<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551</id><updated>2012-02-16T13:58:02.170+06:00</updated><category term='নারী ভাবনা'/><title type='text'>রেইন স্পট</title><subtitle type='html'></subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>54</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5389549062856089603</id><published>2011-09-23T16:58:00.004+06:00</published><updated>2011-09-23T17:53:27.134+06:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='নারী ভাবনা'/><title type='text'>মানসিক দাসত্ব !</title><content type='html'>একজন নারীর সফল ক্যারিয়ার আসলে কি হওয়া উচিত এটা নিয়ে পুর্বের পোস্টে  ব্যাপক আলোচনা হল। শুধু যে আলোচনাই হল তা নয়, আমাকে পারসোনালি অনেকের কাছ  থেকে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্নের এন্সার দিতে হল। যেহেতু আমি মেডিকেলে  পড়ছি সুতরাং আমি প্রফেশনালি মানবতাকে সার্ভ করব এই প্ল্যান নিয়েই পড়ছি।  তাহলে কি আমার পূর্বের পোস্ট অনুযায়ী সফল ক্যারিয়ারিস্টিক নারী হিসেবে আমি  নিজেকে দেখতে পাব? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি কখনও নারীর উচ্চশিক্ষার বিরুদ্ধে না, নারীর বাইরে জবের বিরুদ্ধে  না। কারণ কেবল নারী মুক্তি নয় আমাদের সকল মানসিক দাসত্বের মুক্তির জন্য  শিক্ষা প্রয়োজন। কুরআন শুরু হয়েছে "পড়" শব্দ দিয়ে। সেখানে নারী শিক্ষা নিয়ে  আমি স্পেসিফিক্যালি কিছু বলতে চাইনা। কথা হচ্ছে নারীর সফল ক্যারিয়ার নিয়ে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যদি নারীরা মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত না হয় তাহলে অনেক হাই ডিগ্রি,  অনেক বড় জব করেও তারা মুক্ত হতে পারবেনা, স্বাধীন হতে পারবেনা। যদি সন্তান  পালন, সংসার করাকে নারীত্বের অবমাননা মনে করে নারীরা তাহলে পুরুষের  পাশাপাশি বাইরে জবও তাদের ক্যারিয়ারে এক্সট্রা কিছুই যোগ করবেনা। বরং কেবল  সুপার উইমেন হবার চেষ্টা তাদের মানসিক ও শারীরিক বার্ডেন বাড়াবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটু চিন্তা করে দেখেন, নারীরা এখন হাইয়ার ডিগ্রি নিচ্ছে, বাইরে জব  করছে কিন্তু সন্তান জন্মদান ও লালন পালনের প্রাইমারি কাজ নারীরা কখনও  ওভারলুক করতে পারবেনা। কারণ নারীরা যদি হাজার আন্দোলনও করে তাহলে পুরুষরা  তাদের এই প্রাইমারি কাজ শেয়ার করতে পারবেনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বেগম রোকেয়া নারীদের মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তি দিতে গিয়ে বহু আগেই লিখে গিয়েছেন ঠিক এভাবে,  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;&lt;i&gt;"এই অলংকারের জন্য ললনাকূলের কত আগ্রহ! যেন জীবনের সুখ সমৃদ্ধি  উহারই উপর নির্ভর করে! তাই দরিদ্রা! কামিনীগন স্বর্ণরৌপ্যের হাতকড়ি না  পাইয়া কাচের চুড়ি পরিয়া দাসী-জীন সার্থক করে। যে (বিধবা) চুড়ি পরিতে  অধিকারিনী নহে তাহার মত হতভাগিনী যেন এ জগতে নাই! অভ্যাসের কি অপার মহিমা!  দাসত্বে অভ্যাস হইয়াছে বলিয়া দাসত্বসূচক গহনাও ভাল লাগে। অহিফেন তিক্ত  হইলেও আফিংচির অতি প্রিয় সামগ্রী। মাদক দ্রব্যে যতই সর্বনাশ হউক না কেন,  মাতাল তাহা ছাড়িতে চাহেনা।সেইরূপ আমরা অঙ্গে দাসত্বের নিদর্শন ধারণ করিয়াও  আপনাকে গৌরবান্বিতা মনে করি-গর্ব্বে স্ফীতা হই! "&lt;/i&gt;&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন আসি, বর্তমান এই উচ্চশিক্ষা এবং বাইরে জব আসলেই নারীকে মানসিক  দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছে কিনা! পূর্বে আয়ের সোর্স কেবল পুরুষরা ছিল তাই  তাদের পরিবারে ও সমাজে আলাদা একটা মর্যাদা ছিল। যেহেতু নারীদের আয়ের সোর্স  ছিলনা তাই তারা নিগৃহিত ছিল ঘরে। কিন্তু এখন? নারীদের উচ্চশিক্ষা আছে,  উপার্জন করছে। তারা এখনও নিগৃহিত হচ্ছে ঘরে এবং ঘরের বাইরে। কিভাবে?? &lt;br /&gt;আমি যখন দেখি ইউনিভার্সিটি তে পড়া মেয়েরা যারা পড়াশুনা করছে কেবল জবের  উদ্দেশ্যে তারা অবসর সময়ে শপিং করতে খুব ভালবাসে, হিন্দি সিরিয়ালে কে কি  ড্রেস পড়ল, কে কি গহনা পড়ল, কি কিভাবে সাজল সেটা নকল করতে ভালবাসে।  কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজেদের পণ্য করতেও দ্বিধা বোধ করেনা। শেভিং ক্রিম থেকে  শুরু করে এমন কোন প্রোডাক্ট নেই যেখানে নারীদের পণ্য করা হচ্ছেনা। টিভিতে  বিজ্ঞাপনে এই আধুনিক যুগেও যখন নারীদের দেখানো হয় টিপিক্যাল সেই সংকীর্ণ  চিন্তা ভাবনা দিয়ে, যেখানে একজন নারী পাশের মহিলার সুন্দর গহনা,শাড়ি দেখে  নিজের হাজবেন্ডের সাথে ঝগড়া বাধায়, যেখানে একজন নারী সাবানের মডেল হয় কোমল  ত্বকের অধিকারী হবার জন্য যা হাজবেন্ডের মন যুগাবে সেখানে আমি কিভাবে বলব   নারীর তথাকথিত উচ্চশিক্ষা ও বাইরে জব তাদের মুক্তি দিয়েছে, তাদের সত্যিকার  মর্যাদা দিয়েছে, তাদের কে সফল ক্যারিয়ারিস্টিক নারী হিসেবে সমাজে  প্রতিষ্ঠিত করেছে? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি কেবল নারীকে তার ভ্রান্ত চিন্তা-বিশ্বাস থেকে উঠে আসতে বলেছি।  বলেছি পুরুষের মত অনুকরণে নয়, পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে নয় বরং নারীর  মুক্তি আসবে নারীর স্বাতন্ত্রে। নারী তার নারী সত্তা দিয়ে নিজেকে পূর্ণরূপে  বিকশিত করতে পারবে। সন্তান ধারণ করা নারীত্বের সবচেয়ে সাফল্যময় দিক,  সন্তানকে পালন করা তার ক্যারিয়ারের একটা মূল্যবান সাইড। যারা বাইরে জব  করেনা তারা যেন মনে না করে তাদের উচ্চশিক্ষা সব বিফলে গেল, কারণ এখন সন্তান  কে ভবিষ্যত পৃথিবীর জন্য তৈরি করা উচ্চশিক্ষা ছাড়া সম্ভব না। নারীকে ভাবতে  হবে, শিক্ষা কেবল আয়ের উৎস নয় বরং নিজেকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্তির  অনন্য উপায়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আহমাদ মুসাফফা, নাজমুসসাকিব নির্ঝর,সত্য কন্ঠ ও শিহান মির্জার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরছি...... &lt;br /&gt;&lt;b&gt; &lt;br /&gt;আহমাদ মুসাফফা ভাইয়া প্রশ্ন করেছেনঃ&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মেয়েদের চাকুরী না করতে বলা হলে কিছু ethical প্রশ্ন আসতে পারে । যেমনঃ &lt;br /&gt;১.আমার ক্লাসের মেয়েরা আমার মতই কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশুনা করছে ।  এখন তাদেরকে যদি চাকুরী না করতে বলা হয় তাহলে সেটা কি অবিচার হবে না? &lt;br /&gt;২ সন্তান পালন করাই যদি আসল কাজ হয়ে থাকে তাহলে এত কষ্ট করে  প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নামিদামি ভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ার  হয়ে বের হওয়াতে স্বার্থকতা কোথায়? &lt;br /&gt;৩ মেয়েরা মেধায় কম যায়না । যেমন আমাদের ক্লাসে ফার্স্ট সেকেন্ড দুইজনই  মেয়ে । ক্লাসের অন্য মেয়েরাও খুব ভাল । তারা কি ছেলেদের মত কম্পিউটার  প্রোগ্রামার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেনা? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;জবাবঃ &lt;br /&gt;# নাজমুসসাকিব নির্ঝর ভাইয়া জবাব দিয়েছেন এইভাবে,&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"পুরা ব্যাপারটার শুরু কোথায়? ব্যাপারটার শুরু হয়েছে একটা ডিপলি রুটেড  আন্ডারভ্যালুয়েশন থেকে। যেসমাজের পুরুষ এবং নারী উভয়েই ঘরের সেই ছেলের বউ  কে খুব দাম দেয় যে বড় চাকরী করে। আর যে বউটা বাসায় থেকে ঠিক মত ছেলে মেয়ে  গুলোকে "মানুষ" করে তাকে অবহেলা করে। অথচ তারা জানেনা যে দ্বিতীয় কাজটা  লিটারেলি এবং মেটাফরিকালি কি প্রচন্ড রকমের প্রয়োজনিয় কাজ। দ্বিতীয় কাজটা  হচ্ছে একটা কন্ট্রিবিউশন টু এন্টায়ার সিভিলাইজেশন। &lt;br /&gt;একজন যথার্থ সুশিক্ষিত মায়ের অভাবই একটা বাচ্চাকে অমানুষ বানাইতে  যথেষ্ঠ। এবং আমরা আজকের যে পশ্চিমকে দেখছি এই পশ্চিমের তরুনদের অনেকেই  এসেছে এইরকম ক্যারিয়ারিস্ট মা’র কাছ থেকে। তাদের বেড়ে ওঠার উপর এর একটা  সাংঘাতিক প্রভা...ব আছে। তুই চিন্তা কর, একদম ছোট বেলায় যদি মা বাসায় না  থাকত তাইলে আমরা কী করতাম? ৫০ বছর আগের পশ্চিম এর ক্ষেত্রে হয়ত এরকম মা’র  কাছ থেকে আসা সন্তানের সংখ্যা ৩০% বা আরো কম ছিল। সেসময় অপরাধপ্রবনতাও আরো  কম ছিল। হয়ত এই কোরিলেশনটা টু মাচ সিম্পলিস্টিক হয়ে গেল। কিন্তু পশ্চিম  স্বীকার করুক আর নাই করুক নিঃসন্দেহে এটা সবচাইতে ইম্পর্টেন্ট ফ্যাকটর  গুলোর একটা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মির্যা গালিব ভাইয়ের ফেমিনিসম বিষয়ক একটা সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা  বারবার মনে পড়তেছে, তিনি বলেছিলেন মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া ফেমিনিসম এর  প্রতিরোধ সম্ভব না। মুখে খুব ইসলাম ইসলাম করা আর বাসায় যেয়ে বউকে বলা যে  "আরে তোরে খাওয়াই আমি তুই কথা শুনবিনা কেন"? এইটাই ফেমিনিস্ট মুভমেন্ট এর  মোমেন্টাম হিসাবে যথেষ্ট। তিনি আরো বলেছিলেন, যদি মা'র কন্ট্রিবিউশন টা  যথাযথ স্বীকৃতি পাইত তাইলে খুব কম মেয়ে (লেখিকার ভাষায় সুপার উইমেন) পাওয়া  যাইত যারা এই রোদ্রের মধ্যে নিজের ইচ্ছায় বাসে ঝুলে অফিসে যাইতে চাইত।" &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt; &lt;br /&gt;শিহান মির্জা জবাব দিয়েছে এইভাবে,&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"প্রশ্নগুলো/আপত্তিগুলো apparently খুব শক্তিশালী। কিন্তু, এগুলো scrutinize করলে এগুলোকে refute করা সম্ভব। &lt;br /&gt;১) বর্তমান দুনিয়াতে পড়াশোনা করার পিছনে যে মাইন্ডসেট কাজ করে তা  হচ্ছে ভালো একটা জব পাওয়া, ভালো জীবিকার ব্যবস্থা করা এবং পারলে খ্যাতি  অর্জন করা। এখন কথা হচ্ছে, এই কারণগুলো আসলেই জ্ঞানার্জনের পিছনে যে মূল  Ethical Reason (i.e. To serve Humanity [from secular perspective] or to  serve Islam [From an Islamic perspective])থাকার কথা সেগুলোর খিলাফ কিনা  তা ভাবার সময় আসছে। কম্পিউটার সাইন্সের জ্ঞান শুধু জবেই কাজে লাগতে পারে,  এর বাইরে কাজে লাগতে পারে না সেটা মনে হয় ঠিক না। উম্মাহকে সার্ভ করার জন্য  এর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর অর্জিত জ্ঞানকে কিভাবে তাদেরকে তাদের মূল কর্তব্য  থেকে না সরিয়ে ব্যবহার করা যায় সেটা ভাবতে হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২) সন্তান লালনপালন করার জন্য সুশিক্ষিত মায়ের প্রয়োজনীয়তা অনেক অনেক  বেশী। একটা সন্তানের কাছে ৫ম শ্রেণী পাশ করা মায়ের চাইতে  মেডিকেল/ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী নেয়া মায়ের প্রভাব অনেক বেশী থাকবে। সন্তানের  সাথে Understanding এর ক্ষেত্রেও দ্বিতীয় শ্রেণীর মায়েদের সফলতা অনেক বেশী  থাকবে। তাছাড়া সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে যে প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সেটাও  দ্বিতীয় শ্রেণীর মায়েরা বেশী বোঝার কথা কেননা তারা নিজেরাও শিক্ষিত। সুতরাং  উচ্চশিক্ষা অর্জন শুধুমাত্র নিজের স্বার্থোন্নতির জন্য নয়। বরং,  উচ্চশিক্ষা অর্জন মুসলিম নারীদের তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করার  Potential অনেক বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা যায়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;৩) এর জবাব ১ এবং ২ নং পয়েন্টে পাবেন।" &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt; &lt;br /&gt;রেইন স্পট জবাব দিয়েছে এইভাবে,&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;"আসলে কি জানেন, আমাদের মেয়েদের মধ্যে একটি বিশ্বাস জন্মে গিয়েছে যে  পড়ালেখা যখন শিখেছি তখন অবশ্যই জব করতে হবে। আমি নিজে মেয়ে হয়ে কিন্তু  মেয়ে...দের বাইরে জবের বিরুদ্ধে কথা বলিনা। যেটা বলি সেটা হল উচ্চশিক্ষা  কখনও বাইরে জবের জন্য না বরং জীবনে প্রয়োগের জন্য। এখন একটি মেয়ের সবচেয়ে  ইম্পর্ট্যান্ট ফিল্ড হল তার সংসার &amp;amp; সন্তান। কারণ এই সন্তান ধারণের  ব্যাপার আল্লাহ পুরুষকে দেননি, তারমানে অবশ্যই মেয়েদের এইদিকে এক্সট্রা  কন্সার্ন দিতে হবে। কখনও যদি এরকম হয় আমার বাইরে জব আমার সংসার ও সন্তানের  জন্য কনফ্লিকশান হচ্ছে তাহলে অবশ্যই সংসার ও সন্তানকে গুরুত্ব দিতে হবে।  আমি নিজে মেডিকেলে পড়ছি, আমাকে বাইরে জব করতে হবে, কিন্তু অবশ্যই আমি আমার  সংসার ও সন্তানের সাইডটা প্রাধান্য দিব আগে। কারণ আমার শিক্ষা যে কেবল  বাইরে জব করেই প্রয়োগ করতে হবে এমন নয়, আমার  সন্তান,পরিবার,আত্বীয়স্বজন,প্রতিবেশি এদের মধ্যেও প্রয়োগ শিক্ষা প্রয়োগ করা  যায়। এখন সন্তান পালন করাকে যতটা সহজ কাজ বলে নারীরা মনে করছে ব্যাপারটা  ততটা সহজ না। আগে হয়ত মায়েদের উচ্চশিক্ষা না হলেও চলত কিন্তু এখন এই  সন্তানের জন্যই উচ্চশিক্ষার দরকার আছে। চাইল্ড সাইকোলজি বুঝে ফিউচার  জেনারেশানকে লিড দিতে হলে ঘরে একটি মেয়েকে কতটা ডাইনামিক হতে হবে এটা বুঝলে  মেয়েরা এখন আর বাইরে জব নিয়ে মাতামাতি করতনা। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ  ব্যাপার সেটা নিরঝর ভাইয়া উল্লেখ করেছে, মেয়েদের এই বাইরে বের হবার  আন্দোলনের ইন্ধন যুগিয়েছে পুরুষরা। কারণ তারা যদি মেয়দের ঘরে সংসার ও  সন্তান পালনের জন্য আন্ডারএস্টিমেইট না করত তাহলে নারী আন্দোলনের এই  তথাকথিত কনসেপ্ট আসতনা। যাইহোক আমি আশাবাদী এই পুরুষরা যদি এখন নারীদের  উপযুক্ত সম্মান ও অধিকার ঘরেই দেয় তাহলে উচ্চশিক্ষিত নারীরাই আমাদের  ভবিষ্যত জেনারেশান কে লিড দিবে।" &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আহমাদ মুসাফফা ভাইয়ার প্রশ্নঃ&lt;/b&gt;  &lt;br /&gt;যদি এটাই মনে হয় উচ্চশিক্ষা জবের জন্য না তাহলে একটা ethical প্রশ্নও উঠে আসতে পারেঃ &lt;br /&gt;মেয়েরা কি তাহলে পাবলিক ভার্সিটি, মেডিকেল কলেজে আসন নষ্ট করছেনা?  অন্যছেলেদের কথা নাই বা বললাম হাজার হাজার A+ গ্রেডধারী ছেলেও উচ্চশিক্ষার  এসব প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের জন্য ভর্তি হতে পারছেনা । জবই যদি মেয়েরা না করল  তাহলে এইসব ছেলেদেরই বা কেন বঞ্চিত করল? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;রেইন স্পটের জবাবঃ&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;"অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কিন্তু আমি এটা বলিনি যে উচ্চশিক্ষা করেও  সব মেয়েরা ঘরে বসে থাকবে। আমি বলেছি উচ্চশিক্ষা মানেই জব না। আর সন্তান  পালনের জন্য তারা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে ব্যাপারটা তাও না। আমি যেটা  ফিল করি সেটা হল ...প্রতিটি বাচ্চার জন্য একটা টাইম পিরিয়ড থাকে যখন মায়ের  সংস্পর্শে থাকাটা অনেক জরুরি। এরপর সেই টাইম পিরিয়ড কমে যায়, তখন বাইরে  জবের সাথে সন্তান পালন খুব একটা বৈপিরত্য হয়না। এসব আসলে সিচুয়েশান বুঝে  এনালাইসিস করার মত প্রশ্ন। আপনি যদি কোন কেইস আমাকে বলেন তাহলে সেভাবে  চিন্তা করে এন্সার দেয়া যাবে। তবে অবশ্যই যে ব্যাপারটা সর্বদা প্রাধান্য  সেটা হল সন্তান প্রতিপালন। কারণ একটি পুরুষের যেমন ফিনান্সিয়াল  রেসপন্সিবিলিটি সবার উপরে তেমনি একটি মেয়ের সন্তান প্রতিপালন সবার উপরে।  এন্সার ক্লিয়ার না হলে, প্লিজ আমাকে একটি কেইস বর্ণনা করে প্রশ্ন করেন,  তাহলে হয়ত সেভাবে এন্সার দেয়া ইজি হবে।" &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আহমাদ মুসাফফা ভাইয়ার প্রশ্নঃ &lt;/b&gt; &lt;br /&gt;মানুষের মনমস্তিষ্ক এমন এক জিনিস যে চর্চায় না থাকলে সে আসতে আসতে সে  সব ভুলতে শুরু করে । সেটা মেডিকেল বলেন আর কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-ই বলেন ।  বিয়ের পর একটি মেয়ে যদি ৫-১০বছর তার সাবজেক্টে চর্চা না করে তাহলে সে আগে  যা শিখেছিল তার বেশিরভাগই ভুলে ...যাবে । তারমানে সে এত কষ্ট করে যা শিখলো  তা "লস্ট প্রজেক্ট" ভিন্ন কিছু হবে না বলে আমার বিশ্বাস । &lt;br /&gt;এখন আমার চতুর্থ প্রশ্নের দিকে খেয়াল করুন । এখন দেখতে পাবেন ঐ মেয়ে  সম্ভাবনাময় একটি ছেলেকে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/ইকোনোমিস্ট হতে দেয়নি । না সে  নিজে হতে পারল না অন্যকে হতে দিল । &lt;br /&gt;......... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;সত্য কন্ঠের জবাবঃ &lt;/b&gt; &lt;br /&gt;আমার মনে হয় রেইন আসলে বুঝাতে চেয়েছে জব করাটা মেয়েদের ফার্স্ট  টার্গেট হওয়া উচিৎ না,কিন্তু কেউ করতে চাইলে ও তাকে বাধাও দিচ্ছেনা।যেমন  আমি......আমার ডিটারমাইন্ড ইচ্ছে আমি জব করবোনা।সেই ধরণের কোন টার্গেটই নাই  আমার।কয়েকটা কারণ আছে এর।প্রথমত আল্লা...হ আমাকে অর্থনৈতিক দায়-দায়িত্ব  থেকে মুক্ত দিয়েছেন।আল্লাহ আমাকে যা থেকে মুক্ত দিয়েছেন তা আমি আমার উপর  চাপিয়ে নিব নিজের উপর এতোখানি জুলুম কিংবা বোকামি আমি করবনা(বাধ্য হলে  ভিন্ন কথা)।আমি বাইরে বের হয়ে পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে বাসের ভীরে  ধাক্কাধাক্কি করে ৯টা-পাচঁটা অফিস করে আমি আমার সম্মান বাড়াতে চাইনা(বাসের  ভীরে ধাক্কাধাক্কি না করতে হলেও বাইরের পরিবেশ একটা মেয়ের জন্য কতোখানি  প্রতিকুল সেটা মেয়ে মাত্রই জানে)।আমার সম্মান আল্লাহ এমনিতেই অনেক বেশী  দিয়ে রেখেছেন।আমি কন্যা,আমি স্ত্রী,আমি মা।এ সম্মানের তুলনা কোন কিছুর  সাথেই হয়না।আমাকে কেন সম্মানের জন্য কর্ম ক্ষেত্র খুজেঁ নিতে হবে???আমার  কর্ম ক্ষেত্রতো আল্লাহই ঠিক করে দিয়েছেন গৃহকে।আমার সম্মান আমার গৃহে।তবে  হ্যাঁ,কেউ যদি উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একটা ক্যারিয়ার গড়তে চায় তাকে আমি  নিষেধও করিনা।আমার ছোট বোন স্বপ্ন দেখে একটা সফল ক্যারিয়ারের।আমি তাকে  সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে বলি।কিন্তু নিজের জন্য গৃহ ছেড়ে আমি নতুন কর্ম  ক্ষেত্র খুজঁবনা কখনোই।আমার মনে হয়েছে রেইন এটাই বলেছে।ও কাউকে বাধ্য  করছেনা ক্যারিয়ার না গড়ার জন্য।অনুপ্রানিত করছে আল্লাহ নারীদের যে দায়িত্ব  দিয়েছেন সেটা যথাযথভাবে পালন করার জন্য আর আল্লাহ যে সম্মান দিয়েছেন সেটাকে  মূল্যায়ণ করার জন্য। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;শিহান মির্জার জবাবঃ &lt;/b&gt; &lt;br /&gt;ভাইয়া আপনি ঠিকই বলেছেন। কোন কিছু চর্চায় না থাকলে মানুষ তা ভুলে যায়।  আসলে, এখানে কেউই বলেনি যে, কোন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট মা বা কম্পিউটার  প্রোগ্রামার মা তার সন্তান লালনপালনের জন্য তার স্কিলটার চর্চা বাদ দেবেন।  সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ...হচ্ছে, নিজের অর্জিত শিক্ষার প্র্যাকটিক্যাল  ইমপ্লিমেন্টেশন ফিল্ড কেন শুধু জবকেই ধরা হবে? আপনি একটিবার চিন্তা করুন,  ধরুন কোন এম বি বি এস পাশ করা মা যদি নিজের ঘরেই একটা ছোট ক্লিনিক খুলে  এলাকার গরীব মহিলাদের বিনা চিকিৎসায় ট্রিটমেন্ট দেয় কিংবা, কোন প্রোগ্রামার  মা যদি ঘরে বসে নিজের স্কিলকে কাজে লাগিয়ে, ঘরে বসে পড়াশোনা করে একটা  এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার তৈরী করার চেষ্টা করে, সেটা কি তার সন্তান লালনপালনে  খুব একটা ব্যাঘাত ঘটাবে? তাছাড়া অনেক ইসলামিক স্কলারই বলেছেন যে, আধুনিক  কোন ইসলামী রাষ্ট্রে যে দুটি ফিল্ডে মেয়েদের সবচেয়ে বেশী জড়িত হওয়া দরকার  তার একটি হচ্ছে ডাক্তারী পেশা অপরটি হচ্ছে শিক্ষকতা। &lt;br /&gt;আর কোন ছেলে যদি ইউনিতে/মেডিকেলে চান্স না পায় সেটা কি মেয়েটার দোষ নাকি ছেলে আর সরকারের দোষ? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আহমাদ মুসাফফা ভাইয়ার প্রশ্নঃ&lt;/b&gt;  &lt;br /&gt;আপনি যখন "নারীর প্রকৃত ক্যারিয়ার কি হবে" এমন বিষয়ে লিখবেন তখন আপনাকে নারীর ব্যাপারে &lt;br /&gt;১ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কি হওয়া উচিত, &lt;br /&gt;২ শিক্ষাব্যবস্থাকে নারীর উপযোগি করে কিভাবে ঢেলে সাজাতে হবে, &lt;br /&gt;৩ আধুনিক নারীর চাওয়া পাওয়া নিয়ে আপনার মূল্যায়ন, &lt;br /&gt;৪ ইনফরমেশন ট...েকনলজি যেভাবে সামাজিক বাধা দূর করে দিয়ে তথ্য আদান  প্রদানকে হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে সেই গ্লোবাল ভিলেজে নারীর ভূমিকা কি &lt;br /&gt;সহ আরো অনেক বিষয়ে আপনাকে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিতে হবে । &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে রাখবেন, নারী সমাজে বেগম রোকেয়া কথাগুলো রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ  করা হয় । "পুরুষ মেজিস্ট্রেট হতে পারলে আমরা কেন লেডি মেজিস্ট্রেট হতে  পারবনা" এর স্থলে আপনি নারীদের হয়ত বাসায় থাকতে বলবেন । আবার আপনি যদি এও  বলেন যে পাঁচ থেকে দশ পর চাকুরী করতে সেটা কতটুকু যৌক্তিক সেটা বিবেচনায়  রাখবেন আশা করি । &lt;br /&gt;আপনি কি বেগম রোকেয়ার বইগুলো পড়েছেন? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;রেইন স্পটের জবাবঃ&lt;/b&gt; নারীর প্রকৃত ক্যারিয়ার কি হবে সেটা আমার এই  পোস্টেই স্পষ্ট বলা আছে। আপনার বাকি প্রশ্ন ডিসকাশনের আরো দিক উন্মোচন  করবে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত ক্যারিয়ার এর ব্যাপারে আল্টিমেইট এন্সার সেইম।  সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি,শিক্ষাব্যবস্থা, আধুনিক নারীর চাওয়া-পাওয়া, ইনফরমেশান  টেকনোলজি সবকিছুই এখন নারীরে প্রতিকূলে। কারণ নারীরা এখন যে আইডিয়া তে  আধুনিক হচ্ছে, বা যে আইডিয়াতে আমাদের সেকুল্যার সমাজ নারীকে আধুনিক করতে  চাইছে সেটাকে পরিবর্তন করা বা কিরকম হওয়া উচিত সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা  নাই, আমি আসলে আধুনিক নারীদের কিছু চিন্তা ভাবনার ভুল সাইড টা নক করতে  চাইছি। কারণ নারীরা যদি সমাজের চাওয়া-পাওয়ার পুতুল হয়ে থাকে, যদি তারা  নিজেদেরকে সমাজের এক্সপেকটেশান অনযায়ী আধুনিক হয় কোনদিন তাদের মুক্তি  আসবেনা। তাদের মুক্তি আসবে তাদের ভ্রান্তি আইডিয়া যদি সংশোধিত হয় তবেই। আমি  কেবল ওই ভ্রান্তি আইডিয়ার দিকেই ফোকাস করছি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;বেগম রোকেয়া নারী মুক্তি নিয়ে সামান্য কিছু জিস্ট আজকের পোস্টে  দিলাম। ইচ্ছা আছে বেগম রোকেয়ার নারী কেন্দ্রীক চিন্তা ভাবনা নিয়ে আরো পোস্ট  দিব।  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/1.gif" /&gt;  &lt;br /&gt;&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;b&gt;(বিশেষ কৃতজ্ঞ নির্ঝর, মুসাফফা ভাইয়া, শিহান ও সত্য কন্ঠের প্রতি এবং দুঃখিত এত বড় পোস্টের জন্য)&lt;/b&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5389549062856089603?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5389549062856089603/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5389549062856089603' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5389549062856089603'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5389549062856089603'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_9334.html' title='মানসিক দাসত্ব !'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-1519074962905174620</id><published>2011-09-23T16:56:00.003+06:00</published><updated>2011-09-23T16:56:07.653+06:00</updated><title type='text'>সফল ক্যারিয়ারিস্টিক নারী !</title><content type='html'>&lt;div style="overflow: hidden; white-space: normal; width: 480px; word-wrap: break-word;"&gt;&lt;div style="line-height: 1.8em; text-align: left;"&gt; &lt;i&gt;নারী শিক্ষা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় অংশগ্রহনের ফলে দেশ, জাতি  এবং নারী সমাজের উন্নতি হইলেও পুরুষ সমাজ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইতেছে।  নারী তো পাষাণী। স্বামী বিরহের চেয়ে অর্থোপার্জনপূর্বক আত্মপ্রসাদলাভই  তাহার জন্য পছন্দসই। অথচ এই প্রিয়া বিরহ পুরুষকে শয়নে-স্বপনে-অফিসে-মিটিং এ  একদন্ড শান্তিতে থাকিতে দেয় কিনা সন্দেহ। আবার যদি এমন হয়ত যে অর্থোপার্জন  এমন স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ পুরুষের জন্য ধর্মীয় ও নীতিগতভাবে  বাধ্যতামূলক নহে, তবে হয়ত অধিকাংশ পুরুষই স্ত্রীর কাছাকাছি থাকিত&lt;/i&gt;  &lt;br /&gt;&lt;a href="http://www.rtnn.net/details.php?id=29085&amp;amp;p=1&amp;amp;s=27" target="_blank"&gt; http://www.rtnn.net/details.php?id=29085&amp;amp;p=1&amp;amp;s=27 &lt;/a&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লাইনগুলো কোট করেছি একটি অনলাইন ধারাবাহিক উপন্যাস থেকে। সমাজে নারীর  বর্তমান অবস্থান নিয়ে চিন্তা করছিলাম। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে  নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। পূর্বে নারীদের শিক্ষা ছিলনা,আয়ের স্কোপ ছিলনা  কেবল ঘরের কাজ আর সন্তান পালনেই নারীরা আবদ্ধ ছিল বলে পুরুষের মত গুরুত্ব  সমাজ দিতনা। তাই অনেক এনালাইসিস করে নারীরা চিন্তা করল শিক্ষিত হতে হবে,  বাইরে জব করতে হবে, উপার্জন করতে হবে...তবেই নারীর মুক্তি। কিন্তু কেবল এই  চক্রেই নারীরা থেমে থাকেনি, পুরুষের থেকে কিসে কম তারা? পুরুষরা যে কাজ করে  সেখানেও নারীদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য তারা এমন কোন ক্ষেত্র নাই যেখানে  এখন বিচরন করছেনা। চিকিৎসক,ইঞ্জিনিয়ার,জজ,ব্যারিষ্টার ই কেবল নয়  আর্মি,পুলিশ,পাইলট সবখানেই নারীর আজ সদর্পে পদার্পন। কিন্তু নারী কি আজ  সত্যিই স্বাধীন? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নারীরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছে। এজন্য কিসের স্বাধীনতা কিংবা  কিসের সাথে তাল মিলিয়ে আসলে তারা নিজেদের কিভাবে সম্মানিত করতে চাইছে সেটা  তারা নিজেও বুঝতে পারছেনা। নারী-পুরুষের অধিকার কখনও এক অপরের সমানে নয়,  বরং স্বাতন্ত্রে। পুরুষের মত পোশাক পরলেই, পুরুষের সাথে কাজ করলেই নারী তার  প্রাপ্য অধিকার কখনও পাবেনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নারী সমাজের উন্নতির জন্য যদি নারীরা তাদের আসল অধিকার কোথায় এবং সেটা  কিভাবে পাওয়া সম্ভব সেটা যদি স্টাডি করত তাহলে বুঝতে পারত বর্তমান  পারিবারিক কলহ, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব,হতাশা, সন্তানের অন্ধকার ভবিষ্যতের জন্য  নারীর এই তথাকথিত মডার্নাইজেশান দায়ী। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাশ্চাত্য উন্নত বিশ্বে নারীদের সাথে মুসলিম নারীরা যদি তাদের তুলনা  করতে যায় তাহলে প্রথমেই যে ভুলটি হবে সেটা হল আইডিওলোজিতে। পাশ্চাত্য  নারীরা প্রচন্ড পরিমান বস্তুবাদি জীবন যাপনে বিশ্বাসী। তাদের কাছে যেহেতু  সৃষ্টিকর্তার কোন ধারণা নাই সেহেতু তাদের উন্নতির অন্যতম ইউনিট হচ্ছে  পুরুষ। পুরুষকে অনুসরন করাই তাদের উন্নতি এবং আধুনিকতার ইউনিট। এজন্য তারা  পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে উন্নত ও আধুনিক হচ্ছে। এবং এতে করে তারা নিজেদের  খুব সম্মানিত মনে করছে। তারা মনে করছে নারীরা এখন আর সন্তান উৎপাদনকারী নয়,  তাই তারা সন্তানের দায় দায়িত্ব নেয়াকে নারীত্বের অবমাননা মনে করছে।  ফলস্বরূপ মা-সন্তানের সম্পর্ক খুব শিথিল হয়ে পড়ছে, কেউ কারো কাছে দায়বদ্ধ  না। সন্তানেরা এক গভীর সাইকোলজিক্যাল ট্রমাতে ভুগছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের দেশে কি ঘটছে এখন? খুব খুউব নিরাপদ সম্পর্কও এখন প্রশ্নের  সম্মুখিন। সন্তানের হাতে মা কিংবা মায়ের হাতেই সন্তান খুন। পরকীয়ার জন্য  একজন মা তখন কেবলই এক ক্রেজি নারী হয়ে উঠছে, সন্তানের কাছে তার 'মা'  আইডেন্টিটিও তখন কেবল কর্পুরের মত বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। স্বামী-স্ত্রীর  সম্পর্ক অনেক আগেই প্রশ্নবিদ্ধ, এখন সন্তানের সাথে বাবা-মায়ের সম্পর্কও  প্রশ্নবিদ্ধ। হুম, সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশও এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা এখন অনেক  স্বাধীন,মুক্ত। তারা এখন আর কোন কিছুর পরোয়া করছেনা। নিজের অধিকার আদায়ে  কোন সম্পর্ককেও আর গুরুত্ব দিচ্ছেনা। যদি পাশ্চাত্যকে আদর্শ ধরা হয় তাহলে  নারীর এই স্বাধীনতা, এই মুক্তি, এই উন্নতি, এই আধুনিকতা সবকিছু নারীর  উন্নতির স্পষ্ট সাইন। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু ইসলামে নারীকে সর্বোচ্চ যে অধিকার দিয়েছে সেটার বিচারে নারীরা  আজ কতটা স্বাধীন,সম্মানিত ও আধুনিক সেটা বিচার করি। নারী যদি নিজেদের  অধিকার ও সম্মান আদায় করতে চায় তাহলে সেক্ষেত্রে নারীদের আদর্শ ধরতে হবে  সেই সৃষ্টিকর্তাকে যিনি নারীকে সৃষ্টি করেছেন। রাসূল (সাঃ) এর সেই দুইটি  হাদীস যেখানে বলা হয়েছে, মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত। আর সেই  ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে যখন নবীজী(সাঃ) পরপর তিনবার মায়ের সেবার পর বাবার  সেবার কথা বললেন তখন কিভাবে বলব যে ইসলাম নারীর সম্মান দেয়নি, অধিকার  দেয়নি? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বর্তমান নারীরা অনেক বেশি সম্মান অর্জন করতে গিয়ে তাদের আসল সম্মানের  জায়গাতে নিজেদের হিউমিলিয়েট করছে। তারা সুপার উইম্যান হতে চায়। একজন সফল  ক্যারিয়ারিস্টিক নারী, সফল মা, সফল স্ত্রী, সফল হোমমেকার....সবকিছুতেই  সফলতা অর্জন করতে গিয়ে নিজেদের উপর নিজেরাই বার্ডেন বয়ে আনছে।  ক্যারিয়ারিস্টিক হওয়া মানেই পুরুষের মত হওয়া নয়, ক্যারিয়ারিস্টিক হওয়া  মানেই পুরুষকে সফল ক্যারিয়ারের ইউনিট মনে করা নয়। ক্যারিয়ারিস্টিক হওয়া  মানেই সন্তান জন্ম দেয়া ও পালন করা নারীত্বের অবমাননা নয়। &lt;br /&gt;একজন নারী সফল ক্যারিয়ারিস্টিক, সফল মা, সফল স্ত্রী, সফল হোমমেকার হতে  পারে যদি এই সফলতার ইউনিট মৃত্যুর পরের জীবনকে কেন্দ্র করে হয়। একজন নারী  যদি তার পায়ের নিচে জান্নাতকে বাদ দিয়ে বস্তুবাদি সভ্যতা আর ক্যারিয়ার নিয়ে  পড়ে থাকে তাহলে সে ক্যারিয়ারিস্টিক হতে পারলেও একজন সফল মা,স্ত্রী ও  হোমমেকার হতে পারবেনা কখনও। আর যে সন্তান তার জান্নাত খুজে পাবে তার মায়ের  নিচে সেই মা যদি সন্তান পালন করাকে নারীত্বের অবমাননা মনে করে তাহলে নারীর  উন্নতি কেবল এই স্বপ্নময় জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, মৃত্যু পরবর্তী অসীম  বাস্তবতার জীবনে সবকিছু হবে শূন্য। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই পাশ্চাত্যের মত উন্নতি করতে গিয়ে মুসলিম নারীরা যদি পুরুষের মত  সমান হওয়াকে আদর্শ ধরে তাহলে কাংখিত উন্নতি কখনই আসবেনা। সমাজে এক গভীর  ক্ষত তৈরি হবে, আজকের সন্তানেরা বড় হবে নিরাপদহীন পৃথিবীতে, তারাই ভবিষ্যতে  আরো গভীর ক্ষত তৈরি করে দিয়ে যাবে এই সমাজের বুকে। যেখানে সন্তানেরা তাদের  মায়ের মাঝে খুজে পাবেনা তাদের জান্নাত সেখানে তারা কি শান্তি আনবে ভবিষ্যত  সমাজের জন্য? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে কঠিন ও  গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব পরি্চালনায়  অংশগহন করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে!  আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে  হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের  নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারিরীক বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের  জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয় আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও  প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা। একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে  বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে  পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা &lt;br /&gt;একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী  টিকে আছে। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক একজন  সন্তানের জন্য নারীকে জান্নাতের পথকে সুগম করে দেবার কাজ পৃথিবীর হাজার  শ্রেষ্ঠ কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সবকিছুর শেষে প্রতিটি নারীকে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয়, নিশ্চিত  জান্নাতের মত উন্নতির পথ ছেড়ে কেন আপনারা একেবারে মূল্যহীন আধুনিক হবার  প্রতিযোগীতায় নেমেছেন? আমাকে যদি অপশন দেয়া হয় তাহলে আমি সফল মা হয়ে ,পায়ের  নিচে সন্তানের জান্নাতকে নিজের জীবনের জন্য সবচেয়ে বড় ক্যারিয়ার হিসাবে  বেছে নিব এবং সেভাবেই চেষ্টা করব। কারণ আমার ইউনিট ম্যাটেরিয়ালিস্টিক  স্বপ্নীল পৃথিবী নয়, আমার ইউনিট অসীম বাস্তব জীবনে জান্নাত পাবার সার্থকতা।  সেক্ষেত্রে একজন নারী হিসেবে এরচেয়ে সফল নিশ্চিত ক্যারিয়ার নারীরা আর  কোথায় পাবে?  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/1.gif" /&gt;  &lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-1519074962905174620?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/1519074962905174620/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=1519074962905174620' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1519074962905174620'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1519074962905174620'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_2968.html' title='সফল ক্যারিয়ারিস্টিক নারী !'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-1204691485427191154</id><published>2011-09-23T16:54:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:54:12.858+06:00</updated><title type='text'>স্বপ্নময় জীবন !</title><content type='html'>দূর্গম পাহাড়ের উপর দিয়ে হাটছিলাম। কিন্তু কোন রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না  কোথায় যাব। আমি একা না, সাথে আমার কিছু বন্ধুরাও ছিল। কিন্তু তারা যে কোথায়  হঠাৎ উধাও হল বুঝতে পারছিনা। পশ্চিম আকাশ ধীরে ধীরে লাল হয়ে আসছে, তার  মানে সূর্য ডুবে যাবে। মনের ভিতর ভয় আর শংকা জেগে উঠল। আমি খুব একটা ভীতু  মেয়ে না। কিন্তু নাইট ফোবিয়া আছে আমার প্রচন্ড পরিমান। হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে  দেখি কয়েকটা অপরিচিত ছেলে দাঁড়িয়ে আছে, যাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন জানি! একটু  শিহরন লাগে। চিন্তা করলাম, দেরি করে লাভ নেই, এখনি আমাকে দৌড়ে পালাতে হবে।  