চিন্তা ভাবনা গুলোও... স্বপ্ন দেখতে আকুল এই দুচোখে আর ঘুম আসছেনা। দুচোখে শুধুই কৃতজ্ঞতার অশ্রু সেই মহান সত্তার নিকট বারবার বলছে পারবতো এই জীবনের শুকরিয়া আদায় করতে? যে জীবনে আশ্রয়হীনতার ঝুঁকি নেই, ঝুঁকি নেই দারিদ্র্যের কষাঘাতে স্বপ্নকে সমাধি দেবার,...

প্রকৃত সুখের সন্ধান..

মানব মনের প্রকৃতি বড়ই বিচিত্র। কিসে সে কষ্ট পায় কিসে সে সুখী হয় তা সে নিজেই জানেইনা। হয়ত বিচিত্র মনের বৈচিত্রতায় আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। রাতের আকাশের যে মোহনীয় চাঁদ দেখে মন আনন্দে উদ্বেলিত হয় সেই একই চাঁদ দেখে চোখের কোণে জমে দুঃখের অশ্রুবিন্দু। সমুদ্রের বিশালতা কখনও এনে দেয় অসীম শূণ্যতা কখনওবা পূর্ণতা। বহুরূপী মনের এই সত্তা তাই বিশ্লেষণ করা খুব সহজ না।
কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে একজন নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারে? হঠাৎ এই প্রশ্নে চিন্তার জগতে ছেদ ধরল। আসলেই কি মানুষ কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে? খুব চিরন্তন ও আদি প্রশ্ন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাপকাঠি নাকি বয়স! কিন্তু বয়সই কি সবসময় সেই মাপকাঠি হতে পারে?
আট/দশ বছরের কোন ছেলের অভিজ্ঞতার পরিসীমা কতটুকু? সাথে সাথে একটি চিত্র মনের পর্দায় ভেসে আসল । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিভাবে স্কুল ফাঁকি দেওয়া যায়, কিভাবে আজ বিকালে ক্রিকেট খেলায় জেতা যায় কিংবা বাবাকে যে নতুন গাড়ি,ক্যাটবেরি কিনতে বলা হয়েছে তা আনতে ভুলে যাবেনাতো! মাকে কিভাবে কনভিন্স করে কম্পিউটারে “মোস্ট ওয়ান্টেড’’ গেইমস খেলা যায়...এইরকম হাজারো চিন্তায় ছেলেটির মন বিভোর থাকে। একই বয়সের যে ছেলে গাড়িতে হেল্পার এর কাজ করে তার চিন্তা জুড়ে থাকে কিভাবে যাত্রী বেশি উঠানো যায়, কিভাবে বেশি টাকা আয় করে পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যায়। সারাদিন কাজের ফাঁকে হয়ত সে চিন্তা করে তার মা চুলার পাশে বসে আছে এই অপেক্ষায় যে তার ছেলে কখন বাজার নিয়ে আসবে! আরো যে ছোট ভাই-বোন আছে তারাও সারাদিন বড় ভাইয়ের অপেক্ষায় থাকে। স্কুল ফাঁকি দেওয়া দূরে থাক পড়াশুনার চিন্তায় সেখানে বিলাসিতা মাত্র। চিন্তার এই অভিজ্ঞতা তার বয়সকেও হার মানিয়েছে। হয়ত অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব...
এই অভিজ্ঞতা যেহেতু আমাদের নাই তাই এগুলো দেখতে দেখতেই আমরা অভিজ্ঞ। চারপাশে এত্ত অস্বাভাবিকতার ছড়াছড়ি মাঝে মাঝেই স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকের মধ্যে পার্থক্য করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
সুখের সন্ধানে আজ মানুষ দিশেহারা। সুখের আসল সংজ্ঞা কেঊ দিতে পারেনি।কিন্তু আইন্সটাইন সেই অসাধ্য সাধন করে গেছে। পৃথিবীতে সব কিছুই আপেক্ষিক, কোন কিছুই পরম নয়। আমার কাছে যা সুখ অন্যের কাছে তা অসুখ। কিন্তু তারপরও সুখের সংজ্ঞা মিললেও সুখ খুজে পাচ্ছেনা মানুষ। সমাজের একটা পার্ট বাদ দিয়ে সুখের অন্বেষণ যেন ট্রেডিশানে পরিণত হয়েছে। শরীরের একটা অংশ প্যারালাইসিস হলে হয়ত তার ব্যথা অনুভব করা যায়না কিন্তু সেই অঙ্গের অনুপস্থিতি ঠিকই অনুভুত হয়।
অপূর্ণ শরীর হাজার চেষ্টা করলেও পূর্ণ হতে পারবেনা যতক্ষন না ওই অংশ ঠিক হয়। এসব কথা ভাবতেই পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ল। সে বছরে অকেশনালি একবার এতিমখানায়, মসজিদে টাকা দান করে আত্বতৃপ্তি অনুভব করে। মনে করে ইসলামের বড় একজন খাদেম...সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু যদি সে ব্যাপারটা ট্রেডিশনালি না নিত , যদি মনে করত তার উপার্জনের টাকায় গরীবেরও হক আছে তাহলে হয়তবা সে এরকম অকেশনাল ইসলামের সেবা করে আত্বতৃপ্তি পেতনা। পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস/বিজয় দিবস উদযাপন সবই আজ নিছক ট্রেডিশান। একারনেই যারা পহেলা বৈশাখে লাল-সাদা শাড়ি পরে পুরো বাঙ্গালিয়ানা সাজে তারাই আবার থার্টি ফার্স্ট নাইটে ওয়েস্টার্ন কালচার খুব গর্বের সাথে পালন করে। নারী দিবসে নারী অধিকারের দাবি যাদের মুখে সোচ্চার হয় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকার পাতায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে নিউজ আসে। খুব বিচিত্রভাবেই ট্রেডিশানের এই সিলসিলা প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ বিদ্যমান।
মানব মনের প্রকৃতি অনুসন্ধান করে চলছিলাম। অভিজ্ঞতা অর্জন নাকি এই রিসার্চে ওনেক হেল্পফুল হবে। সব কিছু প্র্যাকটিক্যালি অভিজ্ঞতা অর্জন যেহেতু সম্ভব না তাই দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। প্রকৃতি কখনও মনকে শূন্য থাকতে দেয়না। সুখের জন্য আকুল মন যে অংশ ডিলিট করে সেই অংশটি মন আরেকটি অংশ দিয়ে রিফিল করে। অটোমেটিক প্রোসেস। যে সত্তা মনকে একটিভলি লিড দিবে সে আজ প্যাসিভ। এই জন্যই হয়তবা যা কিছু করছি সব ট্রেডিশান, সব শুণ্য মনকে রিফিল করার চেষ্টা মাত্র। প্রকৃত সুখ পাবার প্রোসেসকে ইগ্নোর করে, সমাজের একটা পার্টকে বঞ্চিত করে সব কিছু ট্রেডিশনালি করে সবাই আমরা কৃত্তিম সুখের নিদ্রায় বিভোর । জানিনা এই নিদ্রার প্রহর কখন শেষ হবে...জানিনা দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিন কবে শেষ হবে...জানিনা ট্রেডিশনাল সুখের কালচার কবে সমাপ্তি হবে...

সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০১০

সমালোচনার জারন-বিজারন...

"যুদ্ধাপরাধীর বিচারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও চিকিৎসক সমাজ "- এক সেমিনারে বসে ছিলাম। খুব অস্বস্তিকর পরিবেশ। মাত্র কমিউনিটি মেডিসিন তিনটা আইটেম দিয়ে আসার পর এই সেমিনারে বাধ্যতামূলক এটেন্ড করা যেন পুরাই শাস্তি মনে হচ্ছে। তারপরও স্পিচ শুনছি। মাঝে মাঝে বোরড হয়ে গেলে পুরা লেকচার গ্যালারির কয়টা লাইট, ফ্যান, এসি আছে সেটা গুনছি। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর তার মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা বলছিলেন, ডায়াসের মাঝখানে বসা প্রিন্সিপাল স্যার কে দেখে কিছু ঘটনা মনে পড়ল। মেডিকেল লাইফে তিনটা ঘটনা আমার জন্য খুব উল্লেখযোগ্য...

প্রথম ঘটনাঃ ময়মনসিং মেডিকেল কলেজে প্রথম দিন ফিজিওলোজি লেকচার ক্লাসে দুই মিনিট দেরি হবার জন্য ঢুকতে না দেওয়া। আরে বাবা! প্রথম দিন, দুই মিনিট দেরি হতেই পারে! তারপরও দেরি হবার কারণ ছিল লেকচার হল চিনতে না পারা...

২য় ঘটনাঃ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে এম্ব্রায়োলোজি ক্লাসের ২য় দিন। অদ্ভুত সুন্দরভাবে স্যার লেকচার দিচ্ছে। ইনফ্যাক্ট স্যারের প্রেসেন্টেশান, বোঝানোর ক্যাপাসিটি আমাকে এত মুগ্ধ করেছিল যে এম্ব্রায়োলোজির ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম আমি তখন। ৩য়দিন কলেজে গিয়ে শুনলাম স্যার ঢাকা মেডিকেলে পোস্টিং হয়ে চলে গেছেন। খুব শকড হলাম...

৩য় ঘটনাঃ সরকারী মেডিকেলে প্রিন্সিপাল বারবার চেইঞ্জ হবে এটাই স্বাভাবিক। এই পর্যন্ত আমাদের মেডিকেলে ৩য়বারের মত প্রিন্সিপাল চেইঞ্জ হল। কিন্তু মর্মাহত হলাম এই কারণে যে পূর্বের প্রিন্সিপাল ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ। খুব অমায়িক ব্যবহার উনার। সার্জারীর হেড ছিলেন। স্যারের প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা ছিল কিন্তু কোন ভয় ছিলনা। সেই স্যারের রিপ্লেসমেন্টে বর্তমান তুখোড় রাজনীতিবিদ অল্পবয়স্ক স্যারকে দেখে আবারো শকড...

সেমিনার অবশেষে শেষ হল। খুব বেশি খারাপ লাগেনাই স্পিচ। একটু ব্যত্ক্রমধর্মী বক্তব্য শুনলাম এবার.." বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে বিজয় লাভের পর সামনে এগোতে পারেনি শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীর কারণে। তাই তাদের বিচার না করে একজন সাধারণ চোরের বিচার করা নৈতিকতা বিরোধী...”
বুঝলাম সরকার কেন বর্তমান ছাত্রলীগের দ্বারা তৈরি সন্ত্রাসী কাজের বিচার কেন করছেনা। ভাল লাগল যে সরকারী এটলিস্ট নৈতিকতা বিরোধী কোন কাজ করছেনা।

ক্লাস সেভেন/ এইট পর্যন্ত মারাত্বকভাবে হুমায়ুন আহমেদ ও জাফর ইকবালের ভক্ত ছিলাম। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে যখন সুনীল, সমরেশ, শীর্ষেন্দুর বই পড়া শুরু করলাম তখন নেশা কেটে যেতে লাগল। সম্ভবত বয়সের কারণে এই চেইঞ্জ এসেছিল। ্কিছুদিন আগে আনিসুল হকের বই পড়ার সুযোগ আসল ফ্রেন্ডদের মাধ্যমে। ‘ ফিরে এসো সুন্দরীতমা’ , ‘পাই বা নাহি পাই’, ‘মায়া’...৩টা বই পড়ে আমার অবস্থা খুব খারাপ। খাবারের শেষে যখন বিস্বাদ কোন কিছু খেলে পুনরায় টেস্টি কিছু খেয়ে রুচি ফেরত আনতে আমার অবস্থা সেরকম হল। হলে তখন হুমায়ুন আহমেদের ‘ কহেন কবি কালিদাস’ ও জাফর ইকবালের ‘ রবো নিশি’ বইটি ছিল। সেই বই ২টা পড়ে মানসিক অবস্থা সুস্থ করলাম। আর মনে মনে দুই ভাইকে হাজার স্যালুট জানালাম। তারা যাই লিখুক এটলিস্ট তাদের বই পড়ে মানসিক অবস্থা এত খারাপ হয়নি।