কিন্তু একি? আমার পা যে মাটি থেকে সরছেনা! নাহ! খুব বেশি ভয় পেলে চলবেনা,  আমাকে পালাতে হবে। যখন দৌড়াতে দৌড়াতে আমি অনেকদূর চলে এসেছি,ভাবলাম ওই  অপরিচিত ছেলেরা আমার আর নাগাল পাবেনা ঠিক তখনি সামনে তাকিয়ে দেখি ম্যজিকের  মত তারা যেন কোথা থেকে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের মধ্যে প্রচন্ড বড়  একটা ধাক্কা খেলাম। পিছনেই তাকিয়ে দেখি পাহাড়ের একদম শেষ চূড়া। একটু সরে  গেলেই ঠিক ১০০ তলা সমান উপর থেকে নিচে গিরিখাদে পড়ে যাব। কি করব? প্রচন্ড  ঘামছি। কি করব ভেবে না পেয়ে যখন পাহাড়ের চূড়া থেকে লাফ দিতে যাব ঠিক তখনি  ঘুম ভেঙ্গে গেল.......... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাক! ওটা তাহলে স্বপ্ন ছিল। কি অদ্ভুত স্বপ্ন। আরে বাবা, আমি কেন  পাহাড়ে উঠতে যাব? ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি আরে আমি মাত্র দশ মিনিট ঘুমিয়েছি। পড়তে  পড়তে কখন টেবিলে ঘুমিয়েছি টের পাইনি। অথচ স্বপ্নে মনে হল আমি যুগ যুগ সময়  পার করে এলাম।ভাগ্যিস ওটা স্বপ্নই ছিল! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবনটাও কি অদ্ভুত, স্বপ্নের মতই! জীবনের সংগা তাই খুঁজে  ফিরি  বারবার। জীবনের উদ্দেশ্য কি? এর সার্থকতা কিসে, কিসে ব্যর্থতা? কি ভাল? কি  মন্দ? এই তো পাশের বাড়ির রব্বান চাচা,সারাজীবন ঘুস খেয়েছে, অন্যের সম্পদ  ফাঁকি দিয়ে নিজে রাশি রাশি টাকার মালিক হয়েছে। এখন তার বাড়ি,গাড়ি সবই আছে।  ছেলে-মেয়ে নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। আর জামাল চাচা! সারাজীবন সৎ  উপায়ে চাকরি করেছে, কখনও টাকার কাছে নিজের সততা বিকিয়ে দেয়নি। আজ শেষ বয়সে  মিথ্যা মামলার আসামী হয়ে জেলে পড়ে আছে। মোটা অংকের টাকা না দিলে নাকি  মুক্তি মিলবেনা। আর তার একমাত্র কর্মোক্ষম ছেলেটার নাকি কি জটিল অসুখ  হয়েছে, লাখ লাখ টাকা না দিলে নাকি চিকিৎসা হবেনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হায়রে জীবন! যে সারাজীবন অন্যের হক নষ্ট করল সেই আজ সুখী। আর যে কষ্ট  করে সৎ থেকে গেল আজীবন, সেই অসুখী। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সৃষ্টিকর্তা  বলে কি কিছু আছে এই পৃথিবীতে? থাকলে কি সে ন্যয় বিচারক? তাই যদি হয় তাহলে এ  কেমন তার ন্যয় বিচার?? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যারা বস্তুবাদি তাদের কাছে সৃষ্টিকর্তা বলে আসলে কিছু নাই, কারণ  সৃষ্টিকর্তা থাকলে তো আর জামাল মামার মত লোকেরা জীবনে এত কষ্ট ভোগ করতনা।  অন্যদিকে রব্বান চাচার মত লোকেরাও আর সুখে থাকতনা। সুতরাং জীবনের সাকসেস  মূলতঃ এই জীবনেই। যত বেশি হাই স্ট্যাটাস,যত বেশি গাড়ি-বাড়ির মালিক হতে  পারব, তা সে যে উপায়েই হোক না কেন তাহলে আমি সার্থক। কি হবে সৎ থেকে? সৎ  থেকে যদি জীবনকে উপভোগ করতে না পারলাম তাহলে সেই জীবনের সাকসেস বলে আর কিছু  থাকল? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাল কিংবা মন্দের কি আসলেই এবসলিউট কোন সঙ্গা আছে? যে ছুরি দিয়ে একজন  খুনি মানুষের গলা কাটে সে খারাপ,মন্দ। আর একই ছুরি দিয়ে যদি ডাক্তার  মানুষের গলা কাটে তাহলে সে মহৎ। কি অদ্ভুত। ভাল-মন্দের ইউনিট তাই একেক জনের  কাছে একেকরকম। একজন চোরও তার চুরির পক্ষে সাফাই গাইবে। আর জীবনের  উদ্দেশ্য? সেটা তো আরো বেশি রহস্যময়। &lt;br /&gt;যে ছেলেটি বিয়ে করার জন্য কেবল সুন্দরী-রূপসী মেয়ে খুঁজে, যার বাবার  প্রচুর টাকা আছে, সমাজে একটা স্ট্যাটাস আছে তার উদ্দেশ্য হল বন্ধুদের কাছে  নিজের প্রেস্টিজ বাড়ানো, স্ট্যাটাস বাড়ানো। আর যে ছেলেটি বিয়ের জন্য একজন  সৎ চরিত্রের মেয়ে খুঁজে যার মেধা আছে, জ্ঞান আছে, যে পারসোনালিটি সম্পন্ন।  তার উদ্দেশ্য জীবন চলার পথে শত বাধা আসলেও যেন মেয়েটি তার চরিত্রের আলো  দিয়ে, জ্ঞানের মাধুর্য দিয়ে সব বাধাকে অতিক্রম করতে পারে। দু'টি ছেলে,  যাদের উদ্দেশ্য দু'রকম। কে জানে কোনটি ভাল? কোনটি মন্দ? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে কুরআনে স্পষ্টরূপে বলা হয়েছে, জ্বীন ও মানুষ  জাতিকে কেবল আল্লাহর ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। তাই যদি হয়ে থাকে  তাহলে জীবনের সাকসেস সেটাই যা আল্লাহর সান্নিধ্য আনে, ব্যর্থতা সেটাই যা  আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। কারো কোটি কোটি টাকা যদি তাকে দাম্ভিক করে  তোলে, তাকে অন্যায়-অবিচার করার ইন্ধন যোগায়, আল্লাহর স্মরন থেকে গাফেল করে  তোলে তাহলে তার সেই কোটি কোটি টাকায় তার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।  অন্যদিকে কারো জীবনের চরম দারিদ্য তাকে ধৈর্য্যশীল করে, অসৎ হতে বিবেকে  বাধা দেয়, আল্লাহর আরো বেশি কাছাকাছি হবার সুযোগ করে দেয় তাহলে সেই  দারিদ্র্যই তার জীবনের চরম সার্থকতা। অন্যদিকে যারা বস্তুবাদি,  স্বল্পদৃষ্টির লেন্স নিয়ে জীবনকে দেখে তাদের কাছে জীবনের সাকসেস-ব্যর্থতার  হিসাব পুরাই উলটা হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মৃত্যুর পর যখন জেগে উঠব, যখন অপরাধীরা তাদের সকল অপকর্ম দেখতে পাবে  তখন তারা চিৎকার করে বলে উঠবে, আমরা তো কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘুমিয়ে ছিলাম  মাত্র। অল্প একেবারে অল্প সময়ের জন্য আমরা পৃথিবী নামক গ্রহে বিচরন  করেছিলাম। সেখানে কালো টাকার এসি গাড়িতে চড়ে মনে করেছিলাম, এটাইতো জীবন!  আমাদের যেন আমাদের পৃথিবীতে ফেরত দেয়া হয় তাহলে আমরা কিছু ভাল কাজ করে আসতে  পারি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বপ্নময় এই জীবন। স্বপ্নীল এই জীবনেও সৃষ্টিকর্তা আছেন। তিনি তো  সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক। তিনি তো দেখছেন এই স্বপ্নের সামান্য সময়ে কে তার  সান্নিধ্য পাবার জন্য অবিরাম কষ্ট করে যাচ্ছে। তিনি তো তার জন্য মৃত্যুর  পরে সেই অসীম বাস্তব জীবনে এক বিশাল সুখের সম্ভার নিয়ে অপেক্ষা করছেন।  তিনিই তো ন্যয় বিচারক। আর যে বস্তুগত সুখ নিয়ে সুখি, যে অন্যকে ঠকিয়ে কালো  টাকার পাহাড় জমিয়ে খুশি তাকেও তিনি দেখছেন, তার জন্যও তিনি অসীম বাস্তব  জীবনে সীমাহীন আযাব নিয়ে অপেক্ষা করছেন। তার মত ন্যয়বিচারক আর কে হতে পারে? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবনের উদ্দেশ্য,সাকসেস, ব্যর্থতা, ভাল, মন্দ এই স্বপ্নীল জীবনের  স্বল্প জ্ঞান দিয়ে হিসাব নিকাশ করা যাবেনা। পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গিয়ে  দুঃস্বপ্নের মতই জীবনটা কে দুর্বিষহ মনে হবে। মনে হবে কত যুগ ধরে আমি  স্বপ্ন দেখছি অথচ জেগে উঠার পর মনে হয়ে কয়েক সেকেন্ড কিংবা কয়েক মিনিট। ঘুম  থেকে উঠার পর মনে হবে ভাগ্যিস ওটা স্বপ্ন ছিল! স্বপ্নের মধ্যে যত সুখেই  থাকিনা কেন জেগে উঠার পর মনে হয় সেই সুখ কিছুইনা। আর যত বিপদেই থাকিনা কেন,  ঘুম কেটে যাবার পর খুব স্বস্তিতে থাকি এটা ভেবে যে ওই বিপদ সত্যি ছিলনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবনটা তাই স্বপ্নময়। জীবন শুরু হবে তখন যখন আমরা মৃত্যুর পরে জেগে  উঠব। তখন অসীম সেই মৃত্যু পরবর্তী বাস্তব জীবনের কাছে পার্থিব জীবন খুব  বেশি হেয়ালি মনে হবে । যেমন উপরে বর্ণিত স্বপ্নের মতই ঘুম থেকে জেগে উঠার  পর আমার মনে হয়েছিল....................&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-1204691485427191154?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/1204691485427191154/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=1204691485427191154' title='2টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1204691485427191154'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1204691485427191154'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_114.html' title='স্বপ্নময় জীবন !'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>2</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-3398971749879660148</id><published>2011-09-23T16:52:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:52:27.040+06:00</updated><title type='text'>শূণ্য হৃদয় !</title><content type='html'>হৃদয়কে শূণ্য করতে হবে। পূর্ণ পাত্রে কিছু ঢুকাতে চাইলেও আর ঢুকানো যাবেনা।  হৃদয় পবিত্রকরণের জন্য তাই সর্বপ্রথম বিভিন্ন কৃত্তিম বিশ্বাসে পূর্ণ  হৃদয়কে শূণ্য করতে হবে। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস হল একত্ববাদ বা তাওহীদ। সেই  একত্ববাদের মুল ভিত্তি হল হৃদয় শূণ্য করা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কাউকে যদি ভালবাসি তাহলে প্রথম শর্ত হল ভালবাসার সেই দাবিতে অন্য কারো  হক থাকবেনা। সামান্য প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসায় যদি তৃতীয় ব্যক্তির আগমন  ঘটে তাহলে ভালবাসায় ফাটল ধরে। আর যিনি পুরা বিশ্বজাহানের অধিকারি তার প্রতি  ভালবাসার নিরংকুশ অধিকারে অন্য কারো দাবি থাকা সাধারণ সেন্সেও অযৌক্তিক  লাগে। তাই বান্দার একচ্ছত্র শর্তহীন সীমাহীন ভালবাসার একমাত্র দাবিদার সেই  বিশ্বজাহানের মালিক ছাড়া আর কার হতে পারে? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে যখন বৃদ্ধ বয়সে তার প্রিয় সন্তানকে আল্লাহ  কুরবানি করতে বললেন তখন তো ব্যসিক্যালি আল্লাহ দেখছিলেন ভালবাসা কার প্রতি  বেশি। সন্তানের প্রতি নাকি সৃষ্টিকর্তার প্রতি? আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ) এর  হৃদয়কে শূণ্য করলেন পার্থিব ভালবাসা থেকে। তাওহীদের বানী গেঁথে দিলেন। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইসলামের ৫টি মূল ভিত্তির মেইন থিম হল যাবতীয় সকল পার্থিব বিষয় হতে  হৃদয় শুণ্য করা। কলেমার প্রথম বাক্য হল কোন ইলাহ নেই। আমাদের কে অনুভব করতে  হয় এই জগতে কোন ইলাহ নেই, কোন ক্ষমতাশীল নেই যে এই জগতকে নিয়ন্ত্রণ করতে  পারে, আকাশ ও পৃথিবী মন্ডলে এমন কেউ নেই যার কাছে সবকিছু জবাবদিহি করতে  হবে। আমাদের হৃদয় শূণ্য করা হল কলেমার এই প্রথম বাক্য দিয়ে। এরপরই বলা হল,  একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত। অর্থাৎ কোন ইলাহ নেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতিত। হৃদয়কে  শূণ্য করেই সেই শুণ্য হৃদয় আল্লাহর একত্ববাদ দিয়ে পূর্ণ করে দেওয়া  হল।ময়লা-আবর্জনা দিয়ে পূর্ণ পাত্র পরিষ্কার করতে হলে সর্বপ্রথম সেই পাত্র  খালি করতে হয়। তদ্রূপ ভ্রান্ত বিশ্বাস, পার্থিব আবেগ, মোহ, ভালবাসা  সবকিছুকে পিছনে ফেলে কেবল এক আল্লাহর প্রতি মনোনিবেশ করতে হয়। এক আল্লাহর  প্রতি সমগ্র বিশ্বাস, ভালবাসা,নির্ভরতা দিয়ে হৃদয়কে পূর্ণ করতে হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর  নামাজ। এখানেও হৃদয় শুণ্য করতে হয় সর্বপ্রথম। আমি সারাদিনে  পাঁচবার যখন আল্লাহকে স্মরন করি তখন আমি যত কাজেই থাকিনা কেন, যত  গুরুত্বপূর্ণ মিটিং থাকুক না কেন সবকিছুকে ইগনোর করে হৃদয়কে কেবল আল্লাহর  দিকে মনোনিবেশ করতে হয়। পার্থিব সব চাহিদা,প্রয়োজনীয়তা থেকে হৃদয়কে শূণ্য  করে সেই এক আল্লাহর প্রতি ভালবাসা দিয়ে হৃদয় পূর্ণ করতে হয়। দিনে হয়ত একবার  সময় করে নামাজ পড়লেই হয়ে যেত। কিন্তু ভালবাসার দাবিতে  সকাল,দুপুর,বিকাল,সন্ধ্যা,রাত অর্থাৎ সমগ্র দিন-রাতে আল্লাহর প্রতি দায়বদ্ধ  থাকতে হয়। একত্ববাদ দিয়ে হৃদয় পূর্ণ করার জন্য পাচবার হৃদয়কে শূণ্য করতে  হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাওম বা রোজা। এটা তো হৃদয় শূণ্য করার একদম বাস্তব প্র্যাকটিস।  শারীরিক,মানসিক,জৈবিক সব চাহিদা থেকে বিরত থাকতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও পারবনা  একটিবারের জন্য সামান্য পানি পান করতে। সমগ্র ইচ্ছার অধীন একমাত্র আল্লাহ।  তার জন্য ইচ্ছাকে স্যাক্রিফাইস করতে হয়। লুকিয়ে, গোপনে হয়ত অনেক কিছুই করা  যায় কিন্তু যখন এটা বিশ্বাস করা হয় যে প্রকাশ্য ও গোপন কোন কিছুই তার অজানা  নয় তখন সমগ্র পার্থিব ইচ্ছা দিয়ে পরিপূর্ণ হৃদয়কে রিক্ত করে আল্লাহর  সন্তুষ্টির জন্য সেই রিক্ত হৃদয় পূর্ণ করতে হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সম্পদের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কে যাকাত দিয়ে মিনিমাইজ করতে হয়।  সম্পদের প্রতি ভালবাসা ত্যাগ করতে হয়। সেই কিয়ামতের দিন যখন পার্থিব  সোনা-রূপা কোন কাজেই আসবেনা তখন এই পৃথিবীতে পার্থিব সম্পদ কুক্ষিগত করে  রাখার আর কি মানে রইল? যারা অভাবী, খেতে পায়না দু’মুঠো, এতিম,মিসকিন সবার  প্রতি নিজের কষ্টে অর্জিত সম্পদ থেকে ভাগ দিতে হয়। কি এত দায় পড়েছে তাদের  আমি যাকাত দিব? কষ্ট করে আমি সম্পদ উপার্জন করেছি। আমার সম্পদে তাদের কেন  হক থাকবে? এই পার্থিব সম্পদের প্রতি ভালবাসা পুর্ণ হৃদয়কে পুনরায় শূণ্য  করতে হয়। সম্পদের পরিপূর্ণ যাকাত আদায় করে শূন্য হৃদয় আল্লাহর একত্ববাদ  দিয়ে পূর্ণ করে নিতে হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বছরে একবার হজ্ব ফরজ করা হয়েছে। আমি অনেক হাই স্ট্যাটাস মেইনটেইন  করি। আমার ফ্যামিলি, আমার পড়াশুনা, আমার চাকরি সবকিছুই অনেক বেশি  প্রেস্টিজিয়াস। তাই অবশ্যই আমার আর একজন সাধারণ মানুষের সাথে পার্থক্য  থাকবে ড্রেসে,গেটআপে, চলাফেরা, কথা-বার্তা সবকিছুতে। হজ্ব আমাদের এই হাই  স্ট্যাটাস,সুপিরিয়রিটি সিন্ড্রোমে পূর্ণ হৃদয়কে শূণ্য করে। এখানে সবাইকে এক  পোশাকে, একই কাতারে, একই গেটআপে এক আল্লাহর জন্য দাঁড়াতে হয়। কোন ভেদাভদেদ  করা যায়না কে সুপিরিয়র কে ইনফিরিয়র। আমাদের হৃদয়কে শূণ্য করা হয় এভাবে যে  পার্থিব এই সুপিরিয়রিটি আল্লাহর সুপিরিয়রিটির কাছে কিছুইনা। শুধু  মানসিকভাবে কন্ডিশনিং হয় তা নয়। সম্পদের মোহ ত্যাগ করে, পার্থিব সময়ের  গুরুত্ব ত্যাগ করে, শারীরিক আরাম-আয়েশের সুযোগকে পিছনে রেখে এক আল্লাহর  জন্য অনেক হাই স্ট্যাটাস হওয়া সত্ত্বেও খুব লো স্ট্যাটাসের কারো পাশে  দাঁড়িয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য অনুসন্ধান করতে হয়। হৃদয়কে কত সুচারুভাবে এক  হজ্বের মাধ্যমে শূণ্য করে আল্লাহর প্রতি ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ করা হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পার্থিব জিনিসে পূর্ন হৃদয় আল্লাহর ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ করা যায়না।  এজন্য বলা হয়েছে যারা বিশ্বাস করেনা তাদের যতই শুনানো হোক তারা শুনবেনা,  তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের হৃদয় অলরেডি ভ্রান্ত  বিশ্বাস,মোহ,ভালবাসা দিয়ে পূর্ণ। একমাত্র তারাই আল্লাহর ভালবাসা , অনুগ্রহ  পেতে পারে যারা সেইসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, পার্থিব মোহ থেকে হৃদয়কে শূণ্য করতে  পেরেছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাওহীদের যে বানী প্রথমেই হৃদয়কে শূন্য করার তাগিদ দিয়েছে তা কেবল  বাক্যেই সীমাবদ্ধ থাকেই, বরং একজন মুসলিম তার সমগ্র লাইফে কিভাবে হৃদয়  শূন্য করবে তার একটা প্রোটোকলও দিয়েছেন আল্লাহ। দুনিয়া থেকে দুনিয়াবি  স্বার্থ যেমন হাসিল হয় তেমনি অপার্থিব স্বার্থও এই হৃদয় শূন্যের মাধ্যমে  হাসিল হয়। হৃদয়কে তাই সেই প্রোটোকল অনুযায়ী শূন্য করার চেষ্টা করছি। সেই  একমাত্র মহান অধিপতি আল্লাহর দিকেই হৃদয়কে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করছি।  আল্লাহ আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহর একত্ববাদ দিয়ে হৃদয় পূর্ণ করার  তৌফিক দান করুন। আমীন।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(ইয়াসমিন মুজাহেদ’র আর্টিকেল অবলম্বনে)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-3398971749879660148?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/3398971749879660148/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=3398971749879660148' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/3398971749879660148'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/3398971749879660148'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_8592.html' title='শূণ্য হৃদয় !'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5212576632175256433</id><published>2011-09-23T16:51:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:51:32.818+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-৬</title><content type='html'>ঢাকায় থাকি বলে সবসময় হোস্টেলে থাকা পড়েনা। তারপরও মেডিকেলে হোস্টেলে  থাকাটা কিছুটা বাধ্যতামূলক। তা না হলে পড়াশুনা করা যায়না। আমার তো এখন  ভাবতেই অবাক লাগে কিভাবে মানুষ বাসায় থেকে পড়াশুনা করে। হোস্টেলে না থাকলেও  এটলিস্ট লাইব্রেরিতে বসে রিডিং পার্টনারের সাথে পড়া ছাড়া আমি বাসায় একা  একা পড়াশুনার কথা ভাবতেই পারিনা। সেকেন্ড প্রফ শেষ হল। বলা যায় প্রায় টানা  আড়াই মাস হোস্টেলে আছি। মাঝখানে একদিন-দুইদিন করে মাঝে মাঝে বাসায় বেড়াতে  যেতাম। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলে হোস্টেলে লাইফের সবচেয়ে বড় অভিজ্ঞতা হল মানুষকে চেনা, বন্ধুত্বের  সম্পর্ককে আরো বেশি উপলব্ধি করা। আমার ফ্রেন্ডের বিয়ে হল এই তো পাচ মাস  হল। ওর ধারণা ছিল জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পর্ক হল হাজব্যান্ড-ওয়াইফ। বাকি সব  সম্পর্ক কারো সাথে না থাকলেও চলে। ও ভেবেছিল বন্ধুত্বের সম্পর্কও হাজব্যন্ড  দিয়ে ফিল আপ করা যাবে। কিন্তু কি আর করা, ভাইয়াও ডাক্তার। সময় দিতে পারেনা  একটুও। তাই আমার ফ্রেন্ড একটু দুঃখ করে বলছিল আসলে জীবনে সব সম্পর্ক খুব  গুরুত্বপূর্ণ। এই যে হোস্টেলে আছি, ফ্রেন্ডের সাথে পড়ছি, অনেক কিছু শেয়ার  করছি এটা তো আর সবার সাথে শেয়ার করা যায়না। বন্ধুদের সাথে যেটা শেয়ার করা  যায় তা কি আর হাজব্যান্ডের সাথে শেয়ার করা যায়? কিংবা হাজব্যান্ডের সাথে যা  শেয়ার করা যায় তাতো আর বন্ধুদের সাথে করা যায়না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আবার বন্ধুত্বের সম্পর্কের মাঝেও অনেক ধরনের সম্পর্ক থাকে। সেই  সম্পর্কও মেইনটেইন করা শেখা যায় হোস্টেলে থেকেই। আমার হয়ত তিনজন ফ্রেন্ড  খুব ক্লোজ, কিন্তু তারপরও আমার কোন ক্রিটিক্যাল মোমেন্টে হয়ত আমি কেবল  একজনকেই সব শেয়ার করব। কিংবা আমি যাকে খুব ফ্রেন্ড ভাবছি সে আমাকে আদৌ তা  হয়ত ভাবছেনা। যাকে ফ্রেন্ড মনে করে অনেক কিছু শেয়ার করলাম সে হয়ত সেই  বিশ্বাসের মর্যাদা রাখলনা। এরকম বন্ধুত্বের মাঝে বহু সম্পর্ক থাকে যা আসলে  ডিফাইন করা যায়না। কিন্তু তারপরও আমরা সবাই ফ্রেন্ড। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হোস্টেলে থাকার ফলে আমি যে জিনিসটা খুব প্র্যাক্টিক্যালি শেখার চেষ্টা  করেছি তা হল এটিচিউড পরিবর্তন করা। প্রতিটা মানুষই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের  অধিকারী। একেকজন একেকরকম। আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে হয়ত সবাই মিলে যাবেনা।  হয়ত আমি যেরকম করে একজনকে নিয়ে ভাবি, সে আমাকে নিয়ে ভাববেনা। আবার আমাকে  নিয়েও কেউ হয়ত একরকম চিন্তা করবে, আমি মোটেই সেরকম না। এরপর বন্ধুত্বের  সম্পর্কের মাঝে কিছুটা ফাটল। একটা কথা আছে, নিজে ভাল তো জগত ভাল। এই  ব্যাপারটা আসলেই তাই। নিজে যদি সবসময় যেকোন সিচুয়েশানে এটিচিউড পজিটিভ  রাখতে পারি তাহলে সব সমস্যা নিমেষেই শেষ। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;থিওরিটিক্যাল এরকম বহু কথা এর আগে আমি শুনেছি। কিন্তু যে আমাকে ভুল  বুঝল, মনে করল আমি তার আসল বন্ধু না, এজন্য হয়ত এমন কিছু কাজ করল যা কখনই  পজিটিভ এটিচিউড দেখানোর মত মানসিক পরিস্থিতি থাকেনা। কিন্তু এই  সি্চুয়েশানেও যদি পজিটিভ এটিচিউড দেখানো যায় তাহলে অন্যরকম একটা আউটপুট  পাওয়া যায়। একেবারে প্র্যাকটিক্যাল, কোন হাইপোথিসিস না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু এর জন্য যেটা দরকার সেটা হল নিজের প্রতি পর্যবেক্ষন। আমি কখনই  ১০০% সঠিক না। অন্য কেউও ১০০% সঠিক না। কিন্তু সবার মাঝেই অবশ্যই ভাল কিছু  থাকে যা সবকিছুর উপরে থেকে তার প্রতি পজিটিভ এটিচিউড দেখানো যায়। একজন যদি  ভাল নাও হয় , জেনে রাখতে হবে সে একেবারে খারাপও না। তার সেই ভাল দিক চিন্তা  করেই পজিটিভ এটিচিউড দেখাতে হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবনের আসলে অনেক অর্থ আছে। জীবনে অনেক কিছু করার আছে। ছোট এই জীবনে  শুধু শুধু মাইনর ব্যাপার নিয়ে সম্পর্কের মাঝে একটি অবিশ্বাস তৈরি করার কোন  মানে নাই। কারো সাথে শত্রুতা মনোভাব নিয়ে থাকারও কোন মানে নাই। কেউ আমাকে  বন্ধু ভাবুক আর নাই ভাবুক আমি অন্তত কাউকে শত্রু ভাববনা। এই পজিটিভ এটিচিউড  যদি নিজের মধ্যে গ্রো করানো যায় তাহলে দেখা যায় সময় গুলো আর বন্ধুদের সাথে  অন্য কারো সমালোচনা, গীবত করে কাটেনা। বন্ধুদের সাথে সময়গুলো আরো বেশি  মধুর আর অর্থবোধক হয়ে উঠে। জীবনের আসল মিশন থেকে দূরে গিয়ে আর অন্যের  ব্যাপারে শত্রুতা পোষণ করাকে তখন খুব বোকামি মনে হয়। মনে হয় আসলে সত্যিই  বন্ধুত্ব একটি অন্যরকম উপহার। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বন্ধুত্বের প্রতি না কেবল, জীবনের সকল সম্পর্কের প্রতি যদি পজিটিভ  এটিচিউড দেখাতে পারি তাহলে আমাদের চারপাশে অনেক কিছুই সুন্দর হয়ে উঠবে যা  আগে কখনও এত সুন্দর হয়ে দেখা দেয়নি। মনে হবে এই একটি মাত্র জীবনে আসলে  ইরিভারসিবল বলে কিছু নাই। সবকিছুই রিভারসিবল হতে পারে। যাকে কখনই ক্ষমা  করবনা বলে মনে করা হয় সেই হতে পারে জীবনের পরম বন্ধু। যে ভুল কখনই শোধরানো  যাবেনা বলে মনে হয় সেই ভুল থেকেই কেউ হয়ত আরো বেশি শুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হোস্টেলে থেকে আসলে বিভিন্ন বন্ধুর সাথে পজিটিভ এটিচিউড দেখানোর একটি  প্র্যাক্টিক্যাল প্ল্যাটফর্ম পাওয়া যায়। আর সেটা যদি জীবনের সকল সম্পর্কেও  এপ্লাই করা যায় তাহলে তো আর কথাই নেই। !!!  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/1.gif" /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5212576632175256433?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5212576632175256433/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5212576632175256433' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5212576632175256433'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5212576632175256433'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_1468.html' title='হোস্টেল লাইফ-৬'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-8676294574606981341</id><published>2011-09-23T16:49:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:49:31.688+06:00</updated><title type='text'>আক্ষেপ ! :-(</title><content type='html'>কয়েকদিন ধরে মনের ভিতর কিছু আক্ষেপ জমা হয়েছে। কেমন আছি কেউ জিজ্ঞেস করলে  হয়ত বলব ভাল আছি, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আসলেই কি আমি ভাল আছি? তুলনামূলক  ভাবে হয়ত ভাল আছি তাদের তুলনায় যারা আমার থেকেও খারাপ অবস্থায় আছে।  প্রতিনিয়ত যত বেশি কাজের চাপ বাড়ছে, পড়াশুনার ব্যস্ততা বাড়ছে তত নিজেকে  অসুখী মনে হচ্ছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন পড়তে গিয়েই হঠাৎ মনে হল এমন কোন সিস্টেম যদি থাকত যে যা পড়তে  চাই তা সব ব্রেইনের মধ্যে আপলোড হয়ে যাবে। তাহলে কষ্ট করে আর ঘণ্টার পর  ঘণ্টা কষ্ট করে বই এর সামনে বসে থাকা লাগবেনা।প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যেতে কার  ভাল লাগে? খুব টায়ার্ড ফিল করছিলাম সেদিন, কিন্তু কি আর করা! যেতেই হবে।  মনে হচ্ছিল এমন কোন ব্যবস্থা যদি থাকত যে মনে চাইল আর সাথে সাথে সেখানে চলে  গেলাম। এরপর পরীক্ষার আগ মুহূর্তে যখন খাওয়ার সময়ও থাকেনা তখন মনে হয় যে  ইশ! খেতে চাই মনে হলেই যদি খাবার সব সামনে হাজির হয়ে যেত! এরপর  অটোমেটিক্যালি সব খাওয়া হয়ে যেত...এসব হাবিজাবি আক্ষেপে আজকাল মন  ভারাক্রান্ত থাকে। &lt;br /&gt;বিকেলে লাইব্রেরি থেকে বাসায় ফেরার পথে যখন মাথার উপর নির্মল আকাশ  দেখি, একঝাঁক পাখিদের আনন্দে উড়াউড়ি দেখি তখন নিজের মনের আক্ষেপ আরো বেশি  বেড়ে যায়। একদম যদি ফ্রি হয়ে যেতে পারতাম যাবতীয় সব টেনশান থেকে, ওই দূর  আকাশের পাখিদের মত যদি আনন্দে ডানা মেলে উড়তে পারতাম! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুব শখ, গভীর রাতে ছাদের উপর দাঁড়িয়ে নভোবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে আকাশের  তারা দেখার। সারারাত আকাশের ওই তারাগুলোর সাথে নিরিবিলি সময় কাটাবার।   নিজের সাথে নিজেকে বোঝাপড়ার জন্য এর থেকে ভাল মুহূর্ত আর কি হতে পারে!   কিংবা ঝুম বৃষ্টিতে টানা ভিজে যাওয়া আর প্রকৃতির সাথে চুপি চুপি খেলা করা।  কিন্তু কি এক জীবন...যেখানে এসব শখ বিলাসিতা ব্যতিত কিছুইনা। &lt;br /&gt;মন খারাপ থাকলে কেন জানিনা যা কিছুই করতে যায় সেসব কাজে গভীর মনোযোগ  দিতে পারি। সময়ের তাড়াহুড়া থাকেনা তখন। ঠিক এরকম একটি মুহূর্তে যখন কুরআন  পড়ছিলাম তখন মনের ভিতরের আক্ষেপ আরো বেশি জোরাল হয়ে উঠল। আরবী ভাষা যদি  বাংলার মত ফ্লুয়েন্টলি বুঝতে পারতাম! বারবার আরবি পড়ে বাংলা অনুবাদ পড়তে  ভাল লাগেনা। ছোটবেলা থেকেই এটলিস্ট একজন মুসলিম হিসেবে আরবি ভাষা সেকেন্ড  ল্যাংগুয়েজ হিসেবে শেখা কি উচিত ছিলনা? ইংরেজি নিয়ে কত মাতামাতি আমাদের।  কেন সাথে আরবি ভাষা থাকলে কি খুব অসুবিধা হয়ে যেত ক্যারিয়ারের পথে? হঠাৎ এই  আক্ষেপ মনে হতেই সিদ্ধান্ত নিলাম আমার পরবর্তি জেনারেশানের জন্য ইংলিশের  পাশাপাশি আরবি ভাষা কম্পালসারি হিসাবে রাখব। ঠিক এই সিদ্ধান্তে আসার পর  একটু ভাল অনুভূত হচ্ছে...মনের আক্ষেপ ধীরে ধীরে নিউট্রাল হচ্ছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথায় যেন পড়েছিলাম প্রভু থাকেন দূর্বল মানুষের অন্তরে। ঠিক জানিনা  কথাটা কোন এঙ্গেল থেকে বলা হয়েছে, তবে কথাটার মধ্যে কিছু নাস্তিক্যবাদী  ঘ্রাণ আছে। আগে একটা সময় নাস্তিক-আস্তিক আমার কাছে খুব স্পর্শকাতর একটা  ইস্যু ছিল। কিন্তু সময়ের গতিবেগের সাথে যেসব খুব স্পর্শকাতর ব্যাপার ছিল  আমার কাছে তা ধীরে ধীরে খুব সাধারণ ব্যাপারে পরিণত হয়। আসলে বিশ্বাস  ব্যাপারটা একদম অন্তরের অন্তস্থলের ব্যাপার। এই ব্যাপারটা নিয়ে যে চিন্তা  করেনা তার সাথে নাস্তিক-আস্তিক নিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া  নিছক বোকামী ছাড়া কিছু মনে হয়না। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মানুষ দূর্বল কিনা জানিনা তবে চারপাশে যখন অন্যায়-অবিচার দেখি, যখন  একজন নিরপরাধ মানুষকে  শুধু শুধু শাস্তি পেতে দেখি, যখন কঠিন অপরাধীদেরও  দিব্যি নিরপরাধ  হিসেবে ক্রুর হাসি হাসতে দেখি তখন পৃথিবীর সকল মানুষকে  আমার বড় দুর্বল মনে হয়। শুধু এটুকু মনে হয়, প্রভু যদি সত্যি না থাকত তবে  পার্থিব আক্ষেপের কোন সীমা পরিসীমা থাকতনা। জীবনকে তখন মনে হত এক অভিশাপের  প্রতিচ্ছবি। আক্ষেপ ধীরে ধীরে ডাইলিউট হতে থাকে যখন চিন্তা করি সেই বিচার  দিবসে এমন একজন বিচারপতি হবেন যার দ্বারা ইনজাষ্টিস হবার কোন চান্স নাই।  যিনি হবেন সকল বিচারকের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠতম বিচারক। যিনি প্রত্যেকের চুল  পরিমান ন্যয় ও অন্যায়কেও বিচারের আওতাধীন রাখবেন। ইশ! যত কুরআন  পড়ি ততই  বুঝতে পারি, মানুষ আসলেই কত দুর্বল। যে কিনা নিজের সবচেয়ে কাছের একজনকে  সন্ধান করতে পারেনা। যে কিনা তার সর্বমুহূর্তের সঙ্গি কে আবিষ্কার করতে  পারেনা। সত্যিই মানুষ আসলেই দূর্বল যদি সে তার প্রভুকে চিনতে না পারে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জীবন নিয়ে আসলে আমরা যে যেরকম ভাবিনা কেন আসলে তা পুরাই আক্ষেপে  ভরপুর। এবং আক্ষেপ যদি সারা জীবনও করে যাই তাও পূর্ণ হবার নয়। মানব হৃদয়কে  পৃথিবীতে আসলে এরকম করেই পাঠানো হয়েছে। আমার যত আক্ষেপ তা সবই স্বর্গীয়  আক্ষেপ। মন যা চাইবে তাই সাথে সাথে হয়ে যাবে। এটা তো সেই চির আকাংখিত  জান্নাত ব্যতিত কোথাও পূর্ণ হবার না। স্বর্গীয় আক্ষেপ আছে বলেই হয়ত জীবন টা  মাঝে মাঝে বোরিং হলেও কোন কিছুর পাবার আকাঙ্ক্ষা সব কষ্টকে , সব দুঃখকে  সহ্য করা যায়। এভাবেই জীবন কেটে যাবে স্বর্গীয় আক্ষেপের মধ্য দিয়ে। তাই হয়ত  কোরআনে যে বার বার সেই মোহময় জান্নাতের বর্ণনা দেয়া হয় সৎকর্মশিল মুমিনদের  জন্য যা কোন মানব হৃদয় কল্পনা করতে পারবেনা তা সত্যিই অসাধারণ। একদম মানব  মনের ভিতরের আক্ষেপের পূর্ণতা অর্জনের প্রতিশ্রুতি জীবনকে খুব জীবন্ত করে  তোলে। নতুন করে আবার রিভাইভ করতে ইচ্ছা করে। আক্ষেপের তীব্রতা যতই বাড়ছে  ততই জীবন আরো জীবন্ত হয়ে উঠছে.........&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-8676294574606981341?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/8676294574606981341/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=8676294574606981341' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8676294574606981341'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8676294574606981341'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_1794.html' title='আক্ষেপ ! :-('/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-132286047016191578</id><published>2011-09-23T16:48:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:48:28.917+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৬</title><content type='html'>কয়েক মাস আগে  “Road To Mecca”র বাংলা অনুবাদ পড়েছিলাম। তখনই সিদ্ধান্ত  নিয়েছিলাম আর কখনও কোন ইংলিশ বই এর বাংলা অনুবাদ পড়বনা। অনুবাদ আসলে খুব  কঠিন ছিল কিনা জানিনা, তবে আমার পড়তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। যাইহোক সিদ্ধান্ত  অনুযায়ী পল কেলহো’র দুইটি ইংলিশ নভেল পড়লাম। একটি বই ছিল একটি মেয়ের জীবনী  নিয়ে যা সে তার নিজের ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছিল। পড়ে  মারাত্বক অভিভূত  হলাম। &lt;br /&gt;এই ডায়েরি জিনিসটা কেন যেন আমার কখনও মেইনটেইন করা হয়না। ছোটবেলা  থেকেই অনেক বার এটেম্পট নিয়েছিলাম ডায়েরি নিয়মিত লেখার। অবশ্য এই এটেম্পট  নেবার পিছনে অন্য আরেকটি কারণও ছিল, তা হল প্রচুর ডায়েরি গিফট পেতাম।কিন্তু  আসলে শেষ পর্যন্ত কোন ডায়েরি আমি লিখতে পারিনি।   &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক, ডায়েরি নিয়মিত লিখলে একটি জিনিস খুব ভালভাবে এনালাইসিস করা  যায় তাহল- নিজের ম্যাচিউরিটির ক্রমাগত পরিবর্তন। মেডিকেলের এক ভাইয়া  বলছিলেন যে তিনি ক্লাস ফাইভ থেকে ডায়েরি লিখেন, এবং তিনি দেখেছেন যে তার  ব্যসিক চিন্তা-ভাবনার কোন পরিবর্তন এখনও হয়নি। আমার তো মনে হয় গতকাল আমি যে  চিন্তা করেছিলাম তা আজকেই কিছুটা হলেও মডিফাই হয়ে যাবে।  &lt;br /&gt;হুম, ব্যসিক চিন্তা হয়ত সেভাবে মডিফাই হবেনা, কিন্তু আশেপাশের চিন্তা অবশ্যই  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছোটবেলা থেকেই খুব কৌতুহল ছিল সবকিছুর প্রতি। যা সাধারণত সবার ভিতরই  থাকে। এই যেমন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি, পাশে কোন দোকান। সেই দোকানে কি আছে,  লোকজন কিভাবে কেনাকাটা করছে, কিভাবে কথা বলছে সব কিছুর প্রতি চরম আকর্ষণ।  ক্লাস সেভেন অথবা এইটে থাকতে বিজ্ঞানীদের সংগা পড়েছিলাম যে বিজ্ঞানী হবার  মেইন শর্ত হল কৌতুহল থাকা। অর্থাৎ জানার আগ্রহ যার মধ্যে নাই সে কখনও  বিজ্ঞানী হতে পারবেনা। ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম আমার বিজ্ঞানী হবার স্টেপ  শেষ। কারণ কৌতুহল কমে যাচ্ছিল সবকিছুর প্রতি। কেন হবেনা! পড়াশুনার প্রতি  কৌতুহল আমার কোন কালেও ছিলনা। জানার আগ্রহ আছে তবে সেটা অবশ্যই পড়াশুনার  বাইরের জগতের প্রতি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন ভাবছিলাম যে বাংলাদেশের মানুষের অনেক সম্ভাবনা ছিল যুগে যুগে  ভুরি ভুরি বিজ্ঞানী প্রজনন করার। ফার্মগেটের রাস্তার পাশে দাড়ালে দেখা যায়  কেউ মাইকে ওয়াজ করে ভিক্ষা করছে, কিছু মানুষ তার পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে আছে।  কেউ কাসুন্দি দিয়ে আনারস বিক্রি করছে তার পাশেও কিছু মানুষের ভিড়। সবচেয়ে  আশ্চর্যের ব্যাপার যে রাস্তা খননের কাজ চলছে কিংবা ড্রেন পরিষ্কার করা  হচ্ছে তার পাশেও ভিড়। এত্ত কৌতুহল সবার!! আবার কেউ রাস্তায় এক্সিডেন্ট  করেছে তার পাশেও ভিড় লেগে থাকে। কোথায় ইনজুরড লোকটাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে  তা না করে সব তাকিয়ে তাকিয়ে ভিড় করে দেখে। কি যে দেখে আল্লাহই জানে! &lt;br /&gt;বলছিলাম চিন্তাভাবনার পরিবর্তন...হুম। সেদিন এক ব্যসিক চিন্তা  পুরাপুরি পরিবর্তিত হয়ে গেল। এবং কথায় কথায় ফ্রেন্ডকে সেদিন একথা বলছিলাম,  দেখলাম সেও কিছুটা কনফিউসড।  &lt;br /&gt;আমরা যারা অন্যদের বদলে দেবার প্রত্যয় নিয়ে সর্বদা চিন্তা করি ভেবেও  দেখিনা সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিজেদের মধ্যে আনতে হবে। আমাদের সমগ্র কাজের  ইনসেনসিবল পার্ট হল নিজেকে নিজের জায়গায় ঠিক রেখে অন্যকে বদলে দেয়া। হুম,  আমি বলছিনা যে সবসময় আমাকে বদলাতে হবে। তবে যে জিনিসটা আমি অন্যের মধ্যে  দেখতে চাই সেটাই কেন নিজের মধ্যে প্রথমেই আয়ত্বে আনার চেষ্টা করিনা?  &lt;br /&gt;ইথিক্যাল কথা যদি নিজের মধ্যেই ধারণ করা না গেল তাহলে ইথিকসের কথা না  বলাই ভাল। তা না হলে সেটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হয়ে যায়। বেশির ভাগ সময় দেখা  যায় কোন একটা অন্যায় কাজ করছি, ক্রমাগত ভুল হচ্ছে। তারপর নিজেদের সেই  অন্যায় থেকে নিউট্রাল করার জন্য বলছি “ আমি তো আমার অন্যায় বুঝতে পারছি,  কিন্তু অন্যরা তো সেটাও পাচ্ছেনা”। এমন না যে অন্যায় কিংবা ভুল থেকে  শুধরানোর চেষ্টা বরং অন্যায় কে নিজেদের ভিতর ধীরে ধীরে ডাইলিউট করা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন আসি যে অন্যায় বুঝতে পারছে সে বেশি ক্ষতগ্রস্থ নাকি যে বুঝতে পারছেনা সে বেশি??  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার ক্ষেত্রে যেটা হয় যে বেশিরভাগ সময় আমি বুঝতে পারি যে কেন আমার  অমুক ভুল বা অন্যায় হল? আমার ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলেছি তার ক্ষেতেও সেইম।  