'মনপুরা' সিনেমা নিয়ে মাঝখানে খুব তোল্পাড়। এদিকে পেপার, ব্লগ থেকে আমি এত কিছু পড়লাম 'মনপুরা' নিয়ে যে আমার তখন সিনেমা দেখার আগ্রহ পুরাই শেষ। কোন উপন্যাস পড়ার আগে কেউ যদি আমাকে কাহিনী বলে দেয় তাহলে সেই উপন্যাস পড়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ থাকেনা আমার। সিনেমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম না। থ্রি ইডিয়টস যখন দেখলাম ঠিক তার এক সপ্তাহ পর দেখি পুরা ব্লগে, পেপারে এটা নিয়ে তোল্পাড় শুরু হয়েছে। এমনকি মেডিসিন ওয়ার্ডে একদিন স্যার আমাদের এই সিনেমাটা দেখার কথা বললেন। কি অবস্থা!! আমার কাজিনকে ধন্যবাদ জানালাম থ্রি ইডিয়টস তার ল্যাপটপে দেখানোর জন্য। এক সপ্তাহ দেরি হলেই সিনেমাটা আর আমার দেখা হতনা।
সর্বশেষ থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার... এটা নিয়ে চরম সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল পুরা ইন্টারনেট। এজ ইউজুয়াল সিনেমার কাহিনী ও সমালোচনা পড়তে পড়তে আমি টায়ার্ড। সেদিন এটা নিয়ে ফ্রেন্ড সার্কেলে এক বিতর্ক হয়ে গেল। হুম...সিনেমার এন্ডিং আমার একদম পছন্দ হয়নি। কিন্তু ওভারল সিনেমাটা খারাপ লাগে নাই। বর্তমান সমাজে মেয়েদের এরকম চিত্র যে খুব আনকমন তা কিন্তু না। ফারুকী তার চিন্তা থেকে এটা বানালো। সমালোচনাকারীদের সমালোচনা দেখে আমার মনে হল যে ফারুকীর এই সিনেমাটা আমাদের ভাল সমাজকে একদম নষ্ট করে দিল। নেগেটিভ বাস্তবতা আমরা দেখতে অভ্যস্ত নই। বা দেখলেও সেটা ইগ্নোর করাকেই শ্রেয় মনে করি। সিনেমাতে কোথাও দেখানো হয়নি যে তিশা খুব ভাল আছে। সে কারো কাছে মর্যাদা পায়নি, পায়নি নিরাপত্তার স্থান। এটা দেখেও কেন যুব সমাজ ইন্সপায়ার হবে খারাপ হবার জন্য আমি বুঝলামনা। এখন ফারুকী যদি বর্তমান ইভ টিসিইং নিয়ে কোন সিনেমা বানায় আমি শিউর সমালোচনাকারীরা তাদের সমালোচনার ঝড় তুলতে ভুলবেননা। সিনেমা যদি সমাজে দর্পন হয় তাহলে সেখানে নেগেটিভ বাস্তবতা তুলে আসাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বারবার আমরা সেই নেগেটিভ বাস্তবতাকে কিভাবে রিমুভ করা যায় সেটা না ভেবে বারবার কেন এই নেগেটিভ চিত্র চোখে তুলে দেখাইল সেটা নিয়ে ঝড় তুলি। তারপরও যারা থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বারের বিরোধী তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই বিনীতভাবে......
আগেই বলে রাখি ফারুকীর ভক্ত আমি নই... যদি তার সিনেমা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ হয় তাহলে সমাজে ভালোর জন্য আপনারা কয়টা সিনেমা তৈরি করেছেন? যদি ওয়েস্টার্ন কালচারকে ফারুকী এদেশে এস্টাবলিশ করার জন্য তার মেধা,মননের বিকাশ ঘটিয়ে সিনেমা বানায় তাহলে আপনারা নৈতিকতাকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের টাকা, সময়, মেধা ব্যয় করে কয়টা ভাল সিনেমা সমাজকে উপহার দিয়েছেন? যদি মনে করেন সিনেমা বানানো শুধুই সময় ও টাকার অপচয় তাহলে ফারুকীর সিনেমা নিয়ে এত তোল্পাড়ের কি আছে, আমাদের সমাজ যদি ভাল হয় তাহলে এই সিনেমা কাউকে কোন এফেক্ট করবেনা। আর যদিও করে এই শঙ্কা নিয়ে সমালোচনা করে কি লাভ? পারলে ফারুকীর সিনেমার জবাব নতুন কোন ভাল সিনেমা দিয়ে চ্যালেঞ্জ দেন...সমাজের কোন সেক্টর আজ ফাঁকা নেই। সব জায়গায় খারাপের সুদৃঢ় অবস্থান। তাদের বিরুদ্ধে শুধু সমালোচনা কেবল অরন্যে রোদন। সবাই এক্টিভিটি দেখতে চায়, সমালচনা শুনতে চায়না। ফারুকী যদি তার সিনেমা দিয়ে সমাজকে অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দেয় তাহলে শিউর থাকেন সেই অবক্ষয়কে আপনারা সমালোচনা দিয়ে শেষ রক্ষা করতে পারবেননা। তাই সমালোচনার আসন ছেড়ে ফিল্ডে আসুন, যদি আসলেই সমাজের প্রতি কোন দায়বোধ থাকে তাহলে সমালোচনা বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করুন সুন্দর রুচিশীল কোন সিনেমা দিয়ে....

রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১০

এক সত্তায় বহুভুবনঃ কানেক্টিং স্টক


ঢাকা ১২১ কি.মি.......সন্ধ্যা ৬.৩০

নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে আসামীর কাঠগড়ায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চারপাশে থমথমে পরিবেশ। কেউ কোন কথা বলছেনা। নিরব, নিথর। গাড়ির গ্লাস থেকে হালকা বাতাস আসছে। হালকা হালকা শীত শীত অনুভূত হচ্ছে। কিন্তু সেটা মনের গরম আবহের কাছে পাত্তা পাচ্ছেনা।
কখনও কোনও কিছু নিয়ে আমার ফিলিংস মাত্রাতিরিক্ত হয়না। আমি নিজে সেখানে লিমিটেশান টেনে দিই। কিন্তু এবার আমি সেটা করতে পারছিনা। জগতের সবচেয়ে ভালবাসার জিনিস থেকে আমি ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছি। তাশফিনকে এবার প্রথম কোলে নিলাম। অপলক অয়নে সে আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। কি মায়াবী সে চাহনি! মনে হল সারাজীবন যদি এভাবে ওকে কোলে করে রাখতে পারতাম তাহলে আমার আর জীবনে কিছুই লাগবেনা। জানিনা তাশফিনকে নিয়ে মিতু আপুর ফিলিংস কেমন ছিল। সেই অসীম ভালবাসার ফিলিংস অকল্পনীয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মিতু আপুর পারসোনাল ডায়েরীতে তার দুই ছেলে ফারদীন ও তাশফিন নিয়ে লেখা অপ্রকাশ্য ফিলিংসগুলো আমাকে বার বার ভাইব্রেইট করে। মা! মাতৃ্ত্ব! এক অদ্ভুত সম্পর্ক। এই সম্পর্ক নিয়ে লেখার সাহস আমি পাচ্ছিনা।