কিন্তু সবশেষ একটাই সান্ত্বনা যে আমরা তো অন্যায় বুঝতে পেরেছি, অন্যরা কি  তা পারছে? সুতরাং...... &lt;br /&gt;ব্রেইনের সম্মুখ বা  ফ্রন্টাল লোবের সাথে অন্যান্য সব অংশের সংযোগ  থাকে। ফ্রন্টাল লোব বেসিক্যালি মানুষের বিবেক বুদ্ধি, বিবেচনা, ভাল-মন্দ  সেন্স, আবেগ-অনুভূতি, পারসোনালিটি, সামাজিক আচরন ইত্যাদি এসবের জন্য  সিগন্যাল দেয়। তাই ভাল-মন্দ পার্থক্য করার ক্ষমতা জন্ম থেকেই আমরা পেয়ে  থাকি। যদি চুরি কিংবা মিথ্যা কথা বলি তাহলে ফ্রন্টাল লোব সাথে সাথে একটা  নেগেটিভ সিগন্যাল দিবে। যদি সেই নেগেটিভ সিগন্যাল কে আমরা ওভারলুক করি  তাহলে ফ্রন্টাল লোবের সাথে অন্যান্য অংশের কাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়। নাহ!  এটা কিছুদিন বা কয়েকমাসের জন্য না। ক্রমাগত  দীর্ঘ সময় ধরে ফ্রন্টাল লোবের  নেগেটিভ সিগন্যাল যখন এভয়েড করা হয় তখন সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর ব্যাপার ঘটে যায়  একদম অজান্তেই। যে মানুষটা যত বেশি জানে তার ফ্রন্টাল লোবের নেগেটিভ  সিগন্যাল যদি বেশি বেশি এভয়েড করা হয় তাহলে ব্রেইনের অন্যান্য অংশের সাথে  ভারসাম্য তার বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে আমরা যাকে সচরাচর ভাল মানুষ হিসেবে  জানি দেখা যায় সেই এমন একটা অপ্রত্যাশিত কাজ করে যা কোন সমীকরণেই মেলানো  যায়না।  &lt;br /&gt;আমরা হয়ত বলে থাকি এরকম একজন ভাল মানুষ সে কিভাবে এই কাজটা করতে পারল  যা কিনা একজন সাধারণ মানুষ থেকেও আশা করিনা?? লুক্কায়িত মেসেজ আসলে  ফ্রন্টাল লোবের এই থিওরির মধ্যেই  লুক্কায়িত।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;img src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/uploads/rain-spot201105081304878397_frontal.jpg" /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খুব সুন্দর কিন্তু মারাত্বক বৈজ্ঞানিকভাবে কুরআনে সূরা আ’লাক্বে ১৫-১৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, &lt;br /&gt;&lt;b&gt;&lt;i&gt; &lt;br /&gt;&lt;u&gt;“সে কি জানে না , আল্লাহ দেখছেন ? কখনই নয় , যদি সে বিরত না হয়  তাহলে আমি তার কপালের দিকে চুল ধরে তাকে টানবো , সেই কপালের চুল ( ওয়ালা )  যে মিথ্যুক ও কঠিন অপরাধকারী।”&lt;/u&gt; &lt;br /&gt;&lt;/i&gt;&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;তাই কোন কিছু না জেনে না মানার মধ্যে ক্ষতি যতটা তার চেয়ে বেশি ক্ষতি  হল জেনে পালন না করা। তাই অন্তত আজকে একথা জানার পর থেকে ওই কথা বলার সুযোগ  আর থাকলনা  “আমি তো আমার অন্যায় বুঝতে পারছি, কিন্তু অন্যরা তো সেটাও  পাচ্ছেনা”।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখার শেষ মুহূর্তে এসে মনে হল আমার লেখার মোরাল লেসন অনেকেই ভেবে  বসতে পারেন, যে “যত কম জানা যায় ততই উত্তম”। কিন্তু আমি আসলে যতটুকু জানি  ততটা মেনে চলার চেষ্টার তাগিদে এই এলোমেলো লেখাটা শেয়ার করলাম। &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/4.gif" /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-132286047016191578?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/132286047016191578/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=132286047016191578' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/132286047016191578'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/132286047016191578'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_4611.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৬'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5724892189580435199</id><published>2011-09-23T16:47:00.005+06:00</published><updated>2011-09-23T16:47:14.406+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৫</title><content type='html'>জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায় অপেক্ষায়। ভবিষ্যত অনিশ্চিত বলেই হয়ত অপেক্ষা  করতে খুব একটা খারাপ লাগেনা। এইতো! সামান্য একটা গল্পের বই যখন পড়তে যাই,  তখন পূর্বে থেকে গল্প জেনে গেলে সেই বই পড়তে আর ভাল লাগেনা। কি অদ্ভুত,  অজানা জিনিস জানার জন্য যে প্রতীক্ষা তা খুব একটা খারাপ না।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনটা খুব বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। রবিন্স এর সিক্সথ আর লেটেস্ট এইটথ এডিশান  পড়তে গিয়ে মেজাজ চরম খারাপ হল। পুরাপুরি কন্ট্রোভার্সিয়াল সময় পার করতেছি।  টিচাররা কেউ কোনদিন এইটথ এডিশান পড়ে নাই। আমরা নিউমার্কেটে সেভেন্থ এডিশান  পাচ্ছিনা। অবশেষে আমি ২টা এডিশান নিয়ে পড়া শুরু করলাম। নতুন এডিশানের যে  এরকম অভাবনীয় পরিবর্তন হতে পারে তা এবার রবিন্স প্রমাণ করে দিল। একদিক দিয়ে  ভাল যে কোন হাইপোথিসিস, প্রস্তাবিত থিওরি, আননোন এটিওলোজি সব বাদ দেয়া  হয়েছে। শুধুমাত্র যেগুলো প্রমাণিত সেগুলোই রাখা হয়েছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবছি বর্তমান লাইফেরও একটা নতুন এডিশান লাগবে। চলছে, চলুক- এভাবে আর  কতদিন চলতে দেয়া যায়? কিন্তু সে ভাবনাতেও গুড়ে বালি। ব্যস্ততার মাঝে নিজের  কাজের ফিল্টারিং করা ছাড়া নতুন করে এডিট করার মত কিছুই নাই। সুতরাং,  ফিল্টারিং শুরু করলাম। প্রায়োরিটি ব্যাসিসে ফিল্টারিং হচ্ছে বর্তমান লাইফ।  যা কিছু করছি, যা কিছু ভাবছি সবই ফিল্টারিং এর আওতাভুক্ত। &lt;br /&gt;সুমাইয়ার সাথে লাইব্রেরিতে পড়ার ফাকে, এসব নিয়েই যখন আলোচনা করি তখন  অবাক হয়ে ভাবি আসলে আমরা কতটা প্রফেশনাল হয়ে যাচ্ছি দিনের পর দিন। ঠিক  প্রফেশনাল বললে ভুল হবে, ম্যাচিউরড হচ্ছি আমরা। এই ম্যাচিউরিটি গ্রো করার  জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হল ডিপ্রেশান। হু! ডিপ্রেশান... &lt;br /&gt;যখন খুব খারাপ সময় অতিবাহিত করি , যখন চরম হতাশার মধ্যে থাকি তখনি  কেবল অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করার জন্য নিউরন হাইপার একটিভ  থাকে। কি করলাম, কি হল, কি হবে- এই চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকে মন। &lt;br /&gt;দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। তার মানে এই না যে নেগেটিভ জিনিস ওভার  লুক করতে হবে। বরং নেগেটিভ জিনিস থেকে পজিটিভিটি বের করে আনতে হবে। এই যে  ডিপ্রেশান, মারাত্বক একটা মেন্টাল ডিজঅর্ডার কিন্তু এই সিচুয়েশান থেকে  পজিটিভিটি বের করে আনতে পারলে মারাত্বক পজিটিভ আউটপুট পাওয়া সম্ভব যা  ম্যাচিউরড হবার জন্য খুবই উপকারি। সুতরাং, বার বার নিজেকে বলি, বি পজিটিভ  এবং থিঙ্ক পজিটিভ... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবীতে কোন সিদ্ধান্ত ১০০%  বেনিফিটের উপর নির্ভর করে হয়না। সেখানে  অবশ্যই একটা অনুপাত থাকে। হতে পারে ৫০: ৫০ অথবা ৫১: ৪৯। কিন্তু এই অনুপাত  থেকেই সিদ্ধান্তে পৌছতে হয়। যদি কোন কাজের বেনিফিট ৫১% হয় তবে বাকি ৪৯%   ক্ষতির জন্য সেই কাজ বাদ দেয়া বোকামি ছাড়া কিছুই না। ধরে নিতে হবে সেই ৪৯%  কোল্যাটারাল ড্যামেজ। এটা  যেকোন কাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সুতরাং  কনফিডেন্ট হতে হবে সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে। আবেগকে অস্বীকারের কোন উপায়  নেই। কিন্তু সেটাকে নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকাও কোন সিদ্ধান্ত হতে  পারেনা। তাই আবগকে সাথে নিয়েই কনফিডেন্ট হতে হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রতিটা কাজ স্ক্যানিং করতে হবে। ভুল হবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই  ভুল না করলে পরে যে আমি সঠিকটাও করতে পারবনা! তাই ভুলের স্বীকার কাউকে কখনও  ছোট করেনা, বরং বড় হবার প্রথম ধাপই হল ভুল করে নতুন কিছু শেখা। তাই আরো  বেশি প্র্যক্টিক্যাল হতে হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বাধীনতা প্রতিটা মানুষের জন্মগত অধিকার। স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও  জীবন পরিচালনার জন্যই মায়ের অন্ধকার নিরাপদ প্রকোষ্ঠ হতে এককেটা জীবনের  আবির্ভাব ঘটে এই পৃথিবীতে। একজন মানুষকে চেইঞ্জ করার সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র  হল তার চিন্তা ভাবনার জগতে আলোড়ন তৈরি করা। কিন্তু সেজন্য তো আগে নিজের  চিন্তা ভাবনার জগতে নিজেকে আলোড়িত করতে হবে। খুব ভালভাবেই খেয়াল করছি, কোন  কিছু যখনি আমার চিন্তা ভাবনার জগতকে রুদ্ধ করে দিতে চায় সেটা যত ভালই হোকনা  কেন সেখানে আমি একেবারেই বেমানান হয়ে যাই। আমরা অন্যদের বদলে দিতে চাই  কিন্তু নিজেদেরকে চিন্তা ভাবনায় প্রতিবন্ধী করে রাখতে চাই। এই এটিচিউড  পরিবর্তন করতে হবে। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন ব্যক্তিসত্তার প্রতি শ্রদ্ধা  রাখতে হবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর চরিত্র! সেটা তো সবকিছুর মূলে। মোরালিটি হল সেই জিনিস যা বিশ্বাস ও  কাজে একই রকম। একজন ওয়েস্টার্নও অনেক মোরাল হতে পারে আবার একজন ইষ্টার্নও  অনেক ডিমোরাল হতে পারে। কিভাবে? ধরেন কেউ বিশ্বাস করে খোদা বলে কেউ নেই,  সুতরাং যা করতে হবে তা নিজের যোগ্যতা দিয়েই করতে হবে এবং সেটা সে তাই করে।  সে সাকসেসফুল হবে। সে মোরাল, কারণ সে তার বিশ্বাস ও কাজের মধ্যে কোন  কনফ্লিকশান রাখেনাই। &lt;br /&gt;আবার একজন আস্তিক তার বিশ্বাস আছে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কিন্তু সে সুযোগ  পেলেই অন্যায় করে, ক্ষতিকর কাজ করে, আর সফলতার জন্য ভাগ্যের উপর নির্ভর  করে। সে ডিমোরাল, কারণ তার বিশ্বাস ও কাজের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে।  &lt;br /&gt;সম্ভবত আমরা বাহ্যিকভাবে সবাই মোরাল কিন্তু বেসিক্যালি ডিমোরাল। তা না  হলে চরিত্র যেখানে আমাদের মূলসম্পদ সেখানে চরিত্রের আলো সবক্ষেত্রে ছড়িয়ে  দিতে হবে। তা না করে আমরা সেই চরিত্র বিনাশের ভয়ে নিজেরাই ভীত সন্ত্রস্ত।  তাহলে কিভাবে অন্যদের আমরা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখি?  &lt;br /&gt;হুম, তাই আমি যাই হইনা কেন, আমাকে সত্যিকার ভাবে মোরাল হতে হবে। আমার বিশ্বাস ও কাজের মিলন ঘটাতে হবে।  &lt;br /&gt;উমম!!  লাইফের নতুন এডিটিং এর কাজ চলছে এভাবেই......এখন কেবল প্রতীক্ষা। তবে সেই প্রতীক্ষা খুব একটা খারাপ না!!  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/15.gif" /&gt;  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/15.gif" /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5724892189580435199?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5724892189580435199/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5724892189580435199' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5724892189580435199'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5724892189580435199'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_1684.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৫'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-4113166089079266293</id><published>2011-09-23T16:43:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:43:19.390+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-৫</title><content type='html'>হলে উঠার পর প্রথম যে ব্যাপারে আমি আর তনিমা উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেটা হল হলের  পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা। প্রতিদিন হল পরিষ্কার করার জন্য একজন বুয়া আসে  কিন্তু তারপরও বাথরুম খুব নোংরাই থাকত। কারণ টা ছিল মেয়েরা খুব অসচেতন।  দেখা যাচ্ছে শ্যাম্পুর প্যাকেট, প্যাড, বিভিন্ন কাগজ বাথরুমে পড়ে থাকে।  এরপর দোতলায় যে পানির ফিল্টার আছে, দেখা যায় সেই ফিল্টার থেকে অনেকেই  গ্লাস, বাটি এসব ওয়াস করছে এবং আল্টিমেইটলি পুরা জায়গাটা নোংরা করে রাখতে  একটুও দ্বিধা করছেনা। খুব দৃষ্টি কটু হলেও সবাই সেটার সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। &lt;br /&gt;একদিন আমি আর তনিমা এব্যাপারে সিনিয়র এক আপু ও আমাদের কিছু ব্যাচমেটের  সাথে কথা বললাম। সবাই এব্যাপারে বিরক্ত, কিন্তু কেউ কোন উদ্যোগ নিবেনা  এটার বিরুদ্ধে। সুতরাং আমরাই উদ্যোগটা নিলাম। অনেকগুলো কাগজে কতগুলো রুলস  এবং রেগুলেশান মানার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দিয়ে হলের সবজায়গায় লাগিয়ে  দিলাম। অস্বাভাবিক পজিটিভ রেসপন্স পেলাম। দেখলাম পরেরদিন থেকেই সবাই সেই  রুলস মেনে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে সহায়তা করছে। এটা ছিল আমাদের  উদ্যোগের খুব সামান্য একটা দিক, কিন্তু এই সামান্য দিক থেকে বুঝতে পারলাম  যে আপামর জনসাধারণ উদ্যোগের অপেক্ষায় বসে থাকবে, তবু নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু  করবেনা &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর হলের রুমে দেখা যায় যখন তখন একেকটা ফ্রেন্ড সার্কেল খুব জোরে  জোরে হাসাহাসি, ঠাট্টা, ফাযলামি করছে, অন্যদিকে কেউ ঘুমাচ্ছে। একদিন একজন  খুব বিরক্ত হয়ে এব্যাপারে আমার সাথে কথা বলছিল, অনেকটা অভিযোগের সুরে যে  কেন তারা ঘুমানোর সময় এরকম হাসাহাসি করে। আমি আর তনিমা সাথে সাথেই বললাম  তাহলে তোমরা সাথে সাথে কেন সেটা নোটিফাই করে দাওনা তাদের? কিন্তু অন্যরা কি  মনে করবে, এতজনের একটা ফ্রেন্ড সার্কেলের বিরুদ্ধে সে এটা নিয়ে কথা বলবে  কেমন দেখায়? বুঝলাম স্বকীয়তা জ্ঞান অধিকাংশ মেয়ের মধ্যে নাই। অনেকেই অনেক  ব্যাপারে চরমভাবে সাফার করছে, কিন্তু কেউ কোন প্রতিবাদ করছেনা। অনেকটা  সাইলেন্ট ডিক্টেটরশীপ চলছে কোথায় যেন! সুতরাং একদিন আমি এবং তনিমা অনেক  গল্পোচ্ছলে এব্যাপারে অন্য সবার সাথে আলোচনা করে এ ডিসিসানে পৌছলাম যে  দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে জোরে জোরে হাসাহাসি, ঠাট্টা, ফাযলামি করা  যাবেনা। আমাদের ওই উদ্যোগটাও সেদিন মারাত্বকভাবে কাজে লেগেছিল। &lt;br /&gt;এরপর আরেকদিন সার্জারি ওয়ার্ডে যাব বলে সন্ধ্যার দিকে হল থেকে বের  হলাম কয়েকজন একসাথে। জরুরি বিভাগের সামনে দিয়ে যেতেই দেখি একজন  প্রেগন্যান্ট মহিলা খুব ইমার্জেন্সি কন্ডিশানে আছে। কিন্তু কেউ তার ধারে  কাছেও ঘেষছেনা, তার সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেনা। আমরা সেদিন সাথে সাথে  সেই মহিলাকে গাইনি ওয়ার্ডে নিয়ে গেলাম। কিন্তু কোন বেড খালি নাই, বলে ফেরত  দেয়া হল। রোগীর অবস্থা এমন ছিলনা যে তাকে অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ভর্তি  করাব। সুতরাং তনিমা আর আমি কি করব ভেবে পাচ্ছিলামনা, বাকিরা আমরা কি করি  সেই আশায় আছে। খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম এই মহিলার চিকিৎসা এই  হাসপাতালেই করতে হবে যেভাবেই হোক। সুতরাং অনারারি একজন চিকিৎসক ছিলেন তাকে  ব্যাপারটা খুলে বলার পর তিনি রাজি হলেন এই শর্তে যে আমরা যদি মহিলাটার কোন  ক্ষতির দায়িত্ব নিতে পারি তাহলে তিনি লেবার রুমে ঢুকাবেন। আমরা কোন কিছু  চিন্তা না করেই রাজি হয়ে গেলাম।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরবর্তিতে সেই মহিলার ডেলিভারিতে প্রচুর সময় লাগল, এবং একটা সময়  পরিস্থিতি এতই খারাপ হল যে গাইনি ডিপার্টমেন্টাল হেড ছাড়া সেই কেইস কেউ আর  ডিল করতে পারছেনা। রাত তখন ৯টা বাজে। হাসপাতাল থেকে ইমার্জেন্সি  এম্বুলেন্সে করে মিরপুর গিয়ে সেই হেড ম্যাডাম কে নিয়ে আসা হল, এরমধ্যে  আমাদের এক ফ্রেন্ড রক্তের জন্য সন্ধানিতে চলে গেল। সবমিলিয়ে যখন রাত দশটা  বাজে তখন লেবার রুমে সব চিকিৎসকরা ঢুকলেন আবার। ততক্ষনে মহিলার অবস্থা  ভাষায় প্রকাশ করার মত না। যাইহোক এরপর বাচ্চা ডেলিভারি হল, কিন্তু শিশু  বিভাগে তখন স্পেশালিস্ট ছিলনা তাই সেই মুহূর্তে বাচ্চাকে নিয়ে আমি, তনিমা  আর একজন ফ্রেন্ড চলে গেলাম সিএনজি তে করে মিরপুর শিশু হাসপাতালে। সেখান  থেকে আমাদের হাসপাতালে যখন ফিরলাম তখন রাত বারটা বাজে। &lt;br /&gt;জানিনা সেদিন অনেক ঝুকিপূর্ণ কাজ হঠাৎ ঝোকের মাথায় করেছিলাম, শুধু এই  চিন্তা করে যে আমাদের এটা করতে হবে, করা উচিত। বাকিটা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া  কিছুইনা, কারণ সেদিনের পর গাইনি চিকিৎসকরা আমাদের ধন্যবাদ দিলেন এবং বললেন  এরকম ঝুকিপূর্ণ কাজে আমাদের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে এরকম কেইসে  ভিন্ন ঘটনাও ঘটে যেতে পারত, নানা ধরনের ঝামেলাতেও আমরা জড়িয়ে পড়তে পারতাম। &lt;br /&gt;রাত সাড়ে বারটায় বাচ্চার বাবা যখন হাসপাতালে আসলেন তখন প্রথমেই  বাচ্চার খালাকে জিজ্ঞাসা করলেন ছেলে হয়েছে না মেয়ে হয়েছে? আমি সামনে ছিলাম,  খুব মেজাজ খারাপ হয়ে গেল ওই প্রশ্ন শুনে। এতক্ষন কোন খবর ছিলনা, এখন আসছে  ছেলে না মেয়ে এই খবর নিতে! মেজাজ সামলে সেই লোকটাকে কিছু কথা শুনিয়ে দিলাম। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই হচ্ছে আমাদের সার্বিক পরিবেশের কিছু খন্ডিত চিত্র। যেখানে ভাল কাজে  কেউ উদ্যোগ নেয়না, ঝুকিপূর্ণ কাজ বলে সামনে কেউ এগোতে চায়না। তবে সবার  উদ্যোগে অনেক ঝুকিপূর্ণ বড় কাজও নিমেষেই করে ফেলা সম্ভব সেটা হলে থেকে  প্রথমবারের মত প্র্যাক্টিক্যালি অনুভব করলাম। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;( আপাতত চালানোর আর ইচ্ছা নাই...)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-4113166089079266293?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/4113166089079266293/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=4113166089079266293' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4113166089079266293'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4113166089079266293'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_5659.html' title='হোস্টেল লাইফ-৫'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-8255444781826326284</id><published>2011-09-23T16:41:00.003+06:00</published><updated>2011-09-23T16:41:47.390+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-৪</title><content type='html'>বন্ধুত্বের প্রকৃত সংগা আসলে কি? এই বন্ধুত্ব নিয়েই আমি সবচেয়ে বেশি  কনফিউশানে ছিলাম। মেডিকেলে দেখতাম একঝাক গ্রুপ ফ্রেন্ড নিয়ে একেকটা  ফ্রেন্ডশীপ গড়ে উঠে। একেকটা গ্রুপে ৩জন থেকে শুরু করে ১০জন পর্যন্ত থাকে।  ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে আমাদের ৭জনের একটা গ্রুপ সার্কেল ছিল। সেটা কেবলই  বন্ধুত্ব ব্যতিত আর কিছু না। সায়েন্স, আর্টস, কমার্স তিনগ্রুপের মিলে মোট  সাতজন। জমজমাট ছিল আমাদের ওই বন্ধুত্ব। এখন আমরা সেই সাত জন সাত জায়গায়।  ভাবতেই কষ্ট লাগে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক মেডিকেলেও চারপাশে একেকটা গ্রুপ সার্কেল তৈরি হতে লাগল। আমারও  একটা সার্কেল তৈরি হল ৫জন মিলে। কিন্তু কয়েক মাসের ভিতরে সেই সার্কেলে ২জন  বের হয়ে গেল, বাকি রইলাম তিনজন। খুব তুচ্ছ এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই  ছাড়াছাড়ির ঘটনা। আমি কিছুটা শকড। কিন্তু সেবারই বুঝতে পারলাম যে আমি অনেক  কিছু কম্প্রোমাইজ করি যেটা অন্যরা করতে পারছেনা। &lt;br /&gt;এরপর তিনজন মিলেই একসাথে হলে উঠা। সাবরিনা যদিও হলে রেগুলার আমাদের  সাথে থাকতনা, কিন্তু আমি আর তনিমা রেগুলার থাকতাম। হুম, মেডিকেলে প্রথম  আমার যে ঘনিষ্ঠ হয় সে হচ্ছে তনিমা। খুব স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড মেয়ে সে। ওর এই  গুনটাই আমার সবচেয়ে বেশি ভাল লাগত। কিন্তু মাঝে মাঝে ওর এই গুণের  মাত্রাতিরিক্ত বহিঃপ্রকাশ অন্য সবার জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে যেত। আমিও চরম  স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড মেয়ে, কিন্তু ওর কাছে আমার এই গুন কিছুইনা। কারণ আমি  পরিবেশ বুঝে ব্যালান্সড আচরন করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ও কোন কিছুকেই  কেয়ার করতনা। সুতরাং হলে উঠে অন্য সবার সাথে প্রথমেই তনিমার কিছুটা বিবাদ  শুরু হতে লাগল। আমি সবসময় ব্যাপারটা ডাইলিউট করার চেষ্টা করতাম। কিন্তু  কিছুতেই কিছু হতনা। খুব একরোখা ও জেদি টাইপ ছিল তনিমা। &lt;br /&gt;একদিন হলে সিনিয়র এক আপুর সাথে ওর তুমুল আকারে ঝগড়া বেধে গেল। কারণ টা  খুব নগন্য। আসলে সিনিয়র-জুনিয়র রিলেশানে অলিখিত কিছু শর্ত থাকে, তনিমা সেই  শর্ত মানতনা বলেই ঝগড়ার সূত্রপাত। আমি ওকে বুঝিয়েছিলাম সবক্ষেত্রে  এক্সট্রিম আচরন করা ঠিক না। কিন্তু এতে তনিমা আমাকে ভুল বুঝে।এরপর মেইন যে  কারণে তনিমার সাথে আমার বন্ধুত্ব টিকেনি সেটা নিছক কোন ঝগড়া নয়। &lt;br /&gt;বন্ধুত্বের সংগাতে ফিরে যাই। হলে আমার রুমে ছয়জনের এক সার্কেল আছে।  খুব এক্সপ্রেসিভ তারা, ডমিনেটিংও বটে। নিচতলার রুমেও তিনজনের এক সুন্দর  ফ্রেন্ড সার্কেল আছে। এছাড়াও আরো অনেক ফ্রেন্ড সার্কেল ক্যাম্পাসে  ছিল,কিন্তু যেহেতু তারা হলে ছিলনা তাই ওদেরটা বিস্তারিত বলবনা। &lt;br /&gt;ছয়জনের ফ্রেন্ডশীপ খুব জটিল ছিল। কিন্তু দেখতাম একজন কেউ যদি কোন  অন্যায় কাজ করে অথবা ভুল পথে যায় অন্যরা কেউ সেটাকে বাধা দেয়না। বরং  জেনেশুনে তারা নিজেদের কাছের বন্ধুকে ভুল পথে যেতে সহায়তা করে। এধরনের  বন্ধুত্ব আমাকে এবং তনিমাকে খুব ভাবিয়ে তুলল। একদিন নয় বহুদিন আমি,তনিমা  এবং সাবরিনা বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। সারারাত হলের বারান্দায় রাত জেগে  এসব নিয়ে অনেক গল্প করেছি। আলোচনার টপিকস ছিল সত্যিকার বন্ধুত্ব আসলে কি? &lt;br /&gt;সবাই আমরা একমত হয়েছিলাম সত্যিকার বন্ধু আসলে সে, যে অপর বন্ধুর দর্পন  স্বরূপ। অর্থাৎ দর্পনে যেমন সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায় বন্ধুত্ব ব্যাপারটাও  তাই। আমি যদি অপরাধ, অন্যায়, ভুল করি অন্যজন দর্পনস্বরূপ সেটা দেখিয়ে  দিবে, এটাই স্বাভাবিক। &lt;br /&gt;ক্যাম্পাসে তখন হঠাৎ করেই হিন্দু-মুসলিম এফেয়ারের ঘটনা বেড়ে গেল।  নিচতলার সেই তিন ফ্রেন্ডের একজন এর মধ্যে ছিল। আমরা এটা নিয়ে অনেক সমালোচনা  করলাম, কিন্তু ওদের ফ্রেন্ডশীপ আসলে কি ছিল জানিনা, তাদের এটা নিয়ে কোন  মাথা ব্যথা ছিলনা। এরপর সেই ছয় ফ্রেন্ডের মধ্যেও এরকম কেইস ঘটে গেল, কিন্তু  বাকি ফ্রেন্ড তাদের এটা নিয়ে কোন মাথা ব্যথা ছিলনা। বরং যে জিনিস দেখে  সবচেয়ে বেশি অবাক হলাম সেটা হল তারা অবলীলায় একটা অন্যায়কে ঢাকতে বন্ধুর  জন্য গার্ডিয়ানের কাছে মিথ্যা বলল। যেখানে হবার কথা ছিল এক বন্ধু অন্যের  অন্যায়কে শুধরে দিবে সেখানে জাস্ট উলটা হল। একজন অন্যজনের অন্যায় কাজে  সহায়তা করল।  &lt;br /&gt;আমি জানিনা বন্ধুত্ব কি নিছক আড্ডা মারা, গল্প করা, লাইফ এনজয় করা?  নাকি একটা আইডিওলজিক্যাল প্ল্যাটফর্মে সবার একাত্বতা ঘোষণা করা। এই  প্ল্যাটফর্মে একজন অপরের দর্পন। অন্তত আমার,তনিমা আর সাবরিনার কাছে  ব্যাপারটা এরকমই ছিল। &lt;br /&gt;কিন্তু তনিমার সাথে বন্ধুত্বের এক বছর পরেই আমি ধীরে ধীরে টের পেলাম  তনিমা একটা বড় অন্যায় করতে যাচ্ছে যেটা তার জন্য চরম ভুল সিদ্ধান্ত। খুব  স্বাভাবিকভাবেই আমি ওকে ওর ভুলের ব্যাপারে সতর্ক করে দিলাম। ভাল লেগেছিল যে  তনিমা সেদিন স্বীকার করেছিল যে সে আসলেই ভুল করতে যাচ্ছিল এবং আমাকে সে  ভুল বুঝেনি। কিন্তু আবেগিক ভালবাসার কাছে তনিমার প্রখর যুক্তিবোধ হার  মেনেছিল। তাই সে নিজেকে ভুলের স্রোত থেকে সরিয়ে আনতে পারেনি, নিজেই ভেসে  চলে গেছে ভুলের সাগরে। &lt;br /&gt;তনিমার সাথে বন্ধুত্বের গভীরতা সেদিন থেকে ধীরে ধীরে কমে যেতে লাগল।  কারণ হলে তনিমা বেশি থাকতনা, ওর তখন লাইব্রেরিতে পড়ার আগ্রহ বেশি। একদিন  তনিমার বাসা থেকে ওর মা ফোন করে আমার কাছে তনিমার ব্যাপারে জানতে চাইল। আমি  মিথ্যা বলতে পারিনি কিছুই। আমি চেয়েছিলাম তনিমা ভুল থেকে ফিরে আসুক যেমন  তনিমার মা চায়। কিন্তু সেদিন থেকেই তনিমা আমাকে ভুল বুঝা শুরু করল। কেন  জানিনা আমিও তনিমার ভুল ভাঙ্গাতে চাইনি আর। কারন আমাদের ফ্রেন্ডশীপের কমন  প্ল্যাটফর্ম ততদিনে ভেঙ্গে গেছে। সাবরিনা এবং আমি সিদ্ধান্ত নিলাম এভাবে  বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখার কোন মানে নেই। কারণ আমাদের বন্ধুত্ব নিছক লাইফ এনজয়  করার জন্য ছিলনা। ইনফ্যাক্ট তনিমাও বুঝে গিয়েছিল যে আমার সাথে ওর  ফ্রেন্ডশীপ আর থাকবেনা, কারণ আমরা দুজনই দুজনকে ভালভাবে চিনতাম ও বুঝতাম। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অতঃপর কেবল আমি আর সাবরিনা। সাবরিনা হলে থাকতনা। যদিও খুব খারাপ  লেগেছিল তারপরও তনিমার সাথে আমার আর সেভাবে বন্ধুত্ব আর রক্ষা করা গেলনা।  আসলে আমি চেয়েছিলাম সবসময় ওর পাশে থাকতে কিন্তু তনিমা নিজেই আমাকে দূরে  সরিয়ে দিতে চাইল, আমি কাছে যাবার প্রেরণা হারিয়ে ফেললাম। &lt;br /&gt;তনিমার সাথে বন্ধুত্ব টিকেছিল ২বছর। এরপর সুমাইয়া, যাকে আমি সবচেয়ে  খারাপ মেয়ে বলেই জানতাম। হলে থাকার সুবাদেই আমি বন্ধুত্বের স্বরূপ বুঝতে  পেরেছিলাম, নিজেকে চিনতে পেরেছিলাম। অন্যায়কে মেনে নেবার মত কিংবা অন্যায়কে  প্রশ্রয় দেবার মত বন্ধু আমি হতে পারিনি, এই ব্যাপারটা আমার নিজের কাছে  কিছু বৈশিষ্ট্য তুলে ধরল। এরপর তনিমা ছাড়াও আরো অনেকের সাথেই আমার খুব ভাল  বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। কিন্তু সত্যিকার বন্ধুত্বের আসল সংগাতে কেউ এক হতে  পারিনি বলেই বন্ধুত্বটা সবসময় সুপারফিশিয়াল থেকে গেছে। কারণ বর্তমান  বন্ধুত্ব কেবল নিছক শাব্দিক বন্ধুত্ব শব্দে বন্দী। কেউ কারো দর্পন না  এখানে। তাই অবলীলায় এক বন্ধুকে অন্য বন্ধু অন্যায় কাজে সহায়তা করতে পারে। &lt;br /&gt;সুমাইয়ার সাথে একদিন এরকম আলোচনা করছিলাম তনিমাকে নিয়ে। হলে তখন তনিমা  ছিলনা। সুমাইয়া আমাকে তনিমার ব্যাপারে প্রশ্ন করাতেই আলোচনার সূত্রপাত।  তনিমার সাথে আমার বন্ধুত্বের বিচ্ছেদের কারণ সুমাইয়া খুব ভালভাবেই বুঝতে  পারল। শুধু যে বুঝতে পারল তাই নয়, সুমাইয়া আমাকে সেদিন শান্ত্বনা দিল যে  একমাত্র সত্যিকার বন্ধু মাত্রই এরকম অনুভব করতে পারে যেরকম আমি তনিমার জন্য  করতাম। হুম, সুমাইয়ার সাথে বন্ধুত্বের শুরু আমার সেদিন থেকেই হল... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(চালানোর ইচ্ছা আছে...)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-8255444781826326284?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/8255444781826326284/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=8255444781826326284' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8255444781826326284'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8255444781826326284'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_6814.html' title='হোস্টেল লাইফ-৪'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5585942874506162977</id><published>2011-09-23T16:40:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:40:30.425+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-৩</title><content type='html'>বাসার বাইরে হলের জীবনে প্রথম যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি তা হল নিজের কাজ নিজেই  করা। যদিও আমি খুব প্র্যাক্টিক্যাল মেয়ে তবুও বাসায় থাকাকালীন আমার  সাধারণত কোন কাজে হাত দেয়া লাগেনি। কিন্তু হলে গিয়ে ঘুম থেকে উঠে বিছানা  গোছানো, কাপড়-চোপড় ধোয়া, সময়মত খাওয়া-দাওয়া এসব খুব সুন্দর নিয়মিত হয়ে গেল  আমার জন্য। ইনফ্যাক্ট আমি যে এরকম সুন্দর গোছানো লাইফ কন্টিনিউ করতে পারি  তা আমার কাছে প্রথম প্রকাশিত হল সেখানে গিয়ে। &lt;br /&gt;এই গোছানো লাইফ বাদেও আর যে ব্যাপার আমার জন্য সবচেয়ে বেশি  গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হল বিভিন্ন মানুষের সাথে একত্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা।  এমএমসি থেকে ঢাকায় আসা পর আমি তখন অনেক রিলাক্স। যদিও হলে থাকি তবুও  শান্ত্বনা এই যে, যেকোন মুহূর্তে বাসায় যেতে পারি। আসলে আমার মধ্যে যে হোম  সিকনেস আছে সেটা আমি হলে যাবার পূর্বে ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি। ভাবতাম হলের  জীবন না জানি কত মধুর! &lt;br /&gt;যাইহোক সুমাইয়ার সাথে আমার ফ্রেন্ডশীপ প্রথম থেকে ছিলনা,যদিও পরবর্তিতে মেডিকেলে লাইফে ওই আমার সবচেয়ে কাছের একজন হয়ে উঠে। &lt;br /&gt;সুমাইয়া আমার ব্যাচেও ছিলনা, ওর রোল প্রথমদিকে আর আমার শেষের দিকে।  এমনকি ও আমার রুমমেটও না। পাশের রুমে থাকত সে। তবে মেডিকেলে প্রথম যাকে  নিয়ে আমার খুব কৌতুহল হয় সে হল সুমাইয়া। কারণ ক্যাম্পাসে তখন সে টক অব দ্যা  টাইম। অসাধারন সুন্দরী, স্মার্ট। যেকোন ছেলেই একবার দেখলে ২য়বার তাকাতে  ভুল করবেনা। সুতরাং ক্যম্পাসের সব ছেলেরাই মোটামুটি তাকে একবার করে হলেও  ট্রাই করেছে। ওর নামে অনেক অনেক গুজব তখন ক্যাম্পাসে চলছিল। যেহেতু ও আমার  ব্যাচে ছিলনা তাই ওর খুব কাছাকাছি মেশার সুযোগ আমার হয়নি তখন। তবে মাঝে  মাঝে ওর সাথে বাসে দেখা হত। হাই,হ্যালো টাইপ কথা দিয়েই শেষ হত আমাদের  পরিচয়। &lt;br /&gt;সুমাইয়া সম্পর্কে প্রথম কাছাকাছি মেশার সুযোগ হয় হলে উঠে। ও আমার  পাশের রুমেই থাকত। সুমাইয়ার সবচেয়ে যে জিনিস আমার ভাল লাগত সেটা হল ওর  ডিসেন্ট চলাফেরা। খুব স্মার্ট ছিল কিন্তু সেই স্মার্টনেসের মধ্যে কখনও  উগ্রতা ছিলনা। আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম হলে যখন দেখলাম সুমাইয়া নামাজ পড়ে,  বিশেষ করে ফজরের নামাজ। এতদিন ধারণা ছিল নামাজ পড়া তো দূরের কথা নামাজ  পড়তে পারে কিনা সেটাই সন্দেহ। মানুষ সম্পর্কে প্রথম অনুমান ভিত্তিক ধাক্কা  খেলাম আমি সেদিন। ধাক্কাটা আরো অনেক কারণেই জোরাল ছিল। &lt;br /&gt;ক্লাস শেষে রিডিং রুম বা লাইব্রেরিতে আমার সেরকম করে কখনও পড়া হয়নি।  দুইটা কারণ ছিল। প্রথমত; রিডিং রুম/লাইব্রেরির কড়া এসি থেকে বাইরে বের হলে  আমার খুব অসুবিধা হত। ২য়ত; সেখানে বেশিরভাগ সময় বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড রা  একসাথে পড়াশুনা করত। সুতরাং হলে বসেই আমি পড়াশুনা করতে স্বাচ্ছন্দ অনুভব  করতাম। হলেই আমি লক্ষ্য করলাম একমাত্র সুমাইয়াও আমার মত হলেই পড়াশুনা করে।  সেই সুবাদেই ওর সাথে একটু একটু করে কাছে আসা। আমাদের ফ্রেন্ডশীপ এভাবে ধীরে  ধীরে গভীর হতে লাগল। &lt;br /&gt;অত্যধিক সুন্দরী মেয়েরা নাকি পড়াশুনায় ভাল হয়না, সুমাইয়াকে দেখে সেই  ধারণাও ভুল প্রমাণিত হল। ওর নামে এতদিন ক্যাম্পাসে যত গুজব শুনে এসেছি তখন  সুযোগ হল সেই গুজবগুলো একটু একটু করে যাচাই করার। ততদিনে আমি আমার রুম  চেইঞ্জ করে ফেলি। সুমাইয়া আর আমি একই রুম ও বেড পার্টনার। পড়াশুনা,  খাওয়া-দাওয়া, গল্প সবকিছুই ওর সাথে। ক্রমেই ও আমার রিডিং পার্টনার হয়ে উঠল।  এবং বুঝতে পারলাম একজন মানুষ সম্পর্কে বাইরে থেকে অনুমানভিত্তিক যেসব  ধারণা আমি করে থাকি তার ৮০% ভুল। সুমাইয়া সাধারণ অন্য মেয়েগুলোর চেয়ে একটু  বেশি সাধারণ। বাইরের চাকচিক্যময়তার প্রতি আমার যেমন কোন আকর্ষন নেই, ওরও  নেই। দেখতাম হলে মেয়েরা বিকেল হলেই খুব সেজে গুজে বয়ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে  বের হয়। অথচ সুমাইয়াকে আমি কখনও আয়না দেখে চুল পর্যন্ত আচড়াতে দেখিনি। ওকেই  আমি প্রথম মন্তব্য করি যে তুই আমার থেকেও অনেক বেশি সিম্পল। খুব  বন্ধুবৎসল, সামাজিক, অমায়িক সুমাইয়াকে আমার বেশি ভাল লাগতে শুরু করল, কারণ  একমাত্র কলেজেই আমি প্রথম যার ব্যাপারে নেগেটিভ মন্তব্য শুনি সে ছিল  সুমাইয়া। &lt;br /&gt;এটা ছিল আমার নেগেটিভ ধারণার পজিটিভ দিক। ঠিক উলটা অভিজ্ঞতাও আমাকে দারুনভাবে প্রভাবিত করল। সুমাইয়ার মতই... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(চালানোর ইচ্ছা আছে...)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5585942874506162977?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5585942874506162977/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5585942874506162977' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5585942874506162977'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5585942874506162977'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_8382.html' title='হোস্টেল লাইফ-৩'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-6020066024875658236</id><published>2011-09-23T16:39:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:39:09.635+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-২</title><content type='html'>এমএমসি তে যখন প্রথম ভর্তি হলাম তখনই জীবনের প্রথম বাসার বাইরে হলে থাকার  সুযোগ পেলাম। আমার যে কি আনন্দ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা। সারাজীবন আমি  কোনদিন মা কে ছাড়া কোথাও থাকিনি। মেডিকেলে পড়তে গিয়ে প্রথম কোথাও একা থাকব,  এই স্বাধীনতা আমাকে অন্যরকম আনন্দ দিয়েছিল। কিন্তু একদিন যেতে না যেতেই  স্বাধীনতার স্বরূপ বুঝতে পারলাম। প্রথম যেদিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ক্লাসে  যখন গেলাম দুই মিনিট লেইট। দুই মিনিট কোন ব্যাপার না, কিন্তু সেই দুই  মিনিটের জন্য স্যার লেকচার গ্যালারিতে ঢুকতে দিলেননা। শুধু আমাকে নয়, এরকম  আরো ১০-১২ জনকে। মনটা প্রথমদিনই মেডিকেলের প্রতি বিতৃষ্ণা এসে গেল। এরপরের  ক্লাসে ঢুকলাম। সেখানে স্যার যে কি পড়ায়লো আমি তার আগা-মাথা কিছুই  বুঝলামনা। সারাটাদিন এভাবেই গেল। রুমে ফিরে এলাম খুব বিষণ্ণ মন নিয়ে। &lt;br /&gt;এরপর রুমে গিয়ে একটা অসহ্য যন্ত্রনার মধ্যে দিন কাটালাম। আসলে বুঝতে  পেরেছিলাম স্বাধীনতা তখনই দরকার হয় যখন স্বাধীনভাবে কোন কাজ করতে হয়।  কিন্তু এমএমসি হলে আমার স্বাধীনভাবে করার মত কিছু ছিলনা। শুধু পড়াশুনা,  খাওয়া-দাওয়া আর ক্লাসে যাবার জন্য স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা একেবারেই নেই।  সুতরাং কখন ঢাকায় যাব, এই চিন্তায় আমি আচ্ছন্ন থাকতাম বেশিরভাগ সময়। কিন্তু  খুব অবাক হয়েছিলাম, আমাদের দোতলা হলে যারা ছিল তারা সবাই খুব উৎফুল্ল এবং  হাসি-খুশি মেজাজে ছিল। কেউ আমার মত বিষণ্ণ ছিলনা। আমার যে রুমমেট সে আমাকে  অনেক মোটিভেট করার চেষ্টা করত। কিন্তু একদম অপরিচিত পরিবেশে, কোন বান্ধবি  ছাড়া আমার একদম ভাল লাগছিলনা। আমার রুমমেট সে সারাদিনই তার বয়ফ্রেন্ডের  সাথে মোবাইলে গল্প করে কাটাত। কখন ক্লাসে, কখন গোসল, কখন খাওয়া-দাওয়া, এসব  আজাইরা নিউজ আপডেট দিতে দিতেই তার সময় কেটে যেত। তাই সে খুব ভালভাবেই হল  লাইফ কাটাচ্ছিল। &lt;br /&gt;পাশের রুমের শিমু নামের এক মেয়ে ছিল। কেন জানিনা ওকে আমার খুব ভাল  লেগে যায়। অদ্ভুত সুন্দর করে কথা বলত। ওর সাথে গল্প করে এক সন্ধ্যা কাটিয়ে  দিলাম। ভাবলাম ওর সাথে ভাল একটা ফ্রেন্ডশীপ হলে হয়ত আমিও অন্য সবার মতই হলে  লাইফ এনজয় করতে পারব। কিন্তু পরদিনই সেই শিমুকে আর পেলামনা। সে তখন তার  বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাইরে ঘুরতে গিয়েছে। আমি তখন একটা শক খেলাম। কারণ একজনকেও  আমি পেলামনা যার বয়ফ্রেন্ড নাই। সবাই কি কারনে এত মজার মধ্যে আছে,  ব্যাপারটা বুঝতে সময় লাগলনা। কারণ সবাই এখন স্বাধীনভাবে তাদের বয়ফ্রেন্ড  নিয়ে ঘুরতে পারে, বাসা থেকে জানাজানির ঝামেলা নাই। &lt;br /&gt;যাইহোক এভাবেই একসপ্তাহ কেটে গেল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে  পারলামনা, বুধবার ঢাকায় চলে গেলাম। বাসায় গিয়ে মন মেজাজ খুব খারাপ।  আব্বু-আম্মুর সাথে কথা বলতেও ভাল লাগছিলনা। এমন একটা ভাব যে মেডিকেলের হলে  তারা আমাকে জোর করে পাঠায়ছে। অথচ আমিই কিন্তু হলে থাকার জন্য প্রথম থেকে  চরম উত্তেজনায় ছিলাম। &lt;br /&gt;শনিবার ভোরে চলে গেলাম এমএমসি। সেদিনই জানতে পারলাম এমএমসি থেকে  মাইগ্রেশান হয়ে গেছে, আমি এখন ঢাকায় এসএইচএসএমসি তে পড়তে পারব। আমি জানিনা,  জীবনের যদি কোন ভাল নিউজ পেয়ে থাকি তাহলে সেটাই ছিল আমার জন্য সবচেয়ে ভাল  নিউজ। শনিবার দিন হলে গিয়েই আমি সব গুছিয়ে ফেললাম। রবিবার আম্মু-ভাইয়ারা  গিয়ে আমাকে নিয়ে আসল। &lt;br /&gt;এই ছিল আমার লাইফের প্রথম হলে থাকা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(চালানোর ইচ্ছা আছে...)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-6020066024875658236?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/6020066024875658236/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=6020066024875658236' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6020066024875658236'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6020066024875658236'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_4533.html' title='হোস্টেল লাইফ-২'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-2990443966769292831</id><published>2011-09-23T16:37:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:37:23.053+06:00</updated><title type='text'>হোস্টেল লাইফ-১</title><content type='html'>গ্রুপ স্টাডি মেডিকেল লাইফে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। মেডিকেলের পড়াশুনা যত  কঠিনই হোকনা কেন এই গ্রুপ স্টাডি পড়াশুনার জন্য অন্যরকম খোরাক যোগায়। সামনে  পরীক্ষা, অবশ্য পরীক্ষা সর্বদা সামনেই থাকে!  আমি আর আমার খুব ঘনিষ্ঠ  বান্ধবি সুমাইয়া প্ল্যান করছিলাম কবে থেকে হলে থাকব। বিশাল এক পড়াশুনার  প্ল্যান নিয়ে হলে উঠব এরকমই চিন্তা আমাদের। আগে থেকে বলে রাখি আমি কোনদিনও  রুটিন মাফিক পড়াশুনা করতে পারিনি। যতবারই পড়াশুনার জন্য প্ল্যান করেছি সব  ভেস্তে গেছে নিমেষেই। তাই নিজের উপর বিশ্বাস নেই। সুমাইয়াকে বললাম, তুই  প্ল্যান কর। সুমাইয়া খুব কনফিডেন্ট একটি মেয়ে। সে সুন্দর একটি প্ল্যান করে  ফেলল। যেদিন আমরা হলে উঠব তার দুইদিন আগে শারমিন সুমাইয়াকে বলে রাখল যে সে  আমাদের সাথে পড়বে। খুব ভাল কথা, তিনজন একসাথে পড়ব। &lt;br /&gt;প্ল্যান অনুযায়ী হলে উঠে গেলাম দ্রুত। বিকেল চারটা থেকে সবাই পড়া শুরু  করব। ঘুমকাতুরে আমি ঘুম থেকে উঠলাম বিকেল সাড়ে চারটায়। ফ্রেশ হয়ে পড়াশুনা  স্টার্ট করতে করতে পাচটা বেজে গেল। প্ল্যান থেকে এক ঘণ্টা পিছিয়ে গেলাম  অলরেডি। যাইহোক বাকি দুজনের গোসল, খাওয়া-দাওয়া,প্রিপারেশান নিতে নিতেই আমার  মত পাঁচটা বাজল।  &lt;br /&gt;প্যাথলোজি মেইন টেক্সট বই, সাথে তিনটা গাইড, পেন্সিল, পেন, মার্কার  নিয়ে তিনজন একসাথে বসে গেলাম। উল্লেখ্য আমাদের তিনজনের বৈশিষ্ট্য পুরাই  ভিন্ন। যেমন আমি, যখন পড়তে বসি তখন পড়া বাদ দিয়ে অন্য গল্প করলে খুব বিরক্ত  হই। সুতরাং যখনি দেখি তিনজন গল্পে মেতে উঠছি তখনি আমি তাগাদা দেই মেইন  বইয়ে মনোযোগ দেবার জন্য। সুমাইয়া, তার বৈশিষ্ট্য হল কিছুক্ষন পর পর  চ্যাপ্টার শেষ হতে আর কত পৃষ্ঠা বাকি সেটা কাউন্ট করা। পড়াশুনার  ফ্রিকোয়েন্সি যত বাড়তে থাকে তার এই পৃষ্ঠা গুনার ফ্রিকোয়েন্সিও বাড়তে থাকে।  আর শারমিন, ওর খুব ইউনিক বৈশিষ্ট্য। পড়তে পড়তে হঠাৎ করে তার মার্কার খুজে  পাচ্ছেনা, এই মার্কারের জন্য আধা ঘণ্টা ব্যয় করবে তবুও পড়বেনা।  &lt;br /&gt;যাইহোক, আমরা তিনজন খুব ডিটারমাইন্ড, হেপাটোবিলিয়ারি সিস্টেম পড়ে শেষ  করতেই হবে। কারণ পরের দিন আইটেম আছে। আইটেম হল মেডিকেলের একটি টার্ম যার  মানে কোন একটা নির্দিষ্ট চ্যাপ্টারের উপর দশ নাম্বারের ভাইভা পরীক্ষা।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ব্যাপার তা হল আইটেমে দশ নাম্বারের জন্য যত বেশি  পড়া লাগে তার পুরা ১০০ নাম্বারের জন্য এত বেশি পড়া লাগেনা। কারন আইটেমে  নির্দিষ্ট টপিকসের উপর জোর দেয়া হয়। &lt;br /&gt;পড়া শুরু করার কিছুক্ষনের মধ্যেই তিনজনের বৈশিষ্ট্য প্রকট হতে শুরু  করল। বলা বাহুল্য, পড়ছি আধা ঘণ্টা আর বাকি আধা ঘণ্টা গল্প। এভাবেই ঘণ্টার  কাটা যেতে লাগল। তিনভাগের একভাগ পড়া শেষ করলামলিভার সিরোসিসে মলিকিউলার  মেকানিজম পড়েই চিন্তা করলাম আরে! আমরা তো অনেক পড়ে ফেলেছি। তাহলে এখন একটু  গল্প করা যায়। এভাবেই একটু একটু পড়া আর গল্প চলতে লাগল। আমি যদিও গল্প না  করার তাগাদা দিচ্ছি তবুও আমিই গল্পে দারুন ভাবে পার্টিসিপেইট করতে লাগলাম।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এভাবে রাত দশটা বেজে গেল। খেতে গেলাম। খাওয়ার পর্ব শেষ করে আবার  স্টার্ট করলাম। যেভাবেই হোক হেপাটোবিলিয়ারি সিস্টেম শেষ করতে হবে। রাত  এগারটা নাগাদ এক ফ্রেন্ডের কাছে খবর পেলাম পরেরদিনের আইটেম ক্যান্সেল করা  হয়েছে। ব্যস! পড়ার মুড তখনি দুই ধাপ নিচে নেমে গেল। &lt;br /&gt;উল্লেখ্য,আইটেম হবে কি হবেনা সেটা টিচারের উপর ডিপেন্ড করেনা।  ব্যাচের সবার ডিসিসানের উপর আইটেম হয়। অন্তত থার্ড-ফোর্থ ইয়ারে আমরা এরকম  ফ্রিডম পেয়ে থাকি। তবে কিছু আতেল ব্যাচ থাকে যারা রেগুলার আইটেম দেয়। আইটেম  সবাইকেই কমপ্লিট করা লাগে। তবে রেগুলার আইটেম না দিলে পরে লোড বেশি পড়ে  যায়, এই যা! তবে আমরা যারা রেগুলার আইটেম দেইনা তারা মনে করে থাকি মেডিকেল  লাইফটাই হচ্ছে ওভার লোড। সুতরাং এসব আইটেমের লোড কোন ব্যাপারনা। সুতরাং  পুরা ব্যাচ বেশিরভাগ সময়ই সিদ্ধান্ত নেই রেগুলার আইটেম দিবনা, পরে সেগুলো  বেশি করে আইটেম নিয়ে কাভার করে দিব।পরের দিন আইটেম হবেনা এই নিউজে মেজাজ  খুব খারাপ হয়ে গেল। কারণ এখন হাজার চেষ্টা করেও পড়ার মুড দুইধাপ উপরে নিতে  পারবনা।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরমধ্যে আমার ভাইএর কাছে ফোন করলাম। ওরা গেছে সুন্দরবন ট্যুরে। ব্যাপক  মজা করতেছে। এটা শুনে মেজাজ আরো খারাপ হতে লাগল। ধুর! মেয়ে হয়েছি বলে কি  ওদের মত আমরা লাইফে মজা করতে পারবনা? এসব আজাইরা চিন্তা করতে করতে পড়ার মুড  একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে এল। &lt;br /&gt;বাকি দুজন এতক্ষন জ্বীন-ভূতের গল্প করতেছিল। আমি এসব মারাত্বক ভয় পাই।  যদিও বিশ্বাস করিনা, কিন্তু ভয় নামক ব্যাপারটা আমার পুরা অন্তর জুড়ে  ব্যপৃত থাকে। ওরাও যে ভয় পায়না তা না। কিন্তু সেই ভয়কে ওরা বিনোদন হিসেবে  নিয়েছে। যেহেতু ভয় আমার কাছে ভয়ই তাই বিনোদন হিসাবে নিতে পারিনি। ওদের  বললাম টপিকস চেইঞ্জ করতে। কিন্তু ওরা আমার অবস্থা দেখে পূর্ণ উদ্যোমে নতুন  করে জ্বীন-ভূতের গল্প শুরু করল। এই আলোচনা চলল রাত দুইটা পর্যন্ত। আমি  ইতোমধ্যে ভয়ে অস্থির। ওরা আমাকে দেখে খুব মজা পাচ্ছে। পরে সেই ভয়ার্ত মন  নিয়েই রাত তিনটার দিকে ঘুমাতে গেলাম। ঘুমানোর সময় অবশ্য সুমাইয়া আমার পাশেই  ঘুমাল, তাই ভয় কিছুটা কম পেলাম। &lt;br /&gt;এভাবে মহা প্ল্যানের একটি দিন ভয়ের মাধ্যমে শেষ হয়ে গেল। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(চালানোর ইচ্ছা আছে...)&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-2990443966769292831?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/2990443966769292831/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=2990443966769292831' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/2990443966769292831'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/2990443966769292831'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_1884.html' title='হোস্টেল লাইফ-১'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5270871792379337351</id><published>2011-09-23T16:35:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:35:43.161+06:00</updated><title type='text'>পৃথিবী, আজ আমার ছেলে প্রথম স্কুলে যাচ্ছে ( world, my son starts school today!)</title><content type='html'>&lt;b&gt;আত্মসম্মানবোধের মূলকথা আব্রাহাম লিঙ্কনের নিচের এই লেখাটাতে যেভাবে প্রকাশ পেয়েছে তার থেকে ভাল করে প্রকাশ করা যায়না...&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হে পৃথিবী, আমার সন্তানের হাত ধর, সে আজ তার স্কুলের পাঠ শুরু করল।  কিছুদিন তার কাছে সবই নতুন ও বিস্ময়কর মনে হবে, এবং আমার আশা তুমি তার  সঙ্গে সদয় &lt;br /&gt;ব্যবহার করবে। দেখ, এ পর্যন্ত সে কাটিয়েছে এই বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই,  মুরগীর ঘরগুলিতে ছিল তার আধিপত্য, বাড়ির পিছনের বাগানের সে ছিল মালিক। তার  ক্ষতে ওষুধ লাগাতে আমি সবসময়ে কাছাকাছি ছিলাম, এবং যখন সে মনে আঘাত পেয়েছে  আমি তাকে সান্ত্বনা দিয়েছি। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু এখন অবস্থা অন্য রকম হবে। আজ সকালে বাড়ির সামনের সিঁড়ি দিয়ে  নেমে গিয়ে পিছন ফিরে আমাদের দিকে তাকিয়ে হাত নাড়বে, তারপর শুরু হবে সেই মহৎ  অভিযান, যা তাকে নিয়ে যাবে অনেক যুদ্ধ, বিচ্ছেদ এবং দুঃখের মধ্য দিয়ে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবীতে বাঁচতে হলে বিশ্বাস, ভালবাসা ও সাহসের প্রয়োজন। সুতরাং হে  পৃথিবী, আমার বাসনা তুমি তার তরুণ হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে চল, এবং জীবনে যা  শেখার প্রয়োজন তা তাকে শিখিয়ে দিও। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি জানি, ওকে জানতে হবে যে সব মানুষই ন্যয়পরায়ণ নয়, সব নারী-পুরুষই  সৎ নয়, তাকে শিখিয়ে দিও যে সংসারে দুর্বৃত্ত যেমন আছে তেমনি বিরচিত  গুনাবলীর মানুষও আছে; শত্রু যেমন আছে তেমনি মিত্রও আছে। প্রথমদিকেই তাকে  শিখিয়ে দিও যে উৎপীড়নকারীরা সহজেই পদানত হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বইয়ের পাতায় যে অত্যাশ্চর্য ভান্ডার আছে তা ওকে চিনিয়ে দিও। ওকে কিছু  নির্জনতা দিও, যখন ও আকাশে পাখির ওড়া, সূর্যের আলোয় মৌমাছিদের ঘোরাফেরা  কিংবা সবুজ পাহাড়ে ফুলের সমারোহ দেখে ভাবতে পারবে। ওকে শিখিও, অসৎ উপায়  অবলম্বন করার থেকে অসফল হওয়া অনেক বেশি সম্মানজনক। ওকে শিক্ষা দিও, যদি  অন্য সকলে বলে যে ওর ধারণাগুলি ভুল তবুও যেন ও নিজের বিশ্বাসে অটল থাকে।  আমার ছেলেকে শক্তি দিও। অন্য সকলে যখন ঠেলাঠেলি করে কোনও প্রত্যাশায় গাড়িতে  ওঠে, তখন ও যেন জনতাকে অনুসরন না করে। শিক্ষা দিও যেন অন্যের কথা শোনে,  কিন্তু যা শোনে তা যেন সত্যের ছাঁকুনিতে ছেঁকে নিয়ে যে সারটুকু থাকে তাই  গ্রহণ করে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিক্ষা দিও, কখনও নিজের হ্রদয় ও আত্বাকে বিক্রয়যোগ্য না করে। শিক্ষা  দিও যেন উচ্ছৃংখল জনতার চিৎকারে কান না দিয়ে নিজে যা সঠিক মনে করে তার জন্য  লড়াই করতে পারে। &lt;br /&gt;সহ্রদয়ভাবে শিক্ষা দিও, পৃথিবী, কিন্তু অধিক প্রশ্রয় দিওনা; কারণ আগুনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেলেই উত্তম ইস্পাত তৈরি হয়। &lt;br /&gt;এটি খুবই দীর্ঘ প্রত্যাশা, কিন্তু দেখ কতটা করা যায়। ও এত ভালো ছেলে... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আব্রাহাম লিঙ্কন&lt;/b&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5270871792379337351?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5270871792379337351/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5270871792379337351' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5270871792379337351'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5270871792379337351'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/world-my-son-starts-school-today.html' title='পৃথিবী, আজ আমার ছেলে প্রথম স্কুলে যাচ্ছে ( world, my son starts school today!)'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-488927048585839241</id><published>2011-09-23T16:32:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:32:37.126+06:00</updated><title type='text'>আসুন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াল গ্রাস থেকে আমাদের কচি প্রাণ শিশুদের বাচাই!!</title><content type='html'>একটা মুভি দেখছিলাম “ফাইনাল ডেসটিনেশান”। আমি, ফাহিম, যুথী, মহিমা, আনিকা  সবাই মিলে। ইনফ্যাক্ট মুভি আমরা দেখছিলামনা, রায়হান দেখাচ্ছিল। সে আমাদের  মুভির ফোকাসিং পার্টগুলো দেখাচ্ছিল। এরকম প্রায়ই আমরা সব কাজিনরা মিলে মুভি  দেখি। কিছুদিন ধরে কয়েকটা ব্যাপার মাথার মধ্যে খুব ঘুরপাক খাচ্ছিল। থ্রিতে  পড়া ফাহিমের সাথে মুভি দেখতে গিয়ে ভাবনাটা আরো বেশি সিভিয়ার হল। মুভিটাতে  যাইহোক না কেন, যুথী সেগুলো দেখে ভয়ে অস্থির। আমি নরম্যালি যেকোন ভূতের ছবি  দেখলে ভয় পাব কিন্তু বাস্তব কিছু দেখলে সেরকম ভয় পাইনা। একারনে  রক্তারক্তি, খুনোখুনি দেখতে আমার ভাল না লাগলেও আমি কখনও ভয় পাইনা। সুতরাং  খুব আগ্রহ নিয়ে ফাইনাল ডেস্টিনেশান দেখছিলাম। কিন্তু অবাক হয়ে খেয়াল করলাম,  মুভিতে যতবারই কেউ মারা যাচ্ছে, কিংবা মারা যাবার দৃশ্য যত ভয়ংকর হচ্ছে  ফাহিম তত বেশি এক্সাইটেড হচ্ছে। ইনফ্যাক্ট কেউ মারা গেলে আমি ভয় না পেলেও,  যে মারা যাচ্ছে তার জন্য খুব দুঃখ লাগতেছে। কিন্তু ফাহিম দুঃখ তো পাচ্ছেইনা  বরং, আনন্দিত হচ্ছে। আরে! আমি ফাহিম কে বললাম,- ভাইয়া তোমার এত্ত আনন্দের  তো কিছুই নাই। এত্ত এক্সাইটেড কেন? সে জবাবে খুব অবাক হয়ে বলল,--আনন্দিত  হবনা? এত্ত ফাটাফাটি একশানধর্মী ছবি! জোস! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঠিক একইধরনের ঘটনা ঘটেছিল তার দুই দিন আগে। দুই ভাগ্নে এসেছিল বাসায়।  একজন ক্লাস টু তে আরেকজন ক্লাস সেভেনে। চরম উদ্যমে তারা কম্পিউটারে গেইম  খেলছিল। আমি কখনও কম্পউটারে গেইম খেলিনি। আসলে হয়ত পারিনা বলে খেলিনা। তো  সেদিন তারা খেলছিল “ভাইস সিটি” নামে একটা গেইম। আমি ওদের খেলা একটু  পর্যবেক্ষন করলাম। আসলে আগ্রহ ছিল কিভাবে এত ছোট বাচ্চারা গেইম খেলে, যা  কিনা আমিও পারিনা। ওদের খেলা দেখে তো মাথা গরম হবার মত অবস্থা। গেইমের থিম  হচ্ছে , একজনকে খুন করতে হবে, বিনিময়ে টাকা পাওয়া যাবে। এরপর শুরু হল মিশন।  যখন তখন কারো গাড়ি ছিনতাই করা, পুলিশ কে ঘুশ দিয়ে ম্যানেজ করা, নিয়ম  ভায়োলেইট করা, রাস্তা-ঘাটে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি বিনা কারণে ছিনিয়ে  নেওয়া, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা, পার্টি-ক্লাবে যাওয়া, অনিয়মের  মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা, মোটকথা বাই হুক অর ক্রুক; মিশন সাকসেসফুল হওয়া।  আমি ওদের মুখে ভার্চুয়াল বিভিন্ন অস্ত্রের নাম ও ব্যবহার শুনে পুরাই তাজ্জব  হয়ে গেলাম। ক্লাস টু তে পড়ে যে ভাগ্নে তার ছোট ভাই যে এখনও স্কুলে যায়না,  সেও এই গেইম ভাল খেলতে পারে। জানিনা পাঠকের কাছে হয়ত ব্যাপারটা খুব হালকা  লাগছে। কিন্তু আমার কাছে খুব ভয়ঙ্কর লাগছে ব্যাপারটা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটি বাচ্চা জন্মের পর থেকেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।  তারা সব কিছু নিয়ম ভংগ করে খেলাতে জয়ী হওয়াকে বিনোদন হিসেবে নিয়েছে। আর  কার্টুন তো সাথে আছেই। কার্টুনেও সেইম কেইস হচ্ছে। একটা বাচ্চার  সাইকোলোজিতে একদম ছোটবেলা থেকেই অন্যায় টা বিনোদন হয়ে যাচ্ছে। শুধু যে  বিনোদন তাই নয়, বাবা-মায়েরাও সেই বিনোদনে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা ভাবছে,  --বাচ্চা মানুষ খেলছে, এ আর এমন কি! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এতদিন তো আমি যে বিষয় নিয়ে চিন্তায় ছিলাম তা হল, বড়দের কথার মধ্যে  বাচ্চারা আছে কিনা সেটা খেয়াল রাখা, কিংবা টিভিতে তারা কি দেখছে সেটা খেয়াল  রাখা। এখন দেখছি তারা কি খেলে, কি কার্টুন দেখে সেটাও চিন্তার বিষয়।উফ!  আমাদের পূর্বের যুগের বাবা-মায়েরা কি শান্তিতেই তা না ছিল। তাদের তো এত  কিছু চিন্তা করত হয়নাই। তখন কম্পিউটার এত এভেয়লেবল ছিলনা, ভাইস সিটির মত  গেইম ছিলনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চারপাশের ফ্যাক্টর বর্তমান যুগে বাচ্চাদের জন্য কতটা হুমকি স্বরূপ।  টিভি, বিজ্ঞাপন, কার্টুন, গেইম সর্বোপরি বাচ্চারা যেসব জিনিস নিয়ে ব্যস্ত  থাকে তা কতটা ভয়াবহ খারাপের দিকে লিড করে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের অজান্তে।  নীরবে দূষন করে দিচ্ছে আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের কোমল, নিষ্পাপ মন কে। একটু  ও কি ভেবে দেখছি ব্যাপারটা আমরা? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রযুক্তির বিরুদ্ধে আমি কখনও নই। এসব নিরব পয়জনিং থাকা সত্বেও আমি  চাইনা যে বাচ্চারা কম্পিউটার থেকে দূরে থাকুক, গেইম না খেলুক, কার্টুন না  দেখুক। এসব আমার দাবি না। ইনফ্যাক্ট আমি এই দাবি করলেও খুব হাস্যকর লাগবে।  কারণ আমাদের বাবা-মায়েরা রাতের বেলা শুধু গল্প শুনিয়ে মন ভুলিয়ে রাখত, আমরা  দাদী/নানীর কাছে রূপকথার গল্প শুনেই বড় হয়েছি। কিংবা টিভিতে মীনা কার্টুন  দেখেছি, আর বিকেল হলেই খেলতে গিয়েছি। কিন্তু এখন তো বাচ্চাদের বিনোদনের  ডাইমেনশান অনেক বড় হয়ে গেছে। তাদের শুধু গল্প শুনিয়ে তাদের ডিমান্ড পূরন  করা যাবেনা। কারণ আপনি হয়ত একা চেষ্টা করবেন, কিন্তু চারপাশের আবহাওয়াকে  আপনি থামাবেন কিভাবে? আপনার বাচ্চা এসে যখন বলবে --তার সব ফ্রেন্ডরা  কম্পিউটারে গেইম খেলে, কার্টুন দেখে, তাকে কেন দেখতে দেওয়া হয়না?  তখন আপনি  একা কিভাবে আপনার বাচ্চাকে নিয়ন্ত্রন করবেন? &lt;br /&gt;&lt;b&gt; &lt;br /&gt;এবার আসি, কিভাবে বাচ্চাদের এই স্রোত থামানো যায়ঃ&lt;/b&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার কিছু আইডিয়া এসেছে। আপনাদের মতামত প্রত্যাশা করি। &lt;br /&gt;যারা ইঞ্জিনিয়ার, ইনফ্যাক্ট যারা গেইম বানাতে পারে তারা উদ্যোগী  ভূমিকা রাখতে পারে। আমি যতদূর শুনেছি কম্পিউটার সায়েন্স হচ্ছে সেই সাবজেক্ট  যেখানে স্টুডেন্টরা গেইম বানাতে পারে। সুতরাং কম্পিউটার সায়েন্স যেসব  ভাইয়া-আপুরা পড়াশুনা করছেন তারা প্লিজ এটা নিয়ে একটু ভাবুন। আর যারা  এনিমেটর আছেন তারাও দয়া করে যদি এগিয়ে আসতেন বাচ্চাদের সুন্দর ভবিষ্যত  রক্ষায়। আর আমরা যারা যেভাবে পারি এব্যাপারে সচেষ্ট হই, সচেতনতা বাড়াই। &lt;b&gt;  হয়ত এটা আপনার ক্যারিয়ারে খুব কাজে আসবেনা ডিরেক্টলি, কিন্তু এটা শিউর যে  আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মের সাইকোলোজি ডেভেলপ করতে অনেক দূর কাজে লাগবে। আমরা  যত আধুনিক হচ্ছি তত রিস্কি হয়ে পড়ছে আমাদের চারপাশ। বাচ্চাদের জগত আরো বেশি  রিস্কি হয়ে পড়ছে। তাই আপু এবং ভাইয়া রা প্লিজ আপনারাই পারেন কিছু করতে  এখানে, কিছু অবদান ইচ্ছা করলেই রাখতে পারেন। দেখেন না, পারেন কিনা  বাচ্চাদের জন্য কোন সুন্দর, শিক্ষনীয় গেইম বানাতে। যেখানে নিয়ম ভংগ করলে  জরিমানা, অবৈধ টাকা ইনকাম করলে পয়েন্ট কাটা, সাধারণ মানুষের কোন ক্ষয় ক্ষতি  করা যাবেনা, নিয়ম মেনে চললে বোনাস ইত্যাদি এরকম। এতে করে বাচ্চাদের  সাইকোলোজি সুন্দর ভাবে ছোটবেলা থেকেই তৈরি হবে, তাদের কাছে কোন মানুষের  করুণভাবে মৃত্যু জোস লাগবেনা, তাদের ছোট ছোট অনুভূতিগুলো যেন একশানধর্মী  ফাটাফাটি মারামারির মধ্যে বিনোদন হয়েই শেষ না হয়ে যায়। এরকম ধংসাত্বক  বিনোদন হতে তাদের দূরে রাখার প্রয়াসে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।&amp;nbsp;&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;তাই, আসুন, প্রযুক্তির ভয়াল গ্রাস থেকে আমাদের কচি প্রাণ  শিশুদের বাচাই!! সবাই মিলে...&lt;/b&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-488927048585839241?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/488927048585839241/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=488927048585839241' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/488927048585839241'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/488927048585839241'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_6513.html' title='আসুন, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ভয়াল গ্রাস থেকে আমাদের কচি প্রাণ শিশুদের বাচাই!!'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-4232613049427963761</id><published>2011-09-23T16:30:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:30:18.140+06:00</updated><title type='text'>ফিরে দেখা ২০১০ : প্রেম</title><content type='html'>ব্যাপারটা দুঃখজনক কিনা জানিনা, তবে আমার বেশিরভাগ ফ্রেন্ডের বয় ফ্রেন্ড  আছে। সো তাদের কাছে আমি ভয়াবহ এক আজব জিনিস। একদিন তারা এই প্রেম বিষয়ক  ব্যাপার নিয়ে বিস্তর গবেষণা চালাল। মেইন টার্গেট ছিলাম আসলে আমি। কেন আমি  প্রেম করিনা।  আমি কোন কিছুই কারণ ছাড়া ব্যাখ্যা করিনা। যদি কেবল ইসলামিক  ভিউ থেকেও বলতে হয় তাহলেও আমাকে লজিক্যাল কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।  ইনফ্যাক্ট তারা কেউই অত ধর্মের ধার ধারেনা। সুতরাং খুব ক্রিটিক্যাল মুহূর্ত  ছিল সেটা আমার জন্য, কারণ আমি ওদের কাছে ধর্মের দোহাই দিয়ে পার পাবনা।  আমাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। &lt;br /&gt;যাইহোক সেই মুহুর্তে আমি পার পেয়ে গেলাম। কারণ আমার যুক্তি তাদের  ভয়াবহ পছন্দ হয়েছে। যদিও খুব সাধারণ একটি কথা বলেছিলাম। খুব স্মার্টলি  বলেছিলাম---“দেখ, আমি তোদের মত অতটা ডিটারমাইন্ড না। যার সাথে আজ আমি  কমিটমেন্টে গেলাম, (ইনফ্যাক্ট রিলেশান বলতে আমি কমিটমেন্টকেই বুঝি)  পরবর্তিতে আমি সেই কমিটমেন্ট রাখতে পারব কিনা আমি জানিনা। কারণ আমার  পরিবার, তার পরিবার, পরিবেশ, ক্যারিয়ার, ভবিষ্যত সবকিছুই অনিশ্চিত। এত  অনিশ্চয়তার মধ্যে আমি কি করে এত বড় একটা মেজর কমিটমেন্টে যাই!! আমি তোদের  মত এতটা ডিটারমাইন্ড আসলে না”। &lt;br /&gt;তারা আমার এই জবাবে খুব খুশি। কিন্তু এই খুশিও যে বেশিদিন টিকবেনা কে জানত!! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো কয়েকমাস পর আবার সেই প্রেম বিষয়ক আলোচনা। বরাবরের মত এবারও  টার্গেট আমি। কারণ ইতোমধ্যেই আমার পূর্বের জবাবের বিরুদ্ধে শক্ত এক লজিক  টেনে এনেছে তারা। হুম, আমি বলেছিলাম ভবিষ্যত অনিশ্চিত, তাই রিলেশানের  কমিটমেন্ট হয়ত রাখা সম্ভব না। কিন্তু সেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতকেও তারা এবার  নিশ্চিত করেছে। কিভাবে? ওকে, শুনেন তাদের লজিক... “ শোন তুই যাকে পছন্দ  করবি অর্থাৎ যার সাথে তোর রিলেশান থাকবে তার সাথে তুই পালিয়ে বিয়ে করবি।  তাহলে তোর কমিটমেন্ট তুই সহজেই রাখতি পারলি। আর পরিবারের ব্যাপারেও সমাধান  আছে। যখন তোর বাবা-মা দেখবে যে মেয়েটা তাদের বিয়ে করেই ফেলেছে তখন তারাও  অগত্যা মেনে নিতে রাজি হবে। সুতরাং দুইদিক থেকেই তুই সেইফ থাকলি। কোন কিছুই  আর অনিশ্চিত থাকলনা”।  &lt;br /&gt;বুঝেন এবার তাদের যুক্তি, কোথায় এপ্লাই করেছে!! আমি তো কিছুক্ষন তাদের  লজিক শুনে মিউট হয়ে গেছিলাম। কিন্তু তারপরও খুব সাধারণভাবে এবারও যা বললাম  সেটাও তারা মেনে নিল। কি বললাম, জানেন?  ---“ দেখ, বছরের পর বছর যার সাথে  প্রেম করব তাকে আমার সত্যি খুব বোরিং লাগবে পরে। এমনিতেও প্রেম না থাকা  সত্ত্বেও শুধুমাত্র গল্প করা ক্লাসের ছেলেদেরও আমার খুব বোরিং লাগে। যে  আমার লাইফ পার্টনার হবে তার সবকিছুই যদি আমি বিয়ের আগেই জেনে যাই,  শেয়ারিং,কেয়ারিং,ভালবাসা এসবের মেইন স্পিরিট শেষ হয়ে যাবে তাহলে। আর বিয়ের  পর যাকে আমি প্রথম চিনব তাকে চিনতেই চিনতেই তো রিলেশান অনেক স্ট্যাবল হয়ে  যাবে। তাই না? সো অসব প্রেম আমাকে দিয়ে হবেনা।”   &lt;br /&gt;উফ!! এই জবাবটাও তাদের পছন্দ হল। কারণ ইতোমধ্যে তাদের প্রেম জমে বরফ  হতে শুরু করেছে। একজন তো বলেই ফেলল, তার নাকি এখন বয়ফ্রেন্ড কে খুব বোরিং  লাগে। অনেকবার ট্রাই করেই ব্রেক আপ করতে পারছেনা। কিভাবে যেন প্রতিবারই  ব্রেক আপ মিস হয়ে যাচ্ছে। একেই বলে মনে হয় আজকালকার প্রেম!  যদিও জানিনা  ভবিষ্যতে তারা আবার কি লজিক নিয়ে আমার কাছে আবার আসবে? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বছরের শুরু থেকেই একজনের প্রেম শুরু হল, যেখানে আমিই নাকি ছিলাম  ভিলেন। একসময় এই প্রেমের সূত্র ধরে তার সাথে বন্ধুত্বও শীতল হয়ে গেল। অনেক  চেষ্টা করেও সেই শীতল সম্পর্ক উষ্ণ করতে পারিনি। পরে ওটা গন কেইস হিসেবে  রেখে দিলাম। আরেকজনের সাথে রিডিং পার্টনার হিসেবে পড়তে পড়তেই দুজনে চরম  ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে গেলাম। ধরে নিলাম তার নাম নীলা। উল্লেখ্য আমরা কেউই  কিন্তু লাইব্রেরিতে পড়িনা, হলের রুমে বসেই পড়তে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করি। কারণ  আমরা কলেজের রিডিং রুম ও লাইব্রেরি রুমগুলো বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডের জন্য  ছেড়ে দিয়েছি। তারা নিশ্চিন্তে ওখানে প্রেম-স্টাডি দুটাই চালাতে পারে।  যেহেতু আমরা সেরকম কিছু না, তাই নিজেদের রুমেই স্টাডি করি।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘটনাক্রমে  নীলার যে বয়ফ্রেন্ড তার সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়া শুরু  করল। কারণ হচ্ছে আমি। নীলার বয়ফ্রেন্ডের অভিযোগ নীলা নাকি আমাকে বেশি টাইম  দেয়, আমার সাথে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। আর যেহেতু নীলা ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে  লাইব্রেরিতে স্টাডি করেনা, সুতরাং তাদের রিলেশান খুব খারাপের দিকে যেতে  লাগল। আমি তো কিছুটা টেনসানে ছিলাম, কারণ এখানে আমি কিছুই করছিনা, তারপরেও  ভিলেন হয়ে যাচ্ছি আমি। নীলার যদি আমার সাথে গল্প করতেই বেশি ভাল লাগে সেটা  কি আমার দোষ নাকি! আজব!! পরে নীলার বয়ফ্রেন্ডের সাথে আমার কথা হল। তাকে খুব  সহজেই বললাম যে-- দোস্ত, তুমি আসলে প্রেম করতে জাননা। তা না হলে, তোমাদের  প্রেমের মধ্যে আমি কেমনে থার্ড পারসন হই? আমি তো আর ছেলে না যে তোমার  প্রেমিকার সাথে প্রেম করব। &lt;br /&gt;এই কথাগুলো সে খুব সিরিয়াসলি নিল। পরে আমাকে বলল যে, আসলেই সে  বুঝতেছেনা কিভাবে নীলার সাথে সম্পর্ক ভাল করা যায়। আমার কাছে টিপস চাইল।  আমি তো ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বললাম, ওসব প্রেমের ব্যাপার আমি বুঝিনা বাপু!  তোমাকে কেমনে টিপস দেই বল...!! &lt;br /&gt;জানিনা শেষ পর্যন্ত এই প্রেমে কোথায় গিয়ে গড়ায়। কারণ এটা এখনও  কন্টিনিউয়াস প্রসেস। তবে আর যাইহোক শেষ পর্যন্ত আমি যেন কোন ঝামেলায় নাই  পড়ি সেই চেষ্টা করে যাব। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর নিজের প্রেম? আসলে আমি জানিনা প্রেমের ডেফিনিশান টা আসলে কি। এইতো  দুইদিন আগে দুলাভাই বাসায় বেড়াতে আসলেন। ভাইয়ার সাথে আমরা সব ভাই-বোন,  কাজিনরা অনেক মজা করছিলাম। কথায় কথায় দুলাভাই তার এক বান্ধবির কথা বলছিলেন  ঠিক এভাবে--- “ ......সেই বান্ধবির নাম ছিল পাতা। তার সাথে আমার সম্পর্ক  আসলে ভালই ছিল। আমি জানতামনা প্রেম বলতে আসলে কি বুঝায়। তবে আজকে এত বছর  তার কথা মনে করতে গিয়ে মনে হল আসলে তার সাথে আমার মনে হয় প্রেম ছিল...”।  সবাই একযোগে হেসে ফেললাম।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখন আমিও ঠিক বলতে পারছিনা, কারো সাথে সত্যি আমার প্রেম আছে কিনা। তবে  হয়তবা দুলাভাইয়ের মত অনেক বছর পর ব্যাপারটা আমি ঠিকই ধরতে পারব। আমি  আশাবাদি।  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/4.gif" /&gt;  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/8.gif" /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-4232613049427963761?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/4232613049427963761/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=4232613049427963761' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4232613049427963761'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4232613049427963761'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_7945.html' title='ফিরে দেখা ২০১০ : প্রেম'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-576056038383124980</id><published>2011-09-23T16:27:00.001+06:00</published><updated>2011-09-23T16:27:01.817+06:00</updated><title type='text'>ফিরে দেখা ২০১০: মোবাইল</title><content type='html'>মোবাইল নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ ছিলনা এবছরে। প্রচলিত অর্থে বিড়ম্বনা না এটা।  কারণ মোবাইল ক্রাইম যেভাবে বেড়েছে সেখানে মোবাইল নিয়ে বিড়ম্বনারও মানুষের  শেষ নাই। কিন্তু আমার টা ভিন্ন। আসলে কেউ কখনও আমাকে মোবাইলে বিরক্ত করতে  পারেনি এপর্যন্ত। কারণ বিরক্ত করবে কি করে? আমি বিরক্ত হলেই না আমি বিরক্ত  হব! আচ্ছা ঘটনা খুলে বলি তাহলে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পারসোনাল মোবাইল আমি প্রথম ব্যবহার করি ২০০৬ সাল থেকে। সো তখন থেকেই  অপরিচিত নাম্বার থেকে প্রচুর কল, মিসডকল আসতে থাকে। এই বছরের মাঝামাঝি তে  একবার প্রচুর অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসতে থাকে। যেহেতু আমি অনেক ব্যস্ত  থাকি। তাই খেয়াল থাকেনা কে কখন ফোন দেয়। তাই কে কখন কি মেসেজ দিল, কে  মিসডকল দিল এসব নিয়ে কখনই মাথা ব্যথার সময় থাকেনা। কিন্তু মজার ব্যাপার, এক  শুক্রবারে একজন অপরিচিত লোক আমাকে ফোন দিয়ে বলে- “ আচ্ছা আপু আপনি কি  একটুও ডিস্টার্বড হন না? গত এক সপ্তাহ ধরে আমি আপনাকে কন্টিনিউয়াস মিসডকল  দিয়ে যাচ্ছি। দিনে কমপক্ষে ২০ বার করে। আপনার কি একটুও জানতে ইচ্ছা করে না  যে এক আমাকে এরকম মিসডকল দিচ্ছে?”  &lt;br /&gt;আমি তো পুরাই অবাক। কি বলে এই লোক। আমি বললাম “ স্যরি, ভাইয়া আসলে  মোবাইল চেক করা হয়না আমার সেরকম। তাই দেখিনি আপনি আমাকে কতদিন ধরে কতবার  মিসডকল দিচ্ছেন।“  &lt;br /&gt;এই হচ্ছে ব্যাপার। কিন্তু এই সমস্যার আরেকটি ভয়াবহ দিক আছে। পরিবারের  অনেকেই আমাকে ফোন করে ঠিক যখন আমি ক্লাসে থাকি। পরে ক্লাস শেষে বাসায় যেতে  যেতে বিকাল হয়ে যায় তখন আর খেয়াল থাকেনা যে কে আমাকে ফোন করেছিল। সুতরাং  আমার নামে প্রচুর কমপ্লেইন আসে আমার আম্মার কাছে। কিন্তু কি আর করা! তাদের  কে তো ব্যাপারটা বুঝানো যাবেনা। &lt;br /&gt;মোবাইলের আরেকটা ব্যাপার আছে সেটা হল, আমি সবসময় মোবাইল ভাইব্রেইট করে  রাখি। যেকোন সময় যদি ক্লাসে ফোনে রিং হয় তাহলে তো সমস্যা হতে পারে। আর  তাছাড়া যেকোন পাবলিক প্লেইসেও আমি মোবাইল ভাইব্রেইট করে রাখতেই পছন্দ করি।  অযথা মোবাইলের রিংটোন অন্যের জন্য বিরক্তির কারণ হতে পারে। কিন্তু এই  ভাইব্রেইট করা নিয়েও বাসায় একদিন প্রচুর বকা দেওয়া হল আমাকে। আমি নাকি  ভাইব্রেইট করে রাখি যেন কারো ফোন রিসিভ করতে না হয় এজন্য। যাইহোক বকাবকি  শুনে আমি মোবাইলে রিংটোন মোড দিলাম।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরেরদিন সকাল বেলা ছিল আমার পরীক্ষা। রিংটোন অফ করতে মনে নাই।  পরীক্ষার হলেই আমার মোবাইল বেজে উঠল। এপ্রনের পকেটেই ছিল মোবাইল। কিন্তু  পরীক্ষার টেনসান এত বেশি ছিল যে আমি নিজেই টের পাইনি যে আসলে মোবাইলে রিং  হচ্ছে। আমার পাশে বসা ফ্রেন্ড যদি না বলে দিত যে আমার এপ্রনের পকেটেই  মোবাইল বাজছে তাহলে হয়তবা সেই পরীক্ষা আর আমার দেওয়া হতনা। অনেক কৃতজ্ঞ সেই  ফ্রেন্ডের প্রতি আজও। &lt;br /&gt;এরপর আরেকদিন প্যাথোলজি ভাইভা দিচ্ছি। ঠিক ভাইভার টেবিলেই আমার ফোন  বেজে উঠল। খুব অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। ম্যাডাম অনেক ভাল ছিলেন বলে আমার দিকে  কিছুক্ষন অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন, হয়ত ভাবছিলেন আমার এত বড় সাহস কি  করে হল যে ভাইভার টেবিলে মোবাইল অফ না করে চলে আসি। ম্যাডামের ওই দৃষ্টি আর  ভাবতে ভাবতেই আমি মোবাইল অফ করে ফেলে খুব সুন্দর করে করুণ চোখে স্যরি  বললাম। কাজ হল। বেচে গেলাম সেবার ও।  &lt;br /&gt;এরপর আরেকদিন মাইক্রোবায়োলোজি লেকচার ক্লাস, স্যার সেদিন মোবাইল নিয়ে  নসিহত দিচ্ছিলেন। স্যার বলছিলেন, যে উনি একজন টিচার হয়েও ক্লাসে মোবাইল অফ  করে আসে, ক্লাস চলাকালীন সময় কোন ফোন কল রিসিভ করেননা। আর আমরা কিনা  স্টুডেন্ট হয়ে মোবাইল অফ করিনা, বরং জোরে জোরে রিংটোন বেজে উঠে ক্লাসের  ফাকেই। হাউ ডেয়ার ইউ!!  ঠিক তখনি আমার ফোন বেজে উঠল। একেবারেই অন দ্যা  স্পট। স্যার তখন আমাকে কি করবেন একচুয়ালি সেটা বুঝতেছিলেননা। কারণ এই  মোবাইল নসিহতের মধ্যেও কারো ফোন বেজে উঠতে পারে সেটা উনার কল্পনাকেও হার  মানিয়েছে। সম্ভবত স্যার মেয়ে বলেই আমাকে সেদিন আর কিছু বলেননি, জাস্ট আমাকে  টাইম দিলেন মোবাইল অফ করার জন্য। কিন্তু ছেলে হলে সেদিন যে আমার বারোটা  বেজে যেত কোন সন্দেহ ছিলনা। সেদিনই কেন যেন মেয়ে হিসেবে নিজেকে নিয়ে খুব  গর্ব অনুভব করছিলাম। থ্যাঙ্কস আল্লাহ ফর ক্রিয়েটিং মি এজ এ গার্ল!!!!  &lt;img border="0" src="http://www.sonarbangladesh.com/blog/images/emo/4.gif" /&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-576056038383124980?