কিন্তু আজই ঢাকা যেতে হবে? শিডিউল টাইমের আগে ঢাকা ত্যাগ করলাম একটু বেশি করে ভালবাসার কাছাকাছি সময় কাটাব। সব প্ল্যান ভ্যানিশ!!

ঢাকা ১১০ কি.মি....

মনের গরম আবহ ধীরে ধীরে শিতল হয়ে যাচ্ছে। ধীর মোশনে গাড়ি চলছে। জানালা দিয়ে ঝিরি ঝিরি বাতাস আসছে। বাইরে নিকষ গাঢ় অন্ধকারের দৃশ্য দেখতে ভাল লাগছে। এই পরিবেশে খুব স্বপ্ন বিলাসী হতে ইচ্ছা করছে। স্মৃতির এলবামে ভেসে আসছে রূপন্তির কথা। এক স্বপ্নবিলাসী মেয়ে...ওর সাথে পরিচয় ক্লাস নাইনের শেষ দিকে। আমি সায়েন্সে আর রূপন্তি কমার্সে। সবাই নতুনদের স্বাগতম জানাতে পারেনা। আমি পেরেছিলাম। খুব কাছের করে নিয়েছিলাম ওকে। ভাল লাগত ওর অসম্ভব বাস্তববাদি কথা। খুব অবাক হয়ে যেতাম কিভাবে একটা মানুষের মধ্যে স্বপ্ন বিলাসী ও বাস্তববাদীতার সমন্বয় ঘটে। কিন্তু ওর সাথে আমার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল হঠাৎ এবং শেষ হয়েছিল হঠাৎ করে। নাহ! শেষ বললে ভুল হবে। শেষ যোগাযোগ হয়েছিল হঠাৎ করে। এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে মেইল চেক করতে গিয়ে দেখি হলুদ গোলাপের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানিয়ে ছোট একটা মেইল। হঠাৎ মেইল দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। পরে ফোন ,মেইলের রিপ্লাই দিয়েও তার কোন রিপ্লাই পাইনি। পুরা গায়েব!!! বন্ধু তোমার জন্য শুভকামনা আমারও...

মাওয়া ফেরী ঘাট...

জোরে একটা ব্রেক! সামনে ঝুকে পড়লাম। রূপন্তির কল্পনার জগত থেকেও ব্রেক টানলাম। গাড়ির ফ্রন্ট গ্লাস দিয়ে দেখা যাচ্ছে এক অসীম রাস্তা। চারপাশে গাছপালা। গাড়ির হেডলাইটের আলোতে সব কিছু স্বপ্নীল মনে হচ্ছে। সেই স্বপ্নের জগতে ভেসে উঠল এবার তিশার ছবি। একজন অলরাউন্ডার। ছোটবেলায় যদি কাউকে ঈর্ষা করতাম তাহলে সেই ছিল প্রথম ও শেষ। যদিও সেই ঈর্ষা মনের গহীন কোন থেকে কখনও বাস্তবে আসেনি। সেই তিশার সাথে দেখা হল দশ বছর পর। অবিকল আগের মত চেহারা। শুধু মাত্র লম্বা হয়েছে। সেই আগের মত হাস্যোজ্জ্বল চেহারা, আকর্ষণীয় চাহনি। চট্টগ্রাম ভ্রমনের সুপ্ত কারণ পূর্ন হল এবার। প্রথম কয়েক মিনিট আমাকে দেখে সে নির্বাক ছিল। পরে জোরে এক চিৎকার দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল। কোনদিন কল্পনাও করেনি আমি এভাবে ওর সামনে হাজির হব। খুব ভাল লাগল আমি ওর অকল্পনীয় কল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করেছি। আমি ওর রুমের চারপাশ দেখতেছি। পুরা রুম জুড়ে শুধু তিশা। ওর হাতে আকা ছবি, ওয়ালমেট, হাজারো পুরস্কারের ক্রেস্ট পুরা রুম জুড়ে আছে। শুধু মাঝখান থেকে ঝরে গেছে তার সেই প্রতিভা যা ওকে করত পুরা স্কুল ফার্স্ট। এফেয়ার জনিত সমস্যার কারণে জীবনের ক্যারিইয়ারে অনেক পিছনে পড়ে গেছে। কিছু কিছু শুনলাম ওর সমস্যা । শুধুই স্বান্তনা দেওয়া আর চোখ দিয়ে দু’ফোটা অশ্রু সংবরন ছাড়া কিছুই করার ছিলনা সেদিন...


ঢাকা ৩৩ কি.মি.....