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/576056038383124980/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=576056038383124980' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/576056038383124980'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/576056038383124980'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_5637.html' title='ফিরে দেখা ২০১০: মোবাইল'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-1433501554479180492</id><published>2011-09-23T16:24:00.002+06:00</published><updated>2011-09-23T16:24:56.177+06:00</updated><title type='text'>ফিরে দেখা ২০১০ : টাকা</title><content type='html'>টাকার ব্যপারে আমি খুবই অসচেতন। এটা যে ইচ্ছা করে তা নয়, বরং আমি  বহুবার চেষ্টা করেছি সচেতন হবার। কিন্তু পারিনি। কত টাকা যে আমার হারিয়ে  গেছে, আমি টেরই পাইনি। কিংবা আমার ব্যাগ থেকে কত টাকা যে আমার ভাই সরিয়েছে  তাও কোনদিন টের পাইনি। কারণ কত টাকা আমার কাছে আছে তা আমি নিজেও জানিনা।  এবছর টাকা নিয়েও কিছু মজার ঘটনা ঘটে গেল। &lt;br /&gt;একবার রিকশা করে যাচ্ছিলাম আমার ফ্রেন্ডের বাসায়। যাবার পথে একটা ওভার  ব্রিজ পার হয়ে আবার রিকশা নিতে হয়। তো ওভার ব্রিজের সামনে নেমে আমি ভাড়া  দিতে গিয়ে দেখলাম, আমার ব্যাগে কোন টাকা নাই। অথচ আমি দিব্যি ভেবে নিয়েছি  যে আমার ব্যাগে টাকা আছে। এরপর আর কি করা! নিকটস্থ এক পরিচিতার বাসা ছিল  কাছেই। কিন্তু হেটে যেতে হয় অনেকদূর। রিকশাওয়ালাকে ব্যাপারটা খুলে বললাম।  বেচারা তো আমার উপর খুবই বিরক্ত। যাইহোক আমার বিনয় দেখে কিছু আর বলেনি। পরে  অনেকদূর হেটে যেতে এবং আসতে প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভাড়া মিটালাম।  &lt;br /&gt;বছরের শুরুতেই প্ল্যান করেছিলাম যে মোবাইলে আমার এক্সাক্টলি কত খরচ হয়  এখন থেকে সেভাবে খেয়াল করব। কিন্তু সেই হিসাব একসপ্তাহ থাকে। পরে ভুলে  যাই। ইনফ্যাক্ট  এখনও আমি জানিনা যে মোবাইলে আসলেই আমার খরচ কত হয়। তো  একবার এক সিনিয়র ভাইয়ার কাছে একটা বিষয়ে পরামর্শের জন্য ফোন করেছি। ভাইয়া  আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে আমার মোবাইলে টাকা আছে কিনা। আমি বলে দিলাম যে আছে।  কারণ আমার মনে হচ্ছিল, কিছুদিন আগেই আমি রিচার্জ করেছি। সুতরাং মোবাইলে  এখন যথেষ্ট ব্যালান্স আছে। কিন্তু মাত্র দুই মিনিট কথা বলার পর দেখি লাইন  কেটে গেছে। ব্যালান্স শেষ! &lt;br /&gt;নীলক্ষেত গিয়েছি বই কিনতে। আমার এই একটা ব্যাপারে দারুন ফ্যাসিনেশান  আছে। বলা যায় আমার বই কেনার বিলাসিতা আছে চরম। কিছু বই আমার পড়া আছে,  তারপরও দেখা গেছে সেই বই আমি কিনে নিয়ে চলে এসেছি। কারণ বই চোখের সামনে  দেখাও আমার জন্য ভাল লাগার ব্যাপার, সেটা যতই পড়া হোক না কেন। লাইব্রেরিতে  গিয়ে অনেক বই সিলেক্ট করলাম কেনার জন্য। এরপর ক্যাশ মেমো করতে গিয়ে ১৫০০  টাকা হয়েছে বিল। আমি তখনও জানিনা, আমার কাছে কত টাকা আছে। পরে বিল পে করতে  গিয়ে দেখলাম যে ১২০০ টাকা আছে। খুব লজ্জাজনক ব্যাপার। এরপর দুইটা বই কমিয়ে  ১২০০ এর কাছাকাছি বিল দিয়ে বাসায় আসলাম। শেষ পর্যন্ত এরকম হল যে বাসায় এসে  দেখি ০ পয়সাও নাই। &lt;br /&gt;এটাতো একটা ঘটনা। অন্য আরেকদিন বই কিনতে গিয়েছিলাম। মেডিকেলের বই অনেক  দামী। একটা বই কিনলাম, যার দাম ৫০০ টাকা। আমি দোকানদারকে ১০০০ টাকার নোট  দিয়ে দিব্যি চলে আসছি। কিছুদূর আসার পর মনে হল কেউ আমাকে পিছন থেকে ডাকছে।  পিছনে তাকিয়ে দেখি আমাকে বাকি ৫০০ টাকা নিয়ে যাবার জন্য ডাকছে। খুবই  হাস্যকর ঘটনা। দোকানদার তো আমার দিকে তাকিয়ে দিব্যি হাসতেছিল। যদি সেই  দোকানদার আমাকে না ডাকত আমার টাকার কথা মনেই থাকতনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কোথাও গেলে আমি ভিড় সবসময় খুব এড়িয়ে চলি। ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে  বইমেলাতে গিয়েছিলাম বই কিনতে। সেখানে গিয়ে তো মাথা খারাপ হবার মত অবস্থা।  সবাই কত্ত বই পাগল না হলে এরকম মারাত্বক ভিড় হয়। তারপরও চেষ্টা করলাম  ঢুকার। ঢুকার পর দেখি বের হবার মত পথ নাই। যাইহোক বহুক্ষন দাঁড়িয়ে আছি,  সবার বই কেনা দেখছি। জাফর ইকবালের ইকারাস বইটা যেভাবে বিক্রি হচ্ছে আমার তো  মনে হচ্ছিল না জানি এটা কি! দেখলাম সবাই আর কিছু কিনুক আর না কিনুক ইকারাস  একটা করে কিনছে। আমিও একটু আগ্রহী হলাম। অল্প কয়েক পেইজে চোখ বুলালাম।  আহামরি কিছু না যে এরকম মহামারি আকারে বিক্রি হচ্ছে। সাথে আমার কাজিন ছিল  সেতো রীতিমত তখন ইকারাস কেনার জন্য প্রায় কান্নাকাটি শুরু করেছে। কিনে  দিলাম। কত দাম ছিল মনে পড়ছেনা। তবে ঘটনা যা ঘটল তা হল আমি টাকা না দিয়েই  চলে আসতে যাচ্ছিলাম। সেবার ই মনে হয় এরকম উল্টা ঘটনা ঘটল। যাইহোক সেই  লজ্জাকর অভিজ্ঞতা মনে পড়লে এখনও লজ্জা লাগে। &lt;br /&gt;টাকা ধারের ব্যাপারেও একই ঘটনা। কাকে কত টাকা দিয়েছি তা আমার কখনই মনে  থাকবেনা। কয়েকমাস আগে একজন ফ্রেন্ড আমাকে ২৫০ টাকা দিচ্ছে। আমি বললাম, কি  জন্য। বলল, ধারের টাকা ফেরত দিচ্ছে। আমি তো অবাক! কবে ধার দিয়েছি আমি? সে  বলল ৫/৬ মাস আগে নাকি ওকে ধার দিয়েছিলাম। সেটা ফেরত দিচ্ছে। যাক বাবা! ফেরত  তো দিয়েছে। &lt;br /&gt;আর কারো কাছে টাকা ধার নিলে তো আমি বলেই দেই যে প্লিজ আমাকে মনে করিয়ে  দিও। আমার মত খুব কমই আছে, তাই যথাসময়ে আমি অন্যের টাকা ফেরত দেই, কারণ  তারা আমাকে মনে করিয়ে দেই......&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-1433501554479180492?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/1433501554479180492/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=1433501554479180492' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1433501554479180492'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/1433501554479180492'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post_23.html' title='ফিরে দেখা ২০১০ : টাকা'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-7978224729279385718</id><published>2011-09-23T16:23:00.000+06:00</published><updated>2011-09-23T16:23:08.653+06:00</updated><title type='text'>ফিরে দেখা ২০১০ : জুতা</title><content type='html'>জুতা নিয়ে সমস্যা আমার অনেক আগে থেকে। তবে এবছর সমস্যাটা প্রকট আকার ধারণ  করল।  আমার এক কাজিন, যে সবসময় তার জুতা নেই বলে রীতিমত আক্ষেপ করতে থাকে।  অথচ  এমন কোন অকেশান নাই যে অকেশানে সে নতুন জুতা নেয়নি। এমনিতেই আমি সবসময়  জুতা নিয়ে সমস্যায় থাকি। সেদিন তো বিরক্ত হয়ে গেলাম ওর জুতা আক্ষেপ নিয়ে।  কতগুলো জুতা আছে দেখতে চাইলাম ওর কাছে। প্রথম তো সে বলে তার কোন জুতা নেই,  কি দেখাবে। আমি বললাম যা আছে তাই দেখাও। একটা একটা করে জুতা দেখাতে দেখাতে  মোট ১১জোড়া জুতা দেখাল। তাকে বললাম, বাহ! ভালই তো তোমার জুতা না থাকাই ভাল।  না থেকেই ১১জোড়া, থাকলে না জানি কত হত!  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই জুতা ব্যাপারটা কেন জানি আমার একদমই সয়না। প্রতি মাসেই নতুন জুতা  কিনতে হয়। এমন না যে বিলাসিতা। সমস্যা আমার জুতা ছিড়ে যায়। সর্বোচ্চ দেড়  থেকে তিন মাস জুতা লাস্টিং করে। ইনফ্যাক্ট বর্তমানে কেউ জুতা দেখতে চাইলে  আমি মাত্র একজোড়া দেখাতে পারব। কারণ সত্যি আমার এই একজোড়া ছাড়া আর নাই।  মেয়েদের নাকি কিছু স্বভাব থাকে। প্রচুর শপিং, কেনা-কাটা, সৌখিন, ফ্যাশন  সচেতন ইত্যাদি ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। কেন জানিনা এই ব্যাপারগুলোতে আমি খুব  মিতব্যয়ি। প্রয়োজন আর সৌখিনতার মধ্যে আমি সবসময় প্রয়োজনকেই গুরুত্ব দিয়ে  থাকি। তাই অতিরিক্ত কোন ব্যবহার্য জিনিস আমি রাখিনা। তারউপর যদি সৌখিন  জিনিস হয় তাহলে তো একেবারেই না।  &lt;br /&gt;গত মাসে আমার কাজিন একটা সুন্দর কানের দুল গিফট করল। সেই কানের দুল  নিয়ে আমি এখনও অস্বস্তিতে আছি। যেহেতু জিনিসটা আমার কাছে অপ্রয়োজনীয় তাই এই  কানের দুল নিয়ে কি করব তা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। অবশেষে ভাবলাম কারও যদি এটা  পছন্দ হয়ে যায় তাহলে ওকে সেটা দিয়ে দিব। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক জুতা প্রসঙ্গে আসি। জুতা ছেড়ার কাহিনী আর কি বলব। ক্যাম্পাস  হলে তো মোটামুটি সবাই জানে যে আর কারো জুতা না ছিড়লেও আমার জুতা ছিড়বেই।  এজন্য অতিরিক্ত জুতা সবসময় আমার ফ্রেন্ড রা আমাকে প্রোভাইড করে। আশ্চর্য  ব্যাপার, বাটা কোম্পানির জুতা নাকি খুব স্থায়ী হয়। সেই জুতাও আমার কাছে তিন  মাসের বেশি লাস্টিং করে নাই। আব্বু-আম্মু তো খুব বিরক্ত আমার উপর। আমি  নাকি জুতা পরার উপযুক্ত না। আচ্ছা আমার কি দোষ?  &lt;br /&gt;জুতা নিয়ে কাহিনী ছেড়া পর্যন্ত শেষ হলেও কিছু বলতামনা। অবশেষে জুতা  থেকে আমার পায়ের স্কিনে এলার্জির সমস্যা হল। স্যারের কাছে দেখাইলাম। স্যার  বলল জুতা চেইঞ্জ করতে। স্যারের কথামত জুতা চেইঞ্জ করলাম। কিন্তু সমস্যা আর  কমেনা। এখন শুধু এই জুতা সমস্যার জন্য স্যারের কাছে বার বার যেতেও ভাল  লাগেনা। পরে ঠিক করলাম, জুতার জন্য পায়ে যাইহোক স্যারের কাছে যাবনা। পারলে  ইন্টার্নি করছে এক কাজিনের কাছে ফোনে এডভাইস চেয়েছি, প্যাথলোজি বই পড়েছি,  ফার্মাকোলোজি থেকে ড্রাগস এর নাম জেনে নিজের চিকিৎসা করেছি তবুও স্যারের  কাছে যাইনি। একসময় পায়ের অবস্থা এমন দাড়াল যে আমি আর জুতাই পরতে পারিনা।  &lt;br /&gt;এরপর শুরু হল ব্যান্ডেজ চিকিৎসা। পায়ে সুন্দর করে ব্যান্ডেজ পরে জুতা  পরতাম। সবাই প্রথমেই জিজ্ঞেস করে আমার কোন এক্সিডেন্ট হয়েছে কিনা।  ফ্রেন্ডদের বুঝানো গেলেও বাইরের কাউকেই বুঝানো যায়নি যে এটা আমার নিছক জুতা  সমস্যা। সবাই মনে করে না জানি কত সিরিয়াস! ব্যান্ডেজ চিকিৎসা দুইমাস চলল।  মোটামুটি ব্যান্ডেজ চিকিৎসা আমার জন্য উপকারি হল। ব্যান্ডেজ খুলার পর যখন  আবার খালি পায়ে জুতা পরলাম আমার মনে হল যে আমি এতদিন পা ছাড়াই চলেছিলাম।  ব্যান্ডেজ এর পর জুতা পরে পায়ের অনুভূতি দুই মাস টের পাইনি।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবলাম এবার থেকে নিশ্চয় জুতা নিয়ে আমার আর সমস্যা হবেনা। কিন্তু এবার  জুতা নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হল। এতদিন জুতা ছিড়ে যেত, এখন আর ছিড়ে যায়না  ঠিকই। কিন্তু এমন পিচ্ছিল হয়ে যায় যে আমি জুতা পরে হাটার সময় বেশিরভাগ সময়  পড়ে যায়। আরে! এটা কি ধরনের সমস্যা...? কিন্তু ব্যাপারটা আসলেই সিরিয়াস।  যেকোন জুতাই এখন আমি পায়ে দেবার কিছুদিনের মধ্যে খুব মসৃন ও পিচ্ছিল হয়ে  যায়। ফলে সেটা পরে হাটতে সমস্যা হয়। যাইহোক এই সমস্যা দূর করতে খুব শক্ত  সোলযুক্ত জুতা কেনা শুরু করলাম। কিন্তু সমস্যা একই থাকে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবশেষে বছরের শেষে এসে হিসাব করলাম এই বছরে আমার কতগুলো জুতা কেনা  হয়েছে। দশ জোড়ার বেশি জুতা আমি কিনেছি, কিন্তু একটাও এখন পরার উপযুক্ত  না।সর্বশেষ সাতদিন আগে দুইজোড়া জুতা কিনেছি। ইতিমধ্যে একজোড়া জুতায় কিছু  সমস্যা অনুভব করছি। আল্লাহই জানে, কি অপেক্ষা করছে এই জুতা নিয়ে। &lt;br /&gt;সামনে ২০১১। প্লিজ আমার জুতা ভাগ্য যেন এটলিস্ট সুপ্রসন্ন হয়ে যায় সেই দোয়া চেয়ে আমার এই জুতা কাহিনী শেষ করছি।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-7978224729279385718?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/7978224729279385718/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=7978224729279385718' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/7978224729279385718'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/7978224729279385718'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2011/09/blog-post.html' title='ফিরে দেখা ২০১০ : জুতা'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-7580385422647945054</id><published>2010-12-24T12:37:00.000+06:00</published><updated>2010-12-24T12:37:14.690+06:00</updated><title type='text'>আমার যত স্টুডেন্ট ! ১</title><content type='html'>টেনশনে আছি রুহিত কে নিয়ে। রুহিত আমার স্টুডেন্ট। উহু, শুধু আমার না। আমার  ভাইয়েরও। দুজনই পার্ট টাইম পড়ায় ওকে। যখন আমার পরীক্ষা থাকে তখন আমার ভাই  আর আমার ভাইয়ের যখন অন্য কাজ থাকে তখন আমি। এভাবেই চলছে আজ চার মাস। আসলে  বাড়িওয়ালা আন্টির সাথে এরকমই কথা হয়েছিল যে আমি বিজি থাকলে আমার ভাই পড়াবে।  তো সেভাবেই চলছে... &lt;br /&gt;এই পর্যন্ত খুব বেশি যে স্টুডেন্ট পড়িয়েছি তা না। তবে যাদের পড়িয়েছি তাদের থেকে রুহিত আলাদা। কি রকম আলাদা?  &lt;br /&gt;যদিও আমি শুধু ম্যাথ আর বিজ্ঞান পড়াই তারপরও আমি মাঝে মাঝে রুহিতের  সাথে গল্প করার জন্য  অন্য সাবজেক্টের আলোচনাও করি। একদিন রুহিতকে বললাম,  &lt;br /&gt;- আচ্ছা রুহিত, হাজার বছর ধরে উপন্যাস কেমন লাগে তোমার? &lt;br /&gt;- ভালই তো লাগে, আপু। &lt;br /&gt;- একটু বলবা হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত কাহিনী? &lt;br /&gt;- (কিছুক্ষন চুপ থেকে শুরু করল) মকবুল বুড়া খুব খারাপ একটা লোক। একদিন করল কি জানেন আপু? &lt;br /&gt;- কি করল? &lt;br /&gt;- সে রাতে তার বৌ দের দিয়ে সবার অগোচরে অনেক অনেক কষ্টের কাজ করাল যা কিনা কেবল গরুই করতে পারে, মানুষ না।  &lt;br /&gt;- আচ্ছা, কাহিনী টা আমি জানতে চাইছি... &lt;br /&gt;- এটাই তো কাহিনী! &lt;br /&gt;- হুম, বুঝেছি। তাহলে আমাকে একটু বলতো হাজার বছর ধরে উপন্যাসের সামারি কি? &lt;br /&gt;- আমি আসলে আপু বুঝতেছিনা কিভাবে মানুষ হাজার বছর বেচে থাকে? এই নাম দেয়ার মানে বুঝতেছিনা, তাই সামারি আমার ব্রেইনে আসতেছেনা। &lt;br /&gt;- ওকে বলা লাগবেনা। তুমি পরের ম্যাথটা কর। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই হচ্ছে রুহিত। যে কোন উপন্যাস বা গল্পের কাহিনী বা সামারি বলতে বললে  কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে কাহিনী শেষ করে। গত রোজার ঈদের পরে রুহিত কে বললাম &lt;br /&gt;- তোমার দেখা সবচেয়ে প্রিয় মুভি কোনটি? &lt;br /&gt;- আমি তো মুভি দেখেছি একটা। ভালই লেগেছে &lt;br /&gt;- মাত্র একটা? &lt;br /&gt;- জি। কারণ পড়ার চাপে আমি মুভি দেখার টাইম পাইনা। &lt;br /&gt;- আচ্ছা, কোন মুভি দেখেছ? &lt;br /&gt;- থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। &lt;br /&gt;- হুম। এই মুভির কাহিনী কি? &lt;br /&gt;-  এত বড় কাহিনী কিভাবে বলি! &lt;br /&gt;- না না, সংক্ষিপ্ত করে বললেও হবে। &lt;br /&gt;-  আচ্ছা। একদিন রুবা সন্ধায় তার স্বামীর সাথে হাটছিল। হঠাৎ পুলিশ  ওদের ধরে থানায় নিয়ে গেল। এরপর ওদের বহু প্রশ্ন করতে লাগল। এরকম করে কাহিনি  এগিয়ে যায়... &lt;br /&gt;- আচ্ছা বুঝেছি। মুভিটার সামারি কি? &lt;br /&gt;- মুভিটার সামারি তার নামের মধ্যেই আছে। থার্ড পারসন সিঙ্গুলার  নাম্বার। মানুষ হচ্ছে থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার। তাই তার আরো মানুষ  দরকার যেন সে প্লুরাল হতে পারে। হাজার হলেও মানুষ হচ্ছে সামাজিক জীব। &lt;br /&gt;- গুড। দারুন বলেছ তো!  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমার পরে যখন একদিন আমার ভাই পড়াতে গেল সেতো রীতিমত বিরক্ত। মেজাজ  খারাপ করে সে আমাকে বলল  “ আচ্ছা তুই রুহিতকে পড়াস কি করে? আজকে ওকে আমি  চার ঘণ্টা ধরে  সাইন থিটা=লম্ব/ অতিভুজ, কস থিটা= ভূমি/অতিভূজ পড়ালাম। অথচ  সে বার বারই ভুল লিখে যাচ্ছে। ধ্যাৎ আজকে আমার সারাদিন নষ্ট ওর জন্য।“  &lt;br /&gt;আমার ভাইকে বললাম, “ রুহিত হচ্ছে যান্ত্রিক টাইপ বুঝেছিস। তুই ওকে   সাইন থিটা, কস থিটা ২০ বার করে মোট ৪০ বার লেখা। দেখবি পরে ঠিক হয়ে যাবে।  কারণ বার বার লিখতে লিখতে সেটা ওর ব্রেইনে সেট হয়ে যাবে।“  সত্যি সত্যি  আমার ভাই ওকে ২০ বার করে মোট ৪০বার লেখানোর পর রুহিত ঠিকভাবে বলতে পারে।  &lt;br /&gt;যাইহোক ইদানিং আমি রুহিত কে নিয়ে খুব বেশি টেনশনে আছি। ২০১১ তে ওর  এসএসসি পরীক্ষা। ম্যাথ ওকে রিভাইস করাচ্ছি। রুহিতের আরেকজন টিচার আছে যে  ম্যাথ ও বিজ্ঞান ঠিকমত পড়া হচ্ছে কিনা সেটা মনিটর করে। সেই টিচার রিভাইস  করা ম্যাথ থেকে ওকে আটটা অংক করতে দিয়েছে সেদিন, রুহিত ৩ঘণ্টা পর একটা অংক  মিলাতে পেরেছে। সেই খাতা পরে দেখে আমার তো মাথা খারাপ হবার মত অবস্থা। আমি  রুহিত কে এবার বললাম &lt;br /&gt;- রুহিত, তোমার এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কি টেনশন হয়? &lt;br /&gt;- জি আপু হয়। &lt;br /&gt;- তাহলে পড়াশুনা বাদ দিয়ে টেনশান কর। &lt;br /&gt;- মানে? &lt;br /&gt;- মানে হল, তুমি যখন টেনশান কর তখন তোমার ব্রেইনের যে পার্ট পড়াশুনা  মেইন্টেইন করে সেটা ব্লক হয়ে যায়। তাই তুমি যদি সত্যি সত্যি পরীক্ষায় পাশ  করতে চাও তাহলে টেনশান বাদ দিয়ে পড়াশুনা কর। &lt;br /&gt;- আপু, আমার মনে হচ্ছে আমি ছিটকে পড়ে যাব। &lt;br /&gt;- হুম, যাবা তো! কিন্তু আমার কথা হচ্ছে তুমি তো সর্বোচ্চ ফেইল করবা। তাহলে টেনশান কিসের? &lt;br /&gt;-  ফেইল করলে তো আমি পানিতে ডুবে যাব। &lt;br /&gt;- মানে? &lt;br /&gt;- মানে পরীক্ষা হল পানির মত। পাশ করতে না পারলে সেই পানিতে আমি ডুবে যাব। &lt;br /&gt;- হুম। তো কি হয়েছে? তোমাকে সেই পানি থেকে উঠিয়ে সাতার শেখাব। তারপর  আবার পরের বছর তোমাকে পানিতে নামিয়ে দিব। তখন ডুবে যাবানা। তাহলে টেনশান  কিসের??? &lt;br /&gt;- একবার যদি ডুবে যায়, তাহলে কি আর আমি পানি থেকে উঠতে পারব? &lt;br /&gt;- আচ্ছা, রুহিত আমার কিন্তু রাগ হচ্ছে... &lt;br /&gt;- ঠিক আছে আপু, আপনি টেনশান কইরেননা। আমি দেখি কি করা যায়... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উফ! বাসায় এসে মনে হল, ছেড়ে দে মা কেন্দে বাচি টাইপ অবস্থা। আহারে! ওর  জন্য খুব খারাপও লাগে আবার। পাশ করতে পারলেই ওর বাবা-মা ওকে নিয়ে মাথায়  করে রাখবে। কিন্তু সেই পাসই ওর জন্য ভয়াবহ কঠিন ব্যাপার। সেই ভয়াবহ  পরিস্থিতির জন্য আমি অপেক্ষা করছি। রুহিত যদি পাশ করে তাহলে আমি যতটা খুশি  হব তা মনে হয় আমার নিজের পরীক্ষার ভাল রেজাল্টের জন্য তত খুশি হবনা………&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-7580385422647945054?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/7580385422647945054/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=7580385422647945054' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/7580385422647945054'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/7580385422647945054'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/12/blog-post_1569.html' title='আমার যত স্টুডেন্ট ! ১'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-6073445878021605053</id><published>2010-12-24T12:31:00.002+06:00</published><updated>2010-12-24T12:31:35.173+06:00</updated><title type='text'>একটু খানি জীবন চাই...!!</title><content type='html'>হাতের মুঠো ফোনের দিকে যখন তাকায় তখন খুউব অবাক হয়ে যাই। কি এক আজব জিনিস  যা আমাকে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে নিয়ে যায়  নিমেষেই। প্রতি মুহূর্তে প্রিয়জনের সাথে ইচ্ছা হলেই যোগাযোগ করতে পারি।  অপেক্ষা করতে হয়না একটুও। অন্তর্জালের মোহনীয় শক্তিতে ইচ্ছা হলেই মনের কথা  অন্যের কাছে পৌছে দিতে পারি। তাই ডাকপিয়নের অপেক্ষায় আজ কারো প্রতিক্ষার  প্রহর গুনতে হয়না। কিন্তু আজ খুব অপেক্ষা করতে ইচ্ছা হচ্ছে কারো হাতে লেখা  চিঠি পেতে। যে চিঠির পরতে পরতে হাতের লেখার সাথে আবেগের উঠা-নামা অনুভব  করতে পারব। মনের যত আকুলতা সেটাকে নিজের মনের আকুলতার সাথে একাকার করে  ফেলতে পারব। ছোটবেলায় খালামনিকে একবার চিঠি লিখেছিলাম। চিঠির শেষে নিজের  হাতের একটা ছাপ দিয়ে ছবিও একে দিয়েছিলাম। আম্মু জিজ্ঞেস করেছিল কেন এই ছবি  আকা? শিশুসুলভ মন নিয়ে বলেছিলাম যে হাত দিয়ে খালামনিকে চিঠি লিখছি সেই  হাতের ছবিও নিশ্চয় খালামনির দেখতে মন চাইবে, তাই এই ছবি আকা। এখন সেই  স্মৃতি রোমন্থন করলে খুব হাসি পায়, কি হাস্যকর রকম মানসিকতা ছিল তখন।  কিন্তু আজ আমি শিশুসুলভ সেই মানসিকতাকে খুব বেশি অনুভব করছি, খুব মিস করছি।  আমাকে কেউ হয়তবা কখনও হাতে লিখে চিঠি পাঠাবেনা। তাই কারো আবেগ,ভালবাসা ও  স্নেহের উষ্ণতা আমাকে আর শিহরিত করবেনা। যান্ত্রিকতার এই যুগে সবকিছু হাতের  মুঠোয় থাকা সত্ত্বেও আমি আজও খুজে ফিরি বারবার আদিম সেই প্রাচীন সম্পর্ক  যা বার বার আবেগে আমাকে প্রকম্পিত করবে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নস্টালজিক আমি কখনই সেরকম ছিলামনা। হতেও চাইনি। দৃষ্টিতে শুধু ভবিষ্যত  দেখি। অতীত আমাকে প্রেরণা যোগায় কিন্তু কখনও অতীতে ফিরে যেতে চাইনি।  অতীতের দুঃখ বর্তমানে আমাকে ব্যথিত করেনা, বরং ভবিষ্যতের জন্য পাথেয় যোগায়।  কিন্তু তাহলে আজ কেন বার বার ব্যতিক্রম হচ্ছে। গ্রামের বাড়িতে যাবার পথে  হাইওয়ের পাশে সবুজের মাঝে ছোট ছোট ঘর,পাশে বয়ে যাওয়া নদী,মাথার উপর অন্তিম  আকাশ আর রাতের বেলায় ঘরের উঠোনে বসে জ্যোৎস্না স্নান করতে আজ খুব মন চাইছে।  হোক না সাদা-মাটা জীবন তাতে কি! সেখানে আর কিছু না থাকুক অন্তত পরস্পরের  প্রতি ভালবাসার কোন অভাব থাকতনা। ঠিক কবির মত আজ আমারও বলতে ইচ্ছা করছে  ভালবাসাহীন হাজার বছর আমি চাইনা। চাই একটুখানি জীবন কিন্তু ভালবাসা,  মায়া-মমতা,স্নেহের আবেগে পরিপূর্ণ এক সুন্দর পৃথিবী। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পৃথিবী আজ আমার ভাল লাগেনা। ভাল লাগেনা অপরের সাথে শুধুই যান্ত্রিক  কোন সম্পর্ক। না, কোন অভিমানে নয় চরম বাস্তবতায় আজ আর আমার সত্যি পৃথিবী  ভাল লাগেনা। এখানে কি আছে? হয়তবা হাতের মুঠোয় আমার পুরা পৃথিবী আছে কিন্তু  কি লাভ সেই পৃথিবী দিয়ে? যেখানে মায়ের পরকীয়ার বলি হয় ভালবাসার সন্তানের।  নিজ অস্তিত্ব কি আজ হুমকির সম্মুখিন? দশ মাস দশ দিন সুগভীর নিরাপত্তার  মধ্যে থেকে শিশুটি যখন নিরাপত্তাহীন পৃথিবীতে পদার্পন করে তখন তার একমাত্র  নিরাপত্তা তার মা। সেই নিরাপত্তার স্থানও আজ নিরাপত্তাবিহীন। এরকম পরকীয়ার  বলি কেবল একজন নয়, হয়ত আরো বেশি। ভবিষ্যতে কি হবে ভাবতে ভয় পাচ্ছি... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রেমিক-প্রেমিকার ভালবাসার গভীরতাও আজ আর নেই। থাকবে কি করে? এখন  বয়ফ্রেন্ড কিংবা গার্লফ্রেন্ড থাকা একটা স্ট্যাটাস। তাই ভালবেসে বিয়ে করে  অতি দ্রুত বিচ্ছেদ হওয়া যেন অতি স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।  ঠিক কোথায় যেন আমরা সবাই ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি। যেখানে আমাদের  ভালবাসা, বিশ্বাস, আস্থা সব হারিয়ে যাচ্ছে। জীবনে দুঃখ আসবে, দুর্দশা আসবে,  বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে কিন্তু তাতে কি? কারো ভালবাসার টানে, কারো আস্থার  প্রতি আস্থা রেখে সব বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাব। নাহ! আজ সেই প্রেরণাও  নাই। কারো প্রতি আজ আর আস্থা রাখতে পারিনা। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সন্তানের হাতে বাবা খুন কিংবা বাবার হাতে সন্তান খুন, এটা তো নিছক  একটা দুঃসংবাদ এখন। পত্রিকার হাজারো দুঃসংবাদের মধ্যে এই দুঃসংবাদ এখন  নিয়মিত প্রকাশিত হয়। শুধু এই নয়, আরো আছে। দুঃসংবাদের প্রকারভেদ শুনতে চান?  প্রতিনিয়ত কোন না কোন মেয়েকে আত্বহত্যা করতে হচ্ছে ইভটিজিং এর কারণে।  আজকাল কোন ছেলে আর মেয়েদের বোন হিসেবে সম্মান জানায়না। হয়ত বোনরাও আজকাল  ভাইদের ভাই হিসেবে বিশ্বাস করতে পারেনা। সবই সম্ভাবনা...কিছুই জানিনা। শুধু  এইটুকু অন্তর থেকে উপলব্ধি করতে পাচ্ছি চারপাশ থেকে ভালবাসা, বিশ্বাস আর  আস্থা রা হারিয়ে যাচ্ছে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পত্রিকার পাতা উল্টায়না আজকাল। বাতাসেই খবর যেভাবে ব্যাপন প্রক্রিয়ায়  ছড়িয়ে পড়ে তাতে আর পত্রিকার পাতা পড়া লাগেনা। তবুও মাঝে মাঝে একটু খুজে  ফিরি, কোন ভাল কিছু পাওয়া যায় কিনা! একটু ভালবাসার ছিটেফোটা দেখা যায় কিনা!  বার বার হতাশ হই। বার বার চোখের মাঝে ভাসে আবু বকরের মত নিরীহ কোন ছেলে  কিংবা দেশের হাজার হাজার শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষারত সেইসব  ভাইদের কথা যাদের মনে কতইনা স্বপ্ন ছিল দেশকে কিছু দেবার, দশের জন্য কিছু  করার। ভালবাসাহীন এই নিষ্ঠুর পৃথিবী তাদের থাকতে দেয়নি। আমি কোন রাজনীতি  করিনা, চাইনা কোন ক্ষমতা, করিনা কোন দল, করিনা কারো পক্ষপাতিত্ব। শুধু  একটুখানি ভালবাসা চাই, ভালবাসায় পরিপূর্ণ একটা ছোট পৃথিবী চাই। দরকার নেই  মুঠো ফোন কিংবা অন্তর্জালের মত কোন যাদুকরি জিনিস। সেই পুরোনো পৃথিবীতে  ফিরে যেতে চায়, যেখানে আর কিছু না থাকুক মায়ের ভালবাসার মত অটুট আস্থা  মাথার উপর সর্বক্ষন থাকবে অন্তত। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উন্নয়নের দিক থেকে আজো আমরা পিছিয়ে আছি। তাই উন্নয়নের জোয়ারে ভাসার  জন্য পরিবর্তন হয় সরকার, আমরা স্বপ্ন দেখি। হয়ত এবার আমরা কিছু একটা পাব,  আর কিছু না হোক অন্তত বিশ্বাস আর ভালবাসা। কিন্তু হতাশ ও পিপাসার্ত মন বার  বার হতাশ হয়, পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। মনের পিপাসা মেটানোর জন্য কাউকে  অভিভাবক হিসেবে পাশে পাইনা। প্রধাণমন্ত্রী নাকি একটা গণতান্ত্রিক দেশের  জন্য অভিভাবক, সেটাই জানতাম সব সময়। কিন্তু কই? প্রতিবারই কোন নৃশংস ঘটনার  জন্য একটা নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠন কিংবা বিরোধী দল বারবার আমাদের অভিভাবকের  চক্ষুশূল হয়! মা স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী আজ তার জনগনরূপ সন্তানের প্রতি  পক্ষপাতিত্ব করে। হায়রে মা! হায়রে সন্তান! সব ভালবাসার স্থান আজ বিষে ভরা,  দূষিত হয়ে গিয়েছে। কেউ কাউকে আমরা ক্ষমা করিনা, কেউ কাউকে ভালবাসিনা। তাই  ট্রেন দুর্ঘটনায় খুব সহজেই অবলিলায় আমাদের দেশের অভিভাবক বিরোধী দলের উপর  দোষ চাপিয়ে সস্তি খুজে পান। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য নির্বিশেষে বিরোধী দলকে  ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে উল্লেখ করে। কি যে এই সস্তি তিনি পান আমরা জানিনা তবে  আমরা বার বার আস্থা হারিয়ে ভবঘুরে হয়ে যাই। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;শিক্ষা ব্যবস্থার চরম উন্নতি দরকার। এজন্য প্রয়োজন পরিবর্তন, পরিবর্ধন  ও পরিশীলন। সেই লক্ষ্যেই যে শিক্ষা নীতির রূপ দেখলাম সেখানেও আবার আস্থা  হারালাম। যান্ত্রিকতার এই যুগে প্রযুক্তির সাথে শিক্ষাকে সংযোগ ঘটানোর জন্য  আমাদের অভিভাবকের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এখানেও মন ও মানসিকতা  গঠনের উপকরনকে অবলিলায় ছুড়ে ফেলা হল। ধর্ম নিছক কোন ধর্মীয় ব্যাপার না যে  এটা প্রযুক্তিগত শিক্ষার জন্য বাধাস্বরূপ। যা দিয়ে আমরা এই পৃথিবী গড়ে তুলব  তা কিন্তু ওই প্রযুক্তির মধ্যে নেই কিংবা ওই প্রযুক্তি আমাদের শেখাবেনা  কিন্তু ধর্ম শেখাবে। আবার যে শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন করে আমরা উন্নত পৃথিবী  গড়ে তুলতা চাইছি সেই পৃথিবীতে কিন্তু আমরা নিজেরাই আর বসবাস করতে চাইবনা।  বিশ্বাস, আস্থা,ভালবাসা,মূল্যবোধ বিহীন প্রযুক্তিগত শিক্ষা দিয়ে যে পৃথিবী  গড়তে চাইছি সেখানে হয়ত কেবল রোবটই বাস করতে পারবে, কোন মানুষ নয়। অথবা এরকম  হতে পারে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় আমাদের মন-মগজের বিবর্তন হয়ে যাবে ফলে মানুষ  আর ভালবাসা চাইবেনা, কারো প্রতি বিশ্বাস রাখবেনা, কোন স্বপ্ন দেখবেনা, কোন  আস্থার সম্পর্ক চাইবেনা, কোন আবেগ থাকবেনা, অনুভুতিগুলো দুমড়ে মুচড়ে ভোতা  করে ফেলবে...কেউ আর তখন কারো জন্য পরম ভালবাসা নিয়ে অপেক্ষা করবেনা, কোন মা  তার সন্তানের জন্য ভালবাসার ছিটে-ফোটাও মনের গহীনে পোষণ করবেনা,  স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা হবে কেবল জৈবিক... &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানিনা এই দুঃস্বপ্নের প্রহর কখন শেষ হবে। নাকি এই দুঃস্বপ্নই  সত্যিকারভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যাবে কোন একদিন। তাহলে আমি আবার বলতে চাই  ভালবাসাহীন এই পৃথিবীতে চাইনা আমি হাজার বছর, একটুখানি জীবন চাই যেখানে  আস্থা, আবেগ,ভালবাসা আর বিশ্বাস আমাকে নতুন করে প্রাণে জোয়ার  জোগাবে...একটুখানি জীবনের এই স্বপ্ন কি আমি দেখতে পারিনা?? নাকি এই স্বপ্নও  অন্য কোন দুঃস্বপ্নের ভিন্ন রূপ!! ﻿&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-6073445878021605053?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/6073445878021605053/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=6073445878021605053' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6073445878021605053'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6073445878021605053'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/12/blog-post_24.html' title='একটু খানি জীবন চাই...!!'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5237588249490633949</id><published>2010-12-24T12:29:00.000+06:00</published><updated>2010-12-24T12:29:05.939+06:00</updated><title type='text'>প্রকৃত সুখের সন্ধান...</title><content type='html'>মানব মনের প্রকৃতি বড়ই বিচিত্র। কিসে সে কষ্ট পায় কিসে সে সুখী হয় তা সে  নিজেই জানেইনা। হয়ত বিচিত্র মনের বৈচিত্রতায় আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।  রাতের আকাশের যে মোহনীয় চাঁদ দেখে মন আনন্দে উদ্বেলিত হয় সেই একই চাঁদ দেখে  চোখের কোণে জমে দুঃখের অশ্রুবিন্দু। সমুদ্রের বিশালতা কখনও এনে দেয় অসীম  শূণ্যতা কখনওবা পূর্ণতা। বহুরূপী মনের এই সত্তা তাই বিশ্লেষণ করা খুব সহজ  না। &lt;br /&gt;কতটা অভিজ্ঞতা অর্জন করলে একজন নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবতে পারে? হঠাৎ এই  প্রশ্নে চিন্তার জগতে ছেদ ধরল। আসলেই কি মানুষ কখনও পরিপূর্ণ হতে পারে? খুব  চিরন্তন ও আদি প্রশ্ন। অভিজ্ঞতা অর্জনের মাপকাঠি নাকি বয়স! কিন্তু বয়সই কি  সবসময় সেই মাপকাঠি হতে পারে? &lt;br /&gt;আট/দশ বছরের কোন ছেলের অভিজ্ঞতার পরিসীমা কতটুকু? সাথে সাথে একটি  চিত্র মনের পর্দায় ভেসে আসল । সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিভাবে স্কুল ফাঁকি  দেওয়া যায়, কিভাবে আজ বিকালে ক্রিকেট খেলায় জেতা যায় কিংবা বাবাকে যে নতুন  গাড়ি,ক্যাটবেরি  কিনতে বলা হয়েছে তা আনতে ভুলে যাবেনাতো! মাকে কিভাবে  কনভিন্স করে কম্পিউটারে “মোস্ট ওয়ান্টেড’’ গেইমস খেলা যায়...এইরকম হাজারো  চিন্তায় ছেলেটির মন বিভোর থাকে। একই বয়সের যে ছেলে গাড়িতে হেল্পার এর কাজ  করে তার চিন্তা জুড়ে থাকে কিভাবে যাত্রী বেশি উঠানো যায়, কিভাবে বেশি টাকা  আয় করে পরিবারের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়া যায়। সারাদিন কাজের ফাঁকে  হয়ত  সে চিন্তা করে তার মা চুলার পাশে বসে আছে এই অপেক্ষায় যে তার ছেলে কখন  বাজার নিয়ে আসবে! আরো যে ছোট ভাই-বোন আছে তারাও সারাদিন বড় ভাইয়ের  অপেক্ষায় থাকে। স্কুল ফাঁকি দেওয়া দূরে থাক পড়াশুনার চিন্তায় সেখানে  বিলাসিতা মাত্র। চিন্তার এই অভিজ্ঞতা তার বয়সকেও হার মানিয়েছে। হয়ত  অস্বাভাবিক কিন্তু বাস্তব... &lt;br /&gt;এই  অভিজ্ঞতা যেহেতু আমাদের নাই তাই এগুলো দেখতে দেখতেই আমরা অভিজ্ঞ।  চারপাশে এত্ত অস্বাভাবিকতার ছড়াছড়ি মাঝে মাঝেই স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকের  মধ্যে পার্থক্য করা দুরূহ হয়ে পড়ে। &lt;br /&gt;সুখের সন্ধানে আজ মানুষ দিশেহারা। সুখের আসল সংজ্ঞা কেঊ দিতে  পারেনি।কিন্তু আইন্সটাইন সেই অসাধ্য সাধন করে গেছে। পৃথিবীতে সব কিছুই  আপেক্ষিক, কোন কিছুই পরম নয়। আমার কাছে যা সুখ অন্যের কাছে তা অসুখ। কিন্তু  তারপরও সুখের সংজ্ঞা মিললেও সুখ খুজে পাচ্ছেনা মানুষ। সমাজের একটা পার্ট  বাদ দিয়ে সুখের অন্বেষণ যেন ট্রেডিশানে পরিণত হয়েছে। শরীরের একটা অংশ  প্যারালাইসিস হলে হয়ত তার ব্যথা  অনুভব করা যায়না কিন্তু সেই অঙ্গের  অনুপস্থিতি ঠিকই অনুভুত হয়। &lt;br /&gt;অপূর্ণ শরীর হাজার চেষ্টা করলেও পূর্ণ হতে পারবেনা যতক্ষন না ওই অংশ  ঠিক হয়। এসব কথা ভাবতেই পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ল। সে বছরে আনুষ্ঠানিক  একবার এতিমখানায়, মসজিদে টাকা দান করে আত্বতৃপ্তি অনুভব করে। মনে করে   ইসলামের বড় একজন খাদেম...সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু যদি সে ব্যাপারটা  ট্রেডিশনালি না নিত , যদি মনে করত তার উপার্জনের টাকায় গরীবেরও হক আছে  তাহলে হয়তবা সে এরকম অকেশনাল ইসলামের সেবা করে আত্বতৃপ্তি পেতনা। পহেলা  বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস/বিজয় দিবস উদযাপন সবই আজ নিছক ট্রেডিশান। একারনেই  যারা পহেলা বৈশাখে লাল-সাদা শাড়ি পরে পুরো বাঙ্গালিয়ানা সাজে তারাই আবার  থার্টি ফার্স্ট নাইটে ওয়েস্টার্ন কালচার খুব গর্বের সাথে পালন করে। নারী  দিবসে নারী অধিকারের দাবি যাদের মুখে সোচ্চার হয় তাদের বিরুদ্ধে পত্রিকার  পাতায় নারী নির্যাতনের অভিযোগে নিউজ আসে। খুব বিচিত্রভাবেই ট্রেডিশানের এই  সিলসিলা প্রতিটি ক্ষেত্রে আজ বিদ্যমান। &lt;br /&gt;মানব মনের প্রকৃতি অনুসন্ধান করে চলছিলাম। অভিজ্ঞতা অর্জন নাকি এই  রিসার্চে ওনেক হেল্পফুল হবে। সব কিছু প্র্যাকটিক্যালি  অভিজ্ঞতা অর্জন  যেহেতু সম্ভব না তাই দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি। প্রকৃতি কখনও মনকে  শূন্য থাকতে দেয়না। সুখের জন্য আকুল মন যে অংশ ডিলিট করে সেই অংশটি মন  আরেকটি অংশ দিয়ে রিফিল  করে। অটোমেটিক প্রোসেস। যে সত্তা মনকে একটিভলি লিড  দিবে সে আজ প্যাসিভ। এই জন্যই হয়তবা যা কিছু করছি সব ট্রেডিশান, সব শুণ্য  মনকে রিফিল করার চেষ্টা মাত্র। প্রকৃত সুখ পাবার প্রোসেসকে ইগ্নোর করে,  সমাজের একটা পার্টকে বঞ্চিত করে  সব কিছু ট্রেডিশনালি করে সবাই আমরা  কৃত্তিম সুখের নিদ্রায় বিভোর । জানিনা  এই নিদ্রার প্রহর কখন শেষ  হবে...জানিনা দেখে দেখে অভিজ্ঞতা অর্জনের দিন কবে শেষ হবে...জানিনা  ট্রেডিশনাল সুখের কালচার কবে সমাপ্তি হবে...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5237588249490633949?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5237588249490633949/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5237588249490633949' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5237588249490633949'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5237588249490633949'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/12/blog-post.html' title='প্রকৃত সুখের সন্ধান...'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-4834985420319503263</id><published>2010-11-11T21:16:00.002+06:00</published><updated>2010-11-11T21:16:10.468+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৪</title><content type='html'>&lt;div class="mbl notesBlogText clearfix"&gt;&lt;div&gt;আমি খুব ভালভাবেই খেয়াল  করলাম যে আমরা যে বিষয়েই তর্ক-বিতর্ক করিনা কেন সবশেষ ফলাফলে যা হয় তা হল  আমরা সবাই আসলে একই গ্রাউন্ডে কথা বলেছি, আমরা কেউ কারও যুক্তিকে অগ্রাহ্য  করিনি। কিন্তু তবুও এই বিতর্ক চলতে থাকে।&lt;br /&gt;একজনের কিছু কমেন্টের  ভিত্তিতে এই ব্যাপারটা ফোকাস করলাম। আমি আমার নোটেই বলে দিয়েছি যে সব  পেশাতেই আত্বমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যাবে। এখন কেউ কি ইচ্ছা  করলেই নিজেকে সব পেশাতে নিয়োজিত করতে পারবে? সেটা তো অসম্ভব। ছোট বেলায় আমি  মনে করতাম কেন একই সাথে চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হওয়া যায়না? সকালে মেডিকেলে  ক্লাস করলাম আর বিকালে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্লাস। তাহলেই তো আমি একই সাথে  চিকিৎসক ও ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গেলাম। যাইহোক এখন সব পেশার গুরুত্ব থাকা  সত্ত্বেও একজন কোন পেশা বেছে নিবে সেটা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ তার  রিয়েলাইজেশানের উপর, তার ক্যাপাবিলিটির উপর। ঠিক এই কথাই আমি ফোকাস করতে  চেয়েছি। চিকিৎসা পেশাকে ভাল বলা মানে অন্য পেশাকে অবমাননা করা নয়। একজনের  সাথে ফোনে কথা হচ্ছিল, সে কিসে পড়ে এটা জিজ্ঞেস করতেই সে এন্সার দিল সে  নন-মেডিকেল স্টুডেন্ট। আরে! পৃথিবীতে কি মেডিকেল ছাড়া আর কোন সাব্জেক্ট  নাই? খুব বিরক্ত হয়ে আমি তাকে এই কথা বললাম। আমার এই জবাবে সে স্বস্তি নিয়ে  বলল, “ যাক, তাহলে আপনারা মেডিকেল বাদে অন্য সাবজেক্টকেও গুরুত্ব দেন...”&lt;br /&gt;আসলে  পেশা টা কোন ফ্যক্টর নয়। আমি নিজের জন্য কোন পেশাকে ভাইটাল মনে করছি, কোন  ফ্যাক্টর আমার ক্যারেক্টারিস্টিকের সাথে যাবে সেটা তো একেক জনের কাছে একেক  রকম। আমার কাছে মেডিকেল পেশা আমার রিয়েলাইজেশানের উপর ভিত্তি করে বেস্ট মনে  হয়েছে। এখন সেটা আমার কেন মনে হল এটা কোন বিতর্কের টপিকস হতে পারেনা।&lt;br /&gt;&amp;nbsp;তবে  খুব জোর গুরুত্ব দিয়ে বলছি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া মেডিকেল পেশা পুরাই অর্থহীন  হয়ে যাবে। অপারেশান থিয়েটারে আমি যতদিন ঢুকেছি ততদিনই আমার মনে হয়েছে  ইঞ্জিনিয়াররা যদি এত প্রযুক্তি আবিষ্কার না করত তাহলে মেডিকেল পেশা মনে হয়  চিরকাল অন্ধকার যুগেই পড়ে থাকত। এই যে আমি মেডিকেল পেশার গুনাগুন করছি  সেটাও করছি প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে, যা কোন ইঞ্জিনিয়ারের অবদান, কোন  চিকিৎসকের নয়। তারপরও মেডিকেল পেশাকে আমার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি,  ইঞ্জিনিয়ারিং কে নয়। হয়ত আমার ক্যাপাবিলিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাকে সাপোর্ট  করবেনা, কিংবা আমার উপলব্ধিতে ইঞ্জিনিয়ারিং টা সেরকম জায়গা করে নিতে  পারছেনা। সেটা কেবল আমার জন্য, অন্যের জন্য না।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক  হাসপাতালে প্রতিদিন আমি যখন সুইপারকে ঝাড়ু দিতে&amp;nbsp; দেখি, হাসপাতাল পরিস্কার  করতে দেখি তাদের দেখে আমি ফিল করি কাজটা অনেক ছোট, কিন্তু এটা যে কত  গুরুত্বপূর্ণ তা হয়ত ওই সুইপারও জানেনা। নার্সদের যোগ্যতা চিকিৎসকদের  তুলনায় কম হলেও তাদের কাজের গুরুত্ব যে চিকিৎসকদের তুলনায় বেশি তা আমি  নির্দ্বিধায় স্বীকার করব। একজন রোগীর সবচেয়ে বেশি কন্ট্যাক্টে থাকে নার্স,  চিকিৎসক নয়। অর্থাৎ আমি যদি এভাবে হিসাব করতে থাকি তাহলে হয়ত প্রতিটা পেশার  কতখানি গুরুত্ব তা বর্ণনা করতে অনেক সময় লেগে যাবে। তারপরও কথা থেকে যায়,  শেষ পর্যন্ত আমি নিজের জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট বলব। এত কিছু বলার পরও  কেউ যদি আবার এটা নিয়ে বিতর্ক করতে বসে যায় তাহলে ভাবব, এতক্ষন যা বলেছি তা  সবই বৃথা...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;﻿চলবে...&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-4834985420319503263?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/4834985420319503263/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=4834985420319503263' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4834985420319503263'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4834985420319503263'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/11/blog-post_1572.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৪'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-4292580160421844151</id><published>2010-11-11T21:15:00.002+06:00</published><updated>2010-11-11T21:15:17.185+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৩</title><content type='html'>কিছু কিছু মানুষের পড়াশুনার স্টাইল এত বিরক্তিকর যে বলার বাইরে। কেন  জানিনা এই বিরক্তিকর পরিস্থিতি সবসময় আমার সামনেই ঘটে থাকে। দশম শ্রেণীতে  যখন পড়ি তখন মিলি আপুর বাসা অনেক দূরে হওয়াতে আম্মা মিলি আপুকে বললেন  আমাদের বাসা থেকে ক্লাস করতে। আপু তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। খুব ভাল  কথা। উনি সন্ধ্যায় পড়তে বসেন। সেটাও ভাল কথা। এরপর শুরু হল উনার পড়া। সেটা  কে একচুয়ালি পড়া বলা হয় কিনা জানিনা তবে আমার যে কানের বারোটা বেজে তা উনি  কখনই খেয়াল করেননা। গলা ফাটায়, চিৎকার করে উনি পড়ে। বাট আমি কিছু বলতামনা।  কারণ উনাকে কিছুটা ভয় পেতাম আর আম্মার কাছেও নালিশ করতামনা। মিলি আপুকে  আম্মা আবার চরম আকারে পছন্দ করে। পছন্দের কারণ আর কিছুই না। আপু অসাধারণ  ব্রিলিয়্যান্ট। আর জোরে জোরে চিৎকার করে পড়া আম্মার খুব পছন্দ। তার ধারণা  এতে করে পড়াশুনা খুব ভাল হয়। অথচ সারাজীবন আমি কোনদিন জোরে জোরে পড়িনি।  একদম লো সাউন্ডে পড়ি যেন আমিই কেবল শুনতে পাই। মিলি আপুর এই যন্ত্রণা  মোটামুটি আমাকে ছয় মাস সহ্য করতে হয়েছে।&lt;br /&gt;মনে পড়ে প্রথম যখন যশোরে  বাসা নেই তখন আমাদের পাশের বাসার এক ছেলে যে ভোর বেলা থেকে তার ঐতিহাসিক  পড়া শুরু করে সেটা থামতে থামতে সাত/আট ঘণ্টা লেগে যায়। সেই ছেলের যন্ত্রণাও  প্রায় আমাকে এক বছর সহ্য করতে হয়েছে। সবচেয়ে বিরক্তিকর ছিল আম্মা সবসময়  আমাকে সেই ছেলের মত ভোর বেলা উঠে জোরে জোরে পড়তে বলতেন, তখন আমি পড়ি ক্লাস  ফাইভে।সেই ছেলে পড়ে ক্লাস সেভেনে। আমার তখন মনে হত ভোর থেকে উঠে সাত/আট  ঘণ্টা পড়ার মত পড়া আসলে আমার নাই। সো এত কষ্ট করার কোন মানে হয়না। তারপরও  প্রায় প্রতিদিনই ওই ছেলের জন্য আমাকে বকা শুনতে হত।&lt;br /&gt;ইন্টার পরীক্ষার  সময় আমার এক ফ্রেন্ড তার বাসা রিলেইটেড কিছু সমস্যার জন্য আমাদের বাসায়  কিছুদিনের জন্য থেকেছিল। তার পড়াশুনার স্টাইল হচ্ছে সারারাত জেগে জেগে  পড়বে। অথচ আমি রাত ১২টার পরে জেগে থাকলেও আর পড়তে পারিনা। যেহেতু আমার  ফ্রেন্ড সারারাত ধরে পড়ে তাই আম্মার ধারণা যে আমি কিছুই পড়িনা তার তুলনায়।  সেটার জন্যও অনেক বকা শুনতে হয়েছে।&lt;br /&gt;ঢাকায় যখন আসি কোচিং করতে তখন  আমার সাথে আরো দুজন ফ্রেন্ড এসেছিল। তারাও আমাদের বাসায় থেকেই কোচিং করত।  এরমধ্যে একজন ছিল সে যখন পড়ত, মোটামুটি আশে পাশের ফ্ল্যাটের মানুষ সবাই  জেনে যেত যে আমাদের বাসায় পড়াশুনার তুফান বয়ে যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমি কোন  উচ্চবাচ্য করিনি, যদিও আমি চরমভাবে ডিস্টার্ব ফিল করতাম।মাঝে মাঝে খুব  বিরক্ত হয়ে গেলে ওর পাশে বসে থাকতাম। ও জোরে জোরে পড়ত সেটা শুনে শুনে আমি  পড়ার চেষ্টা করতাম। এরপর একসময় যখন দেখলাম যে আসলেই ওর পাশে বসে আর যাই হোক  পড়াশুনা করা সম্ভব না। তখন ওকে এক রুম ছেড়ে দিলাম। এদিকে মামুনের জন্য এক  রুম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আল্টিমেইটলি অন্য রুমে বাকি দুজন মিলে চুপচাপ পড়তাম।  একদিন পাশের ফ্ল্যাটেই বিয়ের আয়োজন হচ্ছে। রাত হতেই জোরে জোরে গান-বাজনা  শুরু হয়ে গেল। আমরা সব দরজা-জানালা আটকিয়ে দিয়েও সেই লাউড সাউন্ড কমাতে  পারিনি। সেই রাতে পড়াও হয়নি। অথচ সেই রাতেও আমার সেই ফ্রেন্ড গলা ফাটিয়ে  জোরে জোরে বোটানি পড়েছে।&lt;br /&gt;এরপর যাইহোক মেডিকেলের এডমিশানের পর একজন  খুলনা মেডিকেল এবং অন্যজন আর্মড ফোর্সে চলে গেল। আমি সেদিন খুলনা মেডিকেলের  ওই ফ্রেন্ড কে ফোন করে জিজ্ঞেস করছিলাম যে সে এখন কিভাবে পড়ে? আমার একথা  শুনে সে কিছুক্ষন হেসে বলল, “আসলে আমি তোমাদের অনেক জ্বালিয়েছি, না? তুমি  বিশ্বাস করবানা আমি এখন চুপচাপ পড়ি। কারণ আমার জন্য হলের বাকি কেউ পড়তে  পারেনা। এজন্য বাধ্য হয়েই পড়াশুনার স্টাইল চেইঞ্জ করেছি।“ ওর কথা শুনে  সেদিন সস্তি পেয়েছিলাম।&lt;br /&gt;এরপর যুথী আর সাথী ওরা দুবোন যখন আমাদের  বাসায় কোচিং করতে আসল, তখনও দেখি সেইম কেইস। যুথীও গলা ফাটায় ফাটায় পড়ে।  কিছু বলিনি সেই বছর। এরপর যুথী যখন আমার কানের পাশে বসে বসে এনাটমি গলা  ফাটায় পড়ে তখন ওকে বলি “ আচ্ছা&amp;nbsp; হলে সিট কবে পাচ্ছ তুমি?” ও বুঝতে পেরে  হাসতে হাসতে&amp;nbsp; বলে আপু আমাকে তো সবাই হল থেকে বের করে দিবে!! একটা বিরক্তিকর  ফেসিয়াল এক্সপ্রেসান দেখিয়ে&amp;nbsp; আর কিছু বলিনা....&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চলবে......&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-4292580160421844151?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/4292580160421844151/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=4292580160421844151' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4292580160421844151'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4292580160421844151'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/11/blog-post_2390.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-৩'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5686970006997574505</id><published>2010-11-11T21:13:00.002+06:00</published><updated>2010-11-11T21:13:41.034+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-২</title><content type='html'>&lt;div class="mbl notesBlogText clearfix"&gt;&lt;div&gt;প্রথম প্যাথোলজি পরীক্ষা  ভাল হল। তিন ঘণ্টা লিখতে লিখতে কিভাবে কেটে গেল টেরই পেলামনা। এরপর  কমিউনিটি মেডিসিন পরীক্ষা। প্রিপারেশান ভালই ছিল, কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে  ঠিক ২ঘণ্টা পর খেয়াল করলাম যে আমি আর লিখতে পারছিনা। কারণ লিখার জন্য যে  মুড দরকার তা শেষ। খুব কষ্টের সাথে বাকি একঘণ্টা কাটালাম, এন্সার জানা  সত্ত্বেও খুব শর্ট-কাট এন্সার দিয়ে দ্রুত লেখা শেষ করে ফেললাম। এরপর  মাইক্রোবায়োলজি পরীক্ষা। সাবজেক্টটা আমার কাছে দারুন লাগে। কোয়েশ্চেন ও খুব  ভাল হয়েছে। কিন্তু সেদিনও সেইম কেইস। ২ঘণ্টা পর আমি চুপচাপ বসে ছিলাম  কিছুক্ষন। স্যার এসে আমাকে চুপচাপ বসে থাকার কারণ জানতে চাইলেন। আমি বললাম  যে মাথা ব্যাথা করছে...স্যার প্যারাসিটামল দিতে চাইলেন আমাকে, আমি বললাম যে  স্যার আমি সকালে প্যারাসিটামল খেয়ে এসেছি। যাইহোক স্যারের জন্য শান্তিমত  চুপচাপ বসে থাকতেও পারছিনা। কিছুক্ষন পর স্যার আবার এসে বললেন যে আমার পানি  লাগবে কিনা, পানি খেলে হয়ত কিছুটা ভাল ফিল করতে পারি। আমি বললাম যে স্যার  আমার কাছে পানি আছে। অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম, খারাপ হয়নি একেবারে।  এরপর আরো দুইটা পরীক্ষা মুড অফ/অনের মধ্যে দিয়ে শেষ করলাম। যেহেতু রিটেন  তাই কোন প্রভাব পড়েনি...যদিও ফরেনসিক মেডিসিন পরীক্ষা দেবার সময় একবার মনে  হল কোয়েশ্চার পেপার ছিড়ে এক্সাম হল থেকে বের হয়ে যায়। প্রেগনেন্সির  বায়োলজিক্যাল টেস্ট ব্যাখ্যা করতে বলেছে। এটা কি কোন প্রশ্ন হল? মেজাজ হঠাৎ  করেই খুব খারাপ হয়ে গেল। ঠিক তখনি ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টাল হেড স্যার মাইকে  বলছিলেন যে প্রশ্ন দেখে ভয় পাবার কিছু নাই, একটু আনিউজুয়াল প্রশ্ন এসেছে,  তাই প্রতিটা প্রশ্নে টাচ করলেই পাশ হয়ে যাবে।&lt;br /&gt;বাসায় এসে ভাবলাম মনটা  ভাল হয়ে যাবে। কিন্তু না হয়নি। বরাবরের মত মামুনের একটা লেইট গুড নিউজ  শুনলাম আর সেটা হল ও এইচএসসি তে ঢাকা বোর্ডে ৪৪তম হয়েছে, ট্যালন্টপুলে  বৃত্তি পেয়েছে বাট ও কিছুই জানেনা। অথচ এটা একবছর লেইট নিউজ। মেডিকেলে  ভর্তির জন্য নটরডেম থেকে সব কাগজ-পত্র তুলতে গিয়ে ও এটা জানল। যাইহোক এই  ধরনের ব্যাপার ওর জন্য এখন খুব ইউজুয়াল একটা ব্যাপার হয়ে গিয়েছে।&lt;br /&gt;&amp;nbsp;আমাকে  প্রায় সময়ই&amp;nbsp; অনেকে জিজ্ঞাসা করে কেন দুইভাই-বোনই চিকিৎসক হতে চাই? একজন না  হয় ইঙ্গিনিয়ার হলাম!&amp;nbsp; সেদিন একজনকে কথাইয় কথায় বলছিলাম যে আমার এক জুনিয়র  ভাই আছে, আমার মেডিকেলেই পড়ে। তার বাবা-মা দুজনেই চিকিৎসক, তার ছোট ভাইকে  এবার বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি করাবে, তার যে ছোট বোন আছে তাকেও মেডিকেলে  পড়াবে। মেডিকেল ব্যাপারটাতে একটা নেশা আছে। সবাই এই নেশা ধরতে পারবেনা। আর  এটা ঠিক বলেও বুঝানো যাবেনা। আমার খুব ইচ্ছা আমার যে ছোট ছোট কাজিন আছে  তারাও সবাই মেডিকেলেই পড়ুক। আসলে পেশার সাথে নিজেকে মানবতার সেবাই  ডিরেক্টলি যেভাবে এই পেশাতে আত্বনিয়োগ করা যাবে অন্য কোন পেশাতে হয়ত আমি  সেভাবে চিন্তা করতে পারছিনা। ওই যে রিয়েলাইজেশানের ব্যাপার! একেজনের  রিয়েলাইজেশান একেকরকম। আমি জানি মেডিকেল বাদে অন্য বহু পেশায় নিজেকে  মানবতার তরে বিলিয়ে দেবার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু আমার রিয়েলাইজেশান আপাতত  আমার জন্য চিকিৎসা পেশাকেই বেস্ট মনে করছে। এটা কিন্তু শুধু যে আমার  ক্ষেত্রেই এরকম রিয়েলাইজেশান এসেছে তা নয় আমার ভাইয়ের জন্যও, কাজিনের  জন্যও। তাই গতবার যখন যুথী মেডিকেলে চান্স পেল তখনও খুব আনন্দ লেগেছিল যেমন  এবার মামুন চান্স পাওয়াতে আনন্দ পেলাম। কিন্তু এত আনন্দের মধ্যেও  ডিপ্রেশানের কারণ খুজে পেলাম না। হরমোনাল চেইঞ্জ ডিপ্রেসানের সাথে রিলেটেড।  ব্রেইনের অনেক নিউরোট্রান্সমিটার, কেমিক্যাল বস্তুও ডিপ্রেসানের জন্য  দায়ী। সেরোটনিন, ডোপামিন লেভেল অনেক কমে গেছে মনে হয়। শেষের দিন  ফার্মাকোলজি পরীক্ষা ছিল। এন্টি-ডিপ্রেস্যান্ট,এন্টি-সাইকোটিক,  এন্টি-এপিলেপ্টিক,এন্টি-পারকিনসনিজম সহ আরো কিছু টপিকসের ড্রাগস যেভাবে  পড়েছিলাম সেই ড্রাগসের নামগুলো এখনও মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে...আমার জন্য  সত্যি ডিপ্রেসানের ড্রাগস লাগবে কিনা বুঝতেছিনা। তবে আর যাইহোক এই সমস্যার  জন্য আমি কখনই টিচারের কাছে যাবনা...কারণ স্যার আমাকে কি বলবেন তা আমি খুব  ভাল ভাবেই জানি, কিছুদিন আগেই মেন্টাল ডিসঅর্ডারের ওয়ার্ড করে এসেছি জাতীয়  মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট থেকে। সো স্যারের কাছে যাবার নেসেসিটি ফিল  করছিনা আপাতত...&lt;br /&gt;খুব এলোমেলো, অগোছালো লেখা লিখলাম। সবকিছুর মূলে ছিল  নিজের ডিপ্রেশানের একটা এনালাইসিস করা...কিন্তু রিপোর্ট কোনভাবেই  আসছেনা.........&lt;br /&gt;﻿&lt;br /&gt;চলবে...&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5686970006997574505?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5686970006997574505/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5686970006997574505' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5686970006997574505'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5686970006997574505'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/11/blog-post_6113.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-২'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-6113260400063501371</id><published>2010-11-11T21:10:00.001+06:00</published><updated>2010-11-11T21:10:27.584+06:00</updated><title type='text'>মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-১</title><content type='html'>&lt;div class="mbl notesBlogText clearfix"&gt;&lt;div&gt;মহানুভব হওয়া কিংবা মহত্ত  দেখানো আসলে এত সোজা না। কারণ নিজের অনেক কিছু  স্যক্রিফাইস করে লোক  দেখানো মহানুভব হওয়া যায়না। খুব আশ্চর্য বস্তু এই  “বিবেক”। যা কিছুই করিনা  কেন বিবেক সেই কাজের পোস্টমর্টেম করবেই। বাইরে  থেকে বলি নিজে যা করেছি  ঠিক করেছি কিন্তু বিবেক ঠিকই রিপোর্ট দিয়ে দেয় যে  সবসময় যা করি তা ঠিক না।  প্রতিনিয়ত আমরা এই বিবেকের রিপোর্টের সম্মুখিন  হচ্ছি। ধর্ম দিয়ে আসলে মনে  হয় বিবেকের সচেতনতাকে জাগ্রত করা হয় যেন বিবেকের  দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী  কাজ করতে পারি। তা না হলে কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ তা  মোটামুটি সবাই জানা  সত্ত্বেও সমাজে এর কোন কন্সিকুয়েন্স আমরা দেখিনা কেন?  বিবেকের রিপোর্টকে  আমরা ক্রমাগত ইগনোর করে চলেছি বোধহয়।  কয়েকদিন ধরে কিছু ব্যাপার খুব  তীব্রভাবে ফিল করছি। এবসলিউট বলে আসলে  কিছু আছে কিনা! মনে হয় নেই। আমি  একটা ঘটনাকে যেভাবে ব্যাখ্যা করব অন্যজন  সেটা সেভাবে করবেনা। এটাই  স্বাভাবিক। ধর্মীয় কিছু ব্যাপারেও মনে হয় সেরকম  কিছু আছে। এবসলিউট বলতে  শুধু এই যে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তিনি ছাড়া কোন  ইলাহ নেই, মহানবী (সাঃ)  তার রাসূল। আর জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে মনোনিত  করা হয়েছে। এখন  ইসলামের অনেক কিছুই বিভিন্নভাবে ইন্টারপ্রিটেট করা যায়।  সবগুলোই সত্য হতে  পারে, নাও পারে। কিন্তু কে জাস্টিফাই করবে কোনটা সত্য?  এখানেই মনে হয়  বিবেকের মেইন কাজ নিহিত রয়েছে।  বিবেক ঘটনাকে নিবে যার যার   ক্যারেক্টারিস্টিক,পারসোনালিটি আর রিয়েলাইজেসান অনুপাতে। হযরত আবু বকর   (রাঃ), কিংবা উমার (রাঃ) কিংবা ওমর (রাঃ) তিনজনের পারসোনালিটি তিনরকম।   এবসলিউট ছিল এক জায়গায় যে তারা সবাই মুসলিম, আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা আর   মহানবী (সাঃ) কে তারা সবাই জানপ্রাণ দিয়ে ভালবাসত। ঠিক এই জায়গায় এসে যখন   চিন্তা করছি তখনই আমার খুব বড় একটা ভুল সংশোধন হল। অনেক ক্ষেত্রেই আমি মনে   করি ব্যাপারটা এবসলিউট, সবার একইভাবে ঘটনা ব্যাখ্যা করা উচিত। ইসলামকে মনে   হয় আমি এভাবেই অনেক সময় সংকীর্ণ করে ফেলেছিলাম আমার চিন্তা চেতনা দিয়ে।   ইসলাম আসলে অনেক অনেক বড় একটা ক্ষেত্র যেটা হয়ত আমার চিন্তার সীমানারও   বাইরে। পৃথিবীতে যত মুসলিম  রয়েছে সবার চিন্তা ভাবনার গন্ডি সেইম হবেনা।   কিন্তু শুধুমাত্র একজায়গায় আমরা সবাই সেইম যে আমরা মুসলিম।এটা পুরাই   এবসলিউট। এই সিম্পল ব্যাপারটা আমি বুঝলাম অনেক পরে। তাও সেদিন এক আপু একটা   ঘটনা বলতে গিয়ে তার মনোভাবের কথা যখন বলছিলেন তখনই আমি ব্যাপারটা ধরতে   পারলাম। সাথে সাথে বাসায় এসে আম্মাকে বললাম যে ইসলামের প্রতি ডেডিকেশান   কিংবা ইসলামকে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে ধারন করা একেকজনের কাছে একেকরকম। এটা   সম্পূর্ণ রিয়েলাইজেশানের উপর ডিপেন্ড করছে। আমি হয়ত মনে করি আমার দিক থেকে   সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা এভাবে হতে পারে, অন্যজনের কাছে তার প্রচেষ্টা অন্যরকম   হবে। কিন্তু দুজনই আমরা ইসলামের জন্যই ডেডিকেশানের দিক থেকে চিন্তা  করেছি।  তাই কিভাবে বলি তার রিয়েলাইজেশান ভুল আর আমারটা সঠিক! সেই নিখুত  বিচারের  সাধ্য কি আমাদের আছে?&lt;br /&gt;আজকাল প্রায়ই আমি ডিপ্রেশানের মধ্যে  থাকি। কোন কারন ছাড়া, পুরাই  ইডিওপ্যাথিক। ২৬শে অক্টোবর থেকে সেকেন্ড  এসেসমেন্ট শুরু হয়ে গেল। ২৩থেকেই  তাই আমি হলে উঠে গেলাম। খুব  কন্সেন্ট্রেসানের সাথে স্টাডি করছিলাম। ২৪  তারিখ খুব টেন্সানের মধ্যে  ছিলাম মামুনের রেসাল্ট নিয়ে। মেডিক্যাল এডমিশান  আজকাল দূর আকাশের চাদ হয়ে  গিয়েছে। ইচ্ছা করলেও  সবাই চিকিৎসক হতে পারেনা  যদিনা সে ধনী পরিবারের কেউ  হয়। সো সেই দিক থেকেই চিন্তা হচ্ছিল বেশি। কারণ  বেসরকারী মেডিক্যালে  পড়ানোর মত আপাতত চিন্তা-ভাবনা আব্বা-আম্মার নাই। একটু  হিসাব দেই সরকারী  মেডিকেল আর বেসরকারী মেডিকেলের মধ্যে। সরকারি মেডিকেলে  ভর্তি হতে লাগে ৫-৬  হাজার টাকা আর বেসরকারি মেডিকেলে লাগে ১০-১২ লাখ টাকা।  অর্থাৎ অনুপাতটা  অনেকটা আকাশ-পাতাল হয়ে যায়। যাইহোক ২৪ তারিখ রেসাল্ট  দিলনা। সারারাত ঘুম  ভাল হয়নি। খুব ভালভাবেই একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম  মামুনের ক্ষেত্রে সবকিছু  লেইট করে হয়। ও যেবার এইটে স্কলারশিপ পেল  রেসাল্টের দুইদিন পর ও জানতে  পারল যে ও স্কলারশীপ পেয়েছে। এরপর এসএসসিতে  গোল্ডেন এ+ পেল সেই রেসাল্টও  সে পরে জেনেছে। এরপর এইচএসসিতে গোল্ডেন এ+  পাওয়া সত্ত্বেও সে মেডিকেলে  চান্স পেলনা, তারউপর আবার নটরডেমের স্টুডেন্ট।  তাই ওর রেসাল্ট আমার থেকে  ভাল হওয়া সত্ত্বেও আব্বা-আম্মা ওকে নিয়েই বেশি  টেনসান করে। একবছর গ্যাপ  দিয়ে সে আবারো মেডিকেলের জন্য চেষ্টা করে গেল। অথচ  আমার ক্ষেত্রে  ব্যাপারটা খুব স্মুথলি হয়ে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ। যাইহোক  ২৫তারিখে বিকেলে  ওর রেসাল্ট পেলাম, সলিমুল্লাহ মেডিকেলে চান্স পেল। মনে হল  আমি নিজেই চান্স  পেয়েছি, সেরকম আনন্দ ফিল করলাম। এরপর পড়তে বসেছি হঠাৎ মুড  অফ হয়ে গেল।  মুড অফ এবং অন সেখান থেকেই শুরু...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চলবে... ﻿&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-6113260400063501371?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/6113260400063501371/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=6113260400063501371' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6113260400063501371'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/6113260400063501371'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/11/blog-post_11.html' title='মনোরসায়নঃ এলোমেলো আলাপ-১'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5976254171323988704</id><published>2010-11-11T20:57:00.003+06:00</published><updated>2010-11-11T20:57:30.818+06:00</updated><title type='text'>একজন জেড, অতঃপর...</title><content type='html'>&lt;div class="mbl notesBlogText clearfix"&gt;&lt;div&gt;জেড নামক এক ব্যক্তি,  ইসলামের ব্যাপারে যার সামান্যতম জ্ঞান নেই। তবে তিনি শুনেছেন ইসলাম নাকি  সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম। না ঠিক ধর্ম নয় পরিপূর্ণ জীবন বিধান! ইসলামের ব্যাপারে  তার জানার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি জানতে পারেননি। কিন্তু তিনি ধরে  নিয়েছেন ইসলাম হচ্ছে থিওরিটিক্যালি বেস্ট ধর্ম কিন্তু প্র্যাক্টিক্যালি নয়।  আচ্ছা তিনি কেন জানতে পারেননি। তাহলে জেডের সামনে ঘটের যাওয়া কিছু ঘটনা  দেখে আসি...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ক. প্রচন্ড গরম পড়ছে কয়েকদিন, তার উপর আবার  ট্রাফিক জ্যাম। প্রায় আধা ঘণ্টা ট্রাফিক জ্যামে পড়ে আছে। হ্যন্ড ব্যগ থেকে  একটা বই বের করে বাতাস নেবার চেষ্টা করছে এমন সময় বাসের জানালা দিয়ে চোখে  পড়ল একজন মহিলাকে। পুরা শরীর কাভার করা, হাত মোজা, পা মোজা, নেকাব পরা ,  পারলে চোখটাও কাভার করত। জেড কিছুটা বিব্রত ওই মহিলাকে দেখে। এত্ত গরমে ওই  ড্রেস অবস্থায় মহিলা রাস্তায় কিভাবে এভাবে দাড়িয়ে আছে। জেড পাশে বসে থাকা  এক প্যাসেঞ্জারকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসা করাতে জানতে পারল সেই মহিলা খুব  ধার্মিক বিধায় এভাবে ড্রেস পরেছে। জেড মনে মনে চিন্তা করল ইসলামে কি  মেয়েদের এভাবে ড্রেস পরাতে বাধ্য করেছে? ব্যাপারটা খুবই অমানবিক। তসলিমা  নাসরিন তার এক বইতে লিখেছিলেন&amp;nbsp; যে মেয়েরা&amp;nbsp; কি এতই খারাপ যে তাদের হাত,পা  চোখ মুখ এভাবে ঢেকে চলতে হবে? জেড চিন্তা করল ইসলাম মনে হয় মেয়েদের কে  আসলেই এভাবে&amp;nbsp; আন্ডারএস্টিমেট করেছে...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;খ. জেড পত্রিকার পাতা  উল্টাচ্ছে হঠাৎ চোখে আটকে গেল একটি নিউজ। পরকিয়ার অপরাধে গ্রাম্য এক মেয়েকে  দোররা মারা হয়েছে। অথচ পুরুষ ছেলেটি বেকসুর খালাস! এই নিউজের রেশ কাটতে না  কাটতেই আরেকটি নিউজ পড়ে জেড রীতিমত শিউরে উঠল। হিল্লা বিয়ে নামক এক  অমানবিক প্রসেসের জন্য এক মেয়েকে আত্বহত্যা করতে হল। গ্রাম্য হুজুরদের এসব  ইসলামি ফতোয়া পড়ে জেড ক্রমানয়ে অভিভূত হতে লাগল। তবে ইসলামের ব্যাপারে তার  আগ্রহ বাড়তেই থাকল...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গ. একদিন জেড অদম্য কিউরিসিটি নিয়ে  শুক্রবার জুমার নামাজে গেল। সে দেখতে চায় মসজিদে মুসল্লিরা আসলে কি করে।  জেড যেহেতু আরবি জানেনা তাই সে খুতবা বুঝতে পারলনা। খুতবা শেষে সে যখন তার  পাশে বসে থাকা মুসল্লিকে খুতবাতে যা বলা হল তার মানে জানতে চাইল তখন সেই  মুসল্লি জানাল যে সেও আরবি জানেনা। শুধু সেই মুসল্লি নয় মসজিদের অধিকাংশই  খুতবার মানে বুঝতে পারেনি। অথচ কেউ খুতবার মানে জানতে চাইলনা, আজব! খুতবা  শুনলে নাকি অনেক নেকী পাওয়া যায় এই ভরসাতেই সবাই শান্ত ছিল। অবশেষে জুমার  নামাজ শেষে জেড ভাবল ইসলাম নাকি পরিপূর্ণ জীবন বিধান অথচ জীবনের সাথে  রিলেইটেড কোন নির্দেশনাই মসজিদে পেলামনা। তাহলে এটা কিভাবে জীবন বিধান হয়??  সত্যি সেলুকাস!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘ. একদিন জেড রাস্তায় পাজামা-পাঞ্জাবি পরা  এক মুসলিমে দেখতে পেলেন। সুন্দর দাড়িও আছে তার। জেড তার সাথে বন্ধুত্ব করতে  চাইলেন। আসলে জেডের জানার খুব ইচ্ছা একজন মুসলমান কেমন হয়! অতঃপর সেই  মুসলিমের সাথে অনেক কথা-বার্তা বললেন। কিন্তু যখনই সেই মুসলিম জানতে পারলেন  যে জেড মুসলিম না বরং বিধর্মি তখনি সে পিছুটান দিল। জেডের সাথে আর কথা  বলতে চাইলনা, এড়িয়ে চললেন, আর বন্ধুত্বতো অনেক দূরের ব্যাপার। জেড কিছুটা  মর্মাহত এতে। ইসলামে ব্রাদারহুড বলে কিছু নাই মনে হয়। তা না হলে একজন  মুসলিম কিভাবে এত সংকীর্ণমনা হয়?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঙ. জেড টিভি দেখছিল। ইসলামি  সংস্কৃতি জানার জন্য সে চ্যানেলের পর চ্যানেলের স্ক্যান করে যাচ্ছে।  কিন্তু কোথাও সে সেভাবে পেলনা। আচ্ছা ইসলামের নিজস্ব সংস্কৃতি বলে কি আসলেই  কিছু আছে? যদি থাকে তাহলে কেন ইসলামপন্থীরা তাদের আইডিওলোজিকে আকাশ  সংস্কৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেনা? এরকম ভাবতে ভাবতেই জেড নিউজ শুনছিল হঠাৎ  শুনতে পেল জিহাদের নামে কয়েক যুবকের জঙ্গি হবার নিউজ এবং বিদ্ধংসী  কর্মকান্ড। সেই যুবকগুলোর হাতে কিছু লিফলেট পাওয়া গেছে যেখানে লেখা ছিল  আল্লাহর আইন কায়েম করতেই তারা এরকম জিহাদি কাজে অংশগ্রহন করেছে। জেড দেখে  চিন্তা করছে ইসলাম কি স্বৈরাচারী ধর্ম! একদম জোর করে হলেও ইসলাম কায়েম করতে  হবে?...এটা কিভাবে জীবনের ধর্ম হতে পারে তাহলে? জেডের বিবেকে বার বার এই  প্রশ্ন উত্থিত হল...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চ. রাস্তার পাশ দিয়ে হাটার সময় জেড  মসজিদের গায়ে একটা লেখা দেখেছিল যেটা তার মনে খুব দাগ কেটেছিল।  “পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংগ”- আল-হাদীস। ইসলাম তার মনে সেদিন পজিটিভ  ভিউ এনেছিল। কিন্তু সে আরেকদিন যখন মসজিদের পাশ দিয়ে হাটছিল তখন মসজিদের  পাশেই প্রচুর ময়লা আবর্জনা দেখে সেই মসজিদের ঈমাম কে এব্যাপারে প্রশ্ন  করেছিল। কিন্তু সেই ঈমাম জবাবে বলেছিল যে ঝাড়ুদার আসেনি বলে জায়গা  অপরিস্কার রয়ে গেছে। জেড সাথে সাথেই জানতে চাইল যে আপনাদের হাদীসে যেখানে  পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের পার্ট বলা হচ্ছে সেখানে আপনারা কেন নোংরা  জায়গা ঝাড়ুদারের অপেক্ষায় পরিস্কার করলেননা। আকস্মিক এই যৌক্তিক প্রশ্নে  ঈমাম খুবই মনক্ষুন্ন হলেন। তিনি জেডকে বললেন যে “ঈমানের পার্ট আপনি কিভাবে  বুঝবেন, জানেন আমি কুরয়ানের হাফেজ, অমুক-তমুক ডিগ্রি আছে, আপনি আমাকে  ঈমানের পার্ট শেখান!” জেড এধরনের ব্যবহার আশা করেনি। সে শুধুমাত্র হাদীসের  এপ্লিক্যাশানটা কেন হচ্ছেনা সেটা জানতে চাইল। অথচ এই ঈমাম যার সুন্দর দাড়ি  রয়েছে, পাজামা-পাঞ্জাবি পরা তিনি এভাবে রিএক্ট কেন করলেন? জেড শিউর হল আসলে  ইসলাম হচ্ছে পোশাক সর্বস্ব ধর্ম ছাড়া কিছুই না...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছ. জেড  এখন ইন্টারনেটে বসে মুসলিমদের গৌরবজ্জ্বল ইতিহাস সার্চ করতেছে। কিন্তু সে  প্রোপার ইনফরমেশান পাচ্ছেনা। বহু ঘাটাঘাটি করে সে কিছু তথ্য পেল কিন্তু তা  সত্যিকারের ইতিহাসের তুলনায় নগন্য। জেড ইতোমধ্যে মুসলিম ঐতিহাসিকদের উপর  ক্ষিপ্ত। কেন তারা তাদের ইতিহাস সংরক্ষন করবেনা? কিছু হার্ড কপির সন্ধান  পেয়েছিল জেড কিন্তু ইন্টারনেটে মুসলিমদের নিষ্ক্রিয়তা জেডকে অবাক করে দিল।  তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে মুসলিমরা আজো এত্ত পিছিয়ে। সে আরো কিছু তথ্য পাবার  জন্য ইন্টারনেট সার্চ করল। গত ২০ বছরে শিক্ষা, প্রযুক্তিতে মুসলমানদের  অবদান কতটা? কতজন নোবেল পেয়েছেন? নাহ! জেড ইসলামের উপর চরম বিরক্ত আবার।  নিশ্চয় ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেই মুসলিমরা আজ এত্ত এত্ত  পিছিয়ে...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;উপরের সব ঘটনা একজন জেডের দৃষ্টিতে ইসলামের  জেনারেল পিকচার প্রেসেন্ট করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে একজন জেড কিভাবে  ইসলাম কে নেবে সেটা খুব সহজেই অনুমেয়। সেদিন আলোচনা হচ্ছিল ইন্ডিয়ান  কালচার, ওয়েস্টার্ন কালচার আমাদের যুবসমাজকে কিভাবে অধপতনের দিকে নিয়ে  যাচ্ছে। কিভাবে যুবসমাজ প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে? কিভাবে তারা অন্যায়কে  সহজেই মেনে নিচ্ছে? কিভাবে তারা কেবল ফেইসবুক, এফএমরেডিও, বলিউড,হলিউড এর  জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে? খুব দোষারোপ করছিলাম যারা এভাবে আমাদের যুবসমাজকে  অধপতনের দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খেয়াল করলাম খুব কমই আমরা নিজেদের  সমালোচনা করলাম। আমরা কেন আজ প্রযুক্তিকে লিড করতে পারিনি? কেন আজ আমরা  আমাদের সংস্কৃতিকে আকাশ সংস্কৃতির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারিনি? কেন আমরা  মিডিয়াতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে ইসলামের নামে সকল অপপ্রচারের জবাব দিতে  পারিনি? আমাদের প্রতিপক্ষ যেখানে ডান-বাম-উপর-নিচ দিয়ে তাদের সমগ্র  মেধা-মনন, ক্রিয়েটিভিটি দিয়ে তাদের দিকে সবাইকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেখানে  আমাদের অবস্থান কোথায়? আমাদের অবস্থান তো হওয়া উচিত ছিল সমগ্র ক্ষেত্রে  বিস্তৃত যেখানে এক ইসলামের প্রতিপক্ষ কেবল হবে ইসলামই। এরকমই তো দিক  নির্দেশনা কুরয়ানে রয়েছে। অথচ আমরা আজো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঘরে বসে  নিন্দা জানাতেই আত্বতৃপ্তি অনুভব করছি। আমি তো দেখছি ইসলামের আজ বড় প্রয়োজন  শক্তিশালি মিডিয়া ও প্রযুক্তি। অনেক তো ঘরে বসে আরবী কুরয়ান পড়ে নেকি  অর্জন করলাম এবার মনে হয় সেই কুর‌্যান কেই ছড়িয়ে দেবার জন্য আমাদের মিডিয়া ও  প্রযুক্তির দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে। আসলে দৃষ্টিপাত অনেক পূর্বেই করা  উচিত ছিল যা আমাদের প্রতিপক্ষরা করে গিয়েছে। এখন না হয় তাদের দেখানো পথেই  আমাদের এগোতে হবে, তাদের অনুসরন করতে হবে। তারপরও যদি আমাদের এই বোধদয় না  হয় যে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে ইসলামের অন্যতম প্রতিপক্ষ কোন ব্যক্তি না,  দল না বরং মিডিয়া ও প্রযুক্তি। এই মিডিয়া ও প্রযুক্তিকে যতদিন আমাদের  আয়ত্বে না আনতে পারব ততদিন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের নিন্দা করে ঘরে বসেই  আত্বতৃপ্তি অনুভব ছাড়া গত্যন্তর নাই।&lt;br /&gt;﻿&lt;/div&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5976254171323988704?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5976254171323988704/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5976254171323988704' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5976254171323988704'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5976254171323988704'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/11/blog-post.html' title='একজন জেড, অতঃপর...'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-8796550937302138234</id><published>2010-10-12T00:30:00.001+06:00</published><updated>2010-10-12T00:35:56.501+06:00</updated><title type='text'>খুব মায়া হয় তোমাদের দেখে!</title><content type='html'>&lt;div style="line-height: 1.8em; text-align: left;"&gt;     সামাজিক স্তরের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার একটি শ্রেণীবিভাগ পড়েছিলাম।  অনেকটা এরকম... উচ্চস্তরের মানুষের ছেলে-মেয়েরা ইংলিশ মিডিয়ামে,  মধ্যবিত্তরা বাংলা মিডিয়ামে আর নিম্নবিত্তরা মাদ্রাসায়। কোন প্রাতিষ্ঠানিক  বইতে এই শ্রেণীবিভাগ পড়িনি। মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা শিক্ষা সংস্কারমূলক  একটি প্রবন্ধে এটা পড়েছিলাম। খুব মজা পেয়েছিলাম এটা পড়ে। আজ হঠাৎ এই  শ্রেণীবিভাগের কথা মনে পড়ে গেল।&lt;br /&gt;যখন নাইনে পড়তাম তখন খুব ইচ্ছা করত স্টুডেন্ট পড়াতে। অন্যকে পড়ানোর মধ্যে  নাকি একটা আলাদা আনন্দ আছে। স্টুডেন্ট পড়ানোকে মনে করতাম খুব বড় একটা  ব্যাপার। আমাদের বাসায় তখন আমি,আমার ছোট ভাই, কাজিন সহ মোট ৫/৬ জন স্যারের  কাছে পড়তাম। ব্যাপারটা খুব দারুন ছিল, কারণ সেখানে কেউ সেইম ক্লাসের  থাকতনা। ছয়জন ছয় ক্লাসের। অনেকটা রিক্রিয়েশানমূলক পড়াশুনা হত। খুব  গল্প,হাসাহাসি,পড়াশুনা সব । আমি ছিলাম নাইনে, হাসান এইটে, মামুন (আমার ছোট  ভাই) সেভেনে, পলি আপু টেনে, শিলা সিক্সে আর অনিক ছিল ফোরে। হাসান আমার খুব  ভক্ত ছিল, সো স্যার তাকে যতনা অংক করাত সে আমার কাছে অংক বেশি করত। স্যার  এটা জানতেন এবং অংক আমার ফেবারিট সাবজেক্ট হওয়ায় স্যারও হাসানকে উৎসাহিত  করতেন যেন না পারলে সে আমার কাছে হেল্প নেয়। অনিক ছিল আমাদের মাঝে সবচেয়ে  ছোট এবং খুব দূরন্ত। একদিন স্যার আমাকে বললেন অনিককে একটা সম্পাদ্য শিখায়  দিতে। আমি তো মহা উৎসাহে তাকে সম্পাদ্য আঁকানো শিখায় দিলাম এবং আঁকানো শেষে  বললাম যে প্রসেসে সম্পাদ্য এঁকেছো সেটাই এখন নিজের ভাষায় বর্ণনা করে লিখে  দিলেই হবে। সাথে সাথেই অনিক আমাকে প্রশ্ন করল, " আচ্ছা আপু আমার নিজের ভাষা  তো বাংলা, আমি কি বাংলায় লিখব তাহলে?" আমি ঠিক সে মুহূর্তে কি বলব বুঝতে  পারছিলামনা। যাইহোক সেই ঘটনা আমাকে কিছুটা শিক্ষা দিয়েছিল যে কাউকে কোন  কিছু শেখানো বা পড়ানো সবসময় সহজ না।