কোন এক মন্ত্রীর জন্য দুই ঘণ্টা লেইট হল। চাচার মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। ‘এই দেশের যে কি হবে? সবকিছুতেই আনডিসিপ্লিন্ড।‘ দেশের ব্যপারে রাগ প্রকাশ করতেই প্রসংগ চলে গেল রাজনীতির দিকে। দেশের এই বর্তমান অরাজক পরিস্থিতিতে কিইবা বলার আছে। শুধু এইটুকুই মনে করছিলাম যে ঢাকার বাইরে দুইদিন কৃত্তিম শান্তিতে কাটাব। কোন খবর শুনবনা, টিভি দেখবনা,ইন্টারনেটে যাবনা। কিন্তু সেটা আর হয়নি। বড় মামার সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও কথা হল রাজনীতি নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার গল্প তাই বহুবার শুনেছি উনার কাছে। এবার শুরু হল মুক্তিযুদ্ধে রাজাকার দের অপকর্মের কাহিনী। শিবির এর উত্থানের ইতিহাস। শিবির নিধনের এই কাজকে মামা প্রশংসা করলেন। বাহ! এসব শুনে আমি এটাই বললাম যে মাথা ব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলা কোন সমাধান হলে সরকারের এই কাজকে আমিও সাধুবাদ জানাই। রাবি তে যে ফারুক নিহত হল সে যেমন আমার ভাই তেমনি আবু বকর, মহিউদ্দিনও আমার ভাই। ভাইয়ে ভাইয়ে এই সংঘাত আমি মেনে নিতে পারছিনা। ব্যক্তি বিশেষের অন্যায়কে পুরা সংগঠনের উপর চাপিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ের সংঘাতকে আমি আরো উস্কে দিতে পারিনা। রাজনীতি কেন সবসময় প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়?? আর গণতান্ত্রিক সরকারের এই কাজ কে আমি কখনই সাপোর্ট দিতে পারছিনা। নিরপেক্ষ বিচার হলে সেখানে আমার আপন কেউ দোষী হলে আমি মেনে নিতে প্রস্তুত আছি, কিন্তু কেন এই পক্ষপাতিত্ব?? লীগ কি একদম সাধু? তাদের কি কোন দোষ নাই? এই প্রশ্নের জবাব মামা দ্রুত দিলেন। বললেন লীগও চরম খারাপ, তবে শিবির থেকে ভাল। মানে খারাপের ভাল। তাহলে কিভাবে আপনি এই খারাপে খারাপের সংঘাতকে উস্কে দেবার জন্য সরকারকে প্রশংসা দিচ্ছেন। লীগ হোক আর শিবির হোক আমার ভাই তো তারা। তাদের মধ্যে হানাহানিকে আপনি কেন ভাল চোখে দেখছেন। তুই তো ইতিহাস জানিসনা। তাই এসব বলছিস। মামার এই কথার প্রেক্ষিতে বললাম মামা বর্তমান যা দেখছি ইতিহাস কি আদৌ দেখার প্রয়োজন আছে আমার?? ইতিহাসের পুনারবৃত্তি হচ্ছে বারবার...

মাঝে মাঝে আমি চিন্তা করি নেক্সট জেনারেশান কে আমরা অনেক জিনিস উপহার দিতে পারব। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে তাদের আমরা সুন্দর সুন্দর ইতিহাসের কাহিনী শোনাতে পারব। ইনফ্যাক্ট যুগের পরিবর্তনে ততদিনে নিশ্চয় জ্বীন-ভূতের কাহিনী তাদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা হারাবে, তারা হয়ত দাদী-নানীর কোলে শুনে এসব শুনতে চাইবেনা। তখন তাদের কি বলে গল্প শোনাব...হয়ত গল্প হবে এরকম...

.....এক সময় ছিল ডিজিটাল যুগ। সেসময় যদি কেউ খুন হত তাহলে খুব রহস্যজনক ভাবে সেই খুনের কোন কিনারা পাওয়া যেতনা। হোটেলে রহস্যজনকভাবে কোন এক হতভাগ্য নারীর গলা কাটা লাশ পাওয়া যেত। রহস্যজনকভাবে কিছু খুন হত বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আর কিছু খুন হত মহা গুরুত্বপূর্ণ। সেই খুনের দাবানল রহস্যজঙ্কভাবে পুরা দেশে ছড়িয়ে যেত। যদি কেউ কোন খুনের কিনারা করতে যেত তাহলে সে আরো রহস্যের অক্টোপাসে জড়িয়ে যেত। সেই ডিজিটাল যুগে ছিল শুধুই রহস্য আর রহস্য...জানিনা এই গল্প কতটুকু গ্রহণযোগ্য পাবে তার কাছে।চিন্তায় আছি...

ওয়েলকাম টু ঢাকা......রাত ২.৩০

কিছুটা নিদ্রা ভঙ্গের পর জেগে দেখি ঢাকায় চলে এসেছি। রাতের ঢাকাকে দেখতে অসাধারণ লাগছিল। কিন্তু আবার যান্ত্রিক জীবনে ফিরে যাচ্ছি এটা চিন্তা করে মনটা খারাপ হয়ে গেল। সেই ক্যাম্পাস, সেই পড়াশুনা, সেই ব্যস্ততম দিন। আমার এক ফ্রেন্ডের সবসময় ইচ্ছা সে লাইফে শুধু একজন চিকিৎসকই হবেনা, সে মানবতার জন্য কাজ করবে। আরো অনেক স্বপ্ন তার। কিন্তু এখন তার চিন্তা শুধুই নিজেকে নিয়ে। কারণ সে নিজের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। একজনকে ভালবাসে। সেই ভালবাসাই তার জী্বনের মটো চেইঞ্জ করে দিয়েছে। ভালবাসা কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সে এখন তার ফ্যামিলিকেও ত্যাগ করতে রাজি। আর মানবতা??? সে তো অপরিপক্ক আবেগের কথা। সবাই পারসোনাল সমস্যা নিয়ে এত বিজি, মানবতাকে নিয়ে চিন্তা করার টাইম কই? ক্যাম্পাসে আড্ডা, গল্প খুব বেশি ভাল লাগেনা। একই টপিকস নিয়ে ডিসকাসন ভাল লাগেনা। তারপরও সেই বিরক্তিকর ভুবনটাও মেইন্টেইন করতে হয় অনেক বেশি টাইম।
পরিবারের সান্নিধ্য খুব বেশি ভাল লাগে। এখনও দাদী-নানীর কোলে শুয়ে গল্প শুনতে ইচ্ছা করে। এই ভুবনে ইচ্ছা করলেও বেশি টাইম দেওয়া যায়না। ভার্চুয়াল জগতে পুরা বিশ্বের সাথে কানেকশান আমাকে গতিশীল রাখে। নিজের সত্তা আর বাইরের সত্তার সাথে মিলানোর চেষ্টা এই ভার্চুয়াল জগতে। এই ভুবনটাও আমার অনেক কাছের। কিন্তু এখানেও বেশিক্ষন থাকতে পারিনা। আর সম্পূর্ণ নিজের একটা ভুবন আছে যেখানে আমি সবকিছুতেই রাজা। স্বাধীনভাবে চিন্তা করি, কারো কোন হস্তক্ষেপ নাই। নিজের মত কল্পনা জগতে ঘুড়ি ওড়াতে পারি। ইচ্ছা করলেই পাখির মত আকাশে উড়ে যেতে পারি, কিংবা সবুজ মাঠ ধরে গ্রাম্য কিশোরীর মত দূর-বহুদূর হেটে যেতে পারি। কিংবা শরতের বিকালে সাদা মেঘের মত ভাসতে পারি, কিংবা সাগরের নীল ঢেউয়ে নিজেকে একাত্ব করতে পারি ডুবে যাওয়া রক্তিম সূর্যের সাথে...... কিন্তু ,কিন্তু এখানেও বেশি বিচরন করা যায়না। ব্যস্ততম জীবন কি দিল আমাকে! এক সত্তায় বহু ভুবনের জুগপৎ বসবাস...নিজেকে একটি কানেক্টিং স্টকের মত ভাবতে সাহায্য করছে। জগতের নিয়ম মনে হয় প্রতিনিয়ত নিজেকে শুধুই বহু ভুবনের সাথে কানেক্ট করে যাওয়া...