&lt;br /&gt;কিছুদিন পূর্বে বাড়িওয়ালা আন্টি খুব খুব রিকোয়েস্ট করে গিয়েছেন মামুন যেন  তার ছেলেকে পড়ায়। যেহেতু মামুনের সামনে এডমিশান টেস্ট তাই সে এখন পড়াতে  পারবেনা এই অযুহাত দিলে আন্টি আমাকে খুব রিকোয়েস্ট করলেন যেন এটলিস্ট  মামুনের এডমিশানের আগ পর্যন্ত আমি পড়ায়। এমনিতেই আন্টি একজন প্রফেসার  মানুষ, সারাবছরই কিছু না কিছু সত্যায়িত করার জন্য আন্টিকে আমি খুব খুব  বিরক্ত করি, তার উপর বাড়িওয়ালা- সবকিছু চিন্তা করে মামুনের টিউশানির  প্রক্সি দেবার জন্য কিছুদিনের জন্য রাজি হলাম।&lt;br /&gt;রুহিত, আমার স্টুডেন্ট। সামনে এসএসসি দিবে। ম্যাথ আর বিজ্ঞান পড়াচ্ছি। তাকে  একদিন খুব সাধারণভাবে একটা প্রশ্ন করলাম যে সে কিভাবে তার অবসর কাটায়? খুব  সিম্পল এন্সার, তার কোন অবসর সময় নেই। বাংলা, ধর্ম, ভূগোল, ইংলিশ,  একাউন্টিং,ম্যাথ+বিজ্ঞান, সমন্বিত সাবজেক্ট এর জন্য যার আলাদা আলাদা টিচার  থাকে সে কিভাবে অবসর সময় পাবে? আমার তো তার সাবজেক্ট ভিত্তিক টিচারের  শিডিউল শুনে মাথা খারাপ হবার মত অবস্থা। এসএসসিতে আমি মাত্র একজনের কাছে  পড়েছি তাও কেবল ম্যাথ। বাকি সব নিজে নিজেই পড়তাম। স্কুলের পড়ানো + বাসায়  সেলফ অধ্যয়নের জন্য সায়েন্সের সাবজেক্টও আমি নিজেই পড়ে নিতাম। কোন অসুবিধা  হতনা। শুধু কি তাই? যত্ত ধরনের আউট বুকস আছে সেগুলো আমার রেগুলার স্টাডির  একটা অবিচ্ছেদ্য পার্ট ছিল। টিভি দেখা হত খুব লিমিটেড। আলিফ লায়লা বা  সিন্দাবাদ টাইপ সিরিয়াল দেখতাম। সবচেয়ে মারাত্বক ছিল গল্পের বই এর প্রতি  নেশা। কত রাত জেগে জেগে আমি ক্লাসের বই এর মাঝে লুকিয়ে তিন গোয়েন্দা পড়েছি  তার হিসাব নাই। প্রথম আলো পেপারের সাথে যে "আলপিন" বা "ছুটির দিনে" বা  "নারী মঞ্চ" দিত তাতো পুরা মুখস্ত হয়ে যেত আমার। অথচ রুহিত গল্পের বই পড়া  তো দূরের কথা সে নিজের জন্য পারসোনাল সময় বের করতে পারেনা টিচারের শিডিউলের  কারণে। উহ! কি মর্মান্তিক লাইফ স্টাইল। রুহিত কে দেখলে আমার সত্যি খুব  মায়া লাগে।&lt;br /&gt;ইসহাক সেও স্টুডেন্ট। তবে কোন রিকোয়েস্টের স্টুডেন্ট না। পড়াশুনার প্রতি  তার আগ্রহ অনেক। কেউ গেলেই তার কাছে পড়ার ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখায়। তবে  তার অবসর সময় প্রচুর। রুহিতের মত তার সাবজেক্ট ভিত্তিক টিচার নাই, রুহিতের  মত উচ্চবিত্তের ছেলেও সে না। কিন্তু ইসহাকের জন্য মিনিমাম একজন টিচারও নাই  যে তার কাছে সে রেগুলার পড়বে। ইসহাক কোন স্কুলে পড়েনা, কারণ স্কুলে পড়ার  খরচ তাকে কে দিবে? আর থাকে সেই বস্তিতে কোন দালান কোঠাতে না। ইসহাকের জন্যও  আমার খুব খুব মায়া লাগে, যেমন লাগে রুহিতের জন্য।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রুহিতের শিক্ষার সাথে ইসহাকের শিক্ষার এত এত তফাৎ শুধুমাত্র সামাজিক  স্তরভেদের জন্য। জাফর ইকবালের সেই প্রবন্ধের কথা তাই মনে পড়ে গেল।লেখক  অবশ্য সেই লেখাতে ইংলিশ মিডিয়াম ও মাদ্রাসার খুব নেগেটিভ সমালোচনা করে  বাংলা মিডিয়ামের বিভিন্ন সংস্কারের কথা তুলে ধরেছেন। সেই আলোচনাতে আজ  গেলামনা। তবে আমি ঠিক জানিনা বর্তমান শিক্ষা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।  শুধু এটুকুই বুঝতে পারছি সবাই এ প্লাসের জন্য ছুটছে। আমার এক কাজিন সেদিন  এসেছিল "হাজার বছর ধরে" উপন্যাস বুঝতে। উপন্যাস কিভাবে কাউকে শেখানো যায়  আমি জানিনা। তবে সে কখনও কোন উপন্যাস পড়েনি, গল্পের বই এর প্রতি আগ্রহ নাই।  যেটুকু সময় পায় সেটা সে টিভিতে বাংলা নাটক,হিন্দি সিরিয়াল,মুভি,মিউজিক  এসবেই কাটায়।&lt;br /&gt;হাজার বছর ধরে উপন্যাস যখন প্রথম পড়েছিলাম একদম মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। মকবুল  মারা যাবার পর টুনির ম্যাচিউরিটির সাথে নিজের মধ্যেও এক ধরনের ম্যাচিউরিটি  ফিল করেছিলাম। অথচ সেই ব্যাপারটাই কি কাউকে ম্যাথ/বিজ্ঞান শেখানোর মত  শেখানো যায়? এরকম আরো কয়েকদিন সেই কাজিন যখন বাংলা গল্প,কবিতা বুঝতে আসে  তখন তাকে বিভিন্ন গল্প,উপন্যাস পড়ার পরামর্শ দিলাম। বললাম যে তোমাদের মত  সময়ে আমরা আউট বুকস লুকিয়ে পড়তাম, কিন্তু তোমাদের জন্য এখন লুকিয়ে পড়া  লাগবেনা বরং এগুলাও তোমরা টেক্সট বই হিসাবে একটু সময় করে পড়ে নিও।&lt;br /&gt;আজকাল সব ছেলে-মেয়েরা কি এরকম রোবোটিক হয়ে যাচ্ছে? আনন্দবিহীন পড়াশুনা করে  শুধুমাত্র এক সার্টিফিকেইটের জন্য এক কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হচ্ছে? অন্যদিকে  সামাজিক শ্রেণীবিভেদ এত বেশি যে কেউ টিচারের শিডিউলের জন্য নিজের জন্য সময়  পায়না আর কারো জন্য কোন টিচারই থাকেনা! কি অস্বাভাবিক এক রেশিও!! ঠিক কিরকম  যেন একটা হ্যাপাজার্ড অনুভূতি হচ্ছে আমার। কিরকম সেই অনুভূতি তা বলতে  পারবনা তবে বর্তমান জেনারেশান দেখে ও ভবিষ্যত জেনারেশানের কথা চিন্তা করে  একটি কথাই বলতে ইচ্ছা করছে "সত্যি খুব কষ্ট ও মায়া হয় তোমাদের দেখে..."      &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-8796550937302138234?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='related' href='http://www.sonarbangladesh.com/blog/rain-spot/9315' title='খুব মায়া হয় তোমাদের দেখে!'/><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/8796550937302138234/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=8796550937302138234' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8796550937302138234'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8796550937302138234'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/10/blog-post_12.html' title='খুব মায়া হয় তোমাদের দেখে!'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-3778162474111863511</id><published>2010-10-12T00:22:00.002+06:00</published><updated>2010-10-12T00:22:50.452+06:00</updated><title type='text'>তোমার কি আজ মন খারাপ??</title><content type='html'>তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছে। অ-নে-ক অ-নে-ক দেখতে ইচ্ছা করছে। তোমার  অসীমতা আর সাথে আকাশের বিশালতার মাঝে আজ নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছা  হচ্ছে। আচ্ছা শেষ কবে তোমাকে দেখেছিলাম? হুম, মনে পড়েছে ক্লাস ফোরে। ক্লাস  ফোরের সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ বড় হয়ে তোমাকে আবার দেখতে চাইছে। ছোট্ট বেলায়  তোমাকে প্রথম দেখে আমার অনুভূতি কেমন হয়েছিল জান? অনেক বিস্ময়কর! চারদিকে   শুধুই অসীমতা বিরাজ করছিল, তোমার অসীমতার মাঝে নিজেকে শুধুই হারিয়ে  ফেলছিলাম। তখন ক্ষুদ্র নিজ সত্তাকে তোমার সামনে আরো বেশি ক্ষুদ্রতর মনে  হচ্ছিল।এখনও কি তাই মনে হবে তোমাকে আবার দেখলে? &lt;br /&gt;খুব বেশি ব্যবধান নয়, মাত্র ১১ বছরের ব্যব্যধান। এতদিনে তোমার কি কোন  পরিবর্তন হয়েছে? নাকি তুমি সেই আগেরই মত রয়েছ? দশ বছরের ক্ষুদ্র বালিকার  দৃষ্টিতে তুমি ছিলে অসীম, আর একুশ বছরের এই আমার চোখে তুমি মনে হয় সসীম।  সত্যি বলছি। তুমি বিশ্বাস করছনা? &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এত্ত কমপ্লেক্স, এত্ত জট্টিল সব মানুষের মাঝে বসবাস যে প্রতিনিয়ত  নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে যাই। আচ্ছা তোমারো কি তাই করতে হয়? প্রতিনয়ত  আমাকে জীবন দর্শন খুজে যেতে হয়, প্রতিনিয়ত বিভিন্নমুখী সত্তার সম্মুখীন হতে  হয়, প্রতিনিয়ত সত্যিকার বন্ধুত্ব খুজতে গিয়ে এক নির্মম নিষ্ঠুর বন্ধুত্বের  সন্ধান পাই, প্রতিনিয়ত এক অজানা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত  করে যেতে হয়, প্রতিনিয়ত স্বপ্ন পূরণ আর স্বপ্ন ভঙ্গের মধ্য দিয়ে নতুন  জীবনের প্রেরণা পাই, প্রতিনিয়ত সীমাহীন এক মনোজাগতিক জটিলতা ফেইস করতে হয়,  প্রতিনিয়ত নিজ সত্তার সাথে অবিরত সংগ্রাম করতে হয়, প্রতিনিয়ত মনপবনে জোয়ার  আসে।, প্রতিনিয়ত মনপবনের ভাটা আসে, প্রতিনিয়ত কোন পরম সত্যকে সন্ধান করতে  হয়, প্রতিনিয়ত নিজের সীমাবদ্ধতাকে ছাড়িয়ে যেতে চাই, প্রতিনিয়ত সীমাবদ্ধতার  মাঝে এক সুষম সম্পর্ক স্থাপন করতে হয়, প্রতিনিয়ত ভুল করে যাই, প্রতিনিয়ত  ভুল শুধরাতে হয়, প্রতিনিয়ত কারও কাছ থেকে একটু একটু করে দূরে সরে যাই,  প্রতিনিয়ত কারো খুব কাছাকাছি চলে যাই,  প্রতিনিয়ত কারো জটিলতাকে নিজের  সরলতা দিয়ে ঢেকে দিতে চাই, প্রতিনিয়ত নিজের জটিলতাকে অন্যের সরলতার মাঝে  নবরূপ পায়, প্রতিনিয়ত সবাইকে ভালবেসে যাই, প্রতিনিয়ত সবার ভালবাসা পেতে  চাই... &lt;br /&gt;তোমারও কি আমার মত এরকম প্রতিনিয়ত রঙ বদলায়? নাকি তুমি চিরকাল একই  ধারায় বহমান প্রতিনিয়ত?? আকাশের নীলীমা আর তোমার সাথে গোধূলীর মিশ্রিত  ঐন্দ্রজালিক মুহূর্ত আমি নতুন করে উপভোগ করতে চাই। তুমিও কি চাও? তোমার রঙ  কি আমার মনের মত কখনও লাল, কখনও নীল, কখনও সবুজ, কখনও বেগুনী কিংবা  আসমানী!!! কিংবা সর্বদাএকই থাকে? &lt;br /&gt;তুমি কি বুঝতে পারছ তোমার ক্ষুদ্রতা কোথায়? আর আমার অসীমতা কোথায়?  তুমি কি রাগ করেছ? &lt;b&gt;তোমার কি আজ মন খারাপ &lt;b&gt;সমুদ্র..................!!!!!&lt;/b&gt;&lt;/b&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-3778162474111863511?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/3778162474111863511/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=3778162474111863511' title='1টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/3778162474111863511'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/3778162474111863511'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/10/blog-post.html' title='তোমার কি আজ মন খারাপ??'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-4670341141507064494</id><published>2010-08-30T19:09:00.002+06:00</published><updated>2010-08-30T19:09:52.494+06:00</updated><title type='text'>হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান এন্ড ডিলিউসান….</title><content type='html'>&lt;div class="snap_preview"&gt;কিছুদিন আগেই সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ড শেষ হল।  মনোজগতের কিছু অস্বাভাবিকতার সাথে পরিচিত হলাম। অনেক কেইস হিস্ট্রি রেকর্ড  করলাম, হিস্ট্রি নিয়ে স্যারের সাথে অনেক ডিসকাশনও হল। প্রতিটা হিস্ট্রির  পিছনে যে গভীর প্রভাববিস্তারকারী ফ্যক্টর আছে সেগুলো নিয়ে স্যার ডিপলি  লেকচার দিলেন। মেডিক্যাল লাইফে এই প্রথম আমি কিছু ব্যাপার খুব আগ্রহ ও চরম  উদ্দ্যম নিয়ে স্টাডি করলাম। আসলে মেডিসিন/সার্জারি ওয়ার্ড যখন করতাম তখন  এটা মনে করতাম যে মেডিক্যালে যখন পড়তেছি তখনতো এসব করতেই হবে।এটলিস্ট  পরীক্ষা হবে, পাশ করতে হবে এসব চিন্তা করেই পড়াশুনা। কিন্তু সাইকিয়াট্রি  ওয়ার্ডে আমি নিজেকে ভিন্নভাবে ফিল করলাম।&lt;br /&gt;সাইকোলজি আর সাইকিয়াট্রির মধ্যে যে বেসিক পার্থক্য আমি বুঝলাম তা হল  সাইকোলজি ডিল করে মানুষের স্বাভাবিক ব্যবহার ও তার সমস্যার পরিব্যাপ্তি  নিয়ে যা কাউন্সিলিং এর গুরুত্ব প্রমোট করে। আর সাইকিয়াট্রি ডিল করে মানুষের  অস্বাভাবিক ব্যবহারের জটিলতা নিয়ে যা অবশ্যই মেডিকেশানের সাথে রিলেইটেড।&lt;br /&gt;মন অদ্ভুত এক ব্যাপার। ব্রেইনে যেখানে মন নামক&amp;nbsp; সেন্টার টা আছে তার  প্রকৃতি খুব আজব। মনকে রেগুলেট করা, কন্ট্রোল করা সবকিছুই অনেক জটিল এক  প্রসেস। একেকজনের ক্ষেত্রে এই রেগুলেটিং সিস্টেম আলাদা। কথায় বলে নানা  মুনির নানা মত। ছেলেবেলা থেকে যেভাবে গড়ে তোলা হয় আমাদের মনও সেদিকেই ধাবিত  হয়।&lt;br /&gt;সাইকিয়াট্রি ওয়ার্ডে বেশিরভাগ রোগীর সমস্যা শুরু হয় অত্যধিক ধার্মিকতা  দিয়ে। তাদের হিস্ট্রি নিয়ে জানা যায় যে তারা কোন পীর/হুজুর/মাজার এ যেত।  গায়েবী কিছু এডভাইস অনুযায়ী তারা কাজ করত। নিজে খুব বেশি ধার্মিক না হলেও  এটলিস্ট ইসলামকে বুঝে পালন করার ট্রাই করি। তাই যতবারই হিস্ট্রি নিতে যাই  ততবারই কিছুটা বিব্রত ফিল করি। ইসলাম ধর্ম অত্যধিক পালন করতে গিয়ে কেউ  সাইকো হয়ে যাবে এই ব্যাপারটা খুব বিব্রতকর। আমি যতবার হিস্ট্রি নেই ততবার  একজায়গায় প্রশ্ন করে থেমে যায় যে তারা কেন অমুক পীর/হুজুরকে অন্ধভাবে  বিশ্বাস করে? ইসলামে কোথাওতো লেখা নাই যে ধর্মীয় আনুগত্য ও ভালবাসার একটা  ধাপ হল পীর/হুজুরকে ভালবাসা, তাদের ইললজিক্যাল কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা!&lt;br /&gt;হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান,ডিলিউসান যেভাবে হয়…একটু নিজের মত ব্যখ্যা করি।&lt;br /&gt;ইসলাম ধর্মে বেসিক সাতটি বিষয় মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বাকি জীবনের সমগ্র  বিষয় যুক্তি দিয়ে জাস্টিফাই করতে হবে। আমি ইসলাম কে নিয়ে শুধু এটুক্লুই  বুঝি যে ঈমানের সাতটি বিষয় ব্যতিরেকে বাকি সব কিছু অত্যধিক স্ট্রং লজিক  দিয়ে নিজের লাইফে ইম্পলিমেন্ট করতে হবে।&lt;br /&gt;হুমায়ুন আহমেদের আত্বজীবনীমূলক একটা লেখা পড়েছিলাম। সেখানে লেখক এক  অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কমেন্ট করেছিলেন যে, গ্রামের মানুষ যা  বিশ্বাসযোগ্য নয় তা&amp;nbsp; খুব সহজেই বিশ্বাস করে। আর যেসব ব্যাপার খুব লজিক্যাল  সেগুলো নিয়ে তাদের&amp;nbsp; মাথা ব্যথার শেষ নাই। আচ্ছা যে ঘটনার প্রেক্ষিতে লেখক  এই কমেন্ট করেছিলেন ঘটনাটা একটু সংক্ষেপে বলি।&lt;br /&gt;এক ছেলে যে খুব চুরি করে। যেখানেই যায় সেখান থেকেই কিছু না কিছু চুরি  করে। সে কারো সাথে খুব একটা কথাও বলেনা। একাকি বসবাস করে। তাকে নিয়ে প্রায়ই  সময় গ্রামে শালিস বসে। অভিযোগ একটাই সে চুরি করে। তার এই চুরির স্বভাবের  জন্য কোন মানুষ তার সাথে ঠিকভাবে কথাও বলেনা। লেখকের সাথে পরিচয় হল  ছেলেটার। লেখক তার সাথে অনেক ভালভাবে ব্যবহার করলেন, কিন্তু যাবার আগে  লোকটা লেখকের কলম চুরি করে নিয়ে যায়। পরে তার এই চুরি করা কলম গ্রামের কেউ  একজন দেখে ফেললাম তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়। চুরির সাক্ষী হিসাবে লেখককে  উপস্থিত করানো হলে লেখক বলে যে কলমটা সে তাকে গিফট করেছে। এটা বলার কারণ  ছিল লেখত ইতোমধ্যেই ছেলেটার একটা হিস্ট্রি নিয়ে ফেলেছে। হিস্ট্রিটা ছিল  এরকম…একবার ছেলেটার খুব অসুখ হয়। এতটাই মারাত্বক যে একসময় সে সেন্স হারিয়ে  ফেলে এরপর আর সেন্স ফিরে আসেনি। সবাই তাকে মৃত ভেবে কবরে রেখে আসে। এরপর  ছেলেটার বোন দেখতে আসলে বলে যে তার মন বলছে যে তাই ভাই বেচে আছে তাই কবর  থেকে তাকে তুলা হোক। সত্যিই তাকে কবর থেকে তুলে আনা হলে দেখা যায় সে বেচে  আছে। কিন্তু সে অনেক মেন্টালি আস্বাভাবিক ছিল। এরপর থেকেই সে চুপ হয়ে যায়,  কারো সাথে সেরকম মিশেনা। আর কোথাও গেলেই কিছু না কিছু চুরি করে।&lt;br /&gt;এরকম একটা আস্বাভাবিক ঘটনা গ্রামের সবাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে।  কারণ তাদের ধারনা ছেলেটা আসলেই মরে গিয়েছিল পরে আল্লাহর কুদরতে সে আবার  বেচে গিয়েছে। কিন্তু একটা ছেলের জীবনে এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তার মানসিক  যে বড়রকম এক পরিবর্তন আসল, তার ব্যবহার অস্বাভাবিক হয়ে গেল এসব তারা কোন  আমলে না দিয়ে তারা সামান্য চুরির ব্যাপার নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটিয়ে দেয়।&lt;br /&gt;বাঙ্গালিকে যত সহজে ধর্ম দিয়ে ইললজিক্যালি বাইয়াসড করা যায় তা মনে হয়  হাজার নিউটন/আইন্সটাইন তাদের লজিক দিয়ে বাইয়াসড করতে পারবেনা। ছেলেবেলা  থেকেই কেন যেন ইসলাম কে যুক্তি দিয়ে না বুঝিয়ে অলৌকিক কিছু অদ্ভুত ব্যপার  স্যাপার দিয়ে বুঝানো হয়। শুধু যে বুঝানো হয় তা নয়, সেটা মানতে বাধ্য করা  হয়। একসময় এভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায় আমরা। ফলে কোন অলৌকিক, আস্বাভাবিক খুব  সহজেই বিশ্বাস করতে পারি। যেহেতু ছেলেবেলা থেকেই শুনে এসেছি যে বিশ্বাসই  মূল জিনিস! গায়েবী আওয়াজ বিশ্বাস করি, পীর/হুজুরের ম্যজিক্যাল স্বপ্নে  পাওয়া চিকিৎসাকে অমোঘ বিধান মনে করি। হ্যালুসিনাশান, ইলিউশান মনে হয় এভাবেই  তৈরি হয়।&lt;br /&gt;১৫বছরের এক কিশোরি মেয়ের হিস্ট্রি নিচ্ছিলাম। খুব ভাল পড়াশুনায় সে।  চলাফেরা স্বাভাবিক আর আট-দশটা মেয়ের মতই। একদিন হঠাৎ সে এক নিকটস্থ পীরের  কাছে যায়, পীরের উপদেশ অনুযায়ী সে কঠিন পর্দা শুরু করে। হাত/পা মোজা থেকে  শুরু করে শুধুমাত্র চোখ ছাড়া তার আর কিছুই দেখা যায়না। পীর তাকে আরো উপদেশ  দিয়েছিল মেয়েদের জন্য পড়াশুনা নাকি ইসলামে পারমিট করেনাই। তাই সে পড়াশুনায়  আর উদ্যম পায়না। পীর তাকে বলেছিল য বেশি বেশি তওবা করতে, বেশি বেশি  দুনিয়াবি কাজ বাদ দিয়ে নামাজ-রোজা করতে। এভাবেই মেয়েটি একসময় গায়েবি আওয়াজ  শুনতে পায়। ফেরেশতারা নাকি তাকে কি কি সব করতে বলে। পরে ধীরে ধীরে পুরা  সাইকো হয়ে যায়। তার ব্যবহার, আচার-আচরন সব কিছু আস্বাভাবিক। মেডিকেশান দিয়ে  স্ট্যাবল রাখতে হয়। হিস্ট্রি নিতে গিয়ে আমি ভাবলাম ধর্মকে ইউজ করে যেভাবে  মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে আস্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে এব্যাপারে আমাদের  পজিশান কোথায়? মিডিয়াতে হিল্লা বিবাহ, দোররা মারা, পর্দা, স্বামী কতৃক  স্ত্রীকে পিটানোর যে ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে ইসলামকে ফোকাস করা হয় সেটা কি  আদৌ সঠিক ইসলাম?&lt;br /&gt;ইসলামিক হিস্ট্রি যত পড়ি, নবী-রাসূলদের দাওয়াহ পদ্ধতি যত পড়ি তত আমি  মুগ্ধ হই। মানুষের সাইকোলজি বুঝে ভাল জিনিস প্রেসেন্ট করে দাওয়াহ পদ্ধতি  বর্তমান সময়ে কেমন এপ্লাই হয় সেব্যাপারে আমি সন্দিহান। মক্কাতে যখন ইসলাম  আবির্ভুত হয় তখন মানুষ অলরেডি প্রভুর ব্যাপারে কিছু নলেজ ছিল। তারা জানত যে  তাদের একজন প্রভু আছে যার ইবাদাত করা তাদের দায়িত্ব। আমাদের নবীজি(সাঃ)  যখন আসলেন তখন তিনি তাওহীদ নিয়ে সর্বপ্রথম দাওয়াহ দিলেন। কারণ তাওহিদের  একাত্বতা ঘোষণা ব্যতিত বেসিক ইসলামে প্রবেশ করা যাবেনা। তাওহীদের মূল কথা  মূলতঃ ৩টি। আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস অর্থাৎ এই বিশ্বের একমাত্র শাসন  কর্তা তিনি, আল্লহর সমস্ত গুনাবলি ও প্রসংশা শুধুমাত্র তার জন্যই প্রযোজ্য  তার বান্দার জন্য না, আর ইবাদাতের যোগ্যতা কেবল আল্লাহর। এই তিনটা জিনিস  বুঝতে পারলে বেসিক ইসলামে বুঝতে খুব অসুবিধা হয়না। কারণ এখানেই নিহিত রয়েছে  যে এই পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তার ফলাফল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, সবকিছু  করার মালিক একমাত্র তিনি, বান্দা এবং আল্লাহর ইবাদাতের মাঝখানে কোন মিডিয়া  নেই, কেউ তার সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা। সো দ্যাট কোন  পীর/হুজুর/তাবিজের কেরামতিতে যে কিছুই হবেনা তা শুধুমাত্র এই তাওহীদের  কনসেপ্টেই বুঝা যায়।&lt;br /&gt;কিন্তু ইসলাম আরব থেকে যখন বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে গিয়েছে তখনই সমস্যাটা  হয়েছে। কারণ মক্কার মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট বুঝে ইসলাম গ্রহন/ত্যগ করেছিল।  কিন্তু বর্তমানে মানুষ তাওহীদের কনসেপ্ট না বুঝেই ইসলাম কে মনে প্রানে  ভালবেসে বহুরকম নিজের অজান্তেই শিরকে লিপ্ত আছে। বলা যায় ইসলামবিহীন মুসলিম  জাতি আমরা। তাই এখানে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।  খুব আজব ব্যাপার এটা। কারণ যেখানে ৮০% মুসলমান সেখানে কেউ আমরা ইসলামের  মেইন ডিমান্ড বুঝিনা, একচুয়াল ইসলাম কি চায় আমাদের কাছে সেটা বুঝিনা।&lt;br /&gt;ইসলামি দাওয়াহর কনসেপ্ট কখনও জোর করে কাউকে চাপানো হয়নি। যখন মেজোরিটি  ইসলাম কে বুঝে গ্রহন করেছে, ইসলামের রুলের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে তখনই  ইসলামের রুল খুব স্ট্রিকটলি পালিত হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে। কিন্তু যেখানে আমরা  তাওহীদের মত মেজর কনসেপটই মানুষকে বুঝাতে পারিনি সেখানে ইসলামি ড্রেস কোড,  দাড়ি রাখা/না রাখা এসব মাইনর ব্যাপার যদি কাউকে পালন করতে বাধ্য করানো হয়  তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াবে?&lt;br /&gt;ইসলাম সবসময় মানবতার কথা বলে, ইসলামে চিন্তার স্বাধীনতার সুযোগ আছে বলেই  জেনে বুঝে ইসলামর বেসিক ডিমান্ড বুঝে, লাইফের কম্পলিট কোড এর প্রসেস কেন  এরকম হল সেব্যাপারে রিসার্চ করে, লজিক্যালি ইসলামকে নিজের লাইফে  ইম্পলিমেন্ট করতে হয়। এখানে হ্যালুসিনেসান, ইলিউসানের আশ্রয় নেবার&amp;nbsp; কোন  সুযোগ নায়।&lt;br /&gt;মানুষের সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে দাওয়াহ না দিলে ইসলাম কে খুব কঠিন ও  কট্টর মনে হবে। আচ্ছা যে বুঝেইনা ইসলাম ভাল কেন, যে জানেইনা ইসলামে এরকম  ড্রেস কোড কেন দেওয়া হল, তাকে যদি আমি সেটা করতে বাধ্য করি হোক সেটা&amp;nbsp; ১০০%  ভাল তাহলে কি সে এটা করবে? এটলিস্ট আমাকে কেউ জোরপূর্বক কিছু করাতে বাধ্য  করলে তা হাজার ভাল হলেও আমি তার কথামত সেটা করবনা। আগে নিজেকে বুঝতে হবে যে  সেটা আসলেই ভাল তারপর করব, কারো জোরপূর্বক ইনফ্লুয়েন্সে না।&lt;br /&gt;কেন জানিনা ইসলাম পন্থী আমরা যারা আছি তারা সব কিছু অন্যের উপর চাপিয়ে  দিতে চাই। ব্যাপারটা আমার কাছে অনেকটা এরকম লাগে যে, যে ক্লাস ওয়ানই পড়েনি  তাকে ক্লাস এইটের জিনিস জোরপূর্বক বুঝানোর কঠোর ট্রাই করতেছি। শুধু তাই না,  সে ক্লাস এইটের জিনিস কেন বুঝবেনা ও মানবেনা সেটা নিয়েও গভীর এনালাইসিস  করি। ফলে হাজার হাজার বছর পূর্বে নবী-রাসূলরা সবাই একটা ইউনিট ছিল। কারণ  তাদের সবাই বেসিক্যালি মানুষকে ইসলামের কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করাতেই ব্যস্ত  ছিল। পরবর্তিতে ধীরে ধীরে ইসলামের অন্যান্য লাইফ রিলেটেড ব্যাপারে তারা  মানুষকে এডুকেইট করেছে। আর আমরা বেসিক জিনিস বাদে অন্যান্য ব্যাপারে চর্চা  করতেই ব্যস্ত। ফলে ইসলামের বহু শাখা-প্রশাখা বেরিয়েছে।ফলে আমরা&amp;nbsp; একই ইউনিটে  অবস্থান করছিনা। যদিও মনে প্রাণে&amp;nbsp; ইসলামকে ভালবাসি সবাই…&lt;br /&gt;সবশেষে শুধু এটুকুই বলব, যে ইসলাম&amp;nbsp; হিউম্যানিটির কথা বলে সেই ইসলাম কখনও  স্বৈরাচার মূলকভাবে কোন কিছু মানুষকে চাপাতে দেয়না। আর তাই যদি হত তাহলে  আল্লাহ নিজেই ফেরেশতা দিয়ে এই পৃথিবীতে সবকিছু করতে মানুষকে বাধ্য করাত।  তাই মানব সাইকোলজির ন্যনোমিটার বুঝে ইসলাম কে প্রতিষ্ঠা করা যতটা সহজ ভাবা  হয় আসলে ততটা না। তা না হলে নবী-রাসূলদের জীবনে এত দুঃখ-কষ্ট আসতনা যদিও  তারা ছিলেন আল্লহর মনোনিত ব্যক্তি। তারা ইচ্ছা করলেই পারতেন ইসলামের রুল কে  মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে, ইচ্ছা করলেই পারতেন তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ  অনুগ্রহের পাওয়ারে মানুষকে কিছু করাতে বাধ্য করতে। কিন্তু তারা সেটা  করেননি। তারা ইসলাম কে তুলে ধরেছেন লাইফের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধর্ম হিসাবে,  তারা প্র্যাক্টিক্যালি&amp;nbsp; প্রুফ করেছেন যে ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা।  যেহেতু ইসলামের বিজয় অবশ্যম্ভাবি তাই নিশ্চয় আমাদের ততদিন পর্যন্ত ওয়েট  করতে হবে যতদিন পর্যন্ত আমরা ইসলামকে স্বৈরাচারি হিসাবে না বরং একমাত্র  গ্রহনযোগ্য লাইফ স্টাইল হিসাবে প্রুফ করতে না পারি…&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-4670341141507064494?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/4670341141507064494/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=4670341141507064494' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4670341141507064494'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/4670341141507064494'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/08/blog-post.html' title='হ্যলুসিনেসান,ইলিউসান এন্ড ডিলিউসান….'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-8274991931477599403</id><published>2010-07-31T11:59:00.002+06:00</published><updated>2010-07-31T11:59:27.105+06:00</updated><title type='text'>তুমি নারী বলেই এই লেখা তোমার জন্য উৎসর্গিত !!!</title><content type='html'>লেখাটা শুরুর করার পূর্বেই বলে নেই এই চিন্তা ভাবনার প্রেরণা পেয়েছি আমার  সবচেয়ে প্রিয় আপুর কাছ থেকে। নারী কেন্দ্রিক লেখাটা খুব সাহস করেই লিখে  ফেললাম যেহেতু আমি নিজেও একজন নারী। তাই একজন নারী হিসাবে নিজেকে যেভাবে  দেখতে চাই ও অন্য নারীদের প্রতি প্রত্যাশা করি সেটাই অকপটে বলে ফেললাম। কেউ  এটা পড়ে যদি মাইন্ড করেন তবে সেটার দায় দায়িত্ব তার উপর পড়বে, লেখকের উপর  নয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশের সীমানা পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির এই বিশ্বে একজন  নারী যখন উন্নত বিশ্বের দিকে দৃষ্টিপাত করে তখন এক জটিল সমস্যা অনুভব করে  সে। একদিকে নারী স্বাধীনতা, নারী অধিকার পাবার চরম আকাঙ্ক্ষা অন্যদিকে নিজ  অস্তিত্ব সংকট। সবকিছুর সংমিশ্রন একজন নারীর চিন্তা জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক হাজার নেগেটিভিটি, বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এক নারী যখন নিজেকে নিয়ে  প্রচলিত ট্রেডিশান বা ঐতিহ্যের বাইরে নিজেকে নিয়ে ভিন্নরকম চিন্তা শুরু করে  এবং বাস্তব জগতে তার প্রতিফলন ঘটাতে চায় তখনই তাকে সম্মুখিন হতে হয়  বিভিন্নমুখী পারিবারিক ও সামাজিক বিপত্তির। অবশ্য আজকাল পারিবারিক ও  সামাজিক বিপত্তির মাত্রা কিছুটা হলেও কমে গেছে। এজন্যই যুগের সাথে তাল  মিলিয়ে নারীকে কেবল আমরা ঘরের ঘরনী হিসাবে দেখিনা। বরং চিকিৎসক,  আর্কিটেক্ট, টিচার, সংবাদ পাঠিকা, জার্নালিস্ট, মিডিয়া ওয়ার্কার ইত্যাদি  বিভিন্ন প্রফেশানে একজন নারী নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করছে অত্যন্ত দক্ষতার  সাথে। এসব যত দেখি তত ভাল লাগে, নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগে, সমাজে নারী  হিসাবে কিছু করার তাগিদ অনুভব করি। আসলে নারী-পুরুষের সমান পার্টিসিপেশান  নিশ্চিত করে সমাজের চাকা গতিশীল রাখতে। কিন্তু, কিন্তু এত কিছুর পরেও কোথায়  যেন একটা সমস্যা দেখতে পাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন আমার এক স্টুডেন্টের সাথে কথা বলছিলাম, সে খুব আফসোস করে বাংলাদেশের  ছেলেদের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করে বলল, নিউজিল্যান্ড থেকে একজন চিকিৎসক  এদেশের গরীব মানুষের সেবা দেবার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কতটা  মানবদরদী না হলে সে তার নিজের দেশের উন্নত ব্যবস্থা বাদ দিয়ে, নিজের  আরাম-আয়েশ ভুলে গিয়ে অন্য দেশের গরীব মানুষের জন্য নিজেকে এভাবে উৎসর্গ  করতে পারে? অথচ বাংলাদেশের চিকিৎসকদের পক্ষে কি এটা সম্ভব? এরা তো নিজের  দেশের গরীব মানুষকে কিভাবে তিলে তিলে শেষ করতে পারে এই প্রতিযোগিতায়  নেমেছে! কথা বলার সময়ই আমার মধ্যে ভিন্ন একধরনের চিন্তা শুরু হল......একটা  পরিবারের পুরা ভরনপোষণের দায়িত্ব থাকে সেই পরিবারের পুরুষের উপর।  গৃহকর্ত্রী বাইরে জব করলেও পরিবারের ভরনপোষণের জন্য বিন্দুমাত্র কোন  মাথা-ব্যাথা তার উপর বর্তায় না, যতটা বর্তায় একজন পুরুষের উপর। চিন্তা  ভাবনাটাকে আরো একটু এক্সটেন্ড করে দেখলাম যে, পরিবারের সেই পুরুষ যদি তার  নিজের জীবন নিউজিল্যান্ডের সেই চিকিৎসকের মত মানবতার উদ্দেশ্যে স্যক্রিফাইস  করে তাহলে তো মহা সর্বনাশ!! তাই পুরুষরা কেন মানবতাবাদী হয়ে সেই  নিউজিল্যান্ডের চিকিৎসকের মত হয়না একথাটা বাইর থেকে বলা যতটা সহজ বাস্তব  জীবনে এটার প্র্যাক্টিক্যাল প্রয়োগ ততটাই কঠিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভাবতে ভাল লাগে যে নারীরা আজ শিক্ষার অবাধ সুযোগ পেয়েছে।পরিবারেও  নারীকেশিক্ষার ব্যাপারে প্রচুর সহযোগিতা করা হয়। ফলে সর্বত্র পুরুষের  পাশাপাশি নারীর দৃড় পদচারনা আমাকে স্বপ্ন দেখায় একটি সুখি সমৃদ্ধশালী  বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু যে শিক্ষার সুযোগ পাবার জন্য নারীরা এত সংগ্রাম করল  সেই শিক্ষার আলো পেয়ে কতজন নারী তাদের চিন্তা ভাবনার জগতকে আলোকিত করতে  পেরেছেন? খুব দূরে যাবনা, আমার ফ্রেন্ড সার্কেলেই যারা উচ্চ শিক্ষায়  শিক্ষিত হচ্ছে, যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে তুমুল  আলোচনা করেছিলাম। কারও ইচ্ছা প্রচুর টাকা ইনকাম করার, কারও শুধুই  গাড়ি,বাড়ি,শপিং, দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ানোর, কারও ইচ্ছা সোস্যাল স্ট্যাটাস  বাড়ানোর জন্য বড় বড় ডিগ্রি নেবার, কারও ইচ্ছা শখের মেডিক্যাল শেষে একদম  ঘরোয়া হয়ে যাবার। কেন জানি অসামঞ্জস্য লাগছিল তাদের এই ভবিষ্যত পরিকল্পনার  কথাগুলো। নিজের প্রতি, নিজ পরিবার,সমাজ ও দেশের প্রতি নারী হিসাবে কি কোন  দায়বদ্ধতা নেই? আবার সেই নারী তাহলে কিভাবে পুরুষের কাছ থেকে পারিবারিক ও  সামাজিক সকল দায়িত্বের পূর্ণ প্রয়োগ প্রত্যাশা করে??&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাই একজন নারী হিসাবে সকল নারীর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসা  জানিয়ে কিছু অনুরোধ করতে চাই...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবিবাহিত নারীর প্রতিঃ &lt;br /&gt;নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য আপ্রানচেষ্টা করতে হবে। উচ্চ শিক্ষায়  পারে সংকীর্ণ চিন্তার গন্ডি থেকে মুক্তি দিতে। নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি  সচতন হোন। সমাজে আপনার ভূমিকা কি হবে এটা ক্যালকুলেইট করেন। নিছক উচ্চ  শিক্ষা নারী মুক্তি আনবেনা বরং শিক্ষার সাথে নিজের চারপাশ, পরিবেশ ও সমাজের  প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। শুধু শপিং, পার্লার, ঘুরাঘুরি করে নয় বরং অবসর সময়ে  নিজেকে ক্রিয়েটিভ ও প্রোডাক্টিভ কাজে ব্যস্ত রাখুন। একটা ব্যাপার বিয়ের পর  সংসার বা দাম্পত্য ঝামেলা, মনোমালিন্য এড়াতে আজকাল এফেয়ারের যে নতুন  ট্রেডিশান শুরু হয়েছে এতে করে ঝামেলা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। একে অপরকে  চেনার জন্য বিয়ের পূর্বে প্রেম এই থিওরিটা এখন চরম আকারে ধ্বসের সম্মুখিন  হচ্ছে। কারণ সিটি কর্পোরেশানের এক জরীপের মতে বর্তমানে ভালবাসাজনিত বিয়ের  ডিভোর্সের সংখ্যা আনুপাতিকহারে বেড়েই চলেছে। তাই বিয়ের আগে এফেয়ার জনিত  কেইসে সময় না দিয়ে সর্বোপরি জীবনমুখী বাস্তব চিন্তা করুন। বিয়ের পূর্বে  নিজের দাবি, অধিকার, স্বাধীনতা ও কাজের ব্যাপারে হবু বরের নিকট পরিষ্কার  জানিয়ে রাখুন। পরস্পর মিউচুয়ালের মাধ্যমে একটা লিখিত ডকুমেন্টে আসুন। এতে  করে পরে ঝামেলা হলেও সেটা সলিউশান করা খুব বেশি কষ্টের হবেনা আশা করি। আর  যেটা অনিশ্চিত সেটা নিয়ে ঘাটাঘাটি না করে নিশ্চিত যেটা আপনি করতে পারবেন  সেটা নিয়ে রিসার্চ করেন। আপনি পারবেন ভবিষ্যত একটি পরিবারকে নেতৃত্ব দেবার,  নিজের অবস্থানকে সুদৃড় করে সামাজিকভাবে নিজেকে অধিক গ্রহনযোগ্য করে তুলতে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিবাহিত নারীর প্রতিঃ &lt;br /&gt;খুব সাধারণ কিন্তু ভুল একটি ধারণা বর্তমান আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে আর  সেটা হল একটা মেয়ে পড়াশুনা করবে অথচ বাইরে জব করবেনা তাই কি হয়!! এতে করে  মনে করা হয় নারীর সমস্ত শিক্ষায় বৃথা, নারী নিজের প্রতি এব্যাপারে খুব  হীনমন্যতায়ও ভুগে। অথচ একজন শিক্ষিত নারী যদি বাইরে জব নাও করে তার সবচেয়ে  কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ জব করতে হয় ঘরের ভিতরে। একজন নারী ঘরে বসে বিশ্ব  পরি্চালনায় অংশগহন করে। এই বিশ্ব পরিচালনার কাজ&lt;br /&gt;নিশ্চয় এত সহজ না যতটা একজন নারী ভাবে! আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত।  আগামী ভবিষ্যতের দায়ভার একজন নারীকে নিতে হয়, কোন পুরুষকে নয়। তাদের  পারিবারিক আবহে সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া, মানসিক ও শারিরীক  বিকাশে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি এসব কাজের জন্য যদি কোন প্রতিষ্ঠান খোলা হয়  আমি নিশ্চিত পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রেস্টিজিয়াস প্রতিষ্ঠান হবে সেটা।  একটা শিশুর মনে মায়ের প্রভাব কিভাবে বিস্তার করে সেটা নিয়ে গবেষণা করলে সেই  গবেষণার পেপার এতখানি গুরুত্ব পাবে পুরা বিশ্বে যে সবাই একথা&lt;br /&gt;একবাক্যে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হবে যে এক মায়ের জন্যই পুরা পৃথিবী টিকে  আছে। তাই ঘরে বসে বাইরে জব না করার আক্ষেপ না করে বিশ্ব পরিচালনায় অংশ  নেবার জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকেন। একথা আমি হলফ করে বলতে পারি কেউ স্বীকার  করুক আর নাই করুক ঘরে বসে এই বিশ্বপরিচালনার কাজ পৃথিবীর হাজার শ্রেষ্ঠ  কাজের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। একজন পুরুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে কেবল একজন নারী।  তাই সাধ্যের অতিরিক্ত প্রত্যাশা করে নিজের স্বামীকে খারাপ পথে ইনকাম করতে  বাধ্য করবেননা, অন্ধকার জগতে পা বাড়াতে দিবেননা। নিজেদের মধ্যে সামান্য  ব্যাপারে দাম্পত্য কলহ না করে সুষ্ঠুভাবে চিন্তা করুন। আপনাদের এই কলহ  বাচ্চার মনে যে গভীর খারাপ ইফেক্ট ফেলবে সেটার ক্ষতি পূরণ সহজে হবেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর যেসব নারী বিবাহিত এবং বাইরে জব করছেন , কিংবা যারা নিছক ঘরনী হতে চাননা  আবার বাইরেও জব করেননা তাদের প্রতি অনুরোধ আমি জানি সমাজের একটি  গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনি অবস্থান করছেন। যেহেতু পারিবারিক ফাইন্যান্সিয়াল  ব্যাপারের দায়ভার আপনার উপর নেই তাই আপনি খুব দারুন ভূমিকা রাখতে পারেন  সোস্যাল ওয়ার্কে। যেহেতু আপনার দক্ষতা আছে নেতৃত্ব দেবার, সময় আছে নিজেকে  অন্যরকমভাবে রিপ্রেজেন্ট করার তাই কেবল শখের জব নয় পাশাপাশি সামাজিক ও  মানবতাবাদী কাজে সময় দিন। যে দায়িত্ব পুরুষের পক্ষে নেওয়া কিছুটা কষ্টকর  সেই দায়িত্ব আপনি নিয়ে নেন। নারীদের জন্য উপকারি কোন কিছু করার পরিকল্পনা  নেন। কিংবা নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সামাজিক ও মানবতাবাদি কাজে নিযুক্ত করুন ও  সমাজে নারীর অবস্থান, প্রাপ্য অধিকার, স্বাধীনতার ক্ষেত্র এবং  পুরুষতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত নারীর দুর্ভোগ নিয়ে গবেষনার কাজে নিযুক্ত  থাকুন। বাইরে জব করা মানেই নিছক টাকা ইনকাম করা কিংবা কেবল চাকরির  উদ্দেশ্যে চাকরি নয় বরং সমাজে নিজের উপস্থিতি প্রমান করা এইভাবে যে  বুদ্ধিবৃত্তিক কাজে নারীরাও এগিয়ে। এখনই সময় এসেছে নারীর সমান অধিকারের  নামে যুক্তিহীন সংগ্রামে পুরুষের সাথে না ঝাপিয়ে নিজেদের ব্যাপারে সচেতন  হোন, নিজেদের প্রাপ্য অধিকারের ব্যাপারে সংগ্রামী হোন। পুরুষরা আপনাদের  প্রতিযোগী নয়, আবার আপনারাও পুরুষদের প্রতিযোগী নন, তাই নারী-পুরুষ সমান  এটা প্রমাণের উদ্দেশ্যে বাইরে জব করা নারীর জন্য বোকামী ছাড়া কিছুইনা। তাই  একজন প্রফেশনাল নারীর প্রতি এই অনুরোধ আপনারা এই বোকামী ছেড়ে নিজের ও  সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা রেখে সাথে পরিবারকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে খুব  স্মার্টভাবে রিপ্রেজেন্ট করুন।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-8274991931477599403?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/8274991931477599403/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=8274991931477599403' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8274991931477599403'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8274991931477599403'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/07/blog-post_31.html' title='তুমি নারী বলেই এই লেখা তোমার জন্য উৎসর্গিত !!!'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-2365610111970249324</id><published>2010-07-17T00:39:00.003+06:00</published><updated>2010-07-17T00:39:46.731+06:00</updated><title type='text'>ইভটিজিংঃ  নেপথ্যের আড়ালে ও আমাদের দায়বদ্ধতা।</title><content type='html'>অনেকদিন ধরে ভাবছি কিছু লিখব। কিন্তু চারপাশের পরিবেশ, সাম্প্রতিক ঘটনা সব মিলিয়ে চিন্তা-ভাবনা গুলো জট পাকিয়ে যাচ্ছে। সমস্যা ও দুর্যোগের এমন এক চেইন রিএ্যকশানের মধ্যে পড়ে গেছি , যে, চিন্তা ভাবনার জট একটি খুলার পর  দেখি আরেকটিতে জট লেগে গেছে। তারপরও কী-বোর্ড হাতে নিলাম। নিজের একদম  ভিতরের স্বত্তার জোরেই কিছু লেখার সাহস খুজে পেলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফার্মগেট হতে রিক্সা করে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড বাসায় ফিরছিলাম। তখন  সম্ভবত এইচ.এস.সি পরীক্ষা চলছিল। যাইহোক পরীক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চারপাশে।  হঠাৎ খেয়াল করলাম আমাদের ঠিক সামনের রিক্সাতে দুইজন কলেজ ইউনিফর্ম পরা  মেয়েকে একটি ছেলে খুব বাজে মন্তব্য করতেছে। ছেলেটি রিক্সার পাশে পাশে দৌড়ে  যাচ্ছিল। ঘটনাটা আরো বেশি নজরে আসল তখন দেখি ছেলেটি তার হাতে কোমল পানীয়ের  একটি বোতল মেয়েগুলোর দিকে সজোরে ছুড়ে মারে। সাথে কিছু কথা “ তুমি আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছ। আমি তোমাকে ছাড়বোনা।এভাবে তুমি আমাকে রেখে ওই ছেলের সাথে  প্রেম করলে আমি দেখে নিব...............”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘটনাটা ক্রমেই খুব মারাত্বক আকার ধারণ করছিল। ছেলেটা কে আমার খুব  অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। মনে হল ছেলেটাকে আমার কিছু বলা উচিৎ। কিন্তু পাশ  থেকে আমার ফ্রেন্ড আমাকে খুব স্ট্রঙ্গলি বাঁধা দিল। এতক্ষন ধরে যে ছেলেটিকে আমার অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল তখন আমার চারপাশের মানুষকে আরো বেশি  অস্বাভাবিক মনে হল। রাস্তা ভর্তি মানুষ, সবাই ঘটনাটা মনে হল খুব উপভোগ  করছিল। কেউ ছিলনা ওখানে  ছেলেটাকে বাঁধা দেবার। নিজের চোখের সামনে সংঘটিত ঘটনার সাক্ষী হয়ে মন খুব  খারাপ করে বাসায় ফিরলাম। বাসায় পত্রিকা খুলতেই দেখি, ইভটিজিং খুব মারাত্বক  আকার ধারণ করেছে...&lt;br /&gt;রেগুলার বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম পড়ে বুঝার চেষ্টা করলাম আসলে  ইভটিজিংকে কে কিভাবে ব্যাখ্যা করছে। কে বা কারা দায়ী এটা বিশ্লেষণ করার আগে কি জন্য এরকম হচ্ছে সেটা নিয়ে চিন্তিত হলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ছেলে এবং মেয়ের প্রতি একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আকর্ষন আছে। সুতরাং কোন  সুন্দর ড্রেস আপ, গেট আপের কোন মেয়ে দেখলে যেকোন ছেলে আকর্ষিত হবে সেটাই  স্বাভাবিক। মেয়েদের প্রতি ছেলেদের এই আকর্ষনের প্রকাশ ভঙ্গি যখন কোন মেয়েকে সামাজিকভাবে হেয় করে, বিব্রত করে সেটাই ইভটিজিং এর পর্যায়ে পড়ে যাচ্ছে।  খুব সহজভাবে পর্যবেক্ষন করলে বুঝা যায় যে ইভটিজিং এর জন্য ছেলে&lt;br /&gt;এবং মেয়ে উভয়ই দায়ী। কোন মেয়ে যদি বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষিত করার জন্য অশালীন পোশাকে রাস্তায় বের হয় সেক্ষেত্রে ছেলেরাতো ইভটিজিং করবেই। আর ছেলেদের যদি এই নৈতিক ও মানবিকবোধ না থাকে যে যাকে সে টিজ করছে সে হতে পারত তারই বোন।  আল্টিমেইটলি যা হছে মেডিকেলের ভাষায় বলতে গেলে বলতে হয় ইভটিজিং এর সাফারার  হচ্ছে মেয়েরা আর ক্যারিয়ার হল ছেলেরা।&lt;br /&gt;কে বা কারা দায়ী এই প্রশ্নে আসলে আমি যেটা খুব স্ট্রঙ্গলি ফিল করি সেটা হল  আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও আমাদের রাষ্ট্র। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে আমরা  যখন নারীদের সমান অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছিলাম তখন আমরা কি একবারও  ভেবেছিলাম যে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুন্দর প্ল্যাটফর্ম লাগবে যেটা নিশ্চিত করবে নারীর নিরাপত্তা ও  বিশ্বাসের সুন্দরতম সমন্বয়। যে নারীরা শিক্ষা ও বাইরে চাকরি  থেকে বঞ্চিত ছিল তারাই পেল শিক্ষার অধিকার, ঘরের বাইরে পুরুষের সহকর্মী  হিসাবে চাকরি করার অধিকার। নারীরা যখন অশিক্ষিত ছিল তখন তারা অত্যাচারিত ও  লাঞ্ছিত হত ঘরের ভিতরে আর  যখন নারী শিক্ষিত হয়ে বাইরের কর্মক্ষেত্রে নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেল তখন  তারা লাঞ্চিত ও অপমানিত হল সর্বত্র। যেখানেই নারীরা সদর্পে নিজেদের অধিকার  আদায়ের জন্য মাঠে নেমে এল ঠিক তখনি  নারীর সমঅধিকার আদায়ের কর্ণধার পুরুষরা তাদের বিভিন্নক্ষেত্রে লাঞ্চিত করল। তাই শুরুতেই ছিল একটি বিরাট ভুল। যতক্ষন পর্যন্ত এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ  নারীদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বিশ্বাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে না  পারবে ততদিন পর্যন্ত নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রসেস বন্ধ রাখাই ভাল। নারীরা  নিজেদের অবস্থান নিজেরা বুঝতে পারেনি। শুধুই কি তাই? আজকাল রাস্তার  বিলবোর্ড বা টিভি খুললেই দেখি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসাবে  ব্যবহৃত হচ্ছে। নারীরাও খুব স্বতঃস্ফুর্তভাবে নিজেদের পণ্য হিসাবে প্রচার  করে। কর্পোরেট মিডিয়া এই নারী পণ্যকে কেন্দ্র করে দিনের পর দিন নতুন আইডিয়া জেনারেট করছে। সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ফ্যাশান শো অনুষ্ঠানের নামে নারী  সৌন্দর্যের নামে যে নগ্ন প্রচারণা চলছে তা দেখে এই প্রজন্ম কি শিখবে?  নারীরা কেবল ভোগ্যবস্তু ব্যতীত কিছুইনা!! ফলে রাস্তা ঘাটে মেয়েদের  প্রতিটি ছেলে ভোগ্যপণ্য হিসাবে দেখছে এবং ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে নারীরা।  এর জন্য দায়ী কারা পাঠক বিবেচনা করুন।&lt;br /&gt;আর আমদের রাষ্ট্রের ভূমিকা আর কি বা বলব! আইনের শাসন যদি কড়া না হয় এবং  পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিটি ছেলের নৈতিক শিক্ষা ও মেয়েদের ধর্মীয়  অনুশাসনে গড়ে তোলা না হয় তাহলে ইভটিজিং এর করাল গ্রাস কখনই বন্ধ হবেনা।  ভেবেছিলাম যে ইভটিসিং এর জন্য এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারের অবস্থান হবে খুব  দৃঢ়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে যা হল তা দেখে মনে হল লোকদেখানো দৃঢ়তা প্রদর্শনীর ছলনা মাত্র!&lt;br /&gt;তাই ভাবতে ভয় লাগে, চিন্তা করতে শিহরিত হই , আমরা নিজেরা, আমাদের সমাজ ও  আমাদের রাষ্ট্র যদি এখনও এব্যাপারে সচেতন পদক্ষেপ না নেই হয়তবা আরো হাজার  হাজার মেয়েকে ইভটিজিং এর স্বীকার হতে হবে। জীবন ও সমাজের প্রতি ঘৃণা থেকে  হয়ত অনেক নারীকে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আত্বহননের পথ বেছে নিতে হবে।&lt;br /&gt;স্বাধীনভাবে চিন্তা করা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন নিরবে নিভৃতে কাঁদে।  কিন্তু বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক সরকার দেশ শাসন করে পাঁচ বছর আর দেশের সুশীল  সমাজ,সাংবাদিক,লেখক বা যাদের বিবেক বলে কিছু আছে তারা  সত্য প্রকাশ করে,  নিজেদের জান-মালের নিরাপত্তার কথা না ভেবে,&amp;nbsp; দেশ শাসন করে মৃত্যুর পূর্ব  মুহূর্ত পর্যন্ত। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই কিছু লিখে নিজেকে দায়মুক্ত করার এক  কৃত্তিম প্রচেষ্টা চালালাম।      &lt;br /&gt;&amp;nbsp;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-2365610111970249324?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/2365610111970249324/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=2365610111970249324' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/2365610111970249324'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/2365610111970249324'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/07/blog-post.html' title='ইভটিজিংঃ  নেপথ্যের আড়ালে ও আমাদের দায়বদ্ধতা।'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5539264638614702833</id><published>2010-06-25T21:44:00.000+06:00</published><updated>2010-06-25T21:44:03.403+06:00</updated><title type='text'>লাভগুরু আপনাকেই বলছি...</title><content type='html'>&lt;div style="line-height: 1.8em; text-align: left;"&gt;     আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যদি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে  অন্য কোন  প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে ভালবাসে এবং সেক্ষেত্রে যদি দুই পরিবার এই বিয়েতে  রাজি না থাকে তাহলে তারা কি করতে পারে? কেন জানিনা আমাকে এই ধরনের  পরিস্থিতি বেশি ফেইস করতে হয়। বিশেষ করে এই ধরনের ভালবাসার কেস বেশি  হ্যান্ডেল করতে হয়। তবে ফলাফল আল্টিমেইটলি জিরো। কেননা ভালবাসার রঙ এর  মধ্যে কোন এক অদৃশ্য প্রবল আকররষণী শক্তি থাকে যেটার সামনে সব যুক্তি  একেবারে ভ্যানিশ হয়ে যায়। ইন্টারমিডিয়েটে থাকতে আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবির  একজনের সাথে এফেয়ার ছিল। সূত্র মোবাইল ফোন। একেবারেই অজানা, অচেনা,অদেখা।  ইমেইলও চালাচালি হত। ঘটনা আমি জানতাম। শুরু থেকেই শুধু তাকে একটা কথা  বলেছিলাম যে এভাবে মোবাইলে এফেয়ার পুরাই অযৌক্তিক। তাছাড়া আমার আর বলার  কিছু ছিলনা। প্রায় ৬/৭ মাস পর সেই মোবাইল প্রেম ভেঙ্গে যায়। কারণ ছিল খুব  ইন্টারেস্টিং। মুঠোফোনের ছেলেটি তার একটা ছবি পাঠায় ডাকযোগে। সেই ছবি দেখে  আমার বান্ধবির স্বপ্ন একেবারে চুরমার হয়ে যায়। তারপর মোবাইল প্রেম সেদিনই  শেষ। মোবাইল প্রেম শেষে আরো কিছু এফেয়ার ঘটিত ঘটনায় সে আবার জড়িয়ে যায়।  সেটা এতটাই সিরিয়াস পর্যায়ের ছিল যে কলেজ ক্যাম্পাসে সেটা নিয়ে গুঞ্জন  ছড়িয়ে পড়ল। অতঃপর অঘটন...সন্ত্রাসী দ্বারা বিপক্ষের কোন গ্রুপ আহত হল। সব  কিছুর সাথে কিভাবে যেন সে জড়িয়ে পড়ল। প্রিন্সিপাল পর্যন্ত ঘটনা গেলে আমার  বান্ধবির টিসির সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ  রক্ষা সে পেয়ে গেল। এই নিয়ে অবশ্য আমাকে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়েছে বেশ। উপর  মহলের সাথে যোগাযোগ করে তাকে টিসি থেকে নিস্তার দেয়া হল। অবশ্য ক্রেডিট ছিল  ওরই বেশি। কারণ প্রচন্ড মেধাবী ছিল সে, কলেজের কিছু একাডেমিক পরীক্ষায় তার  সাফল্যের কাছে কেউ দাড়াতে পারেনি। মোটামুটি মেধার জোরেই তার জন্য সুপারিশ  করা সহজ হয়েছিল। কেন জানিনা ভালবাসার অবমনানা আমাকে যেভাবে পীড়া দেয় তা  অন্য ক্ষেত্রে খুব কম দেয়।&lt;br /&gt;বন্ধুত্বের দাবি থেকে  ভালবাসার সর্বনাশা স্থান থেকে কাউকে যখন দূরে সরাতে  ক্রমাগত চোখের পানি দিয়ে হলেও তার জন্য চেষ্টা করে যাই ঠিক তখনই যদি জানতে  পারি যে তার কোন ভাই কিংবা বোন পরিবার থেকে মা-বাবার অলক্ষ্যে তাকে সাপোর্ট  দিয়ে যাচ্ছে তখন নিজেকে খুব ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। পরিবারেই যেখানে  আদর্শগত  শিক্ষা দিয়ে কেউ বেড়ে উঠেনা সেখানে ভাই/বোন তো সাহায্য করবেই!!! বাবা-মা  আক্ষেপ করে আর কতটুকুই বা শেষ রক্ষা করতে পারবে......&lt;br /&gt;টিভি দেখা হয়না অনেক অনেক বছর। মাঝে মাঝে দুই একটা অনুষ্ঠান হয়ত পত্রিকাতে  বিজ্ঞাপন দেখি, সেটাই আমাকে বিনোদন জগতের আপডেইট রাখে। ছোট ছোট কোমলমতি  বাচ্চাদের নিয়ে আজকাল যে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান করা হয় সেগুলো দেখলেই  মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। বাচ্চাদের মধ্যে এখন থেকেই মিডিয়াতে আসার যে প্রবনতা,  নিজেদের টিভি পর্দায় আনার লোভ, স্টার হবার যে ইচ্ছা জাগিয়ে তোলা হচ্ছে  সেটা কতটা যৌক্তিক আমি বুঝিনা। সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম বাচ্চারা যেসব গান বা  নাচের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করে সেখানে যে যত বেশি ম্যচিউর রোমান্টিক ভাব  তুলে ধরতে পার বিচারক তাতেই বেশি খুশি হয়। এত অল্প বয়সে যাদের ভালবাসার রূপ  বুঝানোর জন্য ইন্সপায়ার করা হচ্ছে তারা ইন ফিউচার কি রিপ্রেসেন্ট করবে  সেটা আর ভাবতে ইচ্ছা করেনা।&lt;br /&gt;মনোবিদ্যার অধ্যাপক মেহতাব খানমের আর্টিকেল আমার সবসময় খুব ফেবারিট। সেদিন  প্রথম আলোতে উনি একটি ফিচারে বাচ্চাদের নিয়ে করা কিছু বিজ্ঞাপনের চরম  সমালোচনা করে দারুন কিছু বিষয় তুলে ধরেছেন। আজকাল ফ্ল্যাট বাড়ি,গাড়ি,এসি র  বিজ্ঞাপনে একটা বাচ্চা যখন বলে “কক্সবাজারে সমুদ্রের পাশে আমাদের কি একটি  বাড়ি বা ডট ডট ইত্যাদি হবেনা?” লেখিকা ফোকাস করেছেন যে একটা বাচ্চা  সমুদ্রের পাশে বাড়ি থাকার মর্ম কি বুঝে? এতে করে কি আমরা তাদের স্বাভাবিক  শিশুকাল কে ব্যহত করে কিছু মানবিক দূর্বলতম বৈশিষ্ট্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছিনা?  তাদের লোভকে আমরা জাগিয়ে দিচ্ছিনা? রোমান্সের ব্যাপারটা অস্বাভাবিকভাবে  তাদের মধ্যে গ্রো করার জন্য কি আমরা দায়ী না? তিনি এসব বিজ্ঞাপনের চরম  নিন্দা জানিয়ে বাচ্চাদের মাধ্যমে কর্পোরেট বাণিজ্যকে বিজনেস না করার অনুরোধ  জানিয়েছেন।&lt;br /&gt;যাইহোক ভালবাসার কথার মধ্য ছিলাম। যে দেশে বাচ্চাদের নিয়েও বিজনেস হয়  সেখানে বড় হয়ে তারা আর কতটুকুই বা দিতে পারে বা আমরাই বা কতটুকু আশা করতে  পারি? রেডিও আমারে আমার ভালবাসা নামে একটি অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের  উদ্দেশ্য ভাল। এতে করে সাধারণ যারা এপর্যন্ত ভালবাসা নিয়ে যেসব ভুল করে  এসেছে রেডিও আমারের দর্শকরা যেন এই ভুল না করে সেই জন্য এই অনুষ্ঠান।  কিন্তু আমার সন্দেহ এতে করে উদ্দেশ্যে কতটুকু পরিপূর্ণতা পাচ্ছে? যাই হোক  আমার কাজিন এই অনুষ্ঠান রেগুলার শুনে থাকে, সেই সুবাদে আমারও মাঝে মাঝে  শোনা হয়। রিসেন্টলি সেখানে ভালবাসার যে ঘটনা শুনলাম সেটা শুনে আমি পুরাই  তাজ্জব। ক্লাস এইটের একটা মেয়ে ভালবেসে পরিবারের অমতে বিয়ে করে। জাস্ট  এটুকু শুনেই বাকিটুকু শোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। লাভগুরুর কথা শোনার জন্য  অপেক্ষায় ছিলাম। যে প্রশ্ন দিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম ঠিক সেই প্রশ্নই এবার  লাভগুরুকে করে সেই মেয়েটি। খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। লাভগুরু প্রথমে একটু  এভয়েড করে এন্সার দিলেন পরে সেটা আবার শুধরে দিয়ে উলটা মেয়েটিকে প্রশ্ন  করলেন “ তুমি কি পারবা বাবা/মা কে রেখে শুধু তোমার ভালবাসার জন্য বাবা-মাকে  ত্যাগ করতে?” মেয়েটি সুন্দর জবাব দিল নেগেটিভ। অথচ এই নেগেইভ জবাবটাই কেন  যেন ভালবাসার আবেগের রসাতলে একদম ভেসে চলে যায়। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই  লাভগুরুকে তার প্রশ্নের জন্য। এখন আমার লাভগুরুর প্রতি একটাই অনুরোধ যে- &lt;br /&gt;“ আপনার প্রোগ্রামে যারা ভালবাসা নিয়ে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয় তারাই আপনার  কাছে  সেই কাহিনি শুনাতে আসে। এরকম কি কোন প্রোগ্রাম করতে পারবেন যেখানে  যেসব তরুন সমাজ বর্তমান ভালবাসা নিয়ে সঙ্কটে আছে, ক্রাইসিসের মধ্যে আছে  তারা তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার প্রোগ্রামে আসবে? যদি করতে পারেন  আমার বিশ্বাস হাজার হাজার তরুণ-তরুণি আপনার প্রোগ্রামে আসবে সমস্যার  সমাধানের জন্য। এতে করে হয়ত অনেককেই আপনি পারবেন জীবনের স্বাভাবিক গতিপথে  ফিরিয়ে আনতে। হয়ত পারবেন জীবন আধারের করাল গ্রাসে প্রায় ডুবন্ত কোন  তরুন-তরুণীকে বেঁচে থাকার কোন উপকরণ বের করে দিতে। কারন রেডিও আমারে  ভালবাসার কাহিনি শুনে নিজের ভালবাসার সময় কেউ তাদের ভুল প্র্যাকটিক্যালি  দেখতে পায়না। যদি পারেন তাহলে প্লিজ আমার এই অনুরোধটা রাখবেন। আশা করি এতে  করে তরুণ সমাজ সুন্দর সমাধানের একটা মিডিয়া সোর্স পাবে।"&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5539264638614702833?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5539264638614702833/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5539264638614702833' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5539264638614702833'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5539264638614702833'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/06/blog-post_25.html' title='লাভগুরু আপনাকেই বলছি...'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-5091082224801453083</id><published>2010-06-17T22:20:00.002+06:00</published><updated>2010-06-17T22:20:53.644+06:00</updated><title type='text'>আত্বকথন...</title><content type='html'>&lt;div style="line-height: 1.8em; text-align: left;"&gt;     দুঃখবোধ পুরা মন জুড়ে ব্যপ্ত থাকে। মনের কষ্ট যে এত উপকারী সেটা আগে  বুঝিনি। খুব কাছের কেউ কষ্ট দিলে সেটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। এতদিন পরে  বুঝতে পারলাম যে উদার হওয়া এত্ত সহজ না। অথচ নিজেকে একসময় খুব উদার মনে হত।  কিন্তু উদার হবার সুযোগ যখন এল তখনই বুঝলাম উদারতা প্রদর্শনের জন্য মানসিক  শক্তি কত প্রকট হতে হয়। মনটা যদিও খুব খারাপ লাগছে, তারপরও ভাল লাগছে ।  চরম কঠিন সত্য নিজের কাছে প্রকাশিত হল। মানুষ সর্ব প্রথম পরাজিত হয় নিজ  সত্তার কাছে। আমিও হলাম। কিন্তু এই পরাজয় আমাকে যে শিক্ষা দিল তা হাজার  বিজয়ের চেয়েও অনেক বেশি।&lt;br /&gt;ক্ষমা অনেক বড় গুন। মাঝেই মাঝেই চিন্তা করি কত শত শত অন্যায় করছি, অথচ এর  জন্য  আল্লাহ সাথে সাথে আমাকে শাস্তি দিচ্ছেননা। বরং অনুতপ্ত হৃদয়ে ক্ষমা  চাইলে আমাদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নবী রাসূল (সাঃ) এর জীবনী যখন  পড়ি তখন মনে হয় কি অসীম মানবতাবাদী ছিলেন তিনি। নির্দ্বিধায় চরম শত্রুদের  ক্ষমা করতেও কুণ্ঠাবোধ করেনি। এখানেই সম্ভবত একজন মহামানব ও সাধারণ মানুষের  মধ্যে তফাৎ। ইচ্ছা করলে আমিও পারি ক্ষমা করে দিতে যে ভুল করেছে। কিন্তু  কঠিন বাস্তবতা! আমি সেটা করতে পারছিনা। নিজের ভিতর অন্য আরেকটি সত্তার  উপস্থিতি অনুভব করছি খুব দৃড়ভাবে। প্রতিনিয়ত দুইটি সত্তার মধ্যে ক্রমাগত  বিতর্ক চলছে। কিন্তু আবেগী সত্তার কাছে যুক্তিবাদি সত্তা কোন পাত্তাই  পাচ্ছেনা। &lt;br /&gt;অন্যের ভুল, অন্যের সমস্যা আমার কাছে কখনও প্রাধাণ্য পায়নি। কিন্তু এবার  পাচ্ছে। বুঝতে পারলাম মানুষ কেন এত কষ্ট পায়। অন্যের প্রতি প্রত্যাশা থাকে  বেশি। নিজে কি করলাম সেটা কোন ব্যাপার না, কিন্তু অন্যে কি করল সেটাই মূখ্য  ব্যাপার। মানুষের কষ্টের কারণ খুব গভীরভাবে অনুভব করলাম। অথচ এই দিকটা আমি  কখনও এত গভীরভাবে ভাবিনি। আমি খুব সহজেই অন্যের দোষ ইগ্নোর করতে পারি।  কিন্তু কেন জানি অনেক চেষ্টা করেও আমি ইগ্নোর করতে পারছিনা।&lt;br /&gt;অনেক কষ্টে শেষ পর্যন্ত নিজেকে একটা মাঝামাঝি পর্যায়ে আনতে পেরেছি। এখন  নিউট্রাল হয়ে গেছে মনের বেদনাঘন পরিবেশ। খুব কাছের কাউকে আউটসাইডার মনে  হচ্ছে। আর আউটসাইডারের কোন কিছু আমাকে এফেক্ট করেনা। এখন তার অন্যায় আচরন  খুব স্বাভাবিকভাবে মেনে নিচ্ছি। কষ্টের ব্যাপার যে একজন কাছের মানুষ কত  সহজে আউটসাইডার হয়ে গেল!! এটা কি স্বাভাবিক?  অথচ সেই মানুষটা কখনও বুঝতেও  পারবেনা যে আমি তার থেকে দূরে সরে গেলাম। আমার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েই  তাকে নিরাপদ স্থানে রেখে গেলাম। হয়ত সে বুঝতে পারবে, কিংবা পারবেনা।&lt;br /&gt;মানব মনের রসায়ন আসলেই রহস্যময়। দুঃখ, কষ্ট না পেলে সেই রসায়নের  ক্রিয়া-বিক্রিয়া বুঝা যায়না। তাই স্যালুট জানাই দুঃখ ও কষ্ট...............&lt;br /&gt;৯/৩/২০১০    &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-5091082224801453083?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/5091082224801453083/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=5091082224801453083' title='0টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5091082224801453083'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/5091082224801453083'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/06/blog-post.html' title='আত্বকথন...'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-8550834630965985162</id><published>2010-04-27T12:26:00.001+06:00</published><updated>2010-04-27T12:26:32.241+06:00</updated><title type='text'>স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…</title><content type='html'>স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্টার কাবাবে প্রায় ৯/১০ জনের মত বসে খাচ্ছিলাম। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা  হচ্ছিল। হঠাৎ বাইরে লাঠি হাতে জীর্ন-শীর্ণ এক বৃদ্ধ ফকিরকে দেখা গেল। দেখা  মাত্রই তিঁনি উঠে গেলেন। নিজ হাতে তাকে পিৎজা খাওয়ালেন, কোক দিলেন। সবচেয়ে  নতুন ৫০টাকার একটা নোট দিলেন বেছে বেছে। অবাক হয়ে দেখছিলাম এই দৃশ্যটা।  কিন্তু আমার অবাক হবার যে আরো বাকি ছিল সেটি তখনও বুঝতে পারিনি।&lt;br /&gt;স্টার কাবাব থেকে বের হলাম সবাই। তিঁনি চিন্তা করছেন সবাই কিভাবে বাসায়  যাবে? অতঃপর সবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে তাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। এরপর  বাকি ছিলাম আমি,যুথি আর মামুন। আমাদের জন্য একটি ট্যাক্সি ক্যাব ঠিক করে  নিজে সি.এন.জি করে রওনা দিলেন।&lt;br /&gt;গন্তব্য আমাদের মোহাম্মদপুর, তাঁর বাসায়। বিশেষ আতিথেয়তায় তিঁনি আমাদের   নিয়ে যাচ্ছেন তার বাসায়। বয়সে অনেক অনেক সিনিয়র হবেন, তবুও মনে হচ্ছিল  আমাদের অন্তরংগ বন্ধুর মত। রাস্তা জুড়ে মনে আরো অনেক জল্পনা-কল্পনা  করছিলাম। অবশেষে উঁনার বাসায় পৌছলাম।&lt;br /&gt;দীর্ঘ বছর প্রবাস জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রায়ই দেশের টানে, দেশের মানুষের  টানে জন্মভুমিতে ফিরে আসেন। এখনও তাই কানাডা ফিরে যাবার ডেইট পার হয়ে গেলেও  দেশে রয়েছেন শুধু দেশের মানুষের টানেই। বাসায় থাকে তাঁর মা ও ভাবি। খুব  অনাড়ম্বর জীবন-যাপন তাঁর। রাস্তা-ঘাটে দুঃখি-গরীব মানুষের জন্য যে নিঃশর্তে  ক্রমাগত দান করতে থাকে তাঁর জীবন-যাপন অনাড়ম্বর হবে এটাই স্বাভাবিক।  একসাথে বসলাম, বিভিন্ন কথা শেয়ার করলাম। সবচেয়ে অবাক হলাম যেকথা শেয়ার করার  জন্য মানুষ খুজে পাচ্ছিলাম না মনে হলে আল্লাহ আমাদের নিজে তাঁর সন্ধান  দিলেন। খুব প্রাঞ্জল একটা আলোচনা করলাম আমরা সবাই।&lt;br /&gt;জোহরের নামাজ শেষে আবার একসাথে বসলাম ফ্লোরে এক মাদূরে। সোফা ছিল কিন্তু  উনার ফেবারিট প্লেস ফ্লোর। আমার মনে হচ্ছিল রাজকীয় কোন স্থানে বসে আছি।  আসলে মনের প্রাচুর্যর কাছে পার্থিব সবই যে হার মানায় সেটা খুব গভীরভাবে  অনুভব করলাম।&lt;br /&gt;দুপুরের খাবারের জন্য প্রস্তুতি নিলেন তিঁনি। সব কিছু নিজ হাতে করলেন।  আতিথেয়তায় যে তিঁনি অনন্য সে কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।&lt;br /&gt;একজন ড্রাগ এডিক্টেড মানুষের জীবনের মোড় কিভাবে ঘুরে যায় ল্যাপটপে বসে  তিঁনি আমাদের সেটাই দেখাচ্ছিলেন। একবার ল্যাপটপে আরেকবার তাঁর দিকে মুগ্ধ  নয়নে তাকিয়ে চিন্তার সাগরে হাবুডুবু  খাচ্ছিলাম। এত সুন্দরভাবে হাস্যরসের  মাধ্যমে প্রতিটা কথার জবাব অদ্ভুত লাগছিল। অনেক ঘটনা বললেন। একটি ঘটনা  শুনাই...&lt;br /&gt;জাহাঙ্গিরনগর ইউনিভার্সিটি একবার এক ছেলের সাথে কথা হচ্ছিল উঁনার। ছেলেটি  নাস্তিক ছিল। তাই উনাকে প্রশ্ন করলেন “ আচ্ছা আল্লাহ দেখতে কেমন?” জবাবে  তিনি হাসতে হাসতে বললেন “ ভাই তুমি বিয়ে করবানা আবার কনে কিরকম তা জানতে  চাও কেন?” জবাবে ছেলেটি কিছুই বুঝলনা। পরে উনি ব্যাখ্যা করলেন “ তুমি তো  আল্লাহ কে বিশ্বাস করনা তাইলে আবার জানতে চাও কেন যে আল্লাহ দেখতে কেমন” এই  জবাবে ছেলেটি তাৎক্ষনিক  জবাব দিল “ ধরেন আমি বিশ্বাস করি এবার বলেন  আল্লাহ দেখতে কেমন?”  না না ভাই, কোন ধরাধরিতে আমি নাই,যদি বিশ্বাস করেন  তাইলে বলতে রাজি আছি।&lt;br /&gt;এবার ছেলেটা বাধ্য হয়ে বলল “ হ্যা আমি বিশ্বাস  করি যে আল্লাহ আছে”  এই  জবাবে খুশি হয়ে তিনি বললেন  “ যিনি ক্ষুদ্র পিপড়া সৃষ্টি করেছেন, তিনি বৃহৎ  হাতি সৃষ্টি করেছেন, আবার তিনিই তোমারে আর আমারে সৃষ্টি করেছেন, এখন তিনি  দেখতে কেমন হবে সেটা বাড়ি বসে তুমি চিন্তা কর, উত্তর পেয়ে যাবা”…কি  এন্সার!!!!&lt;br /&gt;এটিএন বাংলায় অনেক পুর্বে থেকে তাঁর প্রোগ্রাম দেখে রীতিমত আমি তাঁর ভক্ত  ছিলাম। তাঁর বাসায় তাঁর ল্যাপটপে বসে তাঁর জীবন ইতিহাসের কিছু অংশ দেখছিলাম  এটা চিন্তা করেই খুব আজব লাগছিল।&lt;br /&gt;কিভাবে যে ঘড়ির কাটা দ্রুত চলে যাচ্ছিল বুঝতেছিলামনা। আসরের নামাজের পর  কিছু কাজের প্ল্যানের পর তাঁর বাসা থেকে বের হলাম। রাস্তায় কিছু দূরে ৩/৪  জন ছেলে আড্ডা দিচ্ছিল,কেউ মোবাইলে কথা বলছিল। অনেক দূর থেকে তাঁর সালাম  শুনেই ছেলেগুলো দাঁড়িয়ে গেল। হাসিমুখে সালামের জবাব দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞাসা  করল। মুদি দোকানদার , সেলুনের লোক, আশেপাশের বাড়ির দারোয়ান, রিকসাওয়ালা,  সি.এন.জিওয়ালা কেউ তার সালামের জবাব হাসিমুখ ছাড়া দেয়নি। রাস্তায় এক ফকিরের  সাথে দেখা হয়। তাকে তিঁনি সালাম দিয়ে নতুন টাকার নোট দিলেন। বৃদ্ধ খুশি  হয়ে হাত বাড়িয়ে তাকে দোয়া দিতে চাইল। কিন্তু উনি হাত নয় বৃদ্ধকে বুকে জড়িয়ে  তার প্রতিউত্তর দিলেন। আমি দেখছিলাম, ভাবছিলাম...মনে হচ্ছিল রাসূল (সাঃ)  এর সুন্নাতের কিছু অংশ প্র্যাকটিক্যাল দেখছি যা এতদিন থিওরিতে পড়েছিলাম।&lt;br /&gt;অবশেষে সি.এন.জি ঠিক করে ভাড়া মিটিয়ে আমাদের যাবার ব্যবস্থা করলেন। আসার  সময় প্রতিটা মুহূর্ত তাকে নিয়ে চিন্তা করছিলাম। আমার ভাই কখনও কোথাও গেলে   বেশিক্ষন থাকতে পারেনা আমাদের সাথে। সেদিন সে সারাদিন ছিল,একটুও বোরড হয়নি।  বাস্তবিকই মনে হল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান তাকে বলেছিলেন “  কত ডিগ্রিওয়ালা হুজুরদের এটিএন বাংলায় প্রোগ্রাম করতে দিলাম। তাদের কথা  বার্তা এত টানেনি আপনি কি বলেন সবই তো মন ছুঁয়ে যায়” মানবতাবোধ কে যে  ইসলামের মেইন পার্ট মনে করে ইসলামের দাওয়াহ দিচ্ছে তার কথা শুনলে যে কারো  মন ছুঁয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নাই।&lt;br /&gt;সন্ধ্যার কিছু পর বাসায় ফিরলাম। মনে হল এতক্ষন কোন মোহের ভিতর ছিলাম।  সম্বিত ফিরে পেলাম কিছুক্ষন পর। অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষের সংস্পর্শে  থেকেছি, অনেক ইসলামপন্থী মানুষকে কাছ থেকে দেখেছি, অনেক উচ্চবিত্ত পরিবারের  সাথে মিশেছি, অনেক বন্ধুর সাথে সময় পার করেছি কিন্তু সম্বিত ফিরে আসার পর  মনে হল,&lt;br /&gt;এতক্ষন যাঁর সাথে ছিলাম তার জ্ঞানের প্রাচুর্য হাজার হাজার ডিগ্রিকেও হার  মানায়...মানবতাবোধ যাঁর প্রকৃত ধর্ম তথাকথিত ইসলাম্পন্থীরা তার সামনে লজ্জা  পাবে...সম্পদের প্রাচুর্য সত্ত্বেও অনাড়ম্বর জীবন যাপনে যে অভ্যস্ত এবং  রাস্তার ফকিরদের বুকে জড়িয়ে ধরতে যে কুন্ঠাবোধ করেনা তাঁর সামনে অহংকারি   উচ্চবিত্তদের প্রেস্টিজ চলে যাবে বৈকি!...আর বন্ধু? সমবয়সী অনেক ইন্টিমেইট  বন্ধুর থেকেও তিনি হতে পারে যেকোন বয়সের,যেকারো প্রকৃত বন্ধু......&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/6059963518493383551-8550834630965985162?l=shetuzohra.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://shetuzohra.blogspot.com/feeds/8550834630965985162/comments/default' title='মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=6059963518493383551&amp;postID=8550834630965985162' title='3টি মন্তব্য'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8550834630965985162'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/6059963518493383551/posts/default/8550834630965985162'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://shetuzohra.blogspot.com/2010/04/blog-post_1015.html' title='স্মৃতির পর্দায় বন্দী করে রাখা কিছু মুহূর্ত…'/><author><name>রেইন স্পট</name><uri>http://www.blogger.com/profile/04647396562686946743</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-6059963518493383551.post-9091393862023610164</id><published>2010-04-27T12:24:00.000+06:00</published><updated>2010-04-27T12:25:28.156+06:00</updated><title type='text'>স্বপ্ন দেখব বলে দুচোখ পেতেছি...</title><content type='html'>&lt;p style="text-align: left; line-height: 1.8em;"&gt;     &lt;img src="http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/shetuzohra_1272132365_1-dream.jpg" style="border: 1px solid rgb(204, 204, 204); clear: both;" /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সারকেডিয়ান রিদম আমার অনেক আগেই চেইঞ্জ হয়ে গিয়েছে। তাই রাত জাগা পাখির মত  নিয়ত জেগে থাকা নিয়ত অভ্যাসে দাড়িয়েছে। আর রাত জেগে  পড়ার সুবাদে এই অভ্যাস  আরো বেশি পাকাপোক্ত হয়েছে।&lt;br /&gt;রাতের  দৃশ্য দেখছিলাম। কি যেন মায়ার বন্ধনে জড়িয়ে যাচ্ছিলাম ক্রমাগত।   জানালার ওপাশে ফ্লাইওভারে সোডিয়াম বাতির আলোতে সবকিছুকে আরো বেশি মায়াবী  করে তুলছিল। মাঝে মাঝে দুই একটা গাড়ি যাচ্ছে,সাথে সাথে প্যা প্যা  ধ্বনি...ফ্লাইওভারের অপর পাশেই পাঁচতলা একটি সাদা বাড়ি। সোডিয়াম বাতির আলোর  প্রতিফলনে সাদা বাড়িকে ঠিক যেন আলিফ লায়লার কোন ভুতড়ে বাড়ি বলে মনে  হচ্ছিল। জানালার ওপাশের দৃশ্যের একটি ফ্লোচার্ট করে ফেললাম। ফ্লোচার্ট  হচ্ছেঃ আমার জানালা, বস্তি, ফ্লাইওভার,সাদা পাঁচতলা বাড়ি। অসীম আকাশে তখন  নিকষ নীল অন্ধকারের প্রতিচ্ছায়া।&lt;br /&gt;নতুন করে চিন্তা করতে হয়না, নিউরণে এক্সট্রা প্রেসার দিয়ে কিছু ভাবা  লাগেনা...বস্তি থেকে ভেসে আসা অকথ্য ভাষায় গালাগালির আওয়াজ, কখনওবা চাপা  কান্নার মৃদু করুণ সুর, কখনো পুরুষ কতৃক নারীকে প্রহারের প্রতিধ্বনি  প্রকৃতিকে আনমোনা করে তোলে।  আমিও প্রকৃতির সাথে বিষন্ন হয়ে যায়। নিউরনে  ভাইব্রেশান হয় কিঞ্চিৎ......&lt;br /&gt;সেদিন ক্যম্পাস থেকে ফেরার সময় টিকিট কেটে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এক  বৃদ্ধ মহিলা কাছে এসে বলল, “ মা সকাল থেকে কিছু খাইনি কিছু টাকা দে আমারে”।  পাশে এক ফ্রেন্ড ছিল। দুজন মিলে কিছু টাকা দিলাম। বৃদ্ধ মহিলা টাকা পেয়ে  আনন্দে কেঁদে ফেলল। জিজ্ঞাসা করলাম, “আপনার বাড়ি কোথায়?” রাস্তা-ঘাটই আমার  বাড়ি, আমার যে কোন যাওয়ার জায়গা নেই! এই জবাবে খুব ধাক্কা খাইলাম। ততক্ষনে  বাস চলে এসেছে। কিছুই করার নেই ,কঠিন এক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজের  ঠিকানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।&lt;br /&gt;বস্তি  থেকে এখন চরম আকারে গালিগালাজের শব্দ ভেসে আসছে। অকথ্য শব্দের  প্রতধ্বনিতে প্রকৃতির নিরবতা খান খান করে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আমি এই গভীর  রাতে দুঃখ বিলাস করছি ,হয়তবা এই গভীর রাতেই ময়না নামের মেয়েটি রাত জেগে  সেলাই করছে। খুব স্বপ্ন তার পড়ালেখা করার। কিন্তু দারিদ্র্যের নির্মম  বাস্তবতা তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। হয়ত এই গভীর মায়াবী রাতে ময়না  তার স্বপ্নের সমাধি দিয়ে আপন মনে সেলাই করছে। এভাবে হাজার রাত কেটে যায়  হাজার স্বপ্নের সমাধির ফুল দিয়ে...নিউরনে আবারো ভাইব্রেশান হয়...খুব অসহায়  লাগে নিজেকে।&lt;br /&gt;রাস্তা দিয়ে সেদিন এক রিক্সার চাকার সাথে প্রাইভেট কারের ধাক্কা লাগে।   রিক্সার চাকা সম্পূর্ন বেঁকে যায়। ঘটনার পর পরই দেখলাম গাড়ি থেকে নেমে  আসলেন এক ভদ্র লোক। ভাবলাম নিশ্চয় সমবেদনা বা ক্ষতিপুরন দেবার জন্য ভদ্রলোক  এগিয়ে আসছেন। পরের ঘটনায় খুব মর্মাহত হলাম। তথাকথিত ভদ্রলোকের দ্বিগুন  বয়সী রিক্সাওয়ালাকে প্রচন্ড গালিগালাজ ও সাথে ক্রমাগত চড়-থাপ্পড় মারতে  লাগলেন। “ এই বেটা তুই ঠিকমত রিক্সা চালাস না কেন, কত টাইম নষ্ট করছস আমার  তুই জানস??”  এসব বলেই রিক্সাওয়ালাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। চারপাশের লোকজন  সব এই দৃশ্য উপভোগ করছিল। উহ! সেইসময় আমার যে কিরকম  ফিলিংস হচ্ছিল ভাষায়  বলার মত না। খুব বলতে চাইলাম সেই  তথাকথিত ভদ্রলোককে “ জনাব আপনার টাইমের  মূল্য আছে, তার কি নেই? তার  বাড়িতে ছেলে-মেয়ে না খেয়ে বাবার জন্য অপেক্ষা  করছে ,সেসবের কি কোনই মূল্য নেই? তার যে ক্ষতি হয়ে গেল এর জন্য তার  পরিবার