* ছবিতে ফারদিন ও তাশফিন।

বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১০

আজো আছি তোমার প্রতীক্ষায় ...

চেতনার একফোটা শিশির

জানি তুমি আসবে, তুমি আসবে বলেই আমার এ প্রতীক্ষা
অনুরোধ একটাই, তুমি আসবার আগে আমাকে কিছু সময় দিও
দেবে তো??
কি যে বল! সময় না দিলে আমি নিজেকে সাজাব কিভাবে বল?
সারাটা জীবন প্রতীক্ষায় আছি তোমার
একবার মাত্র দেখা পাব, না সাজলে কি হয় বল?
তাইতো আমার এ অনুরোধ। প্লিজ রেখো...

কিভাবে সাজব? তুমি জানতে চাও?
আচ্ছা! তুমি বলো তো কিভাবে সাজব আমি?
আমার সারাজীবনের সঞ্চয় তোমার জন্য
দেখ, কত্ত কি জমিয়ে রেখেছি, গ্রহণ করবে তো?

কিছুদিন আগে দেখলাম তুমি এসেছিলে
তখন অনেক কেঁদেছিলাম তুমি আসার জন্য
আচ্ছা! তখন কি তুমি রাগ করেছিলে আমার উপর...

তুমি অনেক স্বার্থপর ,আমি জানি
তুমি আমার অনুরোধ রাখবেনা, তাও জানি
কিন্তু তারপরও তোমাকে ভালবাসি
তুমি আছ বলেই তো জীবনকে অনুভব করতে পারি
তুমি আছ বলেই আমার চিন্তা জগতের প্রতিটি কণায়
তোমার অস্তিত্ব আমাকে ভাবতে শেখায় আর গভীরভাবে
তাইতো তোমার জন্যই আমার এ প্রতীক্ষা

তুমি বিশ্বাস করো। তোমাকে আমি ভুলিনি
কিভাবে ভুলবো বলো?
জীবনে চলার পথে অন্যের মাঝে বহুরূপ তোমার আমি দেখেছি
তবুও একবারও দেখা দাওনি আমায়
ও আচ্ছা! অস্তিত্ব মনে করিয়ে দিতে এসেছিলে

কিন্তু কেন? আমি তো তোমাকে ভুলিনি...
হয়তোবা অনেক সময় তোমাকে মনে করতে পারিনি
তোমার জন্য বেশি কিছু মনের মত করে গুছিয়ে নিতে পারিনি
কিন্তু দেখ আমার অ-নেক ইচ্ছা ছিল তোমার জন্য কত্ত কি গোছাব!
জানি অনেক সময় তুমি আমাকে দিয়েছ
তারপরও আমি পারিনি, তাইতো বলছি
আরো কিছু সময় দিও তুমি আসার আগে

তুমি অনেক নিষ্ঠুর, আবেগহীন, নিথর
আমার এ অশ্রুসিক্ত আবেদন তোমাকে বিন্দুমাত্র নাড়া দেবেনা
তারপরও যদি পারো এই হৃদয়ের সিঁড়িতে একবার বিচরন কোরো

ভুল আমি করেছি, হয়তোবা এই ভুল
আমার তোমার প্রতি ভালবাসাকে আরো গভীর করেছে
তাই যে সময় তোমার জন্য দিতে পারিনি
যে সময়ে অনেক কিছু করার ছিল, করতে পারিনি
তা যেন পুষিয়ে নিতে পারি, অন্তত এইটুকু সময় তুমি আমাকে দিও

তোমাকে এত্ত ভালবাসি আমি, ভালবাসার দাবিতে বিচার করো আমাকে
জানি, তারপরও তুমি আমাকে না জানিয়েই চলে আসবে
আমাকে কিছুই গোছাতে দিবেনা, দুঃখ নেই তাতে
সান্ত্বনা শুধু একটাই তোমাকে আমি সত্যি অনেক ভালবাসি
ভালবাসি বলেই তোমাকে অনুরোধ করছি, তোমাকে ছাড়া আর কাকে করব?
নাহ! ভালবাসার কোন প্রমাণ আমি দিচ্ছিনা
সত্যিকার ভালবাসার কোন প্রমাণ হয় বল?
যখন তুমি এসে দেখবে তোমার জন্য অনেক জিনিস গুছিয়ে রেখেছি
তখন নিশ্চয় আমার উপর অভিমান করে থাকবেনা
আমাকে পূর্বের ভুলের জন্য কষ্ট দেবেনা...

যে নিঃসীম ভালবাসা তোমার জন্য, তুমি বুঝবে তো?
জানি আমার থেকেও তোমাকে অনেকে অনেক বেশি ভালবাসে
তাদের মত করে হয়ত পারিনা,কিন্তু...
তারপরও আমার ভালবাসা তো আর মিথ্যা না।
তাই আবার অনুরোধ করছি, আমার সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিও

আমার অনুরোধ গুলো রাখবে এই প্রতীক্ষায়
আমার অশ্রুর প্রতিটা কণা অপেক্ষমান

হৃদয়ের প্রতিটি সংকোচন-প্রসারণ অধীর চিত্তে প্রহর গুনছে
কিন্তু...
নিউরনের প্রতিটি অনুরননে তোমার অনুপস্থিতি আমায় বলছে
তুমি আসবে, না জানিয়েই আসবে...
তাইতো তুমি যেন এসে আমাকে দেখে খুশি হও
একারনেই প্রতীক্ষায় থাকলাম...

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০০৯

পৃথিবী, আজ আমার ছেলে প্রথম স্কুলে যাচ্ছে ( world, my son starts school today!)

আত্মসম্মানবোধের মূলকথা আব্রাহাম লিঙ্কনের নিচের এই লেখাটাতে যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে তার থেকে ভাল করে প্রকাশ করা যায়না...

হে পৃথিবী, আমার সন্তানের হাত ধর, সে আজ তার স্কুলের পাঠ শুরু করল। কিছুদিন তার কাছে সবই নতুন ও বিস্ময়কর মনে হবে, এবং আমার আশা তুমি তার সঙ্গে সদয়
ব্যবহার করবে। দেখ, এ পর্যন্ত সে কাটিয়েছে এই বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই, মুরগীর ঘরগুলিতে ছিল তার আধিপত্য, বাড়ির পিছনের বাগানের সে ছিল মালিক। তার ক্ষতে ওষুধ লাগাতে আমি সবসময়ে কাছাকাছি ছিলাম, এবং যখন সে মনে আঘাত পেয়েছে আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি।

কিন্তু এখন অবস্থা অন্য রকম হবে। আজ সকালে বাড়ির সামনের সিঁড়ি দিয়ে নেমে গিয়ে পিছন ফিরে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়বে, তারপর শুরু হবে সেই মহৎ অভিযান, যা তাকে নিয়ে যাবে অনেক যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং দুঃখের মধ্য দিয়ে।

পৃথিবীতে বাঁচতে হলে বিশ্বাস, ভালবাসা ও সাহসের প্রয়োজন। সুতরাং হে পৃথিবী, আমার বাসনা তুমি তার তরুণ হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে চল, এবং জীবনে যা শেখার প্রয়োজন তা তাকে শিখিয়ে দিও।

আমি জানি, ওকে জানতে হবে যে সব মানুষই ন্যয়পরায়ণ নয়, সব নারী-পুরুষই সৎ নয়, তাকে শিখিয়ে দিও যে সংসারে দুর্বৃত্ত যেমন আছে তেমনি বিরচিত গুনাবলীর মানুষও আছে; শত্রু যেমন আছে তেমনি মিত্রও আছে। প্রথমদিকেই তাকে শিখিয়ে দিও যে উৎপীড়নকারীরা সহজেই পদানত হয়।

বইয়ের পাতায় যে অত্যাশ্চর্য ভান্ডার আছে তা ওকে চিনিয়ে দিও। ওকে কিছু নির্জনতা দিও, যখন ও আকাশে পাখির ওড়া, সূর্যের আলোয় মৌমাছিদের ঘোরাফেরা কিংবা সবুজ পাহাড়ে ফুলের সমারোহ দেখে ভাবতে পারবে। ওকে শিখিও, অসৎ উপায় অবল্মবন করার থেকে অসফল হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। ওকে শিক্ষা দিও, যদি অন্য সকলে বলে যে ওর ধারণাগুলি ভুল তবুও যেন ও নিজের বিশ্বাসে অটল থাকে। আমার ছেলেকে শক্তি দিও। অন্য সকলে যখন ঠেলাঠেলি করে কোনও প্রত্যাশায় গাড়িতে ওঠে, তখন ও যেন জনতাকে অনুসরন না করে। শিক্ষা দিও যেন অন্যের কথা শোনে, কিন্তু যা শোনে তা যেন সত্যের ছাঁকুনিতে ছেঁকে নিয়ে যে সারটুকু থাকে তাই গ্রহণ করে।

শিক্ষা দিও, কখনও নিজের হ্রদয় ও আত্বাকে বিক্রয়যোগ্য না করে। শিক্ষা দিও যেন উচ্ছৃংখল জনতার চিৎকারে কান না দিয়ে নিজে যা সঠিক মনে করে তার জন্য লড়াই করতে পারে।
সহ্রদয়ভাবে শিক্ষা দিও, পৃথিবী, কিন্তু অধিক প্রশ্রয় দিওনা; কারণ আগুনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেই উত্তম ইস্পাত তৈরি হয়।
এটি খুবই দীর্ঘ প্রত্যাশা, কিন্তু দেখ কতটা করা যায়। ও এত ভালো ছেলে...

আব্রাহাম লিঙ্কন

শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০০৯

অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ??


মন মন মন মন তো চাইল,বিবাহিত আমি তাতে কি হল?
অনুভূতিরা কি বাধ্যতামূলক একই থাকে অহর্নিশ?
..................................................
সে ছিল তখন ১৯,আমি তখন ৩৬
প্রেমে পড়তে লাগেনা বয়স,মনে থাকেনা ১৯/২০......

নচিকেতার গান বাজছিল মোবাইলে। বান্ধবীরা সব মিলে এক জম্পেশ আড্ডা দিচ্ছিলাম। কথার ফাকে একজন বলে উঠল '' y ক্রোমোসোম হচ্ছে ক্রিমিনাল ক্রোমোসোম''। আড্ডার টপিক টার্ণ করল এবার y ক্রোমোসোমে। সাথে চলছে নচিকেতার 'পেসমেকার' গান...মোটামুটিভাবে এই গানকেই পুরুষের সাইকোলোজি বিশ্লেষণের জন্য আইডিয়াল ধরা হয়েছে। পুরুষবিদ্বেষী অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমি কিছুটা নিরব। ঠিক বুঝতে পারছিলামনা কোন এংগেলে কথা বলব এব্যাপারে। চিন্তা করছিলাম গানের প্রতিটা লাইন। একটা পুরুষের ক্ষেত্রে এটা যেমন সত্য, একটা মেয়ের জন্যও এটা সত্য। তাই আড্ডায় ভালভাবে জয়েন করতে পারছিলামনা।
আরে তুই কিছু বলছিস না যে? একজনের প্রশ্নে কিছুটা প্রস্তুত হয়ে বললাম অনুভূতিরা তো আসলেই বাধ্যতামূলক একই রকম থাকেনা। বুঝতে ছিলাম এটা বলার পর সব আলোচনা আমার দিকে টার্ণ করবে। তাই হল...
বললাম দোস্ত ভুল বুঝিসনা। পুরুষরা খুব এডভেঞ্চার প্রিয় হয়। মেয়েরাও কি কম? হয়ত পুরুষের সেই এডভেঞ্চার ফেইস করার সাহস আছে কিন্তু নারীর সেই সাহস কিছুটা কম। নারী অনেক সহনশীল হয়। মাতৃত্বসুলভ উদারতা নারীর মধ্যে অনেক বেশি প্রকট।
আমার এই কথার ফাঁকে একজন বলল কেনই বা হবে না? ইস্ট্রোজেন হরমোন নারীর মাতৃ্ত্বসুলভ বৈশিষ্ট্য আরো বাড়িয়ে দেয়। এটা শুনে একজন হাসতে হাসতে বলল ''হুম আসলে সবই হরমোনের একশান-রিএকশান''।
আলোচনার টপিক অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে। তাই বললাম এককভাবে পুরুষবিদ্বষী আমি না। ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষ ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়ে। সেই মেয়ে এটা জেনেও যদি তার সাথে প্রেম করে তাহলে পুরুষের দোষ এককভাবে কেন আসছে?
দেখ সেতু তুই কিন্তু নারীবিদ্বেষী কথা বলতেছিস...একজনের এই কমেন্টে আমি বললাম আজব তো! আমি কেন নারী বিদ্বেষী কথা বলতে যাব?
মেয়েটার বয়স কম। একটু আবেগী,সে অনেক কিছুই বুঝেনা। তাই বলে বাবার বয়সী লোকটা কেন ১৯ বছরের মেয়ের প্রেমে পড়তে যাবে? এক বান্ধবীর খুব রাগতস্বরে এটা বলল।
দেখ আমরা কিন্তু মেয়েটার দোষ কে টলারেট করছি। বাট পুরুষেরটা করছিনা। একটা সমাজে বিশৃঙখলার জন্য এককভাবে কখনও কোন পুরুষ দায়ী থাকতে পারেনা। তুই বল নারীদের সহযোগীতা না থাকলে পুরুষরা কি একাই নারীদের শোষণ করতে পারত? এটা কি লজিক্যাল?
আড্ডা খুব জমে গেছিল সেদিন...
নারীরা এখন পুরুষদের দ্বারা ঘরে ও বাইরে সর্বত্র অপমানিত হচ্ছে। একটা সময় মনে করা হত নারী শিক্ষায় নারীকে মুক্তি দিবে। কিন্তু দেয় নি। নারী আজ শিক্ষিত, অফিসে কাজ করছে পুরুষের পাশাপাশি। কিন্তু নারীর মুক্তি মিলেনি। এর জন্য পুরুষের কতৃ্ত্বপূর্ণ মনোভাব দায়ী কিন্তু নারীরও দোষ আছে। একজন শিক্ষিত ও আত্বমর্যাদাশীল নারী কি অন্যের দ্বারা সহজেই ডাইভার্ট হয়?
তোদের সেন্সে কি বলে? আমাকে একটা ছেলে প্রোপোজ করলেই তার স্মার্টনেস,বাড়ি,গাড়ি,টাকা-পয়সা দেখেই তাকে ইয়েস বলে দিব? কিংবা আমার অনেক ছেলে বন্ধু আছে। শুধু বন্ধুত্বের খাতিরেই তাদের সাথে কি দিন নাই রাত নাই আড্ডা দিব,ঘুরতে যাব,সারা রাত মোবাইলে কথা বলব?
আসলে সব রিলেশনের একটা লিমিট আছে। কনসাসলি সেই লিমিটেশন মেনে চললে কিন্তু কোন প্রবলেম হয়না। আর বয়ঃসন্ধিকালীন যে সমস্যা সেটা ওভারকাম করার জন্য আমাদের দরকার সঠিক পারিবারির ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। কিন্তু আমরা কিন্তু সমাধানের দিকে না যেয়ে উলটা বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা কে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত।
এটা শুনে একজন বলল
- হতে পারে আমাদের দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা সুষ্ঠু না।এখানে সার্টিফিকেটে/নম্বরের প্রতিযোগীতা চলে।কিন্তু সুন্দর একটা বন্ধুত্বের পরিবেশ কিন্তু আছে।
-ওহ! তাই নাকি...তাহলে আমাকে বল ১৯ বছরের মেয়েটা যখন ৩৬ বছরের বিবাহিত পুরুষের সাথে প্রেম করছে তখন নিশ্চয় সেটা তার বন্ধুরা জানত।
- তো! জানলেই কি...এটা একেকজনের পারসোনাল ম্যাটার। এসব নিয়ে তার বন্ধুরা কেন ইন্টারফেয়ার করবে?
- হুম! এটাই হচ্ছে ব্যাপার। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কের মধ্যে পেশেন্ট-ডক্টর রিলেশনশিপ নাই। একজন ডক্টর একজন পেশেন্ট কে ট্রিটমেন্ট করে এবং নিজেও সেইফ থাকে। আমরা বন্ধুরা কি তাই করি? আমার খুব কাছের বন্ধুর খারাপ কাজ দেখেও এটা যার যার পারসোনাল ব্যাপার মনে করে এভয়েড করে যাই। আমাদের বন্ধুত্বের রিলেশনে কেউ ডক্টন নাই। এখানে সবাই পেশেন্ট। এটাকে কি তুই সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ বলবি?
-না আসলে দেখ এভাবে তো চিন্তা করে দেখা হয় নি।
আসলে এটাই ফ্যাক্ট। আমরা সমস্যার এক চেইন রিএকশানের মধ্যে আছি। বাহ্যিক দিক থেকে সমাধানের চেষ্টা করতে যেয়ে সমস্যা আরো বেড়েই যাচ্ছে।
নাহ! আড্ডার পরিবেশটা খুব থমথমে হয়ে গেছে। আবার নচিকেতার গানে ফিরে গেলাম...

সব পুরুষই যেমন হয় আমিও আলাদা নয়...হু এডভেঞ্চারিস্ট...
....................................................................
তখন আমার অনেক বয়স হাসপাতালে বাইপাস
অপারেশন গেছে হয়ে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস!
ডাক্তার এসে দাড়াল, চিনলাম তার হাসি দেখে
লজ্জায় মুখ সরালাম তাই সে বলল আমায় ডেকে
পেসমেকার ভেবোনা যেটা রেখেছি তোমার বুকে
ভেবো আমার মাথা যেন আজো আছি মাথা রেখে...
........................................................
........